রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩

মানুষের ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় সম্পদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৬ অপরাহ্ণ
মানুষের ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় সম্পদ

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে মানুষ যখন পেছন ফিরে তাকায়, তখন অনেক হিসাবই নতুন করে করতে হয়। যৌবনে যেসব বিষয়কে খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছিল, বয়সের ভারে সেগুলোর অনেকটাই তুচ্ছ হয়ে যায়। অর্থ, সম্পদ, পদ-পদবি, প্রতিপত্তি কিংবা অন্যকে হারিয়ে দেওয়ার আনন্দÑসবকিছুর ওপরে তখন উঠে আসে একটি প্রশ্ন: কতটা ভালো মানুষ হয়ে বাঁচতে পেরেছি?

 

জীবনের সবচেয়ে বড় নির্মম সত্য হলো, এই উপলব্ধি আমাদের অনেকেরই আসে দেরিতে। যখন সময় থাকে, তখন আমরা সময়ের মূল্য বুঝি না। যখন সম্পর্কগুলো পাশে থাকে, তখন তার যতœ নিই না। যখন শরীর শক্তিশালী, তখন অসুস্থতা ও মৃত্যুর কথা ভাবি না। আর যখন বুঝতে শুরু করি কোনটি সত্যিকার অর্থে মূল্যবান, তখন অনেক কিছুই আর ফিরে পাওয়ার সুযোগ থাকে না।এক হাত জমির জন্য প্রতিবেশীর সঙ্গে বছরের পর বছর বিবাদ চলে।

 

সামান্য অর্থের জন্য ভাইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হয়। সম্পত্তির ভাগ নিয়ে পরিবারের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। অথচ একদিন সেই জমি, সেই অর্থ, সেই সম্পত্তিÑসবই পড়ে থাকবে। মানুষটি চলে যাবে। তখন প্রশ্ন উঠবে না, কে কতটুকু জমি পেল; প্রশ্ন উঠবে, সম্পর্কগুলো কেন নষ্ট হলো।আমাদের সমাজে সম্পদ অর্জনের প্রতিযোগিতা যতটা প্রবল, সম্পর্ক রক্ষার চেষ্টা ততটা নয়।

 

আমরা সন্তানকে শেখাই কীভাবে ভালো চাকরি করতে হয়, কীভাবে বেশি অর্থ উপার্জন করতে হয়, কীভাবে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে হয়। কিন্তু কতটা মানবিক হতে হয়, অন্যের কষ্ট কীভাবে বুঝতে হয়, ভুল করলে কীভাবে ক্ষমা চাইতে হয়Ñএসব শিক্ষা অনেক সময় গৌণ হয়ে যায়।অথচ মানুষের জীবনের শেষ সময়ে এসে এই মানবিক বিষয়গুলোই সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে। একটি কঠিন কথা কখনো কখনো মানুষের মনে বছরের পর বছর ক্ষত তৈরি করে।

 

রাগের মাথায় বলা একটি বাক্য সম্পর্কের মধ্যে এমন দূরত্ব তৈরি করতে পারে, যা পরে আর সহজে মেরামত করা যায় না। অথচ আমরা কথা বলার আগে যতটা ভাবি নিজের স্বার্থ নিয়ে, ততটা ভাবি না অন্যের অনুভূতি নিয়ে।ক্ষমতার ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা। সামান্য ক্ষমতা হাতে এলেই কেউ কেউ দুর্বলকে ভয় দেখান, অধীনস্থকে অপমান করেন, নিজের প্রভাব জাহির করেন।

 

কিন্তু ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। পদ চলে যায়, প্রভাব কমে যায়, শরীর দুর্বল হয়। তখন সেই মানুষগুলোই আর পাশে থাকে না, যাদের একসময় ভয় দেখানো হয়েছিল।জীবনের শেষ সময়ে এসে বোঝা যায়Ñভয় সৃষ্টি করে মানুষের ওপর কর্তৃত্ব করা যায়, কিন্তু ভালোবাসা অর্জন করা যায় না। আমাদের সময়ের বড় একটি সমস্যা হলো, আমরা সাফল্যের সংজ্ঞাকে খুব সংকীর্ণ করে ফেলেছি। ভালো ফল, বড় চাকরি, বেশি আয়, বাড়ি-গাড়ি, সামাজিক অবস্থানÑএসবই যেন সাফল্যের প্রধান মানদ-।

 

ফলে ছোটবেলা থেকেই শুরু হয় তুলনা। কে ক্লাসে প্রথম হলো, কে ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ল, কে কত টাকা আয় করল, কে বিদেশ গেলÑএসব নিয়ে আমাদের ব্যস্ততা শেষ হয় না। কিন্তু জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে হয়তো এসব প্রশ্নের গুরুত্ব অনেকটাই কমে যায়। ক্লাসের সবচেয়ে মেধাবী ছাত্র না হলেও জীবন ব্যর্থ হয় না। অনেক অর্থ উপার্জন করতে না পারলেও মানুষের মূল্য কমে যায় না। বরং একজন সাধারণ মানুষও অসাধারণ হয়ে উঠতে পারেন তাঁর আচরণ, সততা, দায়িত্ববোধ ও মানুষের প্রতি মমত্ববোধের কারণে।

 

একজন মানুষ কত বড় বাড়ি বানিয়েছেন, তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারেÑতিনি কত মানুষের জন্য দরজা খুলে দিয়েছিলেন। তাঁর ব্যাংক হিসাবে কত টাকা ছিল, তার চেয়ে বড় হয়ে উঠতে পারেÑকতজন বিপদের দিনে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।মানুষের আশীর্বাদÑশব্দটি হয়তো খুব সাধারণ। কিন্তু এর মধ্যে জীবনের গভীর একটি সত্য লুকিয়ে আছে। অর্থ দিয়ে অনেক কিছু কেনা যায়, কিন্তু আন্তরিক শুভকামনা কেনা যায় না। ক্ষমতা দিয়ে মানুষকে কিছু সময়ের জন্য বাধ্য করা যায়, কিন্তু হৃদয় থেকে শ্রদ্ধা আদায় করা যায় না।

 

একজন মানুষ চলে যাওয়ার পর কতজন তাঁর জন্য ভালো কথা বলেন, কতজন তাঁর অভাব অনুভব করেন, কতজন তাঁর কোনো ভালো কাজের কথা স্মরণ করেনÑসেটিই তাঁর জীবনের এক ধরনের সামাজিক উত্তরাধিকার।

এই উত্তরাধিকার গড়ে ওঠে এক দিনে নয়। প্রতিদিনের ছোট ছোট আচরণ দিয়ে। কাউকে বিপদে সাহায্য করা, একজন অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, প্রতিবেশীর সমস্যায় সহযোগিতা করা, কর্মচারীর সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করা, পরিবারের সদস্যদের সময় দেওয়াÑএসবের কোনো বাজারমূল্য নেই। কিন্তু মানুষের জীবনে এর মূল্য অপরিসীম।আজ মানুষের যোগাযোগের সুযোগ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। হাতে স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য পরিচিতি, মুহূর্তেই বার্তা পাঠানোর সুযোগ। তবু অনেক মানুষ আগের চেয়ে বেশি একা।

 

রাত জেগে কারও সঙ্গে চ্যাট করা, অদৃশ্য কোনো সম্পর্কের মধ্যে নিজের আবেগ ঢেলে দেওয়া কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটানোÑএসব কখনো কখনো বাস্তব সম্পর্ক থেকে আমাদের দূরে সরিয়ে দেয়।অদ্ভুত ব্যাপার হলো, ভার্চ্যুয়াল জগতে শত শত ‘বন্ধু’ থাকলেও প্রয়োজনের মুহূর্তে পাশে থাকার মতো মানুষ হয়তো খুব কম। তাই যোগাযোগের সংখ্যা নয়, সম্পর্কের গভীরতাই গুরুত্বপূর্ণ। কতজনের সঙ্গে কথা বলি, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণÑকতজনের সঙ্গে সত্যিকারের সম্পর্ক আছে। জীবনের শুরুতে চাওয়া থাকে অনেক।

 

বড় হওয়ার স্বপ্ন, প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আকাক্সক্ষা, অর্থসম্পদ অর্জনের বাসনাÑসবই স্বাভাবিক। কিন্তু জীবনের শেষ সময়ে এসে মানুষের চাওয়া আশ্চর্যভাবে ছোট হয়ে যায়। একটু শান্তি। একটু স্বস্তি। প্রিয় মানুষের মুখ। পাশে পরিচিত কারও হাত। আর কষ্ট ছাড়া বিদায়ের আকাক্সক্ষা।তখন আর কেউ হয়তো জিজ্ঞেস করে না, আপনি কত টাকা উপার্জন করেছিলেন। কত বড় পদে ছিলেন।

 

কত জমির মালিক ছিলেন। বরং মনে পড়েÑকে আপনাকে সত্যিকারভাবে ভালোবাসত, কাকে আপনি ভালোবেসেছিলেন, কার মনে আপনি কষ্ট দিয়েছিলেন।শেষ বয়সের উপলব্ধির জন্য শেষ বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। বরং সুস্থ ও কর্মক্ষম অবস্থাতেই যদি মানুষ জীবনের অগ্রাধিকারগুলো ঠিক করতে পারে, তাহলে অনেক অনুতাপ এড়ানো সম্ভব। অপ্রয়োজনীয় ঝগড়া এড়িয়ে চলা, ভুল হলে ক্ষমা চাওয়া, অন্যের ভুল ক্ষমা করা, অহংকার কমানো, দুর্বল মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া এবং আপনজনকে সময় দেওয়াÑএসব খুব কঠিন কাজ নয়।

 

শুধু আমাদের অগ্রাধিকার বদলাতে হবে।আজ যে মানুষটি পাশে আছেন, তিনি চিরকাল থাকবেনÑএমন নিশ্চয়তা নেই। আজ যে সম্পর্কটি মেরামত করা সম্ভব, কাল হয়তো তার সুযোগ থাকবে না। তাই ভালোবাসা প্রকাশ করার জন্য আগামীকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করার কোনো অর্থ নেই। শেষ পর্যন্ত মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কই থেকে যায়। সম্পদ উত্তরাধিকারীরা ভাগ করে নেয়, পদ-পদবি অন্য কেউ পায়, বাড়িঘর অন্যের ঠিকানা হয়ে যায়। কিন্তু একজন মানুষের ভালো ব্যবহার, মমতা, সততা ও ভালোবাসার স্মৃতি সহজে মুছে যায় না।

 

তাই জীবনের শেষ হিসাবটা যদি আজই করা যায়, তাহলে হয়তো অনেক ভুল থেকে আমরা ফিরে আসতে পারি। কতটা সম্পদ রেখে গেলামÑএটি জীবনের একটি হিসাব। কিন্তু কতটা ভালোবাসা রেখে গেলামÑসেটিই হয়তো জীবনের সবচেয়ে বড় হিসাব। শেষ বেলায় যেন আফসোস না থাকেÑএই জীবন পেয়েও মানুষ হয়ে বাঁচার সুযোগটি আমরা নষ্ট করেছি। বরং বিদায়ের আগে যেন অন্তত মনে হয়, খুব বড় কিছু করতে না পারলেও মানুষের মনে কষ্টের চেয়ে ভালোবাসার স্মৃতিই একটু বেশি রেখে যেতে পেরেছি।

লেখক: সংবাদকর্মী

Ads small one

সাতক্ষীরায় প্রতি ১০ জনে ৭ কিশোরী বাল্যবিবাহের শিকার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় প্রতি ১০ জনে ৭ কিশোরী বাল্যবিবাহের শিকার

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় মা কাজের তাগিদে ঢাকায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। সাতক্ষীরা শহরের বাড়িতে একা হয়ে পড়া মেয়েটির ওপর তখন পরিবারের কার্যকর কোনো নজরদারি ছিল না। সেই সুযোগে স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে মাত্র ১৫ বছর বয়সে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয় তাকে। কিন্তু বিয়ের কয়েক মাস পার হতেই সে জানতে পারে তার স্বামী একজন পেশাদার জুয়াড়ি। পাওনাদারদের চাপ, পারিবারিক কলহ আর স্বামীর শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের মুখে বাপের বাড়িতে ফিরে আসতে বাধ্য হয় সে। পরবর্তীতে পুনরায় পড়াশোনা শুরু করে সম্প্রতি প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষায় ‘এ-মাইনাস’ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। জীবনে বাল্যবিবাহের তিক্ত অভিজ্ঞতাকে পেছনে ফেলে এই তরুণী এখন বিবাহ বিচ্ছেদের আইনি প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ভুক্তভোগী ওই কিশোরী উল্লেখ করেন, অবুঝ বয়সে বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর সংসারে অশান্তি শুরু হয় এবং জানতে পারেন স্বামী নিয়মিত জুয়া খেলত ও ঋণের মধ্যে ছিল। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে পরিবারের কাছে ফিরে এসে আবার পড়াশোনা শুরু করেছেন এবং ভবিষ্যতে নিজের মতো করে জীবন গড়ে তুলতে চান।
সাতক্ষীরা শহরজুড়ে আইনি ফাঁকফোকর, সামাজিক অবক্ষয় ও প্রশাসনিক নজরদারির অভাবে শতশত কিশোরীর জীবন এভাবে অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে শ্যামনগর উপজেলার দাতিনাখালী গ্রামের কলবাড়ি নেকজানিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ১৫ বছর বয়সী এক ছাত্রী ও পার্শ্ববর্তী ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের বাল্যবিবাহ সম্পন্ন হয়।
স্থানীয়রা জানান, কিছুদিন আগে এই কিশোর-কিশোরী এক সাথে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজনের মধ্যস্থতায় বৈঠকের মাধ্যমে উভয় পক্ষ থেকে লিখিত অঙ্গীকারনামা দেওয়া হয়েছিল যে, বয়স পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেওয়া হবে না। কিন্তু সেই অঙ্গীকারনামা অমান্য করে ছেলের বাবা রফিকুল ইসলাম সাতক্ষীরা জজ কোর্টের একজন আইনজীবীর মাধ্যমে এফিডেভিট করিয়ে ১৫ ও ১৬ বছরের দুই নাবালক-নাবালিকাকে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করেন।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি অবগত থাকলেও আইনি ও দাপ্তরিক কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মহিলা বিষয়ক কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সাহায্য না চাইলে পুলিশ সরাসরি গিয়ে অভিযান চালাতে পারে না।
শ্যামনগর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শারিদ বিন শফিক জানান, খবর পাওয়ার পর অভিযুক্ত ছেলের বাবাকে কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য অফিশিয়াল নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং তিনি উপস্থিত হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে ছেলের বাবা রফিকুল ইসলামের দাবি, পরিস্থিতি বিবেচনা করে এফিডেভিটের মাধ্যমে সামাজিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী, সাতক্ষীরায় বাল্যবিবাহের বর্তমান গড় হার দাঁড়িয়েছে ৭২ শতাংশে, যার মধ্যে শ্যামনগর উপজেলায় এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। উপকূলীয় এই অঞ্চলে সুপেয় পানির তীব্র সংকট ও অতিরিক্ত লবণাক্ততায় নিয়মিত কাজ করার ফলে কম বয়সে মেয়েদের শরীরের ত্বক নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে সামাজিক ভীতি থেকে অভিভাবকেরা দ্রুত বিয়ে দিয়ে দেন।
গাবুরা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিএইচসিপি হেলেনা বিলকিস জানান, ক্লিনিকে আসা গর্ভবতী নারীদের একটি বড় অংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক। এই বয়সে সন্তান ধারণের কারণে এবং অতিরিক্ত লবণাক্ত পরিবেশের প্রভাবে তাদের উচ্চ রক্তচাপ, এপিলেপসি ও রক্তস্বল্পতার হার বেশি। নদী পার হয়ে জেলা হাসপাতালে নেওয়ার পথে যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে অনেক প্রসূতির মৃত্যু ঘটে।
সাতক্ষীরা জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস এম বিপ্লব হোসেন জানান, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে মেয়ে এবং ২১ বছরের নিচে ছেলের বিয়ে বেআইনি। অসাধু নোটারি পাবলিক ও জালিয়াতি চক্র টাকার বিনিময়ে এফিডেভিট করে দিচ্ছে, যার কোনো আইনি ভিত্তি নেই।
মানবাধিকার কর্মী মাধব দত্ত জানান, কার্যকর নজরদারির অভাবের কারণেই অঙ্গীকারনামা থাকার পরও বাল্যবিবাহ রোখা যাচ্ছে না। স্থানীয় সরকারের উদ্যোগ ও সঠিক সনদ যাচাই ছাড়া বিবাহ রেজিস্ট্রি বন্ধ করা প্রয়োজন।
সাতক্ষীরা জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার জানান, গোপনে ও এফিডেভিটের অপব্যবহার করে বিয়ে সম্পাদন করার কারণে সব ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয় না, তবে স্থানীয় নজরদারি জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রতাপনগরে প্রাথমিক চিকিৎসা ও দুর্যোগ প্রস্তুতিমূলক কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ণ
প্রতাপনগরে প্রাথমিক চিকিৎসা ও দুর্যোগ প্রস্তুতিমূলক কর্মশালা

সংবাদদাতা: আশাশুনির প্রতাপনগরে প্রাথমিক চিকিৎসা, নিরাপদ অপসারণ ও আগাম সতর্কবার্তা বিষয়ক পরিবারভিত্তিক ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘আইডিয়াল’-এর বাস্তবায়নে, ‘সিডিডি’-এর কারিগরি সহায়তায় এবং ‘লিলিয়ান ফন্ডস’-এর অর্থায়নে ‘রেজিলেন্স বিগিনস এট হোম’ প্রকল্পের অধীনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় ২৫ জন প্রতিবন্ধী শিশুর কেয়ারগিভার অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিদর্শক মো. ইলিয়াস হোসেন। বক্তব্য দেন প্রকল্পের প্রজেক্ট অফিসার মো. মামুন আলী ও প্রজেক্ট ফোকাল এস এম মিজানুর রহমান।

আজকের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ
আজকের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের ৬টি হিন্দু পরিবারের ২৫ শতক জমি দখল করে বানানো খুপড়ি ঘর ও বেড়া আজ সোমবার সকাল ১০টার মধ্যে অপসারনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় কালিগঞ্জ থানার গোলঘরে অনুষ্ঠিত এক সালিশি সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

ফতেপুর গ্রামের বাসিন্দারা জানান, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে গত ১৪ আগস্ট রাতে গ্রাম পুলিশ সাইফুল ও তার সহযোগীরা জয়দেব রজক ও বাসুদেব রজকসহ ছয়টি পরিবারের জমিতে খুপড়ি ঘর নির্মাণ করে জমি দখল করে নেয়। পরবর্তীতে বাসুদেব রজক ও রীনা রানী রজক থানায় পৃথক দুটি অভিযোগ দায়ের করলে শালিসি সভা ডাকা হয়।
সাবেক ইউপি সদস্য আনারুল মীর জানান, সাইফুলের পক্ষ থেকে জমির সপক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় আজ সোমবার সকাল ১০টার মধ্যে অবৈধ ঘর ও বেড়া সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শালিসি সভায় দক্ষিণ শ্রীপুর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহম্মদ শাহজী, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জুলফিকার সাঁফুই ও সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান পাড় উপস্থিত থেকে সিদ্ধান্তনামায় স্বাক্ষর করেন। কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মল্লিক মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম হাওলাদারকে বদলী করে সাতক্ষীরা আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে মো. শাহীন যোগদান করেছেন।