মাটির কারুকাজে বুধহাটার সুবর্ণ বনিক পাড়ার দুর্গাপ্রতিমা
সচ্চিদানন্দ দে সদয়, আশাশুনি: মাটির সূক্ষ্ম কারুকাজে সাজানো হয়েছে আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা সুবর্ণ বণিক পাড়ার দুর্গাপ্রতিমা। মৃৎশিল্পীর নিপুণ হাতে মাটি পেয়েছে নানা নকশা ও শৈল্পিক রূপ। প্রতিমা ও ম-পের সাজসজ্জায় ফুটে উঠেছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের সৌন্দর্য বুধহাটা সুবর্ণ বণিক পাড়ার পূজাম-পে দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে মাটির কাজে।
মাটির তৈরি বিভিন্ন অলংকরণ ও নকশায় সাজানো হচ্ছে প্রতিমার বিভিন্ন অংশ। প্রতিটি কাজই হাতে তৈরি করছেন শিল্পী উত্তম পরামান্য। শিল্পী উত্তম পরামান্য বলেন, “মাটি আমাদের চেনা উপাদান। সেই মাটিকে একটু যতœ ও কল্পনা দিয়ে নানা রূপ দেওয়া যায়। এবার চেষ্টা করেছি প্রতিমা ও ম-পের সাজে মাটির নিজস্ব সৌন্দর্যটা ধরে রাখতে। প্রতিটি নকশা হাতে তৈরি করতে সময় লাগছে, তবে কাজ শেষ হলে ভালো লাগছে।”
তিনি জানান, মাটির কারুকাজে সূক্ষ্মতা আনতে ধৈর্য ও সময় দুটিই প্রয়োজন। প্রথমে মাটি প্রস্তুত করে কাঠামোর ওপর প্রয়োজন অনুযায়ী প্রলেপ দেওয়া হয়। এরপর হাতে তৈরি করা হয় বিভিন্ন নকশা ও অলংকরণ। শুকিয়ে যাওয়ার পর সেগুলোতে রং ও অন্যান্য সাজসজ্জা যুক্ত করা হয়। পূজা কমিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা সৌরভ দত্ত জানান, প্রতিবছরই বুধহাটা সুবর্ণ বণিক পাড়ার পূজাম-পে প্রতিমায় ভিন্নধর্মী সাজসজ্জার চেষ্টা করা হয়।
এবার মাটির কারুকাজকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এতে একদিকে যেমন ম-পে নান্দনিকতা এসেছে, অন্যদিকে স্থানীয় মৃৎশিল্পের ঐতিহ্যও তুলে ধরা হচ্ছে। পূজা শুরু হওয়ার আগেই মাটির কারুকাজে সাজানো ম-প দেখতে স্থানীয় মানুষের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মাটির সূক্ষ্ম নকশা ও প্রতিমার নির্মাণশৈলী দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কাড়ছে। মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক থাপস পাল বলেন, “একসময় মাটির কাজ ছিল আমাদের লোকজ সংস্কৃতির খুব পরিচিত অংশ। এখন নানা আধুনিক উপকরণ এসেছে।
তারপরও মাটির কাজের আলাদা একটা সৌন্দর্য আছে। সেই সৌন্দর্য মানুষের সামনে তুলে ধরাই আমাদের চেষ্টা।” বুধহাটা সুবর্ণ বণিক পাড়ার এই পূজাম-পে তাই এবার দেবী দুর্গার আরাধনার পাশাপাশি দর্শনার্থীরা দেখছেন মৃৎশিল্পীর হাতের নিপুণতা। মাটির সাধারণ উপকরণে তৈরি অসাধারণ কারুকাজই ম-পটিকে দিয়েছে আলাদা পরিচিতি।












