বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মাটির কারুকাজে বুধহাটার সুবর্ণ বনিক পাড়ার দুর্গাপ্রতিমা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১১ অপরাহ্ণ
মাটির কারুকাজে বুধহাটার সুবর্ণ বনিক পাড়ার দুর্গাপ্রতিমা

সচ্চিদানন্দ দে সদয়, আশাশুনি: মাটির সূক্ষ্ম কারুকাজে সাজানো হয়েছে আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা সুবর্ণ বণিক পাড়ার দুর্গাপ্রতিমা। মৃৎশিল্পীর নিপুণ হাতে মাটি পেয়েছে নানা নকশা ও শৈল্পিক রূপ। প্রতিমা ও ম-পের সাজসজ্জায় ফুটে উঠেছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের সৌন্দর্য বুধহাটা সুবর্ণ বণিক পাড়ার পূজাম-পে দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে মাটির কাজে।

 

মাটির তৈরি বিভিন্ন অলংকরণ ও নকশায় সাজানো হচ্ছে প্রতিমার বিভিন্ন অংশ। প্রতিটি কাজই হাতে তৈরি করছেন শিল্পী উত্তম পরামান্য। শিল্পী উত্তম পরামান্য বলেন, “মাটি আমাদের চেনা উপাদান। সেই মাটিকে একটু যতœ ও কল্পনা দিয়ে নানা রূপ দেওয়া যায়। এবার চেষ্টা করেছি প্রতিমা ও ম-পের সাজে মাটির নিজস্ব সৌন্দর্যটা ধরে রাখতে। প্রতিটি নকশা হাতে তৈরি করতে সময় লাগছে, তবে কাজ শেষ হলে ভালো লাগছে।”

 

তিনি জানান, মাটির কারুকাজে সূক্ষ্মতা আনতে ধৈর্য ও সময় দুটিই প্রয়োজন। প্রথমে মাটি প্রস্তুত করে কাঠামোর ওপর প্রয়োজন অনুযায়ী প্রলেপ দেওয়া হয়। এরপর হাতে তৈরি করা হয় বিভিন্ন নকশা ও অলংকরণ। শুকিয়ে যাওয়ার পর সেগুলোতে রং ও অন্যান্য সাজসজ্জা যুক্ত করা হয়। পূজা কমিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা সৌরভ দত্ত জানান, প্রতিবছরই বুধহাটা সুবর্ণ বণিক পাড়ার পূজাম-পে প্রতিমায় ভিন্নধর্মী সাজসজ্জার চেষ্টা করা হয়।

 

এবার মাটির কারুকাজকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এতে একদিকে যেমন ম-পে নান্দনিকতা এসেছে, অন্যদিকে স্থানীয় মৃৎশিল্পের ঐতিহ্যও তুলে ধরা হচ্ছে। পূজা শুরু হওয়ার আগেই মাটির কারুকাজে সাজানো ম-প দেখতে স্থানীয় মানুষের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মাটির সূক্ষ্ম নকশা ও প্রতিমার নির্মাণশৈলী দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কাড়ছে। মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক থাপস পাল বলেন, “একসময় মাটির কাজ ছিল আমাদের লোকজ সংস্কৃতির খুব পরিচিত অংশ। এখন নানা আধুনিক উপকরণ এসেছে।

 

তারপরও মাটির কাজের আলাদা একটা সৌন্দর্য আছে। সেই সৌন্দর্য মানুষের সামনে তুলে ধরাই আমাদের চেষ্টা।” বুধহাটা সুবর্ণ বণিক পাড়ার এই পূজাম-পে তাই এবার দেবী দুর্গার আরাধনার পাশাপাশি দর্শনার্থীরা দেখছেন মৃৎশিল্পীর হাতের নিপুণতা। মাটির সাধারণ উপকরণে তৈরি অসাধারণ কারুকাজই ম-পটিকে দিয়েছে আলাদা পরিচিতি।

Ads small one

উদ্যোক্তাদের জন্য কৃষিপণ্য একটি বৃহৎ খাতে পরিণত হবে: হুইপ রকিবুল ইসলাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৩ অপরাহ্ণ
উদ্যোক্তাদের জন্য কৃষিপণ্য একটি বৃহৎ খাতে পরিণত হবে: হুইপ রকিবুল ইসলাম

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বলেছেন, খুলনা অঞ্চলের এবং দেশের উন্নয়নে কৃষি উদ্যোক্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। এটি একটি সম্ভাবনাময় খাত। সৃজনশীল কৃষি উদ্যোক্তারা মানসম্মত খাদ্যপণ্য উৎপাদন করে ভেজালমুক্ত খাদ্যপণ্যের বাজার সম্প্রসারণে অবদান রাখতে পারেন। আগামীতে উদ্যোক্তাদের জন্য কৃষিপণ্য একটি বৃহৎ খাতে পরিণত হবে।

তিনি বুধবার বিকালে কৃষি প্রণোদনা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের আওতায় কৃষি উদ্যোক্তাদের মধ্যে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসকল কথা বলেন।

খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি রকিবুল ইসলাম বলেন, অনেক সময় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী খাদ্যপণ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক উপকরণ বা কৃত্রিম রঙ ব্যবহার করেন। জনস্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর ও মানহীন এসব পণ্যের বিক্রি যেকোন মূল্যে বন্ধ করা প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, উদ্যোক্তাদের এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, ঋণ, বিপণন সহায়তা ও উপকরণ বিতরণ বৃদ্ধি করা দরকার। উদ্যোক্তার সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে দেশ সমৃদ্ধ হবে। সরকারও সবসময় উদ্যোক্তাদের পাশে থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জেলা প্রশাসন ও সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তার কার্যালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত। এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) বিতান কুমার মন্ডল, কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের উপপরিচালক মো: নজরুল ইসলাম, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল করিম-সহ কৃষি উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রধান অতিথি উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্যের প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন এবং তাদের মধ্যে উপকরণ বিতরণ করেন। তথ্যবিবরণী

প্লাস্টিকের দাপটে বিলীন হতে বসেছে পাটকেলঘাটার ঐতিহ্যবাহী মাদুরশিল্প

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৯ অপরাহ্ণ
প্লাস্টিকের দাপটে বিলীন হতে বসেছে পাটকেলঘাটার ঐতিহ্যবাহী মাদুরশিল্প

এম এম জামান মনি, পাটকেলঘাটা: সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা বাণিজ্য কেন্দ্রের অর্থনীতিতে একসময় বড় ভূমিকা রাখত স্থানীয় মাদুরশিল্প। এই শিল্প থেকে মাদুর কেনাবেচা ও সরবরাহের মাধ্যমে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আয় হতো। ‘মেলে’ নামক বিশেষ ঘাস দিয়ে তৈরি এসব মাদুরের বেশ সুনাম ছিল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। তবে কাঁচামালের সংকট, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, প্লাস্টিক পণ্যের দাপট ও সরকারি সহায়তার অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প।

একসময় পাটকেলঘাটা হাটের মাদুরশিল্পের খ্যাতি ছিল অনেক। তালা উপজেলার খলিষখালী বাজার, দলুয়া বাজার, গাছা বাজার, মাগুরা বাজার, গোয়ালপোতা বাজার ও খেসরা ইউনিয়নের বহু পরিবার মাদুর বুনে জীবিকা নির্বাহ করত। গৃহস্থদের আঙিনায় নারী-পুরুষ মিলে শুকাতেন মেলে ঘাস। নিজেদের জমিতে কিংবা বর্গা নিয়ে অনেকেই এ ঘাসের চাষ করতেন।

স্থানীয় কারিগরদের অভিযোগ, কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত মেলের দাম দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। আগে প্রতিদিন তিন থেকে চারটি মাদুর তৈরি করে প্রতিটি ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি করা যেত। বর্তমানে সেই মাদুর বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৪০০ টাকায়। খরচ বাদ দিলে খুব সামান্য টাকাই হাতে থাকে। ফলে বাধ্য হয়ে কারিগরেরা এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় যুক্ত হচ্ছেন।
মাদরা গ্রামের তারাজান বিবি জানান, জমি থেকে মেলে এনে চিরে রোদে শুকানো হয়। এরপর তা প্রক্রিয়াজাত করে মাদুর তৈরির জন্য সংরক্ষণ করা হয়।

গাচা গ্রামের পরিতোষ সরকার, বাগডাঙা গ্রামের নারায়ণ ম-ল, মাগুরা ইউনিয়নের মাদ্রা গ্রামের শ্যামল সরকার ও কলাগাছি গ্রামের স্বপন সরকার জানান, আগে ঘরে ঘরে মাদুর তৈরির প্রচলন ছিল। অধিকাংশ মানুষ এ কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ব্যাংকিং ঋণের অপ্রতুলতা ও অনুকূল পরিবেশ না থাকায় এখন ব্যাংক থেকে ঋণ মিলছে না। ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

পাটকেলঘাটা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শেখ জহুরুল হক জানান, দক্ষ মাদুরশিল্পীদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে এবং তাঁদের জন্য প্রণোদনা দেওয়া প্রয়োজন। এতে দেশীয় এই হস্তশিল্প পুনরুজ্জীবিত হওয়ার পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
একটি স্থানীয় এনজিও প্রতিনিধি মনে করেন, সরকারি উদ্যোগে ইউনিয়ন বা উপজেলা পর্যায়ে মাদুর মেলার আয়োজন করা উচিত। এটি হস্তশিল্প ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।

এ বিষয়ে তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, তিনি সম্প্রতি যোগ দিয়েছেন। ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

সাতক্ষীরায় ৫০ অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থী পেল ব্যাগ ও শিক্ষা উপকরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৩ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ৫০ অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থী পেল ব্যাগ ও শিক্ষা উপকরণ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরায় অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ব্যাগ এবং বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ১১টায় সাতক্ষীরা পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে রোটারী ক্লাব অব সাতক্ষীরার উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ৫০ জন শিক্ষার্থীর হাতে এসব শিক্ষা উপকরণ তুলে দেওয়া হয়। রোটারিয়ান নুরুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রিপন বিশ্বাস।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বলেন, শিক্ষা প্রতিটি শিশুর মৌলিক অধিকার। অর্থাভাব যেন কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর পড়াশোনায় বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেদিকে সমাজের সবাইকে নজর দিতে হবে। রোটারী ক্লাব অব সাতক্ষীরার এই মানবিক উদ্যোগ প্রশংসনীয়। শিক্ষা উপকরণগুলো শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করবে এবং তাদের ভবিষ্যৎ গড়তে সহায়তা করবে। দেশের উন্নয়নে সুবিধাবঞ্চিত ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে বিত্তবান ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

রোটারী ক্লাব অব সাতক্ষীরার সভাপতি রোটারিয়ান আখতারুজ্জামান কাজলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ক্লাব সম্পাদক রোটারিয়ান সিএম নাজমুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি রোটারিয়ান হাবিবুর রহমান হবি, রোটারিয়ান মো. আশরাফুল করিম ধনী, রোটারিয়ান মো. মাগফুর রহমান, রোটারিয়ান ফারহা দীবা খান সাথী, রোটারিয়ান মশিউর রহমান বাবু, সভাপতি নির্বাচিত রোটারিয়ান কামরুজ্জামান রাসেল, সাবেক সম্পাদক রোটারিয়ান এসএম মিজানুর রহমান, সার্জেন্ট অব আর্মস রোটারিয়ান নাসিমা খাতুন, রোটারিয়ান মো. গোলাম রসুল ও রোটারিয়ান তারিনা তাজরিন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা সামাজিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং শিক্ষার্থীদের মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করার আহ্বান জানান। পরে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন স্কুল ব্যাগ, খাতা, কলমসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ তুলে দেন।