বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩

বৃক্ষরোপণ অভিযানে সামাজিক দায়বদ্ধতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১১:১৮ অপরাহ্ণ
বৃক্ষরোপণ অভিযানে সামাজিক দায়বদ্ধতা

এম শফিকুল ইসলাম

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর উনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বসে বৃক্ষ আর সবুজ অরণ্যের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেই হয়তো লিখেছেন “দাও ফিরিয়ে সেই অরণ্য, লও এ নগর লও এ নগর”। তারপর বহু সময় পেরিয়ে গেছে উজাড় হয়েছে অরণ্য ধ্বংস হয়েছে বৃক্ষ। এ প্রেক্ষাপটে সময়ের দাবি হিসেবে বৃক্ষরোপণ ও বনসৃজনের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পেয়েছিল মানুষ। আর এ প্রয়োজনীয়তাকে অনুধাবন করতে পেরেই সরকার বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনের রূপ দিয়ে গ্রহণ করেছে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি, পরিচালনা করেছে বৃক্ষরোপণ অভিযান ।

 

সাধারণভাবে বলা হয় প্রতিবছর একটি নির্দিষ্ট সময়ে (সপ্তাহ, পক্ষ বা মাসব্যাপী) দেশকে সবুজ বৃক্ষে আচ্ছাদিত করার লক্ষ্যে বৃক্ষরোপনের যে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয় তাই বৃক্ষরোপণ অভিযান। আমাদের দেশে প্রতিবছর বৃক্ষরোপণ সপ্তাহে একটি বিশেষ বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে সারাদেশে পরিকল্পিত উপায়ে বৃক্ষরোপণ করা হয়। বৃক্ষরোপনের উপকারিতা ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হয়।

 

সাধারণত প্রতিবছর জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহকে (বর্ষাকাল) বৃক্ষরোপণ সত্তা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। পর্যাপ্ত মৌসুমী বৃষ্টিপাত হওয়ার এই সময়টাকেই বৃক্ষরোপনের উপযুক্ত সময় হিসেবে গণ্য করা হয়। এ সময় সরকার নিজে উদ্যোগে বিভিন্ন নার্সারি থেকে লক্ষ লক্ষ চারা গাছ বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে জনগণের মধ্যে বিতরণ করে। বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং এনজিও ও অভিযান পরিচালনায় কার্যক্রম গ্রহণ করে। দেশকে সবুজ বৃক্ষাচ্ছিদ করে পরিবেশ বিপর্যয় রোধকল্পে সরকার গৃহীত বৃক্ষরোপণ অভিযান একটি মহৎ প্রচেষ্টা হিসেবেই পরিগণ্য। বনজ সম্পদকে টিকিয়ে রাখা ও এর সম্প্রসারণের জন্য আমাদের দেশে প্রতিবছর বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

সপ্তাহ,পক্ষকাল বা মাসব্যাপী এ অভিযান চলে। এ সময় পরিকল্পিত উপায়ে বৃক্ষরোপণ করা হয়। সাধারণত প্রতিবছর বর্ষাকালে সরকারের বনবিভাগের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ অভিযান চালানো হয়। এ সময় জনগণ নিকটস্থ নার্সারি থেকে বিনামূল্যে অথবা স্বল্পমূল্যে গাছের চারা সংগ্রহ করতে পারে। অভিযান চলাকালে আমাদের জীবনে বৃক্ষের প্রয়োজনীয়তা ও চারা রোপনের পদ্ধতি সম্পর্কে বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়া হয়। নিঃসন্দেহে বৃক্ষরোপণ অভিযান একটি মহৎ প্রচেষ্টা। বৃক্ষ রক্ষা মানে নিজেদের জীবনকে রক্ষা করা। বৃক্ষরোপণ অভিযানকে সফল করতে হলে সরকারের পাশাপাশি জনগণ কেউ এগিয়ে আসতে হবে।

 

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ বন বিভাগ বৃক্ষের চারা উৎপাদন করে বিনামূল্যে তা জনগণের মাঝে সরবরাহ করবে। গাছ লাগানোর জন্য জনমনে চেতনা সঞ্চার করতে হবে। এ ব্যাপারে রেডিও, টেলিভিশন, সিনেমা হল, মাইকে প্রচার, পোস্টার বিলি এবং সভা সমিতি ব্যাপক ভূমিকা পালন করতে পারে। আমাদের দেশে বার কোটি সক্ষম লোক আছে। আমরা প্রত্যেকে যদি কমপক্ষে একটা করে গাছ লাগাই তাহলে সহসাই আমাদের এ অভিযান সফল হবে। প্রকৃতপক্ষে বনায়নকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে না পারলে এ থেকে সর্বতোভাবে সাফল্য পাওয়া সম্ভব নয়। সমাজে বসবাসরত মানুষকে যদি বিপন্ন পরিবেশের ভয়াবহতা সম্পর্কে অবহিত করা যায়, তাহলে অনেকেই বনায়নের কাজে এগিয়ে আসবে।

 

প্রয়োজনে বনবিভাগের কর্মকর্তা- কর্মচারীরা মোটিভেশন কার্যে অংশ নিয়ে সাধারণ মানুষকে বোঝাবেন এবং বনায়নে উৎসাহিত করবেন। ১৯৮২ থেকে বাংলাদেশের সামাজিক বনায়ন আন্দোলন শুরু হয়েছে। ১৯৮২ সাল থেকে রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলায় এ প্রকল্প ব্যাপক প্রসারতা লাভ করে। থানা বনায়ন ও নার্সারি উন্নয়ন পরিকল্পে বনায়নের কর্মসূচি তিনটি জেলা ছাড়া দেশের ৬১টি জেলার সর্বত্র চালু আছে। এ কার্যক্রমে গাছের চারা বিতরণ থেকে পরিশোধ কোন প্রদান প্রভৃতি কাজ চালু রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের আঙ্গিনায়, মসজিদ কিংবা অফিসের প্রাঙ্গনে, উপকূলীয় বাঁধের বাইরে প্রভৃতি পরিসরে বৃক্ষরোপণ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

পরিবেশের অবক্ষয় ও পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতার যে বিরূপ প্রভাব আমাদের বাংলাদেশে এসে পড়েছে, তা থেকে রক্ষা পেতে হলে বনায়নের বিকল্প নেই। কিন্তু বৃক্ষরোপণ ও বন সংরক্ষণ কার্যক্রম কেবল সরকারি পর্যায়ে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এ কার্যক্রমে জনগণের সম্পৃক্তকরণ একান্ত ভাবে প্রয়োজন। ধর্ম, বর্ণ, মতবাদ নির্বিশেষে সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে পরিবেশ সংরক্ষণের বৃক্ষরোপণ অভিযান বাস্তবমুখী হতে পারে। সকলের সম্মিলিত প্রয়াসই আমাদের পরিবেশ উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও প্রতিবেশকে বাস উপযোগী রাখার নিশ্চয়তা দিতে পারে।

 

Ads small one

সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:২১ পূর্বাহ্ণ
সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে সরকারি ও বেসরকারি সমমনা সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণে সিসিআরসি ও আরবিএ বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৪ জুন দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিসিডিবি এই কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সিসিডিবি’র উপজেলা সমন্বয়কারী স্টিভ রায় রূপন। সিসিডিবি’র রেজিলিয়েন্স বিল্ডিং ম্যানেজার সামিউল আলিম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনও শামসুজ্জামান কনক। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সারিদ বিন শফিক, সমাজসেবা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৮ পূর্বাহ্ণ
জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার বসন্তপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গাছপালা কেটে ফেলা এবং জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বসন্তপুর গ্রামের বৈদ্যনাথ দাস বাদী হয়ে শংকর দাস ও দিপঙ্কর দাসসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলা (নং-৪০৬/২০২৬) দায়ের করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বসন্তপুর মৌজার ৫৮ শতক পৈতৃক সম্পত্তির একটি রাস্তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে, যা নিয়ে আগেও একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন আছে। বাদীর অভিযোগ, চলমান মামলার তোয়াক্কা না করে প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক তাঁর জমিতে প্রবেশ করে বিভিন্ন গাছগাছালি কেটে সাবাড় করেছে এবং জমি দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। বিবাদীদের আর্থিক ও সামাজিক প্রভাবের কারণে তাঁর পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানবেতর জীবনযাপন করছে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ
উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আলিপুর থেকে কুলিয়া বাজার পর্যন্ত অংশে সরকারি খাস জমিতে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে। সড়কের ‘অপ্রয়োজনীয় অংশ’ উচ্ছেদ না করে কেবল মূল কাজের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু জমি ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে গত ২৪ জুন জেলা পরিষদ প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত স্মারকলিপি দিয়েছেন তাঁরা। আগামী ৮ ও ৯ জুলাই সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের পক্ষ থেকে মহাসড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর হাতে আবেদনপত্রটি তুলে দেন।
এ সময় কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক শামীম, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বাবলু, কুলিয়া বাজার কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক আবু হুরাইরা এবং সমাজসেবক মোজাম্মেল হোসেনসহ (মিনু ডাক্তার) এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা পরিষদ প্রশাসক ভুক্তভোগীদের বক্তব্য গুরুত্বসহকারে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বাস্তবসম্মত সমাধানের আশ্বাস দেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, এলাকার অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়কের উন্নয়ন কাজকে স্থানীয়রা স্বাগত জানান। তবে সওজ-এর নকশা অনুযায়ী ঢালাওভাবে উচ্ছেদ করা হলে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাঁদের দোকান, পুঁজি ও জীবিকা হারিয়ে পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়বেন। গ্রামীণ অর্থনীতি, মাছের শেড ও স্থানীয় বাজার ব্যবস্থা এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ছাড়া সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী বহু ভূমিহীন পরিবার মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। মানবিক ও সামাজিক দিক বিবেচনা করে সড়ক উন্নয়নে যতটুকু জমি অপরিহার্য, ঠিক ততটুকু রেখে বাকি অংশ উচ্ছেদ না করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।