সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩

বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে সাতক্ষীরা তালা কলারোয়া আশাশুনিতে জামায়াতের প্রস্তুতি সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে সাতক্ষীরা তালা কলারোয়া আশাশুনিতে জামায়াতের প্রস্তুতি সভা

পত্রদূত রিপোর্ট: গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে আগামী ২০ জুন খুলনার সার্কিট হাউস ময়দানে অনুষ্ঠিতব্য ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উপজেলায় প্রস্তুতি সভা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার এসব সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এসব সভার বক্তারা বলেন বলেন, জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা ও জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে এই বিভাগীয় সমাবেশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সমাবেশ সফল করতে সব স্তরের নেতাকর্মীদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সভায় উপজেলার কর্মপরিষদ সদস্যসহ সব ইউনিয়ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশকে কেন্দ্র করে যাতায়াত ব্যবস্থা, লিফলেট বিতরণ ও সাংগঠনিক প্রচারণা জোরদার করার বিষয়ে চূড়ান্ত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।


সাতক্ষীরা সদর: উপজেলা জামায়াতের আমীর ও জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা সেক্রেটারি ও জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা হাবিবুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও জেলা নায়েবে আমীর শেখ নুরুল হুদা। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক ওবায়দুল্লাহ এবং জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা শাহাদাত হোসাইন।
কলারোয়া: উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা মুহাঃ কামারুজ্জামান এতে সভাপতিত্ব করেন। উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মো. শহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম মুকুল।

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মো. ওসমান গনী ও জেলা ইউনিট সদস্য অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম। এছাড়া উপজেলা নায়েবে আমীর মাওলানা মো. আব্দুল হামিদ, অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক শাহজাহান কবীরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের আমীর, সেক্রেটারি ও সহযোগী সংগঠনের দায়িত্বশীল কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রচার-প্রচারণা জোরদার ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
আশাশুনি: আশাশুনিতে লিফলেট বিতরণ করেছে জামায়াতে ইসলামী। শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় আশাশুনি ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় সদর ইউনিয়নের শ্রীকলস ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। প্রচারণাকালে সড়কের যাত্রী, পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে লিফলেট বিতরণ এবং সমাবেশ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করা হয়।


লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন আশাশুনি সদর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাফেজ আব্দুল্লাহ, সহ-সম্পাদক এস এম শহিদুজ্জামান বাবলু, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম, ওয়ার্ড সম্পাদক হাফেজ আব্দুল করিম, শ্রমিক নেতা রুহুল আমিন এবং আবুল কাশেমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
‎তালা: ‎“খুলনা বিভাগীয় সমাবেশ” সফল করার লক্ষ্যে তালায় লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামির উদ্যোগে তালা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম, প্রতিষ্ঠান ও হাটবাজারে লিফলেট বিতরণ করা হয়। ‎লিফলেট বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান রেন্টু, মাওলানা সাইফুল ইসলাম, তালা সদর ওয়ার্ড সেক্রেটারি অহিদুজ্জামান রিপনসহ দলীয় অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মী। নেতৃবৃন্দ আগামী ২০ জুন শনিবার বেলা ২টায় খুলনার সার্কিট হাউস ময়দানের সমাবেশ সফল করার জন্য তালা উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

Ads small one

সম্পাদকীয়:প্রসঙ্গ: নাগরিক দুর্ভোগের অবসান হবে কবে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়:প্রসঙ্গ: নাগরিক দুর্ভোগের অবসান হবে কবে?

oppo_0

একটি আধুনিক ও প্রথম শ্রেণীর পৌরসভায় নাগরিকরা নিয়মিত কর পরিশোধ করবেন, আর বিনিময়ে পাবেন ন্যূনতম নাগরিক সুবিধাÑএটাই স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু সাতক্ষীরা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের মধ্যকাটিয়া এলাকার চিত্র দেখলে মনে হয়, সেখানকার বাসিন্দারা যেন কোনো পরিত্যক্ত জনপদে বসবাস করছেন। পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মধ্যকাটিয়ার একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাব এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশার কারণে কার্যত একটি উন্মুক্ত নর্দমায় পরিণত হয়েছে। কাদা, প্লাস্টিক বর্জ্য এবং ড্রেনের উপচে পড়া কালো, দুর্গন্ধযুক্ত পানি মাড়িয়ে প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে হাজার হাজার মানুষকে। একই চিত্র সাতক্ষীরা তুফান কোম্পানীর মোড় থেকে পিএন স্কুল মোড় পর্যন্ত সড়টির। এ সড়কটির কোথাও আস্ত নেই।
একটি সভ্য সমাজে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম সড়ক যদি এমন নরককু-ে পরিণত হয়, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ড্রেনগুলো দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করায় পানি নিষ্কাশন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা ও বিষাক্ত পানি উপচে রাস্তায় জমে থাকছে। রাস্তার বড় বড় গর্তগুলো এই নোংরা পানির নিচে লুকিয়ে থাকায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বৃদ্ধ ও নারীদের প্রতিদিন যে অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
ভোগান্তির এখানেই শেষ নয়; এই জমে থাকা নোংরা পানি ও আবর্জনার কারণে এলাকায় মশা-মাছির উপদ্রব মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ডেঙ্গু, ডায়রিয়া ও চর্মরোগসহ বিভিন্ন প্রাণঘাতী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা। এলাকার মানুষ ঘরের দরজা-জানালা পর্যন্ত খুলতে পারছেন না দুর্গন্ধের কারণে। অথচ নাগরিকরা নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করে যাচ্ছেন। ট্যাক্স দিয়েও কেন মানুষকে এমন আদিম ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে বাস করতে হবেÑএই প্রশ্ন এখন জোরালো হয়ে উঠেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই সমস্যার কথা জানালেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুম দরজায় কড়া নাড়ছে, এই অবস্থায় দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি যে আরও কতটা ভয়াবহ ও নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে, তা সহজেই অনুমেয়।
পৌরসভার পক্ষ থেকে বরাবরের মতোই “বিষয়টি অবগত আছি এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে” ধরনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা মনে করি, শুধু মুখের আশ্বাস বা আশ্বাসের চাদরে দুর্ভোগ ঢেকে রাখার সময় আর নেই। মধ্যকাটিয়াবাসীর এই দুর্ভোগ লাঘবে এখন প্রয়োজন তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী সমাধান।
আমরা সাতক্ষীরা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই—অবিলম্বে মধ্যকাটিয়া এলাকার ড্রেনগুলো পরিষ্কার করে পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা করা হোক এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হোক। নাগরিকদের সুস্থ ও নিরাপদভাবে বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করা পৌরসভার আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব। আশা করি, কর্তৃপক্ষ আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত মাঠে নামবেন এবং মধ্যকাটিয়াবাসীকে এই দুঃসহ নরকযন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেবেন।

আশাশুনির কাঁকড়াবুনিয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় হাসপাতালে ভর্তি ৫

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:২৯ অপরাহ্ণ
আশাশুনির কাঁকড়াবুনিয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় হাসপাতালে ভর্তি ৫

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের কাঁকড়াবুনিয়া গ্রামে পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত পাঁচজনকে আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মৃত গফুর সানার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, কাঁকড়াবুনিয়া গ্রামের জামাল সানা, শরিফুল ইসলাম, রেজাউল সরদার, বাবু গাজী ও হযরত আলী সানার সঙ্গে বাদীর পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। গত ১৪ জুন সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে বাদী জাহাঙ্গীর আলম বাড়ি যাওয়ার পথে জামাল সানার বাড়ির সামনে ওয়াপদা রাস্তার ওপর পৌঁছালে প্রতিপক্ষরা দেশীয় অস্ত্র, রড, পাইপ ও লাঠিসোটা নিয়ে তার পথরোধ করে।
এর প্রতিবাদ করলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। জাহাঙ্গীরকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার ছোট ভাই দ্বীন মোহাম্মদ সানা, ভাগ্নে জসিম ও সাহিদুল, এবং চাচাতো ভাগ্নে তরিকুল ইসলাম সানাকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ২২ হাজার ২০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া বাদীর স্ত্রী জ্যোৎস্না খাতুনকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করে ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা মূল্যের সোনার চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। হাসপাতালে যাওয়ার পথে আহতদের ওপর দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয় বলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার জানিয়েছে।

শ্যামনগরে বেড়িবাঁধ প্রকল্প: চাঁদা না পেয়ে বাধার অভিযোগ, তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত দাবি ইউপি চেয়ারম্যানের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:২৫ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে বেড়িবাঁধ প্রকল্প: চাঁদা না পেয়ে বাধার অভিযোগ, তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত দাবি ইউপি চেয়ারম্যানের

সংবাদদাতা: শ্যামনগরে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন উপকূল রক্ষা বেড়িবাঁধ প্রকল্প নিয়ে চলা বিতর্কের অবসান ঘটেছে। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জমি দখলের যে অভিযোগ তুলে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মো. নজরুল ইসলাম আন্দোলন করছিলেন, সরকারি তদন্তে তার কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চেয়ারম্যান যে জমিটিকে নিজের লিজ নেওয়া সম্পত্তি বলে দাবি করেছিলেন, প্রকৃতপক্ষে সেটি পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জায়গা।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, তদন্তের এই ফলাফলের পর প্রকল্প কর্তৃপক্ষের সেই পুরোনো অভিযোগটিই সামনে আসছেÑমোটা অঙ্কের চাঁদা না পেয়েই উন্নয়ন কাজে বারবার বাধা দেওয়া হচ্ছিল।
জানা যায়, জাইকার অর্থায়নে শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনী ও কাশিমারী ইউনিয়নে প্রায় আড়াই কিলোমিটার টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করছে ‘মেসার্স আর-রাদ করপোরেশন’। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে কাজে বাধা দিচ্ছেন। এ নিয়ে পাউবোর প্রকল্প পরিচালক জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগও করেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে পানি সম্পদ মন্ত্রীর নির্দেশে গত ১ জুন শ্যামনগর উপজেলা পরিষদে একটি বিশেষ সভা হয়। সেখানে স্থানীয় সংসদ সদস্য, পাউবো কর্মকর্তা, প্রশাসন এবং বিএনপি-জামায়াত ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় চেয়ারম্যান দাবি করেন, প্রকল্পের সিসি ব্লক তৈরির ইয়ার্ডটি তার লিজ নেওয়া জমিতে করা হয়েছে। এই দাবির সত্যতা যাচাইয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ওসিসহ সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
গত ৪ জুন সরেজমিন পরিদর্শন শেষে ৮ জুন কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে দেখা যায়, সিসি ব্লক তৈরির জায়গাটি মূলত বিআরএস ৭০০১ ও ৭০০২ দাগের অন্তর্ভুক্ত, যা যথাক্রমে সরকারি খাস জমি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম লিজের কোনো বৈধ বা হালনাগাদ দলিল দেখাতে পারেননি। নিয়ম অনুযায়ী, পাউবোর জমি কোনো ইউপি চেয়ারম্যানকে লিজ দেওয়ার এখতিয়ার উপজেলা খাস জমি বন্দোবস্ত কমিটির নেই। ওই জমিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বৈধভাবে কাজ করছে। তবে এই তদন্ত প্রতিবেদনে জামায়াতে ইসলামী ও চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি স্বাক্ষর করেননি।
শ্যামনগরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন বলেন, নির্ধারিত পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যেই তদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। তদন্তে যা পাওয়া গেছে, তা-ই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তের সময় জামায়াত ও চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকায় তাদের স্বাক্ষর নেওয়া সম্ভব হয়নি।
পাউবো ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, মূলত চাঁদা না পেয়েই এই বাধা সৃষ্টি করা হয়েছিল। আর-রাদ করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সবুজ আলী খান জানান, গত ফেব্রুয়ারিতে তার কাছে ১২ লাখ টাকা কমিশন দাবি করা হয়। টাকা না দেওয়ায় শ্রমিক ও সাব-ঠিকাদারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় গত ২৫ মে শ্যামনগর থানায় চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও তার ছেলেসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ১৯ মে চেয়ারম্যান ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং ২৩ মে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে প্রকৌশলী জাহিদ হাসানকে মারধর করে স্মার্টওয়াচ ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেন। ঘটনার পর থেকে চেয়ারম্যান পলাতক রয়েছেন। তবে শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম। তার দাবি, তিনি বনায়ন রক্ষা ও পরিবেশগত কারণে আপত্তি তুলেছিলেন, কোনো চাঁদা চাননি।
পাউবো কর্মকর্তারা জানান, বর্ষার আগে এই বাঁধের কাজ শেষ না হলে খোলপেটুয়া, মালঞ্চ ও কালিন্দী নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়বে। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীর অর্থায়নে চলা প্রকল্প এভাবে আটকে থাকায় সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণœ হচ্ছিল।