বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

মাথিনের কূপের নায়ক ধীরাজ ভট্টাচার্যের জন্মদিন আজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:৫১ অপরাহ্ণ
মাথিনের কূপের নায়ক ধীরাজ ভট্টাচার্যের জন্মদিন আজ

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: উপমহাদেশের প্রখ্যাত চলচ্চিত্রাভিনেতা ও সাহিত্যিক ধীরাজ ভট্টাচার্যের জন্মদিন ৫ নভেম্বর। ১৯০৫ সালের এই দিনে যশোরের কেশবপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পাঁজিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। কালজয়ী প্রেমকাহিনি ‘মাথিনের কূপ’-এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তাঁর নাম। জন্মদিন উপলক্ষ্যে আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে শুভসংঘ।

ধীরাজ ভট্টাচার্যের বাবা ললিতমোহন ভট্টাচার্য ও মা লীলাবতী। চার ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। পাঁজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে পরিবারের সঙ্গে কলকাতায় চলে যান। ১৯২৩ সালে মিত্র ইনস্টিটিউশন থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। পরে আশুতোষ কলেজে আইএসসিতে ভর্তি হন। তবে অভিনয়, গান, বাজনা ও নাটকের প্রতি প্রবল আগ্রহ তাঁকে ভিন্ন পথে নিয়ে যায়। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি পুলিশ বিভাগে যোগ দেন।

১৯২৩-২৪ সালের দিকে কলকাতা থেকে বদলি হয়ে চট্টগ্রাম এবং পরে টেকনাফ থানায় দায়িত্ব পালন করেন ধীরাজ। সেখানেই স্থানীয় রাখাইন জমিদার ওয়াংথিনের মেয়ে মাথিনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রতিদিন টেকনাফ থানার কূপে পানি আনতে আসতেন মাথিন। থানার বারান্দায় বসে থাকা ধীরাজের সঙ্গে চোখাচোখি থেকেই তাঁদের পরিচয়, পরে তা গভীর প্রেমে রূপ নেয়।

কিন্তু পারিবারিক কারণে বাবার চিঠি পেয়ে মাথিনকে না জানিয়েই কলকাতায় ফিরে যান ধীরাজ। তাঁর ফিরে না আসার আশঙ্কায় মাথিন খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দেন। প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, তিনি কূপের পাশে অনশন শুরু করেন এবং একপর্যায়ে মৃত্যুবরণ করেন। এভাবেই ধীরাজ-মাথিনের অসমাপ্ত প্রেমের করুণ কাহিনি ইতিহাস ও লোকমুখে জায়গা করে নেয়। টেকনাফ থানার সেই কূপ আজও তাঁদের প্রেমের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে পরিচিত।

কলকাতায় ফিরে ধীরাজ আবার অভিনয়জগতে যুক্ত হন। নায়ক থেকে খলনায়ক—বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকের হৃদয়ে স্থান করে নেন। দুই শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘কালপরিণয়’, ‘নৌকাডুবি’, ‘যমুনা পুলিন’, ‘চাঁদ সওদাগর’, ‘দক্ষযজ্ঞ’, ‘সোনার সংসার’, ‘পাষাণ দেবতা’ ও ‘অভয়ের বিয়ে’।

অভিনয়ের পাশাপাশি সাহিত্যিক হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেন ধীরাজ ভট্টাচার্য। তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘যখন পুলিশ ছিলাম’ ও ‘যখন নায়ক ছিলাম’ পাঠকমহলে সমাদৃত। তিনি মোট পাঁচটি গ্রন্থ রচনা করেন। ১৯৫৯ সালের ৪ মার্চ এই গুণী অভিনেতা ও সাহিত্যিক মৃত্যুবরণ করেন।

ধীরাজ ভট্টাচার্যের জীবন ও কর্ম আজও চলচ্চিত্রপ্রেমী ও সাহিত্যপাঠকদের কাছে স্মরণীয় হয়ে আছে। তাঁর জন্মস্থান পাঁজিয়া এবং টেকনাফের মাথিনের কূপ তাঁর জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ স্মারক।

Ads small one

সাতক্ষীরায় নির্মিত হলো জনসচেতনতামূলক চলচ্চিত্র ‘একটি কার্ড, একটি স্বপ্ন’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:৪০ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় নির্মিত হলো জনসচেতনতামূলক চলচ্চিত্র ‘একটি কার্ড, একটি স্বপ্ন’

পত্রদূত ডেস্ক: ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং এর কার্যক্রম সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে সাতক্ষীরায় নির্মিত হয়েছে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘একটি কার্ড, একটি স্বপ্ন’। ঘাসফড়িং ফিল্মসের প্রযোজনায় চলচ্চিত্রটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন মো. আসিফুল আলম (আসিফ)।

সম্প্রতি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পুরাতন সাতক্ষীরাসহ শহরের কয়েকটি স্থানে চলচ্চিত্রটির চিত্রায়ণ সম্পন্ন হয়েছে। এতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্দেশ্য, তথ্য সংগ্রহ, উপকারভোগী নির্বাচন এবং কর্মসূচি সম্পর্কে জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় ও সহযোগিতা করেছেন জিয়াউল হক (জিয়া), খালেদুর রহমান (বাচ্চু), ছন্দা, মনিরুল ইসলাম (মনির), মনিরা, আফরিন, বিজলি, মিম, তাসমিন, মায়া, মায়মুনা, ফাতেমা, আল-আমিন ও নয়নসহ অনেকে। ফ্যামিলি কার্ডের তথ্যকর্মী, ক্যামেরাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারাও চিত্রায়ণে সহযোগিতা করেন।

চলচ্চিত্রটির সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছেন শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মশিদুল হক। এ ছাড়া বন্ধন টেলিমিডিয়া ও শিল্পী সংসদ সহযোগিতা করেছে।

পরিচালক মো. আসিফুল আলম জানান, সাধারণ মানুষের কাছে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সহজভাবে পৌঁছে দেওয়া এবং এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরিই চলচ্চিত্রটি নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় চিত্রায়ণ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

সাতক্ষীরায় মানবাধিকার সুরক্ষা দলের ত্রৈমাসিক সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:৩৪ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় মানবাধিকার সুরক্ষা দলের ত্রৈমাসিক সভা

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরায় উপজেলা মানবাধিকার সুরক্ষা দলের ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ বাংলাদেশ (রিইব) বাস্তবায়িত এবং জার্মান উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা নেটজ বাংলাদেশ ও বিএমজেডের সহযোগিতায় পরিচালিত ‘হোপ’ প্রকল্পের আওতায় শহরের পানসি রেস্তোরাঁয় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা মানবাধিকার সুরক্ষা দলের সভাপতি অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় সঞ্চালনা করেন হোপ প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী খালিদ হাসান। সভায় বিভিন্ন ইউনিয়নের জনদুর্ভোগ, নাগরিক অধিকার ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। আসন্ন উপজেলা সংলাপ সামনে রেখে স্থানীয় সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় সম্প্রতি সাতক্ষীরায় শিশু নির্যাতনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন বক্তারা। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে মানবাধিকার সুরক্ষা ও জনদুর্ভোগ লাঘবে নিয়মিত সংলাপ এবং সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

সভায় হোপ প্রকল্পের এরিয়া কো-অর্ডিনেটর রেখা খাতুন, মাহফুজা পারভীন লিপিসহ সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মানবাধিকার সুরক্ষা দলের সদস্য ও মানবাধিকারকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ভোমরা বন্দরের শ্রমিকদের জন্য হাসপাতাল বা ক্লিনিক স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছি: এমপি খালেক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:২৯ অপরাহ্ণ
ভোমরা বন্দরের শ্রমিকদের জন্য হাসপাতাল বা ক্লিনিক স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছি: এমপি খালেক

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভোমরা ইউনিয়নের উন্নয়ন, জনদুর্ভোগ ও স্থানীয় মানুষের সমস্যা জানতে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন ও মতবিনিময় করেছেন সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক। বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী কর্মসূচিতে তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও ভোমরা স্থলবন্দর পরিদর্শন করেন।

সকালে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। এ সময় তাঁদের সমস্যা ও উন্নয়ন প্রত্যাশার কথা শোনেন। পরে শাখরা-কোমরপুর এলাকার বেউলি ব্রিজসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিদর্শন করেন।

বিকেল সাড়ে ৪টায় ভোমরা স্থলবন্দরে শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে শ্রমিকদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল বা ক্লিনিক স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, এ বিষয়ে জাতীয় সংসদে প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন। চলতি অর্থবছরের মধ্যে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি আশাবাদী।

এ ছাড়া শ্রমিকদের সুপেয় পানির সংকট নিরসনে দুটি পানির ব্যবস্থা, আধুনিক শৌচাগার ও ওয়াশ ব্লক নির্মাণ এবং বন্দরের বিভিন্ন স্থানে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন তিনি। শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে মালিক সমিতি, পুলিশ ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করার কথাও জানান।

মতবিনিময় সভায় মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি রাজনৈতিক সহিংসতা, হাসপাতাল ভাঙচুর, সার বিতরণে অনিয়ম ও সার ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ জাতীয় সংসদে তুলে ধরার কথা বলেন।

বেউলি ব্রিজ পরিদর্শন ও মতবিনিময়কালে দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহা, উপজেলা প্রকৌশলী দ্যুতি মন্ডল, সদর উপজেলা জনস্বাস্থ্য বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মফিজুল রহমান, জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। দিনব্যাপী কর্মসূচিতে সংসদ সদস্য স্থানীয় মানুষের সমস্যা ও প্রত্যাশা শুনে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে উন্নয়নকাজ এগিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দেন।