মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩

মায়ের ভালোবাসা অপরিসীম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ
মায়ের ভালোবাসা অপরিসীম

মো. কায়ছার আলী

‘মা কথাটি ছোট্ট অতি। কিন্তু যেন ভাই, ইহার চেয়ে নাম যে মধুর, ত্রিÑভূবনে নাই। পৃথিবীতে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে সন্তান জন্ম দেন “মা”। একজন মানুষ ৪৫ ইউনিট ব্যথা সহ্য করতে পারে। তার বেশি ব্যথা সহ্য করা কোন মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু একজন মা প্রসবকালে ৫৭ ইউনিটের বেশি ব্যথা সহ্য করেন। বিজ্ঞানমতে, এই ব্যথার যন্ত্রণা ১০টি হাড় একসঙ্গে ভেঙে যাওয়ার চেয়েও বেশি যন্ত্রণাদায়ক।

 

পৃথিবীতে এই কষ্ট বা ব্যথা শুধুমাত্র মা” ই সহ্য করতে পারেন, অন্য কেউ নন। মাতৃত্বেই সব মায়া, মমতার শুরু এবং শেষ। সন্তান গর্ভে ধারণ করা মাত্রই মায়ের জীবন মৃত্যুর ঝুঁকির মুখে পড়ে যায়। দিন যত বাড়তে থাকে ঝুঁকিও তত বাড়ে। একজন মানুষের ভিতরে আরেকজন মানুষ (কখনও দুই বা তিনজন) কি অসম্ভব ঘটনা। সন্তান বড় মানুষ হলে ঐ মাকে আমরা বলে থাকি রতœগর্ভা।

 

‘মা’ এই সুনামের অংশীদার বা ভাগিদার হতেও পারে আবার নাও পারে। ভবিষ্যত সব সময়ের জন্য মানুষের নিকট অজানা। সন্তান ভবিষ্যতে বড় মানুষ হবে (প্রতিষ্ঠিত) হবে কি না, ছেলে বা মেয়ে, বোবা বা অন্ধ যাই হোক না কেন, সব সন্তানই তার মায়ের কাছে সাত রাজার ধন। শ্রেষ্ঠ সম্পদ বা মানিক রতন। সন্তান গর্ভে ধারণ করার পর যদি ঐ সন্তানের পিতা যদি মারা যান কিংবা দূরে কোথাও চলে যান তবুও সন্তান জন্মাবে।

 

পৃথিবীর আলোর মুখ দেখবে। কিন্তু মা সন্তান গর্ভে ধারণ, নিরাপদে প্রসব এবং দুই বা আড়াই বছর পর্যন্ত মাকে ছাড়া সন্তান পরিপূর্ণ হবে না। মায়ের দুধই শিশুর জন্য পুষ্টিকর। মায়ের খাবারই সন্তানের খাবার। এ প্রসঙ্গে মার্কিন দার্শনিক ও লেখক ড. ওয়েন ডায়ার বিশ্বাসী অবিশ্বাসীদের নিয়ে চমৎকার একটি আধ্যাত্মিক গল্প লিখেছেন। মায়ের গর্ভে দুই শিশু-একজন অন্যকে প্রশ্ন করছে, “তুমি কি ডেলিভারির পরের জীবনে বিশ্বাস কর?”

 

অন্য শিশুটি বলল, অবশ্যই, সেখানে নিশ্চয়ই ভালো কিছু অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য। হয়তো আমরা এখান থেকে পরে যা হব তারই প্রস্তুতি নিচ্ছি। ননসেন্স, প্রথমজন বলল। ডেলিভারির পরের কোন জীবন নেই। কোন ধরণের জীবন হবে তা তুমি জানো কিছু? “দ্বিতীয়জন বলল, আমি ঠিক জানিনা তবে হয়তো এখানের চেয়ে নিশ্চয়ই আলোকিত হবে সেই জায়গাটি। সম্ভবত সেখানে আমরা দুই পায়ে হাটতে পারবো, মুখ দিয়ে খেতে পারবো। হয়তো আমাদের অনেক ইন্দ্রিয় থাকবে যা এখন বুঝতে পারছি না।”

 

প্রথমজন বলল, পাগল নাকি? হাঁটা অসম্ভব আর মুখ দিয়ে খাওয়া হাস্যকর। অ্যাম্বিলিকাল কর্ড যা প্রয়োজন সে অনুযায়ী আমাদের পুষ্টি দিচ্ছে। কিন্তু অ্যাম্বিলিকাল কর্ড এত ছোট তাই ডেলিভারির পরের জীবন যৌক্তিকভাবে অযৌক্তিক। দ্বিতীয়জন জোর দিয়ে বলে, আমার মনে হয় সেখানে নিশ্চয়ই এমন কিছু আছে যা এখানকার চেয়ে ভিন্ন। হয়তো এই অ্যাম্বিলিকাল কর্ডের সেখানে আরর প্রয়োজন হবে না।

 

প্রথমশিশু, ননসেন্স”, যদি সেখানে জীবন থেকেই থাকে তবে সেখান থেকে আজ পর্যন্ত এখানে ফিরে এল না কেউ। ডেলিভারি মানে জীবন শেষ। ডেলিভারির পরের অন্ধকার ছাড়া আর কিছু¦ই নেই। শুধুই অন্ধকার আর নিস্তব্ধতা। দ্বিতীয় শিশু,ঠিক আছে, আমি জানিনা, কিন্তু আমার বিশ্বাস নিশ্চিতভাবে আমি আমার মাকে দেখতে পাবো। তিনি আমাদের ভালোবাসবেন, যতœ নেবেন। প্রথম শিশু বলে উঠে, আরে তুমি কি সত্যিকারে বিশ্বাস করো, মা বলে কেউ আছেন? হাস্যকর । তিনি যদি থাকেন, তবে এখন কোথায়? দ্বিতীয় শিশু, তিনি সর্বত্র আছেন।

 

আমাদের চারপাশে আছেন। আমরা তার ভিতরে। তার অস্তিত্বের মধ্যেই আছি। তিনি ছাড়া এ পৃথিবীতে আমি আসতাম না। থাকতে ও পারতাম না। প্রথমজনের উত্তর, “কিন্তু আমি তো তাকে দেখতে পাই না। তাই এটাই যৌক্তিক যে তিনি নেই। দ্বিতীয় শিশু বলে উঠে, যখন তুমি নিস্তব্ধতার মাঝে থাকো, একটু চিন্তা করে বোঝার চেষ্টা করো, দেখবে তুমি তার মাঝে থাকো, একটু চিন্তা করে বোঝার চেষ্টা করো, দেখবে তুমি তার উপস্থিতি টের পাবে। শুনবে তার ভালবাসার কন্ঠস্বর, বুঝবে তাঁর অস্তিত্ব।

 

আর বিশ্বাসের কথা নয়। কোন সন্তান কৃতজ্ঞ আর অকৃতজ্ঞ পাঠকরা বিবেচনা করবেন? দুটো সন্তানেরই একজন মা। আজ বিশ্ব মা দিবস। মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময় মা দিবস পালিত হলেও মা দিবস হিসেবে মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত ও বহুল প্রচলিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ইতালি, তুরস্ক, বেলজিয়াম এবং অস্ট্রেলিয়া সহ আরও অনেক দেশে প্রতিবছর মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার মা দিবস পালিত হয়। ১৮৭২ খ্রিষ্ট্রাব্দে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম মা দিবস পালন আলোচনায় আসে।

 

জুলিয়া ওয়ার্ড হো শান্তির প্রতি মানুষের বিবেককে জাগ্রত করার লক্ষ্যে জুন মাসের দুই তারিখ মা দিবস পালনের আহ্বান জানান। তিনি বোস্টনে মা দিবসের আয়োজন করেন। আনা জারভিস ফিলাডেলফিয়া হতে জাতীয়ভাবে মা দিবস অনুষ্ঠানের প্রচার শুরু করেন। জারভিস তার মায়ের দ্বিতীয় মৃত্যুবর্ষের দিনকে মা দিবস হিসেবে পালনের জন্য গির্জার অনুমতি আদায় করেন। জারভিসের মায়ের দ্বিতীয় মৃত্যুবর্ষ ছিল মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার। সে হতে মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার মা দিবস প্রতিষ্ঠা পায়। যদিও মা দিবসে মা সম্পর্কে লিখছি তবে মা কিন্তু একদিনের জন্য নয়। সারাজীবনের জন্য।

 

সাম্প্রতিকালের দুটো ঘটনা ২০১৭ সালের “ভোরের ডাক” পত্রিকায় প্রকাশিত না লিখলে মায়ের মহত্ব বা মা যে কি নিয়ামত তা উপলদ্ধি করতে পারব না। প্রথমটি শিরোনাম “সন্তানদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই সেই ভিখারি মায়ের”। শেরে বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ের হাসপাতালের চতুর্থ তলায় অর্থোপেডিক বিভাগের ৪০৩ নম্বর কক্ষে বি-১৩ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন ছিলেন ৭০ বছরের বৃদ্ধা মা মনোয়ারা বেগম। তিন পুত্র পুলিশ অফিসার ও শিক্ষিকা মেয়ের অবহেলায় ভিক্ষার পথ বেছে নিয়েছিলেন তিনি।

 

তাদের পরিবারে পৌত্রিক একটি সম্পত্তি নিয়ে একটি বিরোধ ছিল। বিরোধ থাকতেই পারে। ওই বিরোধের জন্যই তারা তাদের মাকে অবহেলা করেছে। পত্রিকায় খবরটি প্রকাশিত হলে সারাদেশে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয। ভিক্ষা করতে গিয়ে মা মনোয়ারা বেগম পিছলে গিয়ে কোমরের হাড়গুলো ভেঙ্গে ফেলে। তখন থেকেই তিনি বিনাচিকিৎসায় শয্যাশায়ী ছিলেন। সন্তানেরা ভুল করলেও মা তাদের ক্ষমার চোখে দেখেন। কারণ তিনি যে মমতাময়ী মা। সবার উপরে মা ।

 

কর্তৃপক্ষ বা গণ্যমাণ্য ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি সোজা সাপটা জানিয়ে দেন। তার সব সন্তানই ভালো। কোন সন্তানের প্রতি তার কোন অভিযোগ নেই। দ্বিতীয় শিরোনাম, “ছেলের হাতে মার খাওয়া শতবর্ষী মায়ের জন্য জেলা প্রশাসনের নতুন বাড়ি”। ছেলের সামান্য আঘাতে মা যখন আতঙ্কে আঁতকে উঠে তখন সেই মাকেই লাঠির আঘাতে জর্জরিত করেন ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার ডাঙ্গীপাড়া ইউনিয়নের ডাঙ্গীপাড়া এলাকার স্থানীয় সমাজকর্মী জানান, ভাত খেতে চাওয়ায় বৃদ্ধা মাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয় ছেলে বদিরউদ্দীন।

 

ছেলের লাঠির আঘাতে মায়ের বাম চোখ হোঁতলে যায়। পরে খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক ওই বৃদ্ধা মাকে জেলা সদর থেকে এসে একটি পরিত্যক্ত ঝুপড়ি ঘর থেকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। মাকে নির্যাতনের অভিযোগ ছেলে ছেলে বদিরউদ্দীন কে গ্রেফতার করে পুলিশ। লাঠির আঘাতে আঘাতপ্রাপ্ত হলেও তখন পর্যন্ত মায়ের ছায়াতলে ছেলেকে আগলে রাখার এক অপরিসীম ভালবাসা সবাইকে অবাক করে দেয়। কেননা বৃদ্ধা মা তাঁর সন্তানের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ জানাননি বরং ছেলেকে দেখার আকুতি ব্যক্ত করেন।

 

এরই নাম স্নেহময়ী মা। মায়ের মত আপন কেউ নেই। ইসলাম ধর্মে বলা হয়েছে মায়ের পায়ের নিচে সন্তান-সন্ততির বেহেশত। অন্যান্য ধর্মেও মায়ের স্থান পার্থিব সবকিছুর ঊর্ধ্বে। তবু অনেক সময় বৃদ্ধ বা অসহায় মায়ের প্রতি সন্তান-সন্ততির দূর্ব্যবহার করতে দেখা যায়। এমনটি শুধু অপরাধ নয়, একজন সন্তান হিসেবে জন্মকলঙ্কও বটে। মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমে সন্তান-সন্ততির শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশিত হয়। আসুন আমরা সন্তানেরা সর্বদা চেষ্টা করি মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে।

 

কেননা আমাদের যা কিছু সবই মায়ের অবদান। মা ছাড়া আমাদের অস্তিত্ব কখনোই কল্পনা করা যায় না। পরিশেষে ভূবন জয়ী এক মায়ের একটি উক্তি লিখে শেষ করছি- নোবেল পুরষ্কারের খবর পেয়ে অমর্ত্য সেন তাঁর মা’কে সুখবরটি দেওয়ার জন্য ফোন করলে তাঁর চির মমতাময়ী মা তাঁকে বলেনÑ‘বাবা তুমি খেয়েছ?’

লেখক: শিক্ষক, প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Ads small one

পড়ে থাকা আম কুড়ালে ৫ লাখ টাকা জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ৮:১৫ অপরাহ্ণ
পড়ে থাকা আম কুড়ালে ৫ লাখ টাকা জরিমানা

রাস্তায় পড়ে থাকা আম কুড়িয়ে নিলেই গুনতে হবে ৫ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ লাখ (৪ লাখ ৮২ হাজার) টাকা। সিঙ্গাপুরের কঠোর আইনের এমন এক সতর্কবার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন প্রিয়াঙ্কা সিনহা নামের এক ভারতীয় নারী। তার এই পোস্ট দেখে নেটিজেনদের চোখ কপালে ওঠার জোগাড়।

সিঙ্গাপুরে বসবাসরত প্রিয়াঙ্কা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, দেশটিতে সরকারি জায়গায় লাগানো গাছগুলো রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হয়। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া গাছ থেকে ফল পাড়া এমনকি নিচে পড়ে থাকা ফল কুড়িয়ে নেওয়াও দণ্ডনীয় অপরাধ।

প্রিয়াঙ্কার এই পোস্টের নিচে মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়ার ঝড় উঠেছে। বিশেষ করে ভারতীয়রা সিঙ্গাপুরের এই আইনের সঙ্গে ভারতের পরিস্থিতির তুলনা করছেন। ভারতে রাস্তার ধারের ফল যে কেউ অনায়াসে পেড়ে নিতে পারে। অনেকে মজা করে বলছেন, এমন নিয়ম ভারতীয় শহরগুলোতে প্রয়োগ করা এককথায় অসম্ভব।

সিঙ্গাপুরের জাতীয় উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের (এমএনডি) ওয়েবসাইট অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় জমিতে থাকা গাছ এবং তার ফল সবই রাষ্ট্রের সম্পদ। ন্যাশনাল পার্কস বোর্ড (এনপার্কস) এসব গাছ দেখাশোনা করে। কেউ যদি সরকারি পার্ক থেকে অনুমতি ছাড়া ফল সংগ্রহ করে, তবে পার্কস অ্যান্ড ট্রিস অ্যাক্ট-এর আওতায় তাকে ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। আর এই ঘটনা যদি কোনও সংরক্ষিত প্রাকৃতিক এলাকা বা জাতীয় উদ্যানে ঘটে, তবে জরিমানার পরিমাণ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে কিংবা ৬ মাসের কারাদণ্ডও হতে পারে।

আলোচনার একপর্যায়ে এক ব্যবহারকারী মজা করে জানতে চান, যদি আমাদের পোষা প্রাণী ফল কুড়াতে সাহায্য করে তবে কী হবে? এর জবাবে অপর এক ব্যবহারকারী জানান, সিঙ্গাপুরে পোষা প্রাণীকে মালিকেরই অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়। ফলে পোষা প্রাণী ফল কুড়ালে আইনিভাবে ধরে নেওয়া হবে যে মালিকই তাকে দিয়ে এই কাজ করিয়েছেন।

পরিচ্ছন্নতা, সরকারি সম্পত্তির সুরক্ষা এবং জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সিঙ্গাপুরের কঠোর আইনের সুনাম বিশ্বজুড়ে। কর্তৃপক্ষের মতে, এই কঠোর বিধিবিধানের কারণেই সিঙ্গাপুর বিশ্বের অন্যতম পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ দেশ হিসেবে টিকে আছে।

সূত্র: এনডিটিভি

চলচ্চিত্র নয়, তবে কোন ‘অস্তিত্বের লড়াই’-এ পূর্ণিমা?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ৮:১৩ অপরাহ্ণ
চলচ্চিত্র নয়, তবে কোন ‘অস্তিত্বের লড়াই’-এ পূর্ণিমা?

ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা। অভিনয় ও সৌন্দর্য দিয়ে মাতিয়ে রেখেছেন বছরের পর বছর। এক সময়ের ব্যস্ত এই নায়িকা এখন অভিনয় থেকে অনেক দূরে। বিরতি দিয়ে মাঝে তিনটি সিনেমায় কাজ করলেও সেগুলো মুক্তির খবর নেই। নাটকেও নেই তিনি অনেক দিন। হুট করে সম্প্রতি এই নায়িকা সচেতনতামূলক একটি প্রামাণ্যচিত্রে অংশ নিয়েছেন।

‎১৯৭০ সালে ভোলায় ঘটে যাওয়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে ‘প্রেমের তাজমহল’খ্যাত প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক গাজী মাহবুব নির্মাণ করেছেন প্রামাণ্যচিত্রটি। এফডিসিতে দৃশ্যধারণের মধ্য দিয়ে এরই মধ্যে শেষ হয়েছে শুটিং। বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান মানবসুর উন্নয়ন সংস্থা (মাউস)-এর জন্য প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মিত হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সোহরাব লাভুর গ্রন্থনা ও পরিকল্পনায় প্রামাণ্যচিত্রটির নাম রাখা হয়েছে ‘অস্তিত্বের লড়াই’।
‎পূর্ণিমা বলেন, ‘প্রামাণ্যচিত্রের ভাবনা ভালো লাগায় মানুষকে সচেতন করতে দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে কাজটি করেছি। আমি সবসময় ভালো কাজের সঙ্গে থাকতে চাই।’

‎গাজী মাহবুব জানান, গল্পে উঠে আসবে ১৯৭০ সালের বন্যার সেই মর্মান্তিক কাহিনি এবং বর্তমান বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগে আমাদের করণীয় কী। মানবসুর উন্নয়ন সংস্থার আয়োজনে জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ গঠনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে এটি দেখানো হবে। এছাড়াও অন্তর্জালে প্রকাশিত হবে। অনুষ্ঠানে সারাদেশের ২ হাজার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে দিনব্যাপী ফ্রি প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদান করা হবে। প্রশিক্ষণ বিষয়ে বিস্তারিত সংস্থার ফেসবুক পেজে দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংস্থার নির্বাহী কর্মকর্তা সোহরাব লাভু।

‎পূর্ণিমা ছাড়াও প্রামাণ্যচিত্রটিতে আরও রয়েছেন কাজী হায়াৎ, শিবা শানু, তানহা তাসনিয়া, শিরিন শিলা, মৌ খান ও জয় চৌধুরীসহ আরও অনেকেই।

শহীদ মিনারে নাট্যজন আতাউর রহমানকে শেষ শ্রদ্ধা, অশ্রুসিক্ত সংস্কৃতি কর্মীরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ৮:১২ অপরাহ্ণ
শহীদ মিনারে নাট্যজন আতাউর রহমানকে শেষ শ্রদ্ধা, অশ্রুসিক্ত সংস্কৃতি কর্মীরা

নাট্যব্যক্তিত্ব আতাউর রহমানকে শেষ বিদায় জানালো বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (১২ মে) বিকাল ৩টায় সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনা হয়। দুপুর থেকেই প্রিয় সহকর্মীকে শেষবার দেখার জন্য শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জড়ো হন বরেণ্য নাট্যকার, অভিনয়শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা।

শ্রদ্ধায় ও স্মরণে সিক্ত শহীদ মিনার

শহীদ মিনারে আতাউর রহমানের মরদেহে একে একে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানায় নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো। তালিকায় ছিল নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়, ছায়ানট, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন, ঢাকা থিয়েটার, প্রাচ্যনাট, কণ্ঠশীলন, পালাকার ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগসহ বহু সংগঠন।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার বলেন, “আতাউর রহমান সবসময় শিল্পকে ধারণ করতেন। তিনি ছিলেন একজন সৃষ্টিশীল মানুষ। শিল্পই ছিল তার ধ্যান-জ্ঞান।”

নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আতাউর রহমান শিল্পকে গভীরভাবে আঁকড়ে ধরেছিলেন। তার হাত ধরেই অনেকে নাট্যজগতে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কর্মের মাধ্যমেই তিনি আমাদের মাঝে অনন্তকাল বেঁচে থাকবেন।”

বাবার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন কন্যা শর্মিষ্ঠা। শ্রদ্ধানুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য অভিনেতা তারিক ইনাম খানসহ সংস্কৃতিক কর্মীরা। সবার কণ্ঠে ছিল একই সুর—আতাউর রহমানের প্রয়াণে নাট্যজগতে যে শূন্যতা তৈরি হলো, তা কখনও পূরণ হওয়ার নয়।

শেষ বিদায় ও দাফন

শহীদ মিনারে শ্রদ্ধানুষ্ঠানের আগে জোহরের নামাজের পর মগবাজারের ইস্পাহানী সেঞ্চুরি আর্কেড সংলগ্ন খোলা মাঠে মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিকালে তার মরদেহ বনানী কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানেই তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

উল্লেখ্য, সোমবার (১১ মে) রাত ১১টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এই বর্ষীয়ান নাট্যজন। তিনি দীর্ঘকাল ধরে বাংলাদেশে থিয়েটার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। মঞ্চ নাটক নির্দেশনা, অভিনয় এবং লেখালেখির মাধ্যমে তিনি বাংলা সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করে গেছেন।