মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

ভারতীয ভিসা: কেন্দ্র, স্লট সংকট ও অদৃশ্য প্রশ্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৩:৫২ অপরাহ্ণ
ভারতীয ভিসা: কেন্দ্র, স্লট সংকট ও অদৃশ্য প্রশ্ন

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক শুধু সীমান্তের ভৌগোলিক বাস্তবতা নয়; এটি ইতিহাস, সংস্কৃতি, আত্মীয়তা, অর্থনীতি ও মানবিক যোগাযোগের এক দীর্ঘ পথ। চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগী, শিক্ষা বা ব্যবসার প্রয়োজনে যাতায়াতকারী মানুষ, কিংবা ধর্মীয় তীর্থযাত্রীÑসব মিলিয়ে ভারতের ভিসা বাংলাদেশের মানুষের কাছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সেবা।কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই ভিসা ব্যবস্থা ঘিরে যে চিত্র তৈরি হয়েছে, তা অনেকের কাছেই স্বস্তির নয়। আবেদন জমা দেওয়া থেকে শুরু করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট পাওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটিই যেন এক ধরনের প্রতিযোগিতামূলক যুদ্ধ।

 

প্রশ্ন উঠছেÑএই সেবা কি সত্যিই সবার জন্য সমানভাবে উন্মুক্ত, নাকি এটি ধীরে ধীরে একটি নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে? ভিসা কোনো বিলাসিতা নয়। বাংলাদেশের অনেক মানুষের জন্য এটি জীবনরক্ষাকারী একটি মাধ্যম। বিশেষ করে চিকিৎসার ক্ষেত্রে ভারতের ওপর নির্ভরশীলতা এখনো উল্লেখযোগ্য। ঢাকায় বা দেশের ভেতরে চিকিৎসা না পেয়ে অনেক রোগীই সীমান্ত পেরিয়ে চিকিৎসা নিতে যান। এই বাস্তবতায় ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা বলছে, এই প্রক্রিয়া অনেকের জন্যই এখন দীর্ঘসূত্রতা, অনিশ্চয়তা এবং অতিরিক্ত খরচের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

একজন সাধারণ মানুষ যখন দিনের পর দিন অনলাইনে চেষ্টা করেও স্লট পান না, তখন তার মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগেÑসেবা কি সত্যিই সবার জন্য উন্মুক্ত? বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রবণতা স্পষ্টÑসেবা রাজধানী কেন্দ্রিক। ভিসা আবেদন জমা কেন্দ্রগুলোর ক্ষেত্রেও সেই চিত্র ব্যতিক্রম নয়।ফলে দেশের বিভিন্ন জেলাÑবিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, উত্তরাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকার মানুষকে ভিসা আবেদন জমা দিতে বড় শহরে যেতে হয়। এতে যে ভোগান্তি তৈরি হয় তা শুধু আর্থিক নয়; এটি সময়, শ্রম এবং মানসিক চাপেরও বিষয়।

 

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সাতক্ষীরার আশাশুনির মতো এলাকার একজন আবেদনকারীকে অনেক সময় ভোরে রওনা দিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। একদিনে কাজ শেষ না হলে থাকতে হয় অতিরিক্ত দিন। এতে বাড়ে খরচ, নষ্ট হয় কর্মদিবস, ক্ষতিগ্রস্ত হয় দৈনন্দিন জীবিকা। এ প্রশ্ন তাই স্বাভাবিকভাবেই ওঠেÑরাষ্ট্রীয় সেবা কি ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর নির্ভর করবে? সাতক্ষীরা, যশোর, কুষ্টিয়া, নড়াইল কিংবা উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘদিনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। অনেক পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক বজায় রেখেছে।

 

চিকিৎসা, আত্মীয়তা কিংবা ব্যবসায়িক কারণে এসব অঞ্চলের মানুষ নিয়মিত ভারতে যান। অথচ ভিসা আবেদন কেন্দ্রের সীমাবদ্ধতা তাদের জন্য এক ধরনের কাঠামোগত বাধা তৈরি করে। যেখানে চাহিদা বেশি, সেখানে সেবা সহজ হওয়ার কথা; কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় উল্টোÑযেখানে চাহিদা বেশি, সেখানেই সেবা পাওয়া কঠিন। বর্তমান ভিসা ব্যবস্থার সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত বিষয় হলো অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট সংকট। অনলাইনে স্লট উন্মুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা শেষ হয়ে যায়Ñএমন অভিযোগ বহুদিনের। সাধারণ আবেদনকারীরা বলেন, তারা দিনের পর দিন চেষ্টা করেও স্লট পান না। অথচ একই সময়ে কিছু নির্দিষ্ট এজেন্ট বা দালাল চক্রের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে স্লট পাওয়া যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

এখানেই প্রশ্নটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেÑস্লট কি সত্যিই মুহূর্তে শেষ হয়ে যায়, নাকি একটি নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার মাধ্যমে শেষ করে দেওয়া হয়? যদি প্রথমটি সত্য হয়, তবে এটি চাহিদা ও সরবরাহের সমস্যা। কিন্তু যদি দ্বিতীয়টি সত্য হয়, তবে এটি কেবল প্রশাসনিক নয়Ñএকটি নৈতিক ও কাঠামোগত সংকট। স্লট সংকটকে কেন্দ্র করে যে অভিযোগ সবচেয়ে বেশি শোনা যায়, তা হলো “স্লট বাণিজ্য”। এখানে একটি মধ্যস্বত্বভোগী চক্র সক্রিয় বলে ধারণা করা হয়, যারা সাধারণ মানুষের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে।

 

একদিকে সাধারণ আবেদনকারী, যারা নিয়ম মেনে চেষ্টা করেও স্লট পান নাঅন্যদিকে আর্থিকভাবে সক্ষম বা সংযোগসম্পন্ন গোষ্ঠী, যারা দ্রুত সেবা পানএই বিভাজন শুধু অর্থনৈতিক বৈষম্য নয়; এটি একটি সেবাব্যবস্থার প্রতি আস্থার সংকট তৈরি করে। যেখানে নাগরিক মনে করেন, “নিয়ম মেনে চেষ্টা করলে পাওয়া যাবে না, কিন্তু টাকা দিলে পাওয়া যাবে”Ñসেখানে রাষ্ট্রীয় সেবার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া এখন ডিজিটাল হলেও বাস্তবে সমস্যার সমাধান হয়নি। বরং অনেক ক্ষেত্রে প্রযুক্তিই নতুন জটিলতা তৈরি করেছে।

 

স্লট বুকিং সিস্টেম, সার্ভার লোড, বট ব্যবহার, অটোমেটেড স্ক্রিপ্টÑএসব মিলিয়ে একটি জটিল কাঠামো তৈরি হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। প্রযুক্তি তখনই কার্যকর, যখন তা সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করে। কিন্তু যদি প্রযুক্তি ব্যবহার করে কিছু গোষ্ঠী সুবিধা পায় এবং সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হয়, তবে সেটি প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়Ñবরং প্রযুক্তিনির্ভর বৈষম্য। যেখানে সেবা সীমিত এবং জটিল, সেখানে দালালচক্র সক্রিয় হয়Ñএটি নতুন কিছু নয়। ভিসা ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। অনেকেই অভিযোগ করেন, তারা নিজেরা চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ার পর দালালের শরণাপন্ন হন। কারণ দালালরা “নিশ্চিত স্লট” দেওয়ার দাবি করে, যদিও তার জন্য দিতে হয় অতিরিক্ত অর্থ।

 

এই অবস্থায় প্রশ্ন ওঠেÑএই চক্র কি কেবল স্থানীয় স্তরে সীমাবদ্ধ, নাকি এর পেছনে আরও বড় কোনো কাঠামোগত দুর্বলতা রয়েছে? বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই সমস্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ সমাধান হতে পারে সেবার বিকেন্দ্রীকরণ। যদি বিভাগীয় শহর ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরে ভিসা আবেদন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়, তাহলেÑআবেদনকারীর চাপ কমবে, যাতায়াত ব্যয় হ্রাস পাবে, দালালচক্রের সুযোগ কমবে, সেবা আরও স্বচ্ছ হবে, স্লট ব্যবস্থার ওপর চাপ কমবে, বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোকে অগ্রাধিকার দিলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে সাধারণ মানুষ।

 

যেকোনো সেবা ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হলো জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা। ভিসা সেবার ক্ষেত্রেও এই দুটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি স্লট বণ্টন, আবেদন গ্রহণ এবং প্রক্রিয়াকরণে স্বচ্ছতা না থাকে, তবে সেখানে আস্থার সংকট তৈরি হবেই। নিয়মিত প্রযুক্তিগত অডিট, স্বাধীন পর্যবেক্ষণ এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা ছাড়া এই সমস্যার সমাধান কঠিন। ভিসা সমস্যা শুধু প্রশাসনিক জটিলতা নয়; এটি মানবিকও। একজন অসুস্থ রোগী, একজন বৃদ্ধ পিতা-মাতা, কিংবা জরুরি পারিবারিক প্রয়োজনে যাত্রা করতে চাওয়া মানুষÑতাদের জন্য প্রতিটি দিন গুরুত্বপূর্ণ।

 

এই অবস্থায় ভিসা প্রক্রিয়ার বিলম্ব বা অনিশ্চয়তা অনেক সময় ব্যক্তিগত জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। নীতিগতভাবে বলা হয়Ñসেবা সবার জন্য সমান। কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা অনেক সময় সেই ঘোষণার সঙ্গে মেলে না। যখন একজন নাগরিক নিয়ম মেনে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন, আর অন্য কেউ অর্থের বিনিময়ে সফল হন, তখন নীতির চেয়ে বাস্তবতার প্রভাব বেশি হয়ে ওঠে। এই পার্থক্যই শেষ পর্যন্ত আস্থার সংকট তৈরি করে। ভিসা সেবা এখন শুধু একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়; এটি একটি সামাজিক প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।

 

এখানে প্রশ্ন শুধু কেন্দ্র কতটি বা স্লট কতটিÑতা নয়; প্রশ্ন হলো, সেবা কি সত্যিই সবার জন্য সমান? যদি সেবা কেবল নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে সহজলভ্য হয়, তবে সেটি আর সেবা থাকে নাÑতা হয়ে ওঠে নিয়ন্ত্রিত সুযোগ। আজ প্রয়োজনÑসেবার বিকেন্দ্রীকরণ, স্লট ব্যবস্থার স্বচ্ছতা,দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, প্রযুক্তির ন্যায্য ব্যবহার। কারণ শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি খুব মৌলিকÑএকই দেশের নাগরিক হয়ে কেন কেউ সেবা পাবে সহজে, আর কেউ পাবে না?

লেখক: সংবাদকর্মী

Ads small one

ফ্রান্সের বিপক্ষে আজ সুইডেনের কঠিন পরীক্ষা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
ফ্রান্সের বিপক্ষে আজ সুইডেনের কঠিন পরীক্ষা

টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার লক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার রাত ৩টায় শেষ ৩২-এ সুইডেনের মুখোমুখি হবে ফ্রান্স। দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ফরাসিদের বিপক্ষে কঠিন চ্যালেঞ্জের অপেক্ষায় গ্রাহাম পটারের দল।

গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচেই জয় তুলে নিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে নকআউট পর্বে উঠেছে ফ্রান্স। সেনেগাল, নরওয়ে ও ইরাককে হারানোর পথে ১০ গোল করেছে তারা। ফলে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে তাদের অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে।

ফ্রান্সের হয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলে চারটি করে গোল করেছেন। এছাড়া দেজিরে দুয়ে ও ব্র্যাডলি বারকোলাও গোলের দেখা পেয়েছেন। ফলে আক্রমণভাগে ফ্রান্স কতটা ভয়ংকর, তারই প্রমাণ মিলেছে গ্রুপ পর্বে।

অপরদিকে, নিজেদের গ্রুপে নেদারল্যান্ডস ও জাপানের পেছনে থেকে তৃতীয় হয়ে নকআউট পর্বে উঠেছে সুইডেন। টুর্নামেন্টের শুরুতে তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিলেও পরের ম্যাচে একই ব্যবধানে নেদারল্যান্ডসের কাছে হারে তারা। শেষ ম্যাচে জাপানের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে দলটি শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে। তবে এবার তাদের সামনে অপেক্ষা করছে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাগুলোর একটি।

শক্তিশালী ফরাসি দলের বিপক্ষে গোলের দায়িত্ব থাকবে সুইডেনের তারকা ফরোয়ার্ড ভিক্টর জিয়োকেরেস ও আলেক্সান্ডার ইসাকের কাঁধে। তাদের সঙ্গে আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন অ্যান্থনি এলাঙ্গাও।

সুইডেনের জন্য দুশ্চিন্তার বিষয়, দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ডিফেন্ডার ইসাক হিয়েন হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে গেছেন। ফলে ফ্রান্সের শক্তিশালী আক্রমণ সামলাতে রক্ষণভাগকে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে হবে। পাশাপাশি ভাগ্যও তাদের পক্ষে থাকতে হবে!

 

নতুন গুঞ্জন হাওয়ায়, প্রেম করছেন কেয়া পায়েল!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৭:৪২ অপরাহ্ণ
নতুন গুঞ্জন হাওয়ায়, প্রেম করছেন কেয়া পায়েল!

ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী কেয়া পায়েলের ব্যক্তিজীবন নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। অতীতেও একাধিকবার তার প্রেমের গুঞ্জন শোনা গেছে। তবে এসব বিষয়ে তিনি কখনোই প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। এবার মালদ্বীপে তার অবকাশযাপনের একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে আবারও আলোচনার জন্ম দিয়েছে সামাজিকমাধ্যম।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মালদ্বীপে এক তরুণের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন কেয়া পায়েল। কখনও তাদের গল্প করতে, আবার কখনও একটি রেস্তোরাঁয় ওই তরুণকে নিজের হাতে খাবার খাওয়াতে দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশের পর থেকেই নেটিজেনদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা—কে এই তরুণ এবং তাঁর সঙ্গে অভিনেত্রীর সম্পর্ক কী?

অভিনেত্রীর ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্রের দাবি, ওই তরুণের নাম প্রাচুর্য। তাদের পরিচয় দীর্ঘদিনের এবং সময়ের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। সূত্রগুলোর ভাষ্য, এর আগেও তাদের যুক্তরাজ্যে একসঙ্গে সময় কাটাতে দেখা গেছে।

 

এমনকি ঘনিষ্ঠজনদের মতে, কেয়া পায়েল ও প্রাচুর্য দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্কে রয়েছেন এবং বিষয়টি দুই পরিবারও জানে। ভবিষ্যতে বিয়ের পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা রয়েছে বলে দাবি করা হলেও এ বিষয়ে কোনোপক্ষ থেকেই আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ মেলেনি।

এদিকে মালদ্বীপের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ভক্তদের কৌতূহল আরও বেড়েছে। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘদিনের গুঞ্জনের পর হয়তো এবার নিজের ব্যক্তিজীবন নিয়ে প্রকাশ্যে আসতে পারেন এই অভিনেত্রী। তবে এখন পর্যন্ত কেয়া পায়েল বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড

জুলাই গণআন্দোলন চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয় জনকে হত্যাসহ আট অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ ও ১ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়ে রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এই রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে গত ১৪ মে এই মামলায় উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি যে কোনোদিন রায়ের জন‍্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখেছিলেন ট্রাইব্যুনাল।

সেদিন ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, মঈনুল করিম, আবদুস সোবহান তরফদারসহ অন্যরা। অপরদিকে ইনুর পক্ষে যুক্তিতর্ক শেষ করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। মোট ৯ দিন নিজেদের যুক্তি উপস্থাপন করে আসামিপক্ষ। শুনানিতে আসামির পক্ষে বিভিন্ন আইনি দিক তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইনু সংসদ সদস্য ছিলেন না বলেও দাবি করা হয়।

মুনসুরুল হক বলেন, “কুষ্টিয়ায় ছয় জনকে হত্যার ঘটনায় ইনুর কোনও সম্পৃক্ততা নেই। মামলার সাক্ষীরাও স্বীকার করেছেন, হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি কুষ্টিয়ায় উপস্থিত ছিলেন না।”

প্রসঙ্গত, জুলাই-আগস্ট আন্দোলন ঘিরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়। তাদের গুলিতে শহীদ হন শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ। আহত হন বহু নিরীহ মানুষ। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইনুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়। পরে তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ এনে ফরমাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) জমা দেয় প্রসিকিউশন।

ইনুর বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে তিন নম্বর অভিযোগে তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগে এক লাখ করে দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং উভয় চার্জে ১০ বছর করে দণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগে খালাস দেন আদালত।

তবে আলাদা আলাদা দণ্ড হলেও ট্রাইব্যুনাল বলেন, তাকে ১০ বছরের সাজা ভোগ করতে হবে।