সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩
সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩

বিভাগীয় পর্যায়ে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ২:০৭ অপরাহ্ণ
বিভাগীয় পর্যায়ে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন

বিভাগীয় পর্যায়ে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন অনুষ্ঠান আজ (সোমবার) ফুলবাড়ি গেটস্থ বক্ষব্যাধি হাসপাতাল চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ নাজমুল হক সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, হঠাৎ করেই দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার ফলে শিশুমৃত্যু বেড়ে যায়। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। শিশুর স্বাস্থ্য-সুরক্ষা নিশ্চয়তার মধ্যমে একটি সুস্থ জাতি উপহার দেওয়া সম্ভব। তাই এই প্রার্দুভাবের হাত থেকে আমাদের শিশুদেরকে সুরক্ষার জন্য সরকার তাৎক্ষণিক মহতী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের মধ্য দিয়ে আজ খুলনাতেও এ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

 

এসময় গণমাধ্যমকর্মীদেরকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনারাই পারেন সমাজের প্রতিটি স্তরের জনগণকে এই টিকা বিষয়ে সচেতন করে তুলতে। আমাদের নিজ নিজ জায়গা থেকে সকলকে সচেতন করতে হবে যেন একটি শিশুও এই টিকাদান কর্মসূচি থেকে বাদ না পড়ে। তাহলেই এই কর্মসূচির স্বার্থকতা আসবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ জয়নুদ্দীন, পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের উপপরিচালক মোঃ আকিব উদ্দিন, খুলনা ইউনিসেফ এর চীফ মোঃ কাওসার হোসেন, বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. মোঃ আরিফুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এতে স্বাগত বক্তৃতা করেন খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিচালক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান। বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ১৫ লাখ ৯৭ হাজার ৮২১ শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিভাগে ১৪ হাজার ৯৩৬টি টিকা কেন্দ্রে দুই হাজার ২৯৮৯ জন টিকাদানকারী এবং সাত হাজার ৭৫৪ জন ভলান্টিয়ার দায়িত্ব পালন করবে। ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত এই ক্যাম্পেইন চলবে।

২০ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন উপলক্ষ্যে রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। যাদের ৬ মাস থেকে ৫ বছরের নিচের শিশু রয়েছে তারা াধীবঢ়র.মড়া.নফ এই ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইন জন্মনিবন্ধন দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। তবে যাদের জন্মনিবন্ধন নেই তারাও রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই টিকা নিতে পারবে। তথ্যবিবরণী

Ads small one

আজ সাতক্ষীরায় দীনেশ কর্মকার বাড়ি গণহত্যা দিবস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ
আজ সাতক্ষীরায় দীনেশ কর্মকার বাড়ি গণহত্যা দিবস

পত্রদূত রিপোর্ট: আজ ২১ এপ্রিল, সাতক্ষীরার ইতিহাসে অন্যতম এক কলঙ্কিত ও শোকাবহ দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় (তদানীন্তন টাউন স্কুল) সংলগ্ন দীনেশ কর্মকারের বাড়িতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এক নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। এই বধ্যভূমি ও শহীদদের স্মরণে আজ বিকেলে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
একাত্তরের ২০ এপ্রিল খুলনা ও সাতক্ষীরার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভিটেমাটি হারানো শত শত অসহায় মানুষ প্রাণ বাঁচাতে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। পথে রাত হয়ে যাওয়ায় তাঁরা সাতক্ষীরা টাউন স্কুলে আশ্রয় নেন। নিরাপদ আশ্রয়ের আশায় থাকা এই নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের ওপর পরদিন ভোরে হিংস্র হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হানাদাররা নিরীহ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর পাশাপাশি বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে তাঁদের হত্যা করে। এরপর রক্তরঞ্জিত লাশগুলো পাশের দীনেশ কর্মকারের পুকুরে ফেলে মাটিচাপা দেওয়া হয়।
স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে গেলেও সাতক্ষীরার এই বধ্যভূমিটি আজও যথাযথভাবে সংরক্ষিত হয়নি। অযতœ আর অবহেলায় বধ্যভূমিটি হারিয়ে যেতে বসেছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বর্তমান প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে এই স্থানটি সংরক্ষণের দাবি দীর্ঘদিনের।
৭১-এর গণহত্যার শহীদদের স্মরণে সাতক্ষীরার সর্বস্তরের মানুষের উদ্যোগে আজ বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং শোক র‌্যালি ও স্মৃতিচারণ সভা।
আজ বিকেল ৫টায় সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় সংলগ্ন দীনেশ কর্মকার বাড়ির বধ্যভূমিতে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে সাতক্ষীরার সর্বস্তরের মানুষকে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

বাগআঁচড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৪ ক্লিনিককে জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ
বাগআঁচড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৪ ক্লিনিককে জরিমানা

oppo_0

বাগআঁচড়া (শার্শা) সংবাদদাতা: যশোরের শার্শায় অভিযান চালিয়ে ৪ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার (২০ এপ্রিল ) দুপুরে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়াজ মাখদুম।

অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে জোহরা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ১০ হাজার টাকা, আল-মদিনা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৫ হাজার টাকা, বাগআঁচড়া নার্সিং হোম অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ১০ হাজার টাকা, ও জনসেবা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৫ হাজার জরিমানা করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়াজ মাখদুম বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার অংশ হিসেবে শার্শার বাগআঁচড়ায় অবস্থিত ক্লিনিকগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এসময় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ৫২ ধারা আইনে ৪টি ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আগামীতেও অনিয়মের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এসময় তার সাথে ছিলেন শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা শুভেন্দু বিশ্বাস ও শার্শা থানার পুলিশের একটি টিম উপস্থিত ছিলেন।

পোষা কুকুরের ডাকে প্রাণ বাঁচল ইউপি সদস্যের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ
পোষা কুকুরের ডাকে প্রাণ বাঁচল ইউপি সদস্যের

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: ‘রাখে আল্লাহ মারে কে’-প্রচলিত এই প্রবাদটিই যেন বাস্তবে রূপ নিল সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায়। জনমানবহীন স্থানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর মুখে পড়া সাবেক এক ইউপি সদস্যের প্রাণ বাঁচিয়ে দিয়েছে তাঁরই পোষা কুকুরের আর্তনাদ।

সোমবার দুপুরে পাটকেলঘাটা থানার খলিশখালী ইউনিয়নের গোপালডাঙ্গা গ্রামে এই অলৌকিক ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তির নাম পঙ্কজ কুমার ম-ল। তিনি ওই গ্রামের ভীম ম-লের পুত্র এবং খলিশখালী ইউনিয়নের সাবেক সদস্য।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পঙ্কজ কুমার দুপুরে নিজ বাড়ির আঙিনায় পানির মোটরের বৈদ্যুতিক লাইনের কাজ করছিলেন। মেইন সুইচ বন্ধ করেই কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। কাজ শেষে সব ঠিক আছে কি না দেখতে ভেজা হাতে সুইচবোর্ডে স্পর্শ করতেই তিনি প্রচ-ভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। বিদ্যুতের ঝটকায় তিনি পাশের একটি খাদের মধ্যে ছিটকে পড়েন।
দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে আশেপাশে কোনো মানুষ ছিল না। তবে পঙ্কজের সঙ্গেই ছিল তাঁর দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত পোষা কুকুরটি। মালিককে খাদের মধ্যে নিথর হয়ে পড়ে থাকতে দেখে কুকুরটি অস্বাভাবিক স্বরে চিৎকার ও ডাকাডাকি শুরু করে। দীর্ঘক্ষণ ধরে কুকুরের এমন আর্তনাদ শুনে পঙ্কজের মা, স্ত্রী এবং পাশের ঘেরের মালিকেরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
তাঁরা দেখতে পান, পঙ্কজ কুমার অচেতন অবস্থায় খাদের মধ্যে পড়ে আছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার কারণে তাঁর হাতের চারটি আঙুলে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পঙ্কজের পরিবারের সদস্যরা জানান, কুকুরটি যদি সময়মতো চিৎকার করে লোক জড়ো না করত, তবে হয়তো তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হতো না। পোষা প্রাণীর এমন রাজভক্তিতে অভিভূত এলাকাবাসী। বর্তমানে পঙ্কজ কুমারের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।