মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতায় তেল রফতানিতে যুক্তরাষ্ট্রের রেকর্ড
মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ সংকটের সুযোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানিতে রেকর্ড গড়েছে। তবে এই রফতানি বৃদ্ধির ধারা দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশটির নিজস্ব লজিস্টিকস ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের বন্দর ও টার্মিনালগুলোর সক্ষমতা একটি সর্বোচ্চ সীমার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘জ্বালানি আধিপত্য’ এজেন্ডার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বাড়াচ্ছে। হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা মার্কিন তেল ও গ্যাসের রফতানিকে ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
ফেডারেল তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র রেকর্ড ১২ দশমিক ৯ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানি করেছে। ইস্ট ড্যালি অ্যানালিটিক্সের রব উইলসন জানান, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক বাণিজ্যের গতিপথ বদলে যাচ্ছে, যা যুদ্ধের পরও স্থায়ীভাবে পরিবর্তিত হতে পারে।
বাজার গবেষণা সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে মাসিকভিত্তিতে প্রথমবারের মতো প্রতিদিন গড়ে ৫ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রফতানির সম্ভাবনা রয়েছে। কেপলারের ম্যাট স্মিথ জানান, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার (ভিএলসিসি) বা বড় ট্যাঙ্কারের প্রাপ্যতা বেড়েছে, যার সুযোগ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
রফতানি বাড়লেও এর পেছনে কিছু বাস্তব সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ম্যাট স্মিথের মতে, লজিস্টিক সীমাবদ্ধতার কারণে মাসিক রফতানির একটি সর্বোচ্চ সীমা ৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন ব্যারেলের আশপাশে থাকতে পারে। ইস্ট ড্যালি অ্যানালিটিক্সের রব উইলসন মনে করেন, অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল রফতানির ক্ষেত্রে ১ থেকে ২ মিলিয়ন ব্যারেলের একটি সীমা রয়েছে।
অন্যদিকে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জির রিফাইনারি বিশ্লেষক উইলিয়াম ও’নিল জানান, ডিজেলসহ অন্যান্য পণ্যের মজুত দ্রুত কমে আসছে। তিনি বলেন, ‘রিফাইনারিগুলো উচ্চমাত্রায় চালু থাকলেও বর্তমান রফতানির এই হার অনির্দিষ্টকাল ধরে রাখা সম্ভব হবে না। কারণ অভ্যন্তরীণ মজুত কমে এলে রিফাইনারিগুলোকে রফতানি কমাতে বাধ্য হতে হবে।’
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেইলর রজার্স জানান, রিফাইনারিগুলো প্রেসিডেন্টের জ্বালানি এজেন্ডার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং সম্প্রতি টেক্সাসের ব্রাউনভিলে নতুন একটি রিফাইনারি খোলার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে উপসাগরীয় অঞ্চলের বন্দর ও টার্মিনালগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে বড় ধরনের বেসরকারি বিনিয়োগের বিষয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ক্লিয়ারভিউ এনার্জি পার্টনার্সের জ্যাক রূসো বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে বন্দর সম্প্রসারণের বেশ কিছু প্রকল্প পরিকল্পনা পর্যায়ে থাকলেও, বর্তমানে কেবল টেক্সাস গালফলিংক প্রকল্পটির কাজ এগিয়ে চলেছে। রব উইলসন বলেন, যদি জ্বালানির উচ্চমূল্য ও ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং বিশ্ব ক্রেতারা হরমুজ প্রণালির মতো ঝুঁকিপূর্ণ রুট এড়িয়ে চলতে অগ্রাধিকার দেয়, তবেই হয়তো বন্দর সক্ষমতা বাড়ানোর নতুন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের গতি পাবে।
সূত্র: অ্যাক্সিওস









