সাতক্ষীরার কৃষি বৈচিত্র্যে রয়েছে অপার সম্ভাবনা, প্রয়োজন সৎ প্রচেষ্টা ও বিনিয়োগ
এম শফিকুল ইসলাম
হাজার হাজার ক্ষুদ্র কৃষক, কৃষি উদ্ভাবন এবং সরকারি সহয়তায় সাতক্ষীরার কৃষিখাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। সাতক্ষীরা ধান উৎপাদনের স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে এবং ধানের উৎপাদনও বেড়েছে। সবজি, ফল, মাছ, মাংস, দুধ, ডিম উৎপাদনে ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছে সাতক্ষীরা। সাতক্ষীরার কৃষিখাত বর্তমানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের চাহিদা পূরণের বাস্তবতা সামনে রেখে উন্নয়নের পথে অগ্রসর হচ্ছে। বর্ধিত উদপাদন, কৃষিপণ্যের গুণমানের প্রক্রিয়াজাতকরণ, জলবায়ু সহনশীল ফসল উদ্ভাবন এবং উন্নত কৃষি অনুশীলনসহ শস্য, প্রাণী সম্পদ, জলজ চাষ, সুনীল অর্থনীতির বিকাশ এবং কৃষির আরও অনেক ক্ষেত্রে বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে সাতক্ষীরাতে।
স্থানীয় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের আমাদের অবশ্যই তথ্যনির্ভর সমাধান এবং প্রযুক্তিগুলোকে কাজে লাগাতে হবে। উন্নত কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে আমাদের জ্ঞান সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে, যা আমরা কোনভাবেই উপেক্ষা করতে পারি না। জলবায়ুর যে চ্যালেঞ্জে রয়েছে, তা মোকাবেলা করে কৃষি পূর্ণ সক্ষমতা পুনরুজ্জীবিত ও উন্নত করার দিকে আরো গভীর মনোনিবেশ করা দরকার। কৃষি বৈচিত্র্যের সম্ভাবনাও রয়েছে সীমাহীন। কিন্তু এখানে প্রয়োজন সৎ প্রচেষ্টা ও বিনিয়োগ। সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির উন্নয়ন এবং দরিদ্র হ্রাস করতে আমাদের অবশ্যই বর্ধিত উৎপাদনশীলতা এবং কৃষির বাণিজ্যিককরণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তাই এ খাতকে জলবায়ু বিষয়ক সমাধানগুলো দরকার হাতের কাছেই এবং খুব কম সময়ের ভিতর। আমরা খুব ভালোভাবেই জানি, জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়াও উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়া ফসল ফলানোর পর নানা কারণে ফসলের ক্ষতি, ন্যায্য মূল্য না পাওয়া এবং অপ্রতুল খাদ্য গুদাম ব্যবস্থা এসব চ্যালেঞ্জে মোকাবিলা করা অতি জরুরী। এসব চ্যালেঞ্জে মোকাবিলার একটি অনস্বীকার্য হাতিয়ার হয়ে উঠবে উন্নত প্রযুক্তি যা বাইরের বিভিন্ন দেশে দেখার সুযোগ তৈরি হবে। সাতক্ষীরার মাটি সোনার চেয়েও খাঁটি। এ ভূমি বড় আশীর্বাদ, এটি দেশের অন্যতম বিস্তৃত নদী ব্যবস্থার অন্তর্গত।
জলের মতো ছড়িয়ে থাকা নদীই এ ভূমিকে উর্বর করে। সহজ শেষ ব্যবস্থাপনায় এতে ফলে সোনার ফসল। তবে নদী যেমন আশীর্বাদ তেমন ঝুঁকিও আছে। বর্ষা মৌসুমে ৫০-৬০ ভাগ জমি পানিতে তলিয়ে যায় আবার শুষ্ক মৌসুমে থাকে কম পানি। বিশেষ করে সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চল জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকিতে থাকে। এজন্য সঠিক পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা সমগ্র কৃষি ও প্রান্তিক মানুষের উন্নয়নের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন, সেচ, পানি সরবরাহ এবং সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার মূল বিকাশক্ষেত্র। আমাদের কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা টেকসই সম্প্রসারণ এবং বৈচিত্র্যকে সমর্থন করতে হবে, যা স্থানীয় বাজারে সঙ্গে আরো ভালোভাবে সংহত, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি গ্রামীন জীবনযাত্রার উন্নতির জন্য, বিশেষ করে নারী ও প্রান্তিক মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে। পরিশেষে বলব, সাতক্ষীরার অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে অপরিসীম ভূমিকা রাখছে অথচ এখনকার কৃষকের অবস্থা এখনও নাজুক। তাদের সামাজিক মর্যাদা নেই বললেই চলে। এই জন্য শিক্ষিত নাগরিকের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো প্রয়োজন। যে শিক্ষিত জনগোষ্ঠী শহরে বসে কৃষকের ভাগ্য নির্ধারণ করেন তাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নই দেশের উন্নয়ন। কৃষি ও কৃষকদের উন্নয়নের গৃহীত সময়োচিত পদক্ষেপ জাতীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে পারে। তাই এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে। লেখক: সাংবাদিক ও নাট্যকার









