বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

মোংলা বন্দর হবে নতুন অর্থনৈতিক হাব: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
মোংলা বন্দর হবে নতুন অর্থনৈতিক হাব: প্রধানমন্ত্রী

পত্রদূত ডেস্ক: মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ করা হলে এটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, মোংলা বন্দরকে ঘিরে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও যশোরসহ এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে মোংলায় ‘মোংলা বন্দর সুবিধা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ জোরদার এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ সম্ভব হবে। একই সঙ্গে পঞ্চগড় থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ, পণ্য পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থা উন্নয়নে সরকার উদ্যোগ নিতে চায়। খানজাহান আলী বিমানবন্দরের উন্নয়ন কার্যক্রম চালু করাও সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে।

তিনি বলেন, জ্বালানি, সার, খাদ্যশস্য ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানি এবং দেশীয় পণ্য রপ্তানিতে মোংলা বন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আধুনিক কনটেইনার টার্মিনাল, ইয়ার্ড ও পণ্য ওঠানামার সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হলে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পের সাফল্য শুধু নির্মাণকাজ শেষ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বন্দরসেবার মান বৃদ্ধি, পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় হ্রাস, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশ সুরক্ষার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর কাছে মোংলা বন্দরকে আকর্ষণীয় করে তুলতে বন্দরের নাব্যতা, নৌপথের নির্ভরযোগ্যতা ও জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি মোংলা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার এ অঞ্চলের হারিয়ে যাওয়া শিল্পঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে চায়।

প্রধানমন্ত্রী বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক অংশীজন, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন দেশের শিল্প-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, তরুণদের কর্মসংস্থান এবং আঞ্চলিক সুষম উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকার কমলাপুর আইসিডি থেকে কনটেইনারবাহী ট্রেন সরাসরি মোংলা বন্দরে চলাচল করতে পারবে। এতে বন্দরের পণ্য পরিবহন সক্ষমতা বাড়বে এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সম্প্রসারিত হবে।

অনুষ্ঠানে যোগাযোগমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা এবং চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের চেয়ারম্যান দাই হেগেন বক্তব্য দেন। এ সময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Ads small one

সাতক্ষীরায় মুজাহিদ কমিটির মাসিক ইজতেমা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৭ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় মুজাহিদ কমিটির মাসিক ইজতেমা অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি সাতক্ষীরা জেলা শাখার উদ্যোগে জেলা মাসিক ইজতেমা ও সবগুজারি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বাদ মাগরিব সাতক্ষীরা উপজেলা মসজিদে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির খুলনা বিভাগীয় ইমাম কাম অডিটর হযরত মাওলানা ইউসুফ। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাতক্ষীরা জেলা শাখার ছদর হাফেজ মাওলানা মুফতী রবিউল ইসলাম। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে আগত বিপুলসংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে পরিচালনা, তাকওয়া অর্জন, নৈতিক চরিত্র গঠন এবং ইসলামের বিধান অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামী নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

শ্যামনগরে লবণাক্ততা নিরসন ও কৃষি অভিযোজনবিষয়ক প্রশিক্ষণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:২১ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে লবণাক্ততা নিরসন ও কৃষি অভিযোজনবিষয়ক প্রশিক্ষণ

সংবাদদাতা: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে বাড়ছে মাটির লবণাক্ততা। এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করে কৃষিকে টেকসই ও লাভজনক করার লক্ষ্যে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ‘লবণাক্ততা নিরসন ও উপকূলীয় কৃষি অভিযোজন’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের আয়োজনে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের পানখালী এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২০ জন কৃষক ও কৃষাণী অংশ নেন। প্রশিক্ষক ছিলেন দক্ষিণ শ্রীফলকাটি এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারের তত্ত্বাবধায়ক গোবিন্দ মণ্ডল। এতে সভাপতিত্ব করেন ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট-তেরকাটি গ্রামের প্রবীণ কৃষক সাধন কুমার বিশ্বাস।

প্রশিক্ষণে জোয়ারের লবণাক্ত পানি প্রবেশ এবং অপরিকল্পিত চিংড়ি ও কাঁকড়া চাষের কারণে কৃষিজমিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এ সংকট মোকাবিলায় লবণসহিষ্ণু ফসলের জাত সম্প্রসারণ, উন্নত সেচ ব্যবস্থাপনা এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ সময় কৃষকদের লবণসহিষ্ণু ধানের জাত, আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি চাষ, বেড পদ্ধতি, প্রাকৃতিক মালচিং, জলপট্টি, স্যালাইন ও টাওয়ার পদ্ধতিতে চাষাবাদ সম্পর্কে হাতে-কলমে ধারণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি স্থানীয় জাতের বীজ সংরক্ষণে কমিউনিটিভিত্তিক বীজ ব্যাংক গড়ে তোলা এবং কৃষকদের মধ্যে বীজ বিনিময় জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।

পরিকল্পনা সভার মুক্ত আলোচনায় কৃষকেরা তাঁদের মাঠপর্যায়ের সমস্যা ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। বক্তারা উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি কৃষকদের সচেতনতা, স্থানীয় জ্ঞান ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের গ্রিন কোয়ালিশনের সদস্য হীরা পারভীন, পানখালী এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারের তত্ত্বাবধায়ক কনিকা রানী ও বারসিকের মনিকা পাইকসহ স্থানীয় কৃষক ও কৃষাণীরা।

কর্মশালার শেষ পর্যায়ে উপকূলীয় অঞ্চলের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কালিগঞ্জে ৭ নভেম্বর পালনে কৃষকদলের প্রস্তুতি সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:১৪ অপরাহ্ণ
কালিগঞ্জে ৭ নভেম্বর পালনে কৃষকদলের প্রস্তুতি সভা

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের উদ্যোগে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বাদ আসর কালিগঞ্জ উপজেলা কৃষকদলের অস্থায়ী কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক রোকনুজ্জামান রোকনের সভাপতিত্বে সভায় সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব আরিফুর রহমান ছোটন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সদ্য সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আক্তারুজ্জামান বাপ্পি, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শেখ মনিরুজ্জামান মনি, নলতা ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওসমান আলী, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর রহমান, মথুরেশপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুস সামাদ, তারালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এনামুল হক এনাম, চাম্পাফুল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব আবুল কালাম, উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম টোকন, ওলামা দলের সভাপতি হাফেজ আব্দুল মজিদ, জাসাসের আহ্বায়ক মুরশিদ আলী গাজী ও সদস্যসচিব মোস্তাফিজুর রহমানসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

সভা শেষে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে কালিগঞ্জ পুরাতন ইসলামী ব্যাংক মোড় থেকে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন।