বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছাড়ালো ১২৫ ডলার
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা স্থগিত হওয়ায় এবং ইরান যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে বেড়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসনের পর সর্বোচ্চ। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।
আগামী জুনে সরবরাহযোগ্য ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬.২ শতাংশ বেড়ে ১২৫.৩৬ ডলারে পৌঁছেছে। জুলাইয়ের সরবরাহের জন্য দাম ৩.১ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১১৩.৮৫ ডলার। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ক্রুড অয়েলের দাম ২.৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০৯.৩৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অথচ গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরুর আগে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি মাত্র ৭০ ডলার।
নবম সপ্তাহে গড়ানো ইরান যুদ্ধের অবসানে এখনও কোনও পরিষ্কার পথ দেখা যাচ্ছে না। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকা এবং ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকায় তেলের দাম আরও বাড়ছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে সংঘাত আরও বাড়ানোর আশঙ্কায় দ্রুত যুদ্ধ শেষের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে গেছে।
আইএনজি ব্যাংকের কৌশলবিদ ওয়ারেন প্যাটারসন এবং ইওয়া ম্যানথে এক গবেষণা নোটে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার ভেঙে পড়া এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর প্রস্তাব ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছেন, এমন খবরে তেল সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার আশা হারাচ্ছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
জ্বালানি তেলের এই ঊর্ধ্বগতির প্রভাবে এশিয়ার শেয়ারবাজারেও বড় পতন হয়েছে। টোকিও’র নিক্কেই ২২৫ সূচক ১.৬ শতাংশ কমে ৫৮,৯৬৭.০৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ১.১ শতাংশ এবং হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক ১.৩ শতাংশ কমেছে। এছাড়া ভারতের সেনসেক্স সূচক ১.২ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ার এসঅ্যান্ডপি/এএসএক্স সূচক ০.৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
তবে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যেও চীনের কারখানাকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ড কিছুটা ধীর হলেও টানা দ্বিতীয় মাসের মতো সম্প্রসারণের ধারায় রয়েছে বলে সরকারি জরিপে উঠে এসেছে। সেখানে সাংহাই কম্পোজিট সূচক ০.১ শতাংশ বেড়ে ৪,১০৯.৯৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে।












