স্কুল ফিডিংয়ে উপস্থিতি বাড়লেও খাবার বরাদ্দ ৯০ শতাংশের
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: সরকারি ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচির প্রভাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও ভর্তির আগ্রহ বাড়লেও খাবার বরাদ্দ নিয়ে নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। বিদ্যালয়গুলোতে মোট শিক্ষার্থীর ৯০ শতাংশের জন্য খাবার বরাদ্দ থাকায়, উপস্থিতির হার ৯৫ থেকে ৯৭ শতাংশে পৌঁছালে খাবারে ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সব শিক্ষার্থীকে কর্মসূচির শতভাগ আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
যশোরের কেশবপুর, অভয়নগর ও ঝিকরগাছার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এ চিত্র পাওয়া গেছে। শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, যশোর, মেহেরপুর, সাতক্ষীরা ও নড়াইলের ছয়টি উপজেলায় বর্তমানে ৯১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ লাখ ১৬ হাজার ৮৬১ জন শিক্ষার্থী এই সুবিধার আওতায় রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয় রয়েছে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে—১৯১টি বিদ্যালয়ের ২৫ হাজার ৮১৫ জন। এছাড়া ঝিকরগাছার ১৩১টি বিদ্যালয়ে ২০ হাজার ৪৩৭, কেশবপুরের ১৫৮টি বিদ্যালয়ে ১৯ হাজার ৪৬২, অভয়নগরের ১১৭টি বিদ্যালয়ে ১৪ হাজার ৪২, গাংনীর ১৬২টি বিদ্যালয়ে ১৮ হাজার ৩৪৭ এবং কালিয়ার ১৫৬টি বিদ্যালয়ে ১৮ হাজার ৭৫৮ জন শিক্ষার্থী খাবার পাচ্ছে।
কেশবপুরের মজিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুদেব কুমার দেবনাথ জানান, কর্মসূচি শুরুর পর উপস্থিতি ও শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বেড়েছে। তবে শতভাগ খাবারের বরাদ্দ না থাকায় অনেক সময় খাবার ভাগ করে দিতে হয়।
অভয়নগরের অভিভাবক নাসিমা বেগম বলেন, এই ব্যবস্থার ফলে বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমেছে। যশোর জেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নেতা মো. শাহীনুর রহমান ও ঝিকরগাছার নাগরিক প্রতিনিধি মো. নাজমূল আলম উপস্থিতির সামঞ্জস্য রেখে খাবারের বরাদ্দ বৃদ্ধি ও শতভাগ শিক্ষার্থীকে যুক্ত করার জোর দাবি জানান।
কর্মসূচি বাস্তবায়নকারী উন্নয়ন সংস্থা সুশীলনের উপপরিচালক শাহিনা পারভীন জানান, প্রতিকূলতা সত্ত্বেও নিয়ম মেনে প্রত্যন্ত অঞ্চলে খাবার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে এবং শতভাগ বরাদ্দের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে।
কেশবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানান, প্রতিদিনের উপস্থিতির হেরফের অনুযায়ী পাশের বিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে খাবার ব্যবস্থাপনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা থেকে ভবিষ্যতে এটি আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।









