বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৭ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে

প্রকাশ ঘোষ বিধান

বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক ও উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতেই দৈনিক আক্রান্তর ও মৃত্যুর সংখ্যা এ বছরের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। হঠাৎ রোগী বেড়ে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে বিশেষ করে উপজেলা পর্যায়ে বেড সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক রোগীকে মেঝেতে থেকে কিংবা সাধারণ রোগীদের সাথে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা ও থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে এডিস মশার প্রজনন বেড়েছে, যা এই প্রাদুর্ভাবের প্রধান কারণ।

বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আসলেই আশঙ্কাজনক ও উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে, বিশেষ করে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের এই মৌসুমী সময়ে সংক্রমণ ও হাসপাতালের ওপর চাপ তীব্রভাবে বাড়ছে। সাম্প্রতিক সরকারি ও চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ডেঙ্গুর প্রকোপ এখন কেবল ঢাকাতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং দেশের সবকটি ৬৪টি জেলা ও উপজেলাতেই এ রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ বা অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ডেঙ্গু সংক্রমণ চূড়ান্তর রূপ নিতে পারে।

ডেঙ্গু কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তর কোনো রোগীকে স্পর্শ করলে, তার পাশে বসলে, একই বিছানায় ঘুমালে কিংবা তার ব্যবহৃত জিনিসপত্র ব্যবহার করলে অন্য কারও এই রোগে আক্রান্তর হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এটি মূলত একটি মশাবাহিত সংক্রামক রোগ, যা ভাইরাসবাহী এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে একজন থেকে অন্যজনে ছড়ায়। এডিস মশা যখন কোনো ডেঙ্গু আক্রান্তর রোগীকে কামড়ায়, তখন মশাটি ভাইরাস দ্বারা সংক্রামিত হয়। সেই সংক্রামিত মশা যখন সুস্থ মানুষকে কামড়ায়, তখন সে ডেঙ্গুতে আক্রান্তর হয়। মশা এখানে ভাইরাস বহনকারী মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।

ডেঙ্গু হলো এডিস মশার কামড়ে ছড়ানো একটি ডেঙ্গু জ্বর ভাইরাসজনিত রোগ। এডিস মশাবাহিত ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত জুলাই থেকে অক্টোবর মাসের বর্ষা বা বর্ষা-পরবর্তী সময়ে বেশি ছড়ায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এর কোনো নির্দিষ্ট মরশুম নেই, সারা বছরই ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। সাধারণ বা মৃদু ডেঙ্গু জ্বর সাধারণত এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে ঠিক হয়ে যায়, তবে সময়মতো চিকিৎসা না পেলে এটি মারাত্মক আকার ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার বা ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম ধারণ করতে পারে, যা জীবননাশের কারণ হতে পারে।

এডিস মশার কামড়ের ৩ থেকে ১৫ দিনের মধ্যেহঠাৎ খুব উচ্চ তাপমাত্রার (১০৪ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৪০ডিগ্রি সেলসিয়াস) জ্বর হওয়া। চোখে তীব্র ব্যথা, প্রচ- মাথাব্যথা, এবং মাংসপেশি ও হাড়ের জোড়ে তীব্র ব্যথা যাকে হাড্ডিভাঙা জ্বর বলা হয়। অতিরিক্ত দুর্বলতা, বমি বমি ভাব বা বারবার বমি হওয়া। জ্বর শুরুর ২-৩ দিন পর সারা শরীরে লালচে র‌্যাশ দেখা দেওয়া।
চিকিৎসকদের পরামর্শ মতে; জ্বর হওয়ার প্রথম ৩ দিনের মধ্যে সাধারণত পরীক্ষা এবং রক্তের পরীক্ষা করানো উচিত। তবে শুধু প্লেটলেট কাউন্ট কমে যাওয়ার ওপর নির্ভর না করে রোগীর সামগ্রিক শারীরিক অবস্থার ওপর কড়া নজর রাখতে হবে।

 

সাধারণত জ্বর শুরু হওয়ার ৩ থেকে ৭ দিনের মাথায় জ্বর কমে আসে এবং আসল জটিলতা শুরু হয়। এই সময় রক্তনালি থেকে রক্তের জলীয় অংশ বা প্লাজমা বের হয়ে পেটে ও ফুসফুসে জমা হতে পারে। এসময় রোগীর পেটে তীব্র ব্যথা হওয়া বা পেটে চাপ দিলে ব্যথা লাগা। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৩ বার বা তার বেশি বমি হওয়া। দাঁতের মাড়ি, নাক বা ত্বকের নিচে রক্তপাত হওয়া বা ত্বকে কালো বা নীল দাগ পড়া। বমি বা পায়খানার সঙ্গে রক্ত আসা, পায়খানার রং আলকাতরার মতো কালো হওয়া। প্রচ- শ্বাসকষ্ট হওয়া বা দ্রুত শ্বাস নেওয়া। চরম ক্লান্তির, অস্থিরতা বা রোগীর হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া। দীর্ঘ সময় ধরে প্রগ্রাব না হওয়া লক্ষণগুলো দেখা দেয়।

আক্রান্তর রোগীকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে রাখতে হবে। জ্বর কমে গেলেও রোগীকে সঙ্গে সঙ্গে স্কুল, কলেজ বা অফিসে পাঠানো যাবে না। শুধু পানি না খাইয়ে রোগীকে খাবার স্যালাইন, ডাবের পানি, ফলের রস, লেবুর শরবত ও স্যুপের মতো তরল খাবার অল্প অল্প করে বারবার দিতে হবে। জ্বরের জন্য কেবলমাত্র প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ দেওয়া যাবে। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কখনোই অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রফেন বা ডাইক্লোফেনাক জাতীয় ব্যথানাশক ওষুধ দেওয়া যাবে না, কারণ এগুলো রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আক্রান্তর রোগীকে সবসময় মশারির ভেতরে রাখতে হবে, যাতে কোনো এডিস মশা রোগীকে কামড়ে পরিবারের অন্য কাউকে সংক্রমিত করতে না পারে।

জ্বর কমে যাওয়ার পরবর্তী সময়টিকে চিকিৎসকরা সবচেয়ে জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ বলছেন। এ সময় প্লাটিলেট কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে এবং রক্তক্ষরণ বা প্লাজমা লিকেজের মতো মারাত্মক লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং বেশি করে তরল খাবার খাওয়া উচিত।

বাংলাদেশে বর্তমানে ডেঙ্গু পরিস্থিতি অত্যন্তর আশঙ্কাজনক এবং এর সাথে হামের প্রাদুর্ভাব যুক্ত হয়ে স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার দেশব্যাপী ৩ মাসের বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও চারপাশের জমা পানি পরিষ্কার করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসুবিধা ও মশারি সরবরাহের ব্যবস্থা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

Ads small one

আশাশুনির কুল্যায় মেধাভিত্তিক সংস্থার বৃত্তি প্রদান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ণ
আশাশুনির কুল্যায় মেধাভিত্তিক সংস্থার বৃত্তি প্রদান

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার কুল্যা মেধাভিত্তিক সংস্থার উদ্যোগে কৃতী শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃত্তির অর্থ, সনদ ও ক্রেস্ট বিতরণ করা হয়েছে। ১০ সেপ্টেম্বর সকালে কুল্যা বাগানবাড়ি চত্বরে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শিক্ষক শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক নিতাই কর্মকার ও ফাতেমা খাতুন বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি শ্রেণিতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী ৪৮ জন শিক্ষার্থীকে ৭০০, ৬০০ ও ৫০০ টাকা করে বৃত্তির অর্থ এবং সবাইকে সনদ ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

আশাশুনি উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ণ
আশাশুনি উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১০ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সার্বিক সহায়তায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শ্যামানন্দ কুন্ডু। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও কমিটির সদস্যসচিব আমিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতি, ঝুঁকি হ্রাস, আগাম সতর্কতা, আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, জরুরি সাড়াদান, মানবিক সহায়তা এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক সমন্বয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে সমাজসেবক ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ স ম হেদায়েতুল ইসলাম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, সমবায় কর্মকর্তা আশরাফ আলী, খাদ্য নিয়ন্ত্রক সঞ্জয় কুমার রায়, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সাইদুল ইসলামসহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ বিভাগ, মৎস্য অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ এবং আশাশুনি থানার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া প্রতাপনগর, আনুলিয়া, শ্রীউলা ও আশাশুনি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং সামাজিক সংগঠনের নেতারা সভায় অংশ নেন।

দক্ষিণ কাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মা সমাবেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ণ
দক্ষিণ কাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মা সমাবেশ

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার দক্ষিণ কাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিক্ষাদক্ষতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১০ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির (এসএমসি) সভাপতি আব্দুর রহমান, সদস্যবৃন্দ, প্রধান শিক্ষক সানজিদা শাহনাজ সোমা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক পর্যায়ের ভাষা ও গণিতের দক্ষতা অর্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে এফএলএন (ফাউন্ডেশনাল লিটারেসি অ্যান্ড নিউমারেসি) কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভাষা ও গণিতে মৌলিক দক্ষতা নিশ্চিত করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

আলোচনায় জানানো হয়, শিক্ষার্থীরা যেন বাংলা দেখে সাবলীলভাবে পড়তে পারে, পড়ার বিষয়বস্তু বুঝতে পারে এবং বাংলার চারটি মৌলিক দক্ষতাÑশোনা, বলা, পড়া ও লেখা অর্জন করতে পারে। পাশাপাশি গণিতে যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগÑএই চারটি মৌলিক নিয়মে দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রধান শিক্ষক সানজিদা শাহনাজ সোমা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি শক্ত করতে শিক্ষার্থীদের ভাষা ও গণিতের মৌলিক দক্ষতা অর্জন জরুরি। বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের প্রচেষ্টার পাশাপাশি বাড়িতে বাবা-মায়ের সহযোগিতা থাকলে শিশুদের শিখন আরও কার্যকর হবে। তাই সন্তানদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠানোর পাশাপাশি বাড়িতেও পড়াশোনার প্রতি নজর দেওয়ার জন্য তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান। সমাবেশে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, পড়াশোনার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং বিদ্যালয়ের সঙ্গে অভিভাবকদের নিয়মিত যোগাযোগ রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। অংশ নেওয়া অভিভাবকেরাও বিদ্যালয়ের এই উদ্যোগে সার্বিক সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।