রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩

স্কুল ফিডিংয়ে উপস্থিতি বাড়লেও খাবার বরাদ্দ ৯০ শতাংশের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০২ অপরাহ্ণ
স্কুল ফিডিংয়ে উপস্থিতি বাড়লেও খাবার বরাদ্দ ৯০ শতাংশের

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: সরকারি ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচির প্রভাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও ভর্তির আগ্রহ বাড়লেও খাবার বরাদ্দ নিয়ে নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। বিদ্যালয়গুলোতে মোট শিক্ষার্থীর ৯০ শতাংশের জন্য খাবার বরাদ্দ থাকায়, উপস্থিতির হার ৯৫ থেকে ৯৭ শতাংশে পৌঁছালে খাবারে ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সব শিক্ষার্থীকে কর্মসূচির শতভাগ আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
যশোরের কেশবপুর, অভয়নগর ও ঝিকরগাছার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এ চিত্র পাওয়া গেছে। শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, যশোর, মেহেরপুর, সাতক্ষীরা ও নড়াইলের ছয়টি উপজেলায় বর্তমানে ৯১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ লাখ ১৬ হাজার ৮৬১ জন শিক্ষার্থী এই সুবিধার আওতায় রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয় রয়েছে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে—১৯১টি বিদ্যালয়ের ২৫ হাজার ৮১৫ জন। এছাড়া ঝিকরগাছার ১৩১টি বিদ্যালয়ে ২০ হাজার ৪৩৭, কেশবপুরের ১৫৮টি বিদ্যালয়ে ১৯ হাজার ৪৬২, অভয়নগরের ১১৭টি বিদ্যালয়ে ১৪ হাজার ৪২, গাংনীর ১৬২টি বিদ্যালয়ে ১৮ হাজার ৩৪৭ এবং কালিয়ার ১৫৬টি বিদ্যালয়ে ১৮ হাজার ৭৫৮ জন শিক্ষার্থী খাবার পাচ্ছে।
কেশবপুরের মজিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুদেব কুমার দেবনাথ জানান, কর্মসূচি শুরুর পর উপস্থিতি ও শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বেড়েছে। তবে শতভাগ খাবারের বরাদ্দ না থাকায় অনেক সময় খাবার ভাগ করে দিতে হয়।
অভয়নগরের অভিভাবক নাসিমা বেগম বলেন, এই ব্যবস্থার ফলে বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমেছে। যশোর জেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নেতা মো. শাহীনুর রহমান ও ঝিকরগাছার নাগরিক প্রতিনিধি মো. নাজমূল আলম উপস্থিতির সামঞ্জস্য রেখে খাবারের বরাদ্দ বৃদ্ধি ও শতভাগ শিক্ষার্থীকে যুক্ত করার জোর দাবি জানান।
কর্মসূচি বাস্তবায়নকারী উন্নয়ন সংস্থা সুশীলনের উপপরিচালক শাহিনা পারভীন জানান, প্রতিকূলতা সত্ত্বেও নিয়ম মেনে প্রত্যন্ত অঞ্চলে খাবার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে এবং শতভাগ বরাদ্দের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে।
কেশবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানান, প্রতিদিনের উপস্থিতির হেরফের অনুযায়ী পাশের বিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে খাবার ব্যবস্থাপনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা থেকে ভবিষ্যতে এটি আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।

Ads small one

‎সাতক্ষীরার কৃষি বৈচিত্র্যে রয়েছে অপার সম্ভাবনা, প্রয়োজন সৎ প্রচেষ্টা ও বিনিয়োগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫১ অপরাহ্ণ
‎সাতক্ষীরার কৃষি বৈচিত্র্যে রয়েছে অপার সম্ভাবনা, প্রয়োজন সৎ প্রচেষ্টা ও বিনিয়োগ

এম শফিকুল ইসলাম
হাজার হাজার ক্ষুদ্র কৃষক, কৃষি উদ্ভাবন এবং সরকারি সহয়তায় সাতক্ষীরার কৃষিখাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। সাতক্ষীরা ধান উৎপাদনের স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে এবং ধানের উৎপাদনও বেড়েছে। সবজি, ফল, মাছ, মাংস, দুধ, ডিম উৎপাদনে ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছে সাতক্ষীরা। সাতক্ষীরার কৃষিখাত বর্তমানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের চাহিদা পূরণের বাস্তবতা সামনে রেখে উন্নয়নের পথে অগ্রসর হচ্ছে। বর্ধিত উদপাদন, কৃষিপণ্যের গুণমানের প্রক্রিয়াজাতকরণ, জলবায়ু সহনশীল ফসল উদ্ভাবন এবং উন্নত কৃষি অনুশীলনসহ শস্য, প্রাণী সম্পদ, জলজ চাষ, সুনীল অর্থনীতির বিকাশ এবং কৃষির আরও অনেক ক্ষেত্রে বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে সাতক্ষীরাতে।

স্থানীয় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের আমাদের অবশ্যই তথ্যনির্ভর সমাধান এবং প্রযুক্তিগুলোকে কাজে লাগাতে হবে। উন্নত কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে আমাদের জ্ঞান সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে, যা আমরা কোনভাবেই উপেক্ষা করতে পারি না। জলবায়ুর যে চ্যালেঞ্জে রয়েছে, তা মোকাবেলা করে কৃষি পূর্ণ সক্ষমতা পুনরুজ্জীবিত ও উন্নত করার দিকে আরো গভীর মনোনিবেশ করা দরকার। কৃষি বৈচিত্র্যের সম্ভাবনাও রয়েছে সীমাহীন। কিন্তু এখানে প্রয়োজন সৎ প্রচেষ্টা ও বিনিয়োগ। সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির উন্নয়ন এবং দরিদ্র হ্রাস করতে আমাদের অবশ্যই বর্ধিত উৎপাদনশীলতা এবং কৃষির বাণিজ্যিককরণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তাই এ খাতকে জলবায়ু বিষয়ক সমাধানগুলো দরকার হাতের কাছেই এবং খুব কম সময়ের ভিতর। আমরা খুব ভালোভাবেই জানি, জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়াও উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়া ফসল ফলানোর পর নানা কারণে ফসলের ক্ষতি, ন্যায্য মূল্য না পাওয়া এবং অপ্রতুল খাদ্য গুদাম ব্যবস্থা এসব চ্যালেঞ্জে মোকাবিলা করা অতি জরুরী। এসব চ্যালেঞ্জে মোকাবিলার একটি অনস্বীকার্য হাতিয়ার হয়ে উঠবে উন্নত প্রযুক্তি যা বাইরের বিভিন্ন দেশে দেখার সুযোগ তৈরি হবে। সাতক্ষীরার মাটি সোনার চেয়েও খাঁটি। এ ভূমি বড় আশীর্বাদ, এটি দেশের অন্যতম বিস্তৃত নদী ব্যবস্থার অন্তর্গত।

জলের মতো ছড়িয়ে থাকা নদীই এ ভূমিকে উর্বর করে। সহজ শেষ ব্যবস্থাপনায় এতে ফলে সোনার ফসল। তবে নদী যেমন আশীর্বাদ তেমন ঝুঁকিও আছে। বর্ষা মৌসুমে ৫০-৬০ ভাগ জমি পানিতে তলিয়ে যায় আবার শুষ্ক মৌসুমে থাকে কম পানি। বিশেষ করে সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চল জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকিতে থাকে। এজন্য সঠিক পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা সমগ্র কৃষি ও প্রান্তিক মানুষের উন্নয়নের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন, সেচ, পানি সরবরাহ এবং সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার মূল বিকাশক্ষেত্র। আমাদের কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা টেকসই সম্প্রসারণ এবং বৈচিত্র্যকে সমর্থন করতে হবে, যা স্থানীয় বাজারে সঙ্গে আরো ভালোভাবে সংহত, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি গ্রামীন জীবনযাত্রার উন্নতির জন্য, বিশেষ করে নারী ও প্রান্তিক মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে। পরিশেষে বলব, সাতক্ষীরার অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে অপরিসীম ভূমিকা রাখছে অথচ এখনকার কৃষকের অবস্থা এখনও নাজুক। তাদের সামাজিক মর্যাদা নেই বললেই চলে। এই জন্য শিক্ষিত নাগরিকের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো প্রয়োজন। যে শিক্ষিত জনগোষ্ঠী শহরে বসে কৃষকের ভাগ্য নির্ধারণ করেন তাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নই দেশের উন্নয়ন। কৃষি ও কৃষকদের উন্নয়নের গৃহীত সময়োচিত পদক্ষেপ জাতীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে পারে। তাই এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে। লেখক: সাংবাদিক ও নাট্যকার

সাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমনের অসুস্থতায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের উদ্বেগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪৯ অপরাহ্ণ
সাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমনের অসুস্থতায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের উদ্বেগ

দেশ টিভি, দেশ রূপান্তর ও বিডি নিউজের সাতক্ষীরার সিনিয়র সাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন ফেসিয়াল ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর আশু সুস্থতা কামনায় বিবৃতি দিয়েছেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ।
বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবুল কাসেম, সহ-সভাপতি আবুল কালাম, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক এম. শাহীন গোলদার, অর্থ সম্পাদক শেখ ফরিদ আহমেদ ময়না, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক আকরামুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক মাসুদুজ্জামান সুমন এবং নির্বাহী সদস্য এড. খায়রুল বদিউজ্জামান, আবু তালেব, কাজী জামালউদ্দিন মামুন, আব্দুস সামাদ ও আসাদুজ্জামান সরদার। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

সাতক্ষীরায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরায় শিশু স্বাস্থ্য ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ-এর রসুলপুর শাখার উদ্যোগে দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এ ক্যাম্প পরিচালিত হয়।
ক্যাম্পটিতে সেবা প্রদান করেন খুলনা বিএনএসবি আই হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল। তারা আগত রোগীদের চোখ পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ ও ব্যবস্থাপত্র প্রদান করেন। দিনব্যাপী এই ক্যাম্পে ২৫০ জন রোগীকে চক্ষু সেবা দেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসা ক্যাম্পের আয়োজকরা জানান, চক্ষু পরীক্ষার পর চোখের ছানি ও নালী অপারেশনের প্রয়োজন রয়েছে এমন ৭০ জন রোগীকে বাছাই করা হয়েছে। তাদের চোখের ছানি অপারেশন ও লেন্স বসানোর জন্য খুলনা বিএনএসবি আই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া ৫৫ জন রোগীকে চোখের পাওয়ার পরীক্ষা শেষে বিনামূল্যে চশমা প্রদান করা হয়েছে।
বিনামূল্যে এই চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পটির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন শিশু স্বাস্থ্য ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ-এর সহ-সভাপতি শেখ মোয়াজ্জেম হোসেন এবং সমন্বয়কারী মো. জাহিদুর রহমান (শোভন)। সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগে স্থানীয় জনসাধারণ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।