শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

মনিরামপুরে যুব ম্যারাথন ও সাইকেল র‌্যালি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ণ
মনিরামপুরে যুব ম্যারাথন ও সাইকেল র‌্যালি

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের মনিরামপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে যুব ম্যারাথন, আলোচনা সভা ও সাইকেল র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার ১০ নম্বর মশ্মিমনগর ইউনিয়ন যুব বিভাগের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যশোর জেলা যুব বিভাগের সভাপতি প্রভাষক মো. মনিরুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী মনিরামপুর উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি মো. শামিম হোসেন, উপজেলা যুব বিভাগের সম্পাদক আলী রেজা রাজু এবং উপজেলা শুরা সদস্য মাওলানা সেলিম জাহাঙ্গীর।

 

এ ছাড়া স্থানীয় যুব বিভাগের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। আলোচনা সভায় বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য তুলে ধরে দেশ ও সমাজের কল্যাণে যুবসমাজকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

Ads small one

নাগাসাকি দিবস: ধ্বংসস্তূপ থেকে শান্তির আলোকবর্তিকা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩৯ অপরাহ্ণ
নাগাসাকি দিবস: ধ্বংসস্তূপ থেকে শান্তির আলোকবর্তিকা

সাকিবুর রহমান বাবলা

মানবসভ্যতার ইতিহাসে কিছু দিন আছে, যেগুলো শুধু একটি জাতি বা একটি দেশের স্মৃতি নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের জন্য সতর্কবার্তা হয়ে আছে। ৯ আগস্ট তেমনই একটি দিন। প্রতি বছর এই দিনে পালিত হয় নাগাসাকি দিবস—একটি দিন, যা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যুদ্ধের ভয়াবহতা, পারমাণবিক অস্ত্রের ধ্বংসক্ষমতা এবং শান্তির অপরিহার্যতা।

১৯৪৫ সালের ৯ আগস্ট, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অন্তিম পর্যায়ে জাপানের নাগাসাকি শহরের আকাশে বিস্ফোরিত হয় মানব ইতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর অস্ত্র। মাত্র তিন দিন আগে, ৬ আগস্ট, হিরোশিমায় নিক্ষেপ করা হয়েছিল “লিটল বয়” নামের প্রথম পারমাণবিক বোমা। তারই ধারাবাহিকতায় ৯ আগস্ট সকাল ১১টা ২ মিনিটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বি-২৯ বোমারু বিমান বক্সকার থেকে নিক্ষেপ করা হয় প্লুটোনিয়াম-ভিত্তিক পারমাণবিক বোমা “ফ্যাট ম্যান”। মুহূর্তের মধ্যে আগুন, তাপ ও বিস্ফোরণের অভিঘাতে নাগাসাকির বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের ফলে তাৎক্ষণিকভাবে কয়েক দশ হাজার মানুষ প্রাণ হারান এবং বছরের শেষ নাগাদ মৃতের সংখ্যা ৭০ হাজারেরও বেশি ছাড়িয়ে যায়। নাগাসাকি সিটি কর্তৃপক্ষের এক হিসাব অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা ছিল ৭৩,৮৮৪ জন। নিহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রায় ২ হাজার কোরিয়ান শ্রমিকও ছিলেন। তবে এই পরিসংখ্যানের চেয়েও বড় ছিল মানবিক বিপর্যয়ের ব্যাপ্তিÑহাজারো পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়, অসংখ্য মানুষ আহত ও বাস্তুচ্যুত হয় এবং একটি সমৃদ্ধ নগরী মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস হয়ে যায়।

নাগাসাকির ইতিহাসও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ১৫৪৩ সালে পর্তুগিজদের আগমনের মাধ্যমে এটি আন্তর্জাতিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ১৮৫৯ সালে উন্মুক্ত বন্দর ঘোষণার পর শহরটি দ্রুত শিল্প, বাণিজ্য ও জাহাজ নির্মাণের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এর কৌশলগত গুরুত্বই শেষ পর্যন্ত শহরটিকে পারমাণবিক হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে।

বোমা বিস্ফোরণের ক্ষতি শুধু তাৎক্ষণিক প্রাণহানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বিস্ফোরণের তীব্র তাপ, শকওয়েভ এবং তেজস্ক্রিয় বিকিরণ মানুষের শরীর ও পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলেছিল। তেজস্ক্রিয় ধূলিকণা ও ছাই মিশ্রিত তথাকথিত ‘কালো বৃষ্টি’ আক্রান্ত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। যারা এই বিপর্যয় থেকে বেঁচে যান, তাদের জাপানি ভাষায় বলা হয় হিবাকুশা। তাঁদের অনেকেই পরবর্তী জীবনে ক্যানসার, লিউকেমিয়া এবং অন্যান্য জটিল রোগে আক্রান্ত হন। পাশাপাশি মানসিক আঘাত, সামাজিক বৈষম্য এবং দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা তাঁদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে।

তবে নাগাসাকির গল্প কেবল ধ্বংসের গল্প নয়; এটি পুনর্জাগরণ ও মানবিক স্থিতিস্থাপকতারও গল্প। যুদ্ধ-পরবর্তী কয়েক দশকে ব্যাপক পুনর্গঠন, চিকিৎসা গবেষণা এবং সামাজিক পুনর্বাসনের মাধ্যমে শহরটি আবার প্রাণ ফিরে পায়। দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় দেখা গেছে, বেঁচে যাওয়া মানুষের পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে জিনগত ত্রুটির আশঙ্কা ব্যাপকভাবে সত্য প্রমাণিত হয়নি। বর্তমানে নাগাসাকি একটি নিরাপদ, আধুনিক ও সমৃদ্ধ নগরী, যেখানে মানুষের জীবনযাত্রা জাপানের অন্যান্য অঞ্চলের মতোই স্বাভাবিক।

নাগাসাকি আজ কেবল আধুনিক অবকাঠামো, সমুদ্রবন্দর ও পাহাড়ি সৌন্দর্যের এক মনোরম আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্যই নয়, বরং বিশ্বের অন্যতম এক গুরুত্বপূর্ণ শান্তির প্রতীক, যেখানে প্রতি বছর ৯ আগস্ট সকাল ১১টা ২ মিনিটেÑঠিক পারমাণবিক বিস্ফোরণের সেই নির্মম মুহূর্তে—এক মিনিট নীরবতা পালন, নাগাসাকি পিস পার্ক ও অ্যাটমিক বোমা মিউজিয়ামে বিশেষ শ্রদ্ধা নিবেদন এবং বিশ্বশান্তির জোরালো আহ্বানের মধ্য দিয়ে ইতিহাসের সেই ভয়াবহ অধ্যায় থেকে শিক্ষা নেওয়ার তাগিদে বিশ্ববাসী একত্রিত হয়।

বর্তমান বিশ্বেও পারমাণবিক অস্ত্রের হুমকি পুরোপুরি দূর হয়নি। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর সর্বশেষ গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বের ৯টি দেশের কাছে এখনও ১২ হাজারেরও বেশি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে, যার প্রায় ৯০ শতাংশ রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে। এই বাস্তবতা নাগাসাকির শিক্ষাকে আরও প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে। কারণ ইতিহাস প্রমাণ করেছে, পারমাণবিক যুদ্ধের কোনো বিজয়ী নেই; এর পরিণতি কেবল মৃত্যু, ধ্বংস এবং দীর্ঘস্থায়ী মানবিক বিপর্যয়।

এই প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পারমাণবিক অস্ত্র অপ্রসারণ চুক্তি, ব্যাপক পারমাণবিক পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ চুক্তি এবং পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তি বিশ্বকে আরও নিরাপদ করার প্রচেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বিভিন্ন দেশের পারমাণবিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে।

নাগাসাকি দিবস আমাদের শুধু অতীতের এক ট্র্যাজেডির কথা স্মরণ করিয়ে দেয় না; এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও বহন করে। ধ্বংসের মধ্য থেকেও পুনর্গঠন সম্ভব, ঘৃণার মধ্য থেকেও সহমর্মিতা জন্ম নিতে পারে, এবং যুদ্ধের স্মৃতি থেকেও শান্তির আন্দোলন গড়ে উঠতে পারে। নাগাসাকির ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে আসা এই শিক্ষা আজও সমগ্র বিশ্বের জন্য সমান প্রাসঙ্গিক।

নাগাসাকি তাই কেবল একটি শহরের নাম নয়; এটি মানবতার কাছে এক সতর্কবার্তা, এক শিক্ষা এবং একই সঙ্গে এক অনুপ্রেরণার প্রতীক। ইতিহাসের সেই অগ্নিঝরা দিনের স্মৃতি আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয়—সভ্যতার প্রকৃত অগ্রগতি ধ্বংসের ক্ষমতায় নয়, বরং শান্তি, সহযোগিতা এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মধ্যেই নিহিত।

সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় ফাইটার মোরগ আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩০ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় ফাইটার মোরগ আটক

পত্রদূত রিপোর্ট: শনিবার (০৮ আগস্ট ২০২৬) সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধীনস্থ ভোমরা, বৈকারী, মাদরা এবং কাকডাঙ্গা বিওপি এর টহলদল দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় মাদক/চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ, ঔষধ, ফাইটার মোরগ এবং এসকুফ সিরাপ আটক করে।

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটিালিয়ন জানায়, ভোমরা বিওপির আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার লক্ষীদাড়ি হতে ৮০ হাজার টাকার ভারতীয় ফাইটার মোরগ আটক করে। বৈকারী বিওপির আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার ছয়ঘরিয়া হতে ৯০ হাজার টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে। কাকডাঙ্গা বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানার ভাদিয়ালি হতে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার ভারতীয় ঔষধ আটক করে।

এছাড়াও, মাদরা বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানাধীন রাজপুর মাঠ হতে ২৩ হাজার ২০০ টাকার ভারতীয় এসকুফ সিরাপ আটক করে। আটক পন্যের সর্বমোট মূল্য ৩ লাখ ৩৩ হাজার ২০০ টাকা।

বিজিবি আরো জানায়, চোরাকারবারী কর্তৃক বর্ণিত মালামাল শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত হতে বাংলাদেশে পাচার করায় জব্দ করা হয়। এভাবে ভারতীয় দ্রব্য সামগ্রী চোরাচালানের কারণে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবার পাশাপাশি দেশ উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে। দেশের রাজস্ব ফাঁকি রোধ করে স্থানীয় শিল্প বিকাশে বিজিবি’র এরূপ দেশপ্রেমিক ও জনস্বার্থে পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত স্থানীয় জনগন সাধুবাদ জ্ঞাপন করে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ করেন।

 

 

 

হরিহর নদীতে নিখোঁজের ৩ ঘন্টা পর বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৬ অপরাহ্ণ
হরিহর নদীতে নিখোঁজের ৩ ঘন্টা পর বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার

এম এ রহমান, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুরে নদীতে গোসল করতে গিয়ে আমজাদ হোসেন (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের করুন মৃত্যু হয়েছে। নিহত বৃদ্ধ উপজেলার আলতাপোল গ্রামের বাসিন্দা।

জানা গেছে, শনিবার (০৮-০৮-২৬) সকালে বৃদ্ধ আমজাদ হোসেন বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া হরিহর নদীতে গোসল করতে নামেন। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তিনি বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের লোকজন তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিন্তু কোথাও তাকে না পেয়ে পরিবারের লোকজন একপর্যায়ে নিশ্চিত হন যে, তিনি পানিতে নিখোঁজ হয়েছেন।

 

নিখোঁজের সংবাদ মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে শত শত নারী-পুরুষ হরিহর নদের পাড়ে ভিড় জামায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। দীর্ঘ প্রায় ৩ ঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পর নদী থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে।

বৃদ্ধের মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ ব্যাপারে কেশবপুর থনায় একটা অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।