রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩

দৃশ্যমান দুর্যোগের বাইরে জলবায়ু পরিবর্তনের গভীর সংকট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৭ অপরাহ্ণ
দৃশ্যমান দুর্যোগের বাইরে জলবায়ু পরিবর্তনের গভীর সংকট

নিকোলাস বিশ্বাস

জলবায়ু পরিবর্তনের কথা উঠলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে কিছু পরিচিত দৃশ্য- ভয়াবহ দাবানল, আকস্মিক বন্যা, দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ কিংবা খরায় ফেটে যাওয়া মাটি। সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং টেলিভিশনের পর্দায় এসব দৃশ্যই সবচেয়ে বেশি স্থান পায়। কারণ এগুলো তাৎক্ষণিক, দৃশ্যমান এবং উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, এগুলো জলবায়ু সংকটের কেবল দৃশ্যমান অংশ। যেমনি হিমশৈলের সবচেয়ে বড় এবং গভীর অংশ লুকিয়ে থাকে পানির নিচে তেমনি জলবায়ূ পরিবর্তনের গভীর প্রভাব ও ক্ষত মিশে থাকে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মাঝে যা উপর থেকে দেখা যায় না। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রকৃত ক্ষতি শুধু ঘরবাড়ি ধ্বংস বা ফসলহানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি খাদ্য নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতি, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং টেকসই উন্নয়নের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ও বহুমাত্রিক প্রভাব ফেলে। এই সংকটকে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে হলে আমাদের দৃশ্যমান দুর্যোগের বাইরে গিয়ে এর অন্তর্নিহিত কারণ ও সুদূরপ্রসারী প্রভাবগুলো বুঝতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

দৃশ্যমান দুর্যোগ: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রকাশ্য রূপ
বর্তমান বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংখ্যা ও তীব্রতা ক্রমাগত বাড়ছে। অতিবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা, দীর্ঘস্থায়ী খরা, তীব্র তাপপ্রবাহ, শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় এবং দাবানল পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি অঞ্চলে মানুষের জীবন ও জীবিকাকে বিপর্যস্ত করছে। এসব দুর্যোগ তাৎক্ষণিক প্রাণহানি, অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি এবং ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই গণমাধ্যমের প্রধান শিরোনাম হয়। দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে সরকার ও মানবিক সংস্থাগুলো ত্রাণ ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমাদের মনোযোগ সীমাবদ্ধ থাকে তাৎক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতির মধ্যেই, অথচ এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবগুলো অনেক বেশি গভীর এবং জটিল যা আমাদের জীবনকে দূর্বীসহ করে তোলে।

দুর্যোগের আড়ালে শুরু হয় আরেকটি সংকট
প্রতিটি জলবায়ুজনিত দুর্যোগ একটি দীর্ঘ কৃঙ্খল প্রতিক্রিয়ার সূচনা করে। যখন খরায় ফসল নষ্ট হয়, তখন শুধু কৃষকের উৎপাদনই কমে না; খাদ্যের ঘাটতি দেখা দেয়, বাজারে খাদ্যের দাম বেড়ে যায় এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠী আরও বেশি খাদ্য অনিরাপত্তার মুখোমুখি হয়। কৃষক তার আয়ের উৎস হারান, পরিবারগুলো ঋণের বোঝা বহন করতে বাধ্য হয় এবং অনেক মানুষ মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।

একইভাবে নদী, খাল ও জলাধার শুকিয়ে গেলে শুধু পানির সংকটই সৃষ্টি হয় না; কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, স্যানিটেশন এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপদ পানির জন্য দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হয়, যা তাদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগকেও সীমিত করে।

খাদ্য নিরাপত্তার ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব
জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে গুরুতর কিন্তু কম আলোচিত প্রভাবগুলোর একটি হলো খাদ্য নিরাপত্তা। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, মাটির উর্বরতা হ্রাস, বন্যা ও খরার কারণে কৃষি উৎপাদন দিন দিন অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশের ক্ষুদ্র কৃষকেরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

ফসলের উৎপাদন কমে গেলে খাদ্যের দাম বেড়ে যায়। দরিদ্র পরিবারগুলো বাধ্য হয়ে কম এবং নিম্নমানের খাদ্য গ্রহণ করে। এর ফলে অপুষ্টি বৃদ্ধি পায়, বিশেষ করে শিশু ও গর্ভবতী নারীদের মধ্যে। ক্ষুধা তখন শুধু একটি মানবিক সংকট নয়; এটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নেরও বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা ও টেকসই খাদ্য উৎপাদনে বিনিয়োগ ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।

জনস্বাস্থ্যের জন্য এক নীরব হুমকি
জলবায়ু পরিবর্তন এখন জনস্বাস্থ্যের জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অতিরিক্ত তাপপ্রবাহের কারণে হিট স্ট্রোক, পানিশূন্যতা এবং তাপজনিত অসুস্থতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বন্যার কারণে নিরাপদ পানির উৎস দূষিত হয়ে কলেরা, ডায়রিয়া ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। অন্যদিকে তাপমাত্রা ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের ফলে মশাবাহিত রোগ যেমন ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার বিস্তার নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় অনেক হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে জরুরি চিকিৎসা প্রদান ব্যাহত হয়। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে স্বাস্থ্যখাতকে আরও শক্তিশালী ও সহনশীল করে গড়ে তোলা জরুরি।

অর্থনৈতিক ক্ষতি ও বৈষম্যের বিস্তার
জলবায়ু পরিবর্তন শুধু পরিবেশ নয়, অর্থনীতিকেও গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। প্রতিটি দুর্যোগের পর সরকারকে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয় উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্গঠনে। ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়, উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং অবকাঠামো পুননির্মাণে বিপুল বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন। তারা সঞ্চয় হারায়, ঋণগ্রস্ত হয়, অনেক ক্ষেত্রে সন্তানদের বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে দারিদ্র্যের চক্রে আটকে পড়ে। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য যেসব জনগোষ্ঠীর দায় সবচেয়ে কম, তারাই এর সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী।

বাস্তুচ্যুতি, অভিবাসন ও সামাজিক অস্থিরতা
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ তাদের বসতভিটা ছেড়ে অন্যত্র যেতে বাধ্য হচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, উপকূলীয় লবণাক্ততা, বন্যা ও দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে বহু এলাকা বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠছে। ফলে জলবায়ুজনিত অভিবাসন দিন দিন বাড়ছে। অন্যদিকে সীমিত ভূমি, পানি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হওয়ায় অনেক অঞ্চলে সামাজিক উত্তেজনা, সংঘাত এবং নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে জলবায়ু পরিবর্তন কেবল পরিবেশগত নয়, সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু-সম্পর্কিত দুর্যোগের কারণে প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ নতুন অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি ঘটেছে। ভবিষ্যতে গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ এবং বৈশ্বিক অভিযোজনমূলক পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু বা পরিবেশগত অভিবাসীর সংখ্যা ২ কোটি ৫০ লাখ থেকে ১০০ কোটিরও বেশি হতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার মতো জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে কোটি কোটি মানুষ অভ্যন্তরীণ জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হতে পারে। এর মধ্যে শুধু বাংলাদেশেই প্রায় ২ কোটি মানুষ অভ্যন্তরীণ জলবায়ু অভিবাসীতে পরিণত হতে পারে। আইডিএমসি-এর তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে (২০১৪-২০২৩) জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ বিশ্বব্যাপী আনুমানিক ২১ কোটি ৮০ লাখ মানুষের অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি ঘটিয়েছে যা বিভিন্ন দেশে অমানবিক বিপর্যয় ডেকে আনছে।

জলবায়ু সংকট: উন্নয়নেরও বড় চ্যালেঞ্জ
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রকে স্পর্শ করছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শিক্ষা ব্যাহত হয়। স্বাস্থ্যসেবা দুর্বল হয়ে পড়ে। কৃষি, শিল্প ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়। উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ অর্থের একটি বড় অংশ পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনে ব্যয় করতে হয়। ফলে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জন অনেক দেশের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। এজন্য পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা খুবই জরুরী।
দুর্যোগের আগে বিনিয়োগই সর্বোত্তম সমাধান

জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা শুধু দুর্যোগের পর ত্রাণ বিতরণে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। প্রয়োজন জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ, জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি, নিরাপদ পানি ব্যবস্থাপনা, বন ও প্রতিবেশ পুনরুদ্ধার, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ এবং কার্যকর আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা। একই সঙ্গে এমন নীতি প্রণয়ন করতে হবে, যা দুর্যোগ ঘটার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেবে এবং তাদের অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।

দৃশ্যমান ক্ষতির বাইরে তাকানোর সময় এখনই
জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি অনেক সময় চোখে দেখা যায় না। কিন্তু ধীরে ধীরে সেটিই মানুষের জীবন, জীবিকা, অর্থনীতি এবং ভবিষ্যৎকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ করে। তাই শুধু বন্যা, খরা কিংবা দাবানলের ক্ষয়ক্ষতি হিসাব করলেই চলবে না। আমাদের দেখতে হবে খাদ্য সংকট, স্বাস্থ্যঝুঁকি, দারিদ্র্য, বৈষম্য, বাস্তুচ্যুতি এবং উন্নয়নের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব। এই সামগ্রিক চিত্রটি উপলব্ধি করলেই আমরা এমন নীতি ও পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারব, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সহনশীল, নিরাপদ এবং টেকসই পৃথিবী গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
উপসংহার: সংকটের আড়ালে গভীর সংকট

জলবায়ু পরিবর্তন কেবল একটি পরিবেশগত সংকট নয়; এটি মানবসভ্যতার অস্তিত্ব, অর্থনীতি, জনস্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য এক বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ। অতএব, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় আমাদের শুধু দৃশ্যমান দুর্যোগ নয়, বরং এর অন্তর্নিহিত ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবগুলোর প্রতিও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ প্রকৃত সমাধান তখনই সম্ভব, যখন আমরা কেবল লক্ষণ নয়, সংকটের মূল কারণ এবং এর বহুমাত্রিক প্রভাব মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করব। তাহলেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সহনশীল এবং টেকসই পৃথিবী নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

লেখক: নিকোলাস বিশ্বাস একজন মিডিয়া ফ্রীল্যান্সার এবং জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত। যোগাযোগ: gonomaddyom@gmail.com

Ads small one

আশাশুনিতে বাকপ্রতিবন্ধী যুবক নিখোঁজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে বাকপ্রতিবন্ধী যুবক নিখোঁজ

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার শোভনালী গ্রামের আমির আলী গাজীর ছেলে বাকপ্রতিবন্ধী আলামিন হোসেন (২৫) নিখোঁজ হয়েছেন। শনিবার বেলা ১১টার দিকে কুঁন্দুড়িয়া গ্রামে তাঁর বড় ভাই হোসেন আলীর বাড়ি থেকে নিজেদের বাড়ি শোভনালীর উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার পর থেকে তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
আলামিনের পরনে ছিল লুঙ্গি, কালো শার্ট এবং হাতে ছিল একটি সাদা শপিং ব্যাগ। তাঁর গায়ের রং শ্যামলা ও পরিষ্কার। তিনি অস্পষ্ট ভাষায় কথা বলতে পারেন। কোনো সহৃদয় ব্যক্তি তাঁর সন্ধান পেলে বড় ভাই হোসেন আলীর সাথে মোবাইল নম্বরে (০১৭৭৮-৮৩৩৫৯৫) যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

 

 

আশাশুনিতে ‘প্রতিষ্ঠা’ প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫৬ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে ‘প্রতিষ্ঠা’ প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা

সংবাদদাতা: আশাশুনি সদর ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে রবিবার ‘প্রতিষ্ঠা’ প্রকল্পের ইউনিয়ন পর্যায়ের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবিক সহায়তা সংস্থা-এর অর্থায়নে, অ্যাকশন এগেইনস্ট হাঙ্গার-এর সহযোগিতায় এবং ‘উত্তরণ’-এর বাস্তবায়নে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শরিয়তুল্লাহ। প্রকল্পের নানা দিক তুলে ধরেন উত্তরণের মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন অফিসার মো. আল-আমিন মোল্লা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আশাশুনি সরকারি কলেজের প্রভাষক মাওলানা মো. বাকিবিল্লাহ, আশাশুনি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আকাশ হোসেন, ইউপি সদস্য মো. আব্দুস সালাম, মো. সিরাজুল ইসলাম, তারকচন্দ্র ম-ল, এস এম তারিকুল আউয়াল ও মো. শাহিনুর ইসলাম শাহিন। উত্তরণের সহকারী প্রকল্প সমন্বয়ক মো. হেদায়েত উল্লাহ মুকুলসহ স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বেনাপোল বন্দরে পরিচালকের পদসহ ৭৯টি পদ শূন্য, ব্যাহত কার্যক্রম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫৫ অপরাহ্ণ
বেনাপোল বন্দরে পরিচালকের পদসহ ৭৯টি পদ শূন্য, ব্যাহত কার্যক্রম

এমএ রহিম, বেনাপোল (যশোর): দেশের সর্ববৃহৎ আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর বেনাপোলে চরম জনবলসংকট তৈরি হয়েছে। বন্দরের অনুমোদিত পরিচালকের পদসহ মোট ৭৯টি পদ খালি থাকায় আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য ও প্রশাসনিক তদারকি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, গুদাম ও ইয়ার্ড পরিচালনাসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে অনুমোদিত ২১৬টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কাজ করছেন মাত্র ১৪১ জন। অর্থাৎ প্রায় ৩৪.৭ শতাংশ পদই খালি রয়েছে। এর পাশাপাশি উপপরিচালকের ৪টি পদের মধ্যে ৩টিই শূন্য। অথচ একই পদে ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে অনুমোদিত ৪টি পদের বিপরীতে ৭ জন কর্মকর্তা কর্মরত আছেন।
গত ৩ আগস্ট থেকে বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালকের পদটি খালি রয়েছে। প্রশাসনিক প্রধানের পদ শূন্য থাকায় সমন্বয় ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে বড় ধরনের সমস্যা হচ্ছে। একজন উপপরিচালককেই চারজন কর্মকর্তার কাজ সামলাতে হচ্ছে।
জনবলসংকটের কারণে আমদানিকৃত পণ্য খালাস ও লোড-আনলোডে অতিরিক্ত সময় লাগছে। এতে ব্যবসায়ীদের পরিবহন ও সংরক্ষণ ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি বন্দরের অবকাঠামোগত সক্ষমতা কমে যাচ্ছে।
বেনাপোল আমদানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জানান, সময়মতো পণ্য লোড-আনলোড না হওয়ায় এক দিনের কাজ সম্পন্ন করতে দুই দিন সময় লাগছে, যার প্রভাব পড়ছে দেশের সামগ্রিক বাজারে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা জানান, দ্রুত নতুন নিয়োগের পাশাপাশি ঢাকা থেকে অতিরিক্ত কর্মকর্তাদের মাঠে পদায়ন করে সংকট সাময়িক নিরসন করা সম্ভব।
বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. মানজারুল মান্নান জানান, বেনাপোল বন্দরের জনবলসংকট নিরসনে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।