রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

মোহনপুর আনসার ভিডিপি ক্লাবের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও গ্রাহক মেলা-২০২৬

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১:৫৭ অপরাহ্ণ
মোহনপুর আনসার ভিডিপি ক্লাবের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও গ্রাহক মেলা-২০২৬

সংবাদদাতা: ঝাউডাঙ্গার মোহনপুর আনসার ভিডিপি ক্লাবের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও গ্রাহক মেলা-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) রাতে, মোহনপুর আনছার ও ভিডিপি ক্লাব প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

“সঞ্চয় মানুষের ভবিষ্যৎ জীবনকে সুরক্ষিত এবং ঋণমুক্ত রাখে” এই প্রতিপদ্দকে সামনে রেখে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝাউডাঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ খলিলুর রহমান।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ও সদর উপজেলার সমবায় কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুর্শিদ আলম। এছাড়াও সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক আখতারুজ্জামান বাপ্পি, ইউপি সদস্য সিদ্দিকুল ইসলাম প্রমুখ।

উক্ত অনুষ্ঠানে মোহনপুর আনসার ভিডিপি ক্লাবের নতুন কমিটির সকল সদস্যদের উপস্থিতিতে সংবর্ধনা প্রদান করা হয় ও ক্লাবের সদস্যদের মাঝে বিভিন্ন বিষয়ে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মোহনপুর আনসার ভিডিপি ক্লাবের মোঃ কবিরুল ইসলাম।

 

Ads small one

ঢাকা-বেনাপোল ও খুলনা রুটে ট্রেনে হিজড়াদের দৌরাত্ম বাড়ছে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩২ অপরাহ্ণ
ঢাকা-বেনাপোল ও খুলনা রুটে ট্রেনে হিজড়াদের দৌরাত্ম বাড়ছে

Oplus_131072

এম এ রহিম, বেনাপোল (যশোর): যোগাযোগ ব্যবস্থায় নিরাপদ বাহন হিসাবে যাত্রীদের কাছে রেলের রয়েছে চাহিদা ও কদর, গ্রহণযোগ্যতা। অল্প সময়ে কম মুল্যে নিরাপদে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলাচল করতে পছন্দ করেন সব শ্রেণীর যাত্রীরা। বাড়ছে রেল সংযোগ ও ট্রেনসেবা। সরকারের আসছে বাড়তি আয়। তবে সম্প্রতি সময়ে আবারও ঢাকা-বেনাপোল-যশোর ও বেনাপোল-খুলনা-মোংলা রুটে চলাচলকারী ট্রেনে তৃতীয় লিঙ্গের হিজড়া হকার ও ভিক্ষুকদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ট হয়ে উঠছে যাত্রী সাধারণ। ফলে ব্যাহত হচ্ছে রেল সেবা। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যরা জেগে ঘুমাচ্ছেন। নির্বাক যেন প্রশাসন ও যাত্রীরা।

প্রতিদিন ঢাকা টু বেনাপোল ও খুলনা রুটে ট্রেনে চলাচল করেন দেশি বিদেশী পর্যটকসহ ব্যবসায়ি শিক্ষার্থী রোগীসহ সব শ্রেণী পেশার মানুষ। রেল মানুষের আস্তা অর্জন করেছেন। তবে হিজড়াদের চাঁদাবাজি ও অশ্লীলতায় চরম ভোগান্তি ও অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। অপমানিত ও নির্গিত হচ্ছেন যাত্রীরা। অতিষ্ট হয়ে উঠছেন তারা। রেল কর্তৃপক্ষ রয়েছেন নিশ্চুপ। এক সময়ে রেলে চোরাচালানী পন্যের অবাধ বিচরণসহ যাত্রী সেবাই যশোর জেলা প্রশাসনের নির্দেশে রেলে ভ্রাম্যমান অভিযান চালাতো প্রশাসন। বিজিবি, র‌্যাব. কাস্টম ও পুলিশসহ রেল সংশ্লিষ্টদের বিশেষ অভিযানে স্বস্তি ফেরে যাত্রীদের। অভিযান বন্ধ থাকায় আবারও রেলের পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। রেলে অনেকটা জিস্মি ও অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন যাত্রীরা।

রেলের যাত্রী সাবিরা খাতুন, জামাল উদ্দিন ও মহাসিন হোসেন জানান, সব শ্রেণীর ও সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে টাকা আদায় করছের সংঘবদ্ধ হিজড়ারা। রয়েছে হেনস্তা করার বিস্তর অভিযোগ। রেলওয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে প্রতিনিয়ত এধরনের ঘটনা ঘটলেও নেওয়া হয়না ব্যাবস্থা। নিশ্চুপ থাকেন তারা।

এসব বিষয়ে বেনাপোল রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ পরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হুসাইন জানান, ট্রেনে অননুমোদিত ব্যক্তিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে জিআরপি পুলিশ চক্রটিকে চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। যাত্রী সেবাই রেল পুলিশ আন্তরিক ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিযোগ, বেনাপোল-ঢাকা ও খুলনা রুটের ট্রেনে চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ এবং ‘রুপসী বাংলা’ ও ‘বেতনা এক্সপ্রেস’ ট্রেনে চোরাচালানি, হকার, ভিক্ষুক, হিজরা ও নেশাখোররা বিনা টিকিটে ওঠে বসে থাকায়। রেলের টিকিট কেটেও যাত্রীরা থাকেন দাঁড়িয়ে। রেলের নিরাপত্তা কর্মী পুলিশের প্রতিটি কামরায় থাকার নিয়ম থাকলেও অধিকাংশ সময়ে একটি বগিতে সিট নিয়ে ঘুমিয়ে পালন করেন দায়িত্ব। নিরাপত্তাহীনতাই ভোগেন যাত্রীরা। যাত্রীদের ব্যাগ, টাকা খোয়া গেলে বাধে বাকবিতন্ডা।

নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএসবি) সদস্যরা রেলস্টেশন ও রেলের সম্পদ দেখাশুনার সার্বিক দায়িত্বে থাকলেও তাদের চোখের সামনে চোরাচালানী, হিজরা, ভিক্ষুক, নেশাখোররা বিনা টিকিটে ট্রেনে উঠছেন। দেখেও নির্বাক থাকছেন নিরাপত্তা কর্মীরা।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, রেলওয়ে পুলিশ ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে চোরাচালানীদের যোগসাজসে চোরাচালানীরা ট্রেনে ভারতীয় পণ্য পাচার করছে। সম্প্রতি আবির হোসেন ও মহাসিন হোসেন তারা পরিবারসহ ‘রূপসী বাংলা’ ট্রেনে যশোর যাচ্ছিলেন। ট্রেনটি ছাড়তেই বগিতে হিজড়ারা উঠে যাত্রীদের কাছে টাকা দাবি করে। টাকা না দিলেই ক্ষিপ্ত হয়ে আপত্তিকর ও অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি শুরু করে। প্রতিবাদ করলেই উগ্র রূপ ধারণ করে এবং পরিবারের সামনেই কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালিগালাজ ও হেনাস্তা করে। দেওয়া হয় হুমকি। ফলে প্রতিনীয়ত ট্রেনের ভেতর হিজড়াদের দৌরাত্বে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি হয়। ক্ষোভ প্রকাশ করেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা।

পাবলিক পরিবহনে পরিবার নিয়ে যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থায়ী প্রতিকার চান ভুক্তভোগী যাত্রীরা।
এসব ঘটনায় পরিত্রাণে ভুক্তভোগী যাত্রী মহাসিন হোসেন বেনাপোল রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি ও স্টেশন মাস্টারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আয়নাল হাসান অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, টিকিট বা অনুমতি ছাড়া ট্রেনে হিজড়া, হকার বা বহিরাগতদের প্রবেশ বেআইনি। ঘটনার পর স্টেশনের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং ট্রেনে কোনো অননুমোদিত ব্যক্তি যেন উঠতে না পারে, সেজন্য গার্ড ও নিরাপত্তা কর্মীদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি স্থায়ী সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও জিআরপি পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হযেছে বলে জানান ষ্টেশন মাষ্টার আয়নাল হাসান।

জলবায়ু পরিবর্তনে উপকূলের ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর ন্যায্যতা ও সমতা কার্যকর করা প্রযোজন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩১ অপরাহ্ণ
জলবায়ু পরিবর্তনে উপকূলের ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর ন্যায্যতা ও সমতা কার্যকর করা প্রযোজন

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশের উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা ও সমতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। বৈশ্বিক কার্বন নির্গমনে বাংলাদেশের ভূমিকা নামমাত্র হলেও, উপকূলবাসীকে লবণাক্ততা, ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড়, এবং নদীভাঙনের মতো ভয়াবহ বিপর্যয় মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, যাদের মানবাধিকার সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা বৈশ্বিক জলবায়ু ন্যায়বিচারের অন্যতম প্রধান শর্ত। খরা, বন্যা ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির মতো দুর্যোগে তাদের বাসস্থান, সুপেয় পানি, খাদ্য ও জীবিকা হুমকির মুখে পড়ছে।

ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড কার্যকর করা অত্যন্ত জরুরি, যা প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে পুনর্বাসন ও সুরক্ষায় সহায়তা করবে। যেকোনো জলবায়ু নীতি ও অভিযোজন পরিকল্পনা প্রণয়নে স্থানীয় প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারী ও আদিবাসীদের মতামতকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।

জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলগুলো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। গত তিন দশকে সামুদ্রিক ঘুর্নিঝড়, জলোচ্ছাস ও নদী ভাঙন সুন্দরবন উপকূলীয় জনপদগুলো লন্ডভন্ড করে দিয়েছে। গ্রীন হাউস প্রতিক্রিয়ায় বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে এক দিকে যেমন সমুদ্র পৃষ্টের তলদেশ উঁচু হয়ে যাচ্ছে অন্যদিকে নদ-নদীর নাব্যতা হারিয়ে গতিপথে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। ফলে জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারনে সমুদ্রের পানি উপকূলীয় এলাকায় উপচে পড়ছে। ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগে লাখ লাখ মানুষ সহায় সম্বল হারিয়ে সর্বশান্ত হচ্ছে।

সূত্রমতে, ১৯৮৮ সালের ২৯ নভেম্বর সুন্দরবন উপকূলে প্রলংকরী সামুদ্রিক ঘুর্ণিঝড়, ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল চট্রগ্রাম কক্সবাজার অঞ্চলে স্মরনকালের ভয়াবহ সামুদ্রিক ঝড়। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর বাগেরহাট, বরগুনা, পটুয়াখালী, খুলনার উপকুলে সিডরের তান্ডব। ২০০৮ সালে ঘূর্ণিঝড় নার্গিস দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভয়াবহতম ঘূর্ণিঝড়, যা মে মাসে মায়ানমারে আঘাত হানে। খুলনা, সাতক্ষীরা উপকূলে আইলার ভয়াবহ জলোচ্ছাসে গোটা উপকূলীয় এলাকার প্রাকৃতিক দৃশ্যপট পাল্টে দিয়েছে। এর সঙ্গে নতুন মাত্রায় নদী ভাঙন যোগ হয়ে লন্ডভন্ড করে দিচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। ২০২০ সালে ঘূর্ণিঝড় আম্পান অত্যন্ত শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানে। ২০২২ সালে ২৫ অক্টোবর ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের বরিশাল উপকূলে আঘাত হানে।

উপকূলের কয়রা, পাইকগাছা, দাকোপ, আশাশুনি ও শ্যামনগর এলাকায় প্রতিনিয়ত বেড়িবাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। উপর্যুপরি নদী ভাঙন কেড়ে নিচ্ছে শত শত একর কৃষি জমি, বসত ভিটা, চিংড়ি ঘের ও রাস্তাঘাট। শুকনো মৌসুমে কয়রার অনেক এলাকায় ভয়াবহ নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ সকল এলাকায় দিন যতই পার হচ্ছে উপকূলীয় এলাকার মানুষ জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে ততই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেকে জমি জায়গা হারিয়ে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র পাড়ি জমিয়েছেন। কপতাক্ষ নদের ভাঙ্গনে পাইকগাছার দরগাহমহলের শেখ আব্দুর রহিম (৫৫) বলেন, নদের ওপারে আমার বাপের ভিটা ছিল, আমরা সব হারিয়েছি, একেবারেই নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমার বাপ-চাচাদের ৬ একর ৬৭ শতক জমি ছিল, আজ তার ১ শতক জমিও নেই, ভিটে মাটি হারিয়ে অন্য জায়গায় বসবাস করছি।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় গৃহহীনদের ঘর প্রদান হলো সরকারের একটি বিশেষ উদ্যোগ, যার মাধ্যমে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভূমিহীন পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন করা হয়। এর প্রধান মূল লক্ষ্য হলো দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ, নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা এবং গ্রামীণ দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নত করা। পাইকগাছা উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজীব বিশ্বাস বলেন, ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ-আশ্রয়ন প্রকল্পে উপজেলায় ৮১৭ ভূমিহীন পরিবারকে জমিসহ ঘর ও ৩৩২ পরিবার জমি আছে ঘর নেই তাদের ঘর তৈরি দেওয়া হযেছে।

দাতা সংস্থা ও জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলগুলো পরিদর্শন করে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও দুর্যোগের ঝুঁকিহ্রাস কমাতে সরকারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন। জলবায়ু ফান্ডের অর্থায়নে সরকার উপকূলীয় এলাকার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। দাতা সংস্থাগুলো এনজিওদের মাধ্যমে বাঁধ সংস্কার, কাঁচা রাস্তা নির্মাণ, ঝড় সহনশীল ঘর তৈরী, পয়নিস্কাশন কার্যক্রম বাস্তবায়ন, গভীর অগভীর নলকূপ স্থাপন, রেইন ওয়াটার হার্ভেষ্টিং প্রকল্প বাস্তবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

 

বেসরকারি অনেক সংস্থা দেশের উপকূলীয় বেশ কয়েকটি জেলার মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে অবকাঠামোগত প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলে সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ ঝড় জলোচ্ছাস জনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবল থেকে কিছুটা রেহাই পাবে। সম্প্রতি সরকারের পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সুন্দরবন সংলগ্ন নদ-নদীর কিনার ড্যাম্পিং করে বেড়িবাঁধে ব্লক বসানোর কারনে নদী ভাঙন কিছুটা কমেছে। উপকূলীয় এলাকার বেড়িবাঁধ রক্ষায় বিশ্বব্যাংকের বাস্তবায়নাধীন চলমান প্রকল্প চালু থাকলে জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারনে সৃষ্ট জলোচ্ছাসের ক্ষয়ক্ষতি থেকে এ অঞ্চলের জনসাধারনের জানমাল অনেকটা রক্ষা করা সম্ভব হবে।

বৈশ্বিক জলবায়ু তহবিল বা লস অ্যান্ড ড্যামেজ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উপকূলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সরাসরি আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে। দুর্যোগ মোকাবিলায় উপকূলজুড়ে মজবুত বেড়িবাঁধ নির্মাণ, সুপেয় পানির স্থায়ী ব্যবস্থা এবং নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা প্রয়োজন। যেকোনো জলবায়ু নীতি ও অভিযোজন প্রকল্প প্রণয়নে স্থানীয় উপকূলীয় জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারী ও প্রান্তিক মানুষদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে হবে। লবণাক্ত জমিতে ফসল ফলানোর নতুন প্রযুক্তি জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ও বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি।

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিবাসীদের অধিকার রক্ষা এবং বিশ্বমঞ্চে সোচ্চার হওয়ার মাধ্যমে এই ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আকর্ষিক পরিদর্শন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৫:২৭ অপরাহ্ণ
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আকর্ষিক পরিদর্শন

নিজস্ব প্রতিনিধি: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়নে সারা দেশের উপজেলা হাসপাতাল ৫০ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীতকরণ, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেলা সদরের হাসপাতালে যথাক্রমে ৫০টি ও ১০টি করে ডায়ালসিস মেশিন প্রদান, উপজেলা হাসপাতালে নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা ফিজিওথেরাপী সেন্টার স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও ভালো চিকিৎসাসেবা দেওয়ার বিষয়ে প্রস্তুতি চলছে।

তিনি রোববার দুপুরে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

ইহেলথ কার্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, এটা প্রধানমন্ত্রী দেখছেন। এটি উন্নত প্রযুক্তির বিষয়, যেখানে একজন মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত স্বাস্থ্য ডাটা থাকবে। পাইলটিং প্রজেক্ট হিসেবে কিছুদিনের মধ্যে ১০টি ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের ঘরে ঘরে নারী ও পুরুষের হেল্থ স্কিনিং করা হবে।

এর আগে তিনি তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। এসময় দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত মেডিকেল অফিসার ডা. শাওলী নানজিবা ও চুরির ঘটনায় নৈশপ্রহরীকে বরখাস্তের নির্দেশ দেন।