রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩

জাতীয় কালো বিড়াল মূল্যায়ন দিবস: কুসংস্কার ভেঙে সহমর্মিতার বার্তা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪৭ অপরাহ্ণ
জাতীয় কালো বিড়াল মূল্যায়ন দিবস: কুসংস্কার ভেঙে সহমর্মিতার বার্তা

সাকিবুর রহমান বাবলা

প্রতি বছর ১৭ আগস্ট বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ন্যাশনাল ব্ল্যাক ক্যাট অ্যাপ্রিসিয়েশন ডে বা জাতীয় কালো বিড়াল মূল্যায়ন দিবস। দিবসটির মূল উদ্দেশ্য হলো কালো বিড়ালকে ঘিরে প্রচলিত কুসংস্কার দূর করা, তাদের প্রতি মানুষের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা এবং আশ্রয়কেন্দ্রে অবহেলিত কালো বিড়ালদের দত্তক নিতে উৎসাহিত করা। একটি প্রাণীর গায়ের রঙের কারণে তাকে ভয়, ঘৃণা বা অবহেলার চোখে দেখার প্রবণতার বিরুদ্ধে এটি একটি মানবিক ও সচেতনতামূলক উদ্যোগ।

এই দিবসের সূচনা করেন মার্কিন নাগরিক ওয়েন এইচ. মরিস। ২০১১ সালে তিনি তাঁর প্রয়াত বোন জুন এবং তাঁর প্রিয় কালো বিড়াল ‘সিনবাদ’-এর স্মরণে ১৭ আগস্ট দিনটিকে কালো বিড়াল মূল্যায়ন দিবস হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে এটি যুক্তরাষ্ট্রের গ-ি পেরিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি লাভ করে এবং প্রাণীপ্রেমীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সচেতনতা দিবসে পরিণত হয়।

কালো বিড়ালকে ঘিরে কুসংস্কারের ইতিহাস বহু পুরোনো। মধ্যযুগীয় ইউরোপে ডাইনি শিকার ও ধর্মীয় উন্মাদনার সময় কালো বিড়ালকে ডাইনিদের সঙ্গী কিংবা শয়তানের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করা হতো। ১২৩৩ সালে পোপ গ্রেগরি নবমের একটি ঘোষণার পর ইউরোপে কালো বিড়ালের বিরুদ্ধে ভীতি ও বিদ্বেষ আরও বেড়ে যায়। অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ার বহু সমাজে আজও বিশ্বাস করা হয়, কোনো কালো বিড়াল সামনে দিয়ে রাস্তা পার হলে যাত্রা অশুভ হতে পারে। অথচ এসব ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই; এগুলো মূলত শতাব্দীপ্রাচীন লোকবিশ্বাস ও সামাজিক কুসংস্কারের ফল।

বিজ্ঞান বলছে, বিড়ালের কালো রঙের পেছনে কাজ করে মেলানিন নামক রঞ্জক পদার্থ এবং কিছু নির্দিষ্ট জিনগত বৈশিষ্ট্য। কালো বিড়াল অন্য যেকোনো বিড়ালের মতোই স্বাভাবিক, বুদ্ধিমান ও স্নেহপ্রবণ প্রাণী। বরং কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, কালো লোমের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু জিন তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতেও ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে কালো রঙের সঙ্গে দুর্ভাগ্য, অশুভ শক্তি বা অলৌকিক ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই।

মজার বিষয় হলো, পৃথিবীর সব সংস্কৃতি কালো বিড়ালকে নেতিবাচকভাবে দেখে না। জাপানে কালো বিড়ালকে মানেকি’ বা সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেখানে বিশ্বাস করা হয়, অবিবাহিত নারীর কাছে কালো বিড়াল থাকলে তা শুভফল বয়ে আনে। স্কটল্যান্ডে ঘরের দরজায় অচেনা কালো বিড়ালের আগমন সমৃদ্ধির বার্তা হিসেবে ধরা হয়। প্রাচীন ব্রিটিশ নাবিকদের মধ্যেও জাহাজে কালো বিড়াল রাখা সৌভাগ্য ও নিরাপদ সমুদ্রযাত্রার প্রতীক ছিল।

 

আবার প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতায় বিড়াল ছিল অত্যন্ত সম্মানিত প্রাণী; দেবী বাস্টেটের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক স্থাপন করা হতো এবং বিড়াল হত্যা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতো।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও কালো বিড়ালকে অশুভ বলার কোনো সুস্পষ্ট ভিত্তি নেই। ইসলামে বিড়ালকে পরিচ্ছন্ন ও স্নেহের প্রাণী হিসেবে গণ্য করা হয় এবং কুসংস্কারকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। সনাতন ধর্মেও বিড়ালকে দেবী ষষ্ঠীর বাহন হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ফলে কালো বিড়ালকে অপয়া মনে করার ধারণা মূলত লোকবিশ্বাসের অংশ, ধর্মীয় সত্য নয়।

বর্তমানে প্রাণীকল্যাণ সংস্থাগুলোর অন্যতম উদ্বেগের বিষয় হলো, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে কালো বিড়াল অন্য রঙের বিড়ালের তুলনায় কম দত্তক নেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে তারা দীর্ঘদিন আশ্রয়কেন্দ্রে থেকে যায় বা অবহেলার শিকার হয়। তাই এই দিবসে মানুষকে কালো বিড়াল দত্তক নিতে, তাদের যতœ নিতে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিতে উৎসাহিত করা হয়।

জাতীয় কালো বিড়াল মূল্যায়ন দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়—কোনো প্রাণীর মূল্য তার গায়ের রঙে নয়, তার জীবনের মর্যাদায়। কুসংস্কার নয়, বিজ্ঞান, সহমর্মিতা ও মানবিকতাই হওয়া উচিত আমাদের পথপ্রদর্শক। কালো বিড়ালও অন্য সব বিড়ালের মতোই ভালোবাসা, নিরাপত্তা ও সম্মান পাওয়ার অধিকার রাখে। এই উপলব্ধিই দিবসটির সবচেয়ে বড় বার্তা।

Ads small one

বেনাপোল বন্দরে পরিচালকের পদসহ ৭৯টি পদ শূন্য, ব্যাহত কার্যক্রম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫৫ অপরাহ্ণ
বেনাপোল বন্দরে পরিচালকের পদসহ ৭৯টি পদ শূন্য, ব্যাহত কার্যক্রম

এমএ রহিম, বেনাপোল (যশোর): দেশের সর্ববৃহৎ আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর বেনাপোলে চরম জনবলসংকট তৈরি হয়েছে। বন্দরের অনুমোদিত পরিচালকের পদসহ মোট ৭৯টি পদ খালি থাকায় আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য ও প্রশাসনিক তদারকি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, গুদাম ও ইয়ার্ড পরিচালনাসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে অনুমোদিত ২১৬টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কাজ করছেন মাত্র ১৪১ জন। অর্থাৎ প্রায় ৩৪.৭ শতাংশ পদই খালি রয়েছে। এর পাশাপাশি উপপরিচালকের ৪টি পদের মধ্যে ৩টিই শূন্য। অথচ একই পদে ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে অনুমোদিত ৪টি পদের বিপরীতে ৭ জন কর্মকর্তা কর্মরত আছেন।
গত ৩ আগস্ট থেকে বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালকের পদটি খালি রয়েছে। প্রশাসনিক প্রধানের পদ শূন্য থাকায় সমন্বয় ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে বড় ধরনের সমস্যা হচ্ছে। একজন উপপরিচালককেই চারজন কর্মকর্তার কাজ সামলাতে হচ্ছে।
জনবলসংকটের কারণে আমদানিকৃত পণ্য খালাস ও লোড-আনলোডে অতিরিক্ত সময় লাগছে। এতে ব্যবসায়ীদের পরিবহন ও সংরক্ষণ ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি বন্দরের অবকাঠামোগত সক্ষমতা কমে যাচ্ছে।
বেনাপোল আমদানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জানান, সময়মতো পণ্য লোড-আনলোড না হওয়ায় এক দিনের কাজ সম্পন্ন করতে দুই দিন সময় লাগছে, যার প্রভাব পড়ছে দেশের সামগ্রিক বাজারে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা জানান, দ্রুত নতুন নিয়োগের পাশাপাশি ঢাকা থেকে অতিরিক্ত কর্মকর্তাদের মাঠে পদায়ন করে সংকট সাময়িক নিরসন করা সম্ভব।
বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. মানজারুল মান্নান জানান, বেনাপোল বন্দরের জনবলসংকট নিরসনে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

 

দৈনিক প্রবাহ অফিসে হামলার নিন্দায় সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫৩ অপরাহ্ণ
দৈনিক প্রবাহ অফিসে হামলার নিন্দায় সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাব

খুলনা থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক প্রবাহ’ কার্যালয়ে ১০ আগস্ট গভীর রাতে অতর্কিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবের নেতারা। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবুল কাসেম, সহ-সভাপতি আবুল কালাম, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক এম. শাহীন গোলদার, অর্থ সম্পাদক শেখ ফরিদ আহমেদ ময়না, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক আকরামুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক মাসুদুজ্জামান সুমন এবং নির্বাহী সদস্য এড. খায়রুল বদিউজ্জামান, আবু তালেব, কাজী জামালউদ্দিন মামুন, আব্দুস সামাদ ও আসাদুজ্জামান সরদার। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১ জন আটক, সাড়ে লাখ টাকার মালামাল জব্দ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪৬ অপরাহ্ণ
সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১ জন আটক, সাড়ে লাখ টাকার মালামাল জব্দ

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা ও কলারোয়া সীমান্তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটকসহ ১ লাখ ৬০ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের চোরাচালানি মালামাল জব্দ করেছে বিজিবি। ১৫ ও ১৬ আগস্ট সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি)-এর বৈকারী, কাকডাঙ্গা, মাদরা ও সুলতানপুর বিওপির টহলদল এসব অভিযান পরিচালনা করে।
বিজিবি সূত্র জানায়, বৈকারী বিওপির দল সাতক্ষীরা সদরের বলদঘাটা পাকা রাস্তা এলাকা থেকে ৯০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় মোবাইল যন্ত্রাংশ আটক করে। কাকডাঙ্গা বিওপি কেড়াগাছি এলাকা থেকে ১৭ হাজার ৫০০ টাকার ভারতীয় চিনি এবং মাদরা বিওপি রাজপুর এলাকা থেকে ৫২ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি জব্দ করে।
অন্যদিকে, সুলতানপুর বিওপির টহলদল কলারোয়ার তালশারী এলাকা থেকে ৮০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় অনস্কফ সিরাপসহ মো. আইজুল সরদার (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে। আটক ব্যক্তি কলারোয়ার সুলতানপুর গ্রামের মৃত বাবর আলীর ছেলে। বিজিবি জানায়, শুল্ক ফাঁকি দিয়ে এসব মালামাল অবৈধভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশে আনা হচ্ছিল। এর ফলে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি রাজস্ব হানি ঘটছে।