রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

ম্যানগ্রোভ ইকো ট্যুরিজম ও সাতক্ষীরার যুবসমাজের অর্থনৈতিক মুক্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫২ অপরাহ্ণ
ম্যানগ্রোভ ইকো ট্যুরিজম ও সাতক্ষীরার যুবসমাজের অর্থনৈতিক মুক্তি

মো. মামুন হাসান
সাতক্ষীরা আজ কেবল একটি সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চল নয়, এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এক অনন্য এবং অফুরন্ত অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রবেশদ্বার। পৃথিবীর একক বৃহত্তম ও সবচেয়ে সমৃদ্ধ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের পশ্চিম তোরণ হওয়ার সুবাদে এই অঞ্চলের যে বৈশ্বিক পরিচিতি রয়েছে, তাকে পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করার মাহেন্দ্রক্ষণ এখনই। প্রথাগত পর্যটনের সীমাবদ্ধতা ভেঙে প্রকৃতি, মানুষ, সংস্কৃতি এবং আধুনিক অর্থনৈতিক দর্শনের যে অপূর্ব মেলবন্ধন এখানে সম্ভব, তা বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে সাতক্ষীরাকে একটি শীর্ষস্থানীয় ও অত্যন্ত লাভজনক গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারে। বর্তমান বিশ্বের সচেতন পর্যটকেরা এখন আর যান্ত্রিক বিলাসবহুল হোটেলের চার দেয়ালে বন্দী থাকতে চান না; তারা খুঁজছেন প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্য, শেকড়ের অভিজ্ঞতা এবং গ্রামীণ জীবনযাত্রার সক্রিয় অংশীদারিত্ব। এই বৈস্ময়কর বৈশ্বিক চাহিদার সবচেয়ে সময়োপযোগী, পরিবেশবান্ধব ও বাণিজ্যিকভাবে আকর্ষণীয় রূপ হলো ইকো ট্যুরিজম এবং কমিউনিটি ভিত্তিক হোমস্টে পর্যটন। কোস্টা রিকা, নেপাল, ভূটান ও থাইল্যান্ডের মতো সফল রাষ্ট্রগুলো বিশ্বকে দেখিয়েছে যে, পর্যটন তখনই দীর্ঘমেয়াদে টেকসই এবং সবচেয়ে বেশি লাভজনক হয়, যখন স্থানীয় প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুণ্ন রেখে সরাসরি সাধারণ মানুষকে এর অর্থনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা যায়।
এই প্রগতিশীল বৈশ্বিক বাস্তবতাকে ধারণ করে সাতক্ষীরার প্রত্যন্ত উপকূলে একটি যুগান্তকারী অর্থনৈতিক বিপ্লবের সূচনা করেছে স্থানীয় তরুণদের নিজস্ব মেধা ও শ্রমে গড়ে ওঠা ‘ট্যুরিজম’। এটি কেবল একটি প্রথাবদ্ধ ট্যুর গাইড সেবা নয়, এটি আসলে তৃণমূলের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার একটি শক্তিশালী গ্রিন ফিল্ড মডেল। এই দর্শনের মূল সৌন্দর্য হলো, এখানে পর্যটকদের শুধু সুন্দরবনের সৌন্দর্য দেখিয়ে বিদায় করা হয় না, বরং তাদের নদী, ম্যানগ্রোভের জীববৈচিত্র্য এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবনসংগ্রামের জীবন্ত অংশ করে তোলা হয়। ‘র ট্যুরিজম’ পর্যটকদের সরাসরি নিয়ে যায় জেলেদের পাড়ায়, উত্তাল নদীপথে, গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী বাজারে এবং সরাসরি উপকূলীয় হেঁশেলে। এই মডেলটি একটি যুগান্তকারী অর্থনৈতিক সত্য উন্মোচন করেছে যে, পর্যটনের নিয়ন্ত্রণ ও মালিকানা যদি সরাসরি স্থানীয় মানুষের হাতে থাকে, তবে পর্যটন খাতের আয় শহরের বড় বহুজাতিক সিন্ডিকেট বা বিলাসবহুল রিসোর্টের পকেটে না গিয়ে সরাসরি প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছায়। এর ফলে স্থানীয় অর্থনীতির মাল্টিপ্লায়ার ইফেক্ট বা আবর্তনের হার বহুগুণ বেড়ে যায় এবং প্রতিটি টাকা সরাসরি গ্রামীণ জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখে।
এই বিচ্ছিন্ন উদ্যোগগুলোকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে যদি সুন্দরবন সংলগ্ন প্রতিটি গ্রামকে পরিকল্পিত উপায়ে পরিবেশবান্ধব হোমস্টে ইকো ইউনিটে রূপান্তর করা যায়, তবে তা বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ টেকসই অর্থনৈতিক মডেলে পরিণত হবে। পর্যটকেরা যখন শহরের যান্ত্রিক কোলাহল ছেড়ে মাটির তৈরি বা পরিবেশবান্ধব কাঠের কুটিরে থাকবেন, স্থানীয় বিশুদ্ধ উপাদান দিয়ে তৈরি খাবার খাবেন এবং মানুষের সঙ্গে জীবন ভাগ করে নেবেন, তখন পর্যটন একটি সম্পূর্ণ নতুন জীবন্ত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। এই হোমস্টে মডেলটিকে বাণিজ্যিকভাবে সফল করতে প্রতিটি বাড়িকে সুনির্দিষ্ট থিমে সজ্জিত করা সম্ভব। যেমন জেলে জীবনভিত্তিক হোমস্টে যেখানে পর্যটক মাছ ধরার বাস্তব কৌশল শিখবেন; মৌয়াল জীবনভিত্তিক হোমস্টে যেখানে সুন্দরবনের খাঁটি মধু সংগ্রহের রোমাঞ্চকর ইতিহাস ও প্রক্রিয়া জানা যাবে; কিংবা কৃষিভিত্তিক হোমস্টে যেখানে পর্যটকেরা সরাসরি মাঠে কৃষিকাজে অংশ নেবেন। এই ব্যবস্থার সবচেয়ে বৈপ্লবিক ও ইতিবাচক দিক হলো স্থানীয় নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং কিচেন ট্যুরিজমের বিকাশ। উপকূলীয় নারীরা তাদের সনাতনী রন্ধনশিল্পের মাধ্যমে পর্যটকদের আতিথেয়তা প্রদান করে সরাসরি আয় করতে পারবেন। পাশাপাশি তাদের তৈরি বিখ্যাত নকশিকাঁথা, মাটির নান্দনিক সামগ্রী, গোলপাতার হস্তশিল্প, খাঁটি সুন্দরবনের মধু এবং ঐতিহ্যবাহী শুঁটকি মাছ সরাসরি চড়া দামে পর্যটকদের কাছে বিক্রির সুযোগ তৈরি হবে। এটি গ্রামীণ নারীদের ঘরের ভেতর থেকেই স্বাধীন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তায় রূপান্তরিত করবে, যা গ্রামীণ নারী ও শিশু স্বাস্থ্য এবং শিক্ষার উন্নয়নে এক অভূতপূর্ব সামাজিক পরিবর্তন নিয়ে আসবে।
অর্থনৈতিক লাভজনকতাকে প্রিমিয়াম স্তরে নিয়ে যেতে রাতভিত্তিক এক্সপেরিয়েন্স ইকো ট্যুরিজম এবং অ্যাডভেঞ্চার প্যাকেজ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। সুন্দরবনের শান্ত নদী ও খালের বুকে জোসনা রাতে কাঠের নৌকায় ঐতিহ্যবাহী নৌভ্রমণ, সম্পূর্ণ ওজোনস্তর ও ধূলিকণামুক্ত আকাশের নিচে তারা পর্যবেক্ষণ এবং স্থানীয় উপাদান দিয়ে তৈরি ক্যান্ডেল লাইট ডিনারের মতো বিশেষ প্যাকেজগুলো উচ্চবিত্ত দেশি এবং বিদেশি ইকো ট্যুরিস্টদের বিপুলভাবে আকর্ষণ করবে। এই ধরনের উচ্চ মূল্যের সেবা থেকে অত্যন্ত স্বল্প পরিচালন খরচে বিশাল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব। এর সঙ্গে সুন্দরবনের নদী ব্যবস্থায় সম্পূর্ণ শব্দ ও ধোঁয়ামুক্ত পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বোট ট্যুরিজম এবং বনের প্রান্ত ঘেঁষে সুন্দরবন সাইকেল ট্রেইল চালু করা গেলে এটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ আয়কারী ইকো ট্যুরিজম পণ্য হিসেবে বিকশিত হবে। ফিশারম্যান ফর এ ডে কিংবা মধু সংগ্রহ অভিজ্ঞতা ট্যুরের মতো রোমাঞ্চকর ইকো অ্যাডভেঞ্চারের জন্য আধুনিক পর্যটকেরা চড়া মূল্য দিতে সদা প্রস্তুত থাকেন, যার শতভাগ সরাসরি প্রান্তিক জেলে, মৌয়াল ও গাইডদের ঘরে পৌঁছাবে।
এই ত্রিমাত্রিক রূপান্তরের সবচেয়ে বড় সামাজিক সুফল আসবে যুবসমাজের ব্যাপক কর্মসংস্থান ও মেধা পাচার রোধের মাধ্যমে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিতে থাকা এই উপকূলীয় অঞ্চলের শিক্ষিত ও আধা শিক্ষিত তরুণরা আর শুধুমাত্র গতানুগতিক চাকরির আশায় দিন না গুনে হয়ে উঠবে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ ইকো গাইড, ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর, হোমস্টে ম্যানেজার, ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার এবং সফল পর্যটন উদ্যোক্তা। সাতক্ষীরাকে দেশের প্রথম সম্পূর্ণ প্লাস্টিকমুক্ত পরিকল্পিত ম্যানগ্রোভ হোমস্টে জোন হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব, যা আন্তর্জাতিক পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও আতিথেয়তার মানদ- পূরণ করবে। সারা বছর এই লাভজনক ধারা সচল রাখতে পাখি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র, ইকো ফটোগ্রাফি ক্যাম্প, ম্যানগ্রোভ জীববৈচিত্র্য শিক্ষাসফর এবং বার্ষিক সুন্দরবন উৎসবের মতো উদ্ভাবনী উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে, যা অফ সিজন বা মন্দা মৌসুমেও স্থানীয় অর্থনীতিকে সমভাবে সচল ও চাঙ্গা রাখবে।
তবে এই অপরিসীম অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত সম্ভাবনাকে একটি স্থায়ী ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দিতে হলে একটি সুসংগঠিত প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। জেলা প্রশাসনের দূরদর্শী নেতৃত্বে বন বিভাগ, স্থানীয় সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সাতক্ষীরা কমিউনিটি ট্যুরিজম কাউন্সিল গঠন করা প্রয়োজন। এই কাউন্সিল ডিজিটাল সেন্ট্রালাইজড বুকিং অ্যাপ, পর্যটকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পরিবেশবান্ধব নৌযানের লাইসেন্স প্রদান এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ও জামানতবিহীন সবুজ ঋণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের মূল চালিকাশক্তি তথা দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মতো বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে। পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি কমিউনিটি গাইডেন্স, খাদ্য নিরাপত্তা, ডিজিটাল মার্কেটিং ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে নিয়মিত পেশাদার সার্টিফিকেট কোর্স চালু করে স্থানীয় যুবসমাজকে বিশ্বমানের পেশাজীবী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই মডেলটিতে অর্থনৈতিক লাভ যত বেশি হবে, সুন্দরবনের পরিবেশগত সুরক্ষাও তত বেশি জোরদার হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের চরম ঝুঁকিতে থাকা এই অঞ্চলে রেসপন্সিবল ট্যুরিজম বা দায়িত্বশীল পর্যটন নীতিমালার অধীনে প্রতিটি পর্যটকের মাধ্যমে একটি করে ম্যানগ্রোভ চারা রোপণ, প্লাস্টিক বর্জন এবং স্থানীয় পরিবেশ সংরক্ষণ ও কমিউনিটি ফান্ডে বাধ্যতামূলক প্রতীকী অনুদানের ব্যবস্থা থাকবে। এর ফলে পর্যটকেরা কেবল প্রকৃতির ভোক্তা হবেন না, বরং তারা সুন্দরবন রক্ষার সক্রিয় অর্থায়নকারীতে পরিণত হবেন। স্থানীয় মানুষ যখন বুঝতে পারবেন যে সুন্দরবন অক্ষুণ্ন ও জীবন্ত থাকলে তাদের অর্থনৈতিক আয় এবং সামাজিক মর্যাদা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়, তখন তারা নিজেরাই বন ও বন্যপ্রাণী নিধনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ হিসেবে দাঁড়িয়ে যাবেন। প্রতি বছর সেরা ইকো উদ্যোক্তা, সেরা নারী উদ্যোক্তা ও সেরা পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে সাতক্ষীরা ইকো ট্যুরিজম অ্যাওয়ার্ড প্রদানের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করা যাবে।
পরিশেষে দৃঢ়ভাবে বলা যায়, একবিংশ শতাব্দীর চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ক্ষতিকারক ভারী শিল্পকারখানাই কোনো অঞ্চলের অর্থনৈতিক মুক্তির একমাত্র পথ হতে পারে না। জ্ঞান, সংস্কৃতি, পরিবেশ রক্ষা এবং সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশীদারিত্বের মাধ্যমে গড়ে ওঠা গ্রিন ইকোনমি বা সবুজ অর্থনীতিই পৃথিবীর ভবিষ্যৎ। সাতক্ষীরার প্রকৃত উন্নয়ন ও টেকসই সমৃদ্ধি কোনো পরিবেশ বিধ্বংসী শিল্পায়নে নয়, বরং সুন্দরবনের ছায়ায় গড়ে ওঠা এই মানবিক, সামাজিক ও বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত লাভজনক ইকো ও কমিউনিটি ট্যুরিজমের মধ্যেই নিহিত। এখন প্রয়োজন শুধু রাষ্ট্রীয় দূরদর্শিতা, কার্যকর সরকারি বেসরকারি সমন্বিত বিনিয়োগ এবং দ্রুত বাস্তবায়নের রাজনৈতিক সদিচ্ছা। আজ সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া গেলে আগামী দিনের সাতক্ষীরা শুধু সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা সমগ্র বাংলাদেশের বুকে জলবায়ু সহনশীল টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের এক উজ্জ্বল ও অনুকরণীয় বৈশ্বিক দৃষ্টান্ত হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। লেখক: ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট

 

Ads small one

তৃণমূলের প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে আনতে ‘নতুন কুঁড়ি’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪২ অপরাহ্ণ
তৃণমূলের প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে আনতে ‘নতুন কুঁড়ি’

খুলনা প্রতিনিধি: তৃণমূলে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি জানান, আগামী ৫ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে একযোগে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭’-এর দ্বিতীয় আসর উদ্বোধন করবেন। এ আসরে অংশ নিতে ইতোমধ্যে প্রায় ১৬ লাখ ২৩ হাজার অনলাইন নিবন্ধন হয়েছে। প্রথম আসরে নিবন্ধনের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৬৮ হাজার। নিবন্ধিত খেলোয়াড়দের মধ্য থেকে ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে দল গঠন করা হবে। এতে প্রায় ১৪ লাখ ক্রীড়াবিদ অংশ নেবেন। আগামী বছরের মে বা জুনে প্রতিযোগিতার ফাইনাল রাউন্ড শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রথম আসরে বিজয়ী অনেক খেলোয়াড় বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। তাঁদের প্রশিক্ষণ ও পড়াশোনার দায়িত্ব সরকার বহন করবে। খেলাধুলার প্রসারের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখা এবং সুস্থ সমাজ গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

খুলনা জেলা স্টেডিয়ামকে পূর্ণাঙ্গ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, আগামী জানুয়ারি থেকে নির্ধারিত ক্রীড়া সূচি অনুযায়ী খুলনা জেলা স্টেডিয়াম, বিভাগীয় স্টেডিয়াম ও বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে সারা বছর খেলাধুলা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পরিদর্শনকালে জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খান, খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, জেলা পরিষদের প্রশাসক এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মোল্লা খায়রুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়াম, বিকেএসপির আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। পরে বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলনকক্ষে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসর উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।

কপিলমুনিতে ইয়াবাসহ কিশোর আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
কপিলমুনিতে ইয়াবাসহ কিশোর আটক

কপিলমুনি (পাইকগাছা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছার কপিলমুনিতে ৯ পিস ইয়াবাসহ লিটন মীর (১৬) নামে এক কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাতে কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো. হাসানুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশ নাছিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। লিটন মীর রেজাকপুর গ্রামের হাসান মীরের ছেলে। পরে তাকে পাইকগাছা থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

বল্লী ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিদারুল আলমের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩০ অপরাহ্ণ
বল্লী ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিদারুল আলমের

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ১২ নম্বর বল্লী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক সেনাসদস্য ও ব্যবসায়ী মো. দিদারুল আলম দিদার। তিনি ইউনিয়নের শীবনগর গ্রামের বাসিন্দা।

দিদারুল আলম জানান, নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করতে চান। পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছেন তিনি।

দিদারুল আলমের পিতা আলহাজ রেজাউল করিম সরদার। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তিনি জ্যেষ্ঠ। তিনি কলারোয়া সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর মৎস্য চাষ এবং গবাদিপশু ও মাছের খাদ্যের ব্যবসায় যুক্ত হন। তাঁর সরদার এন্টারপ্রাইজের শাখা রয়েছে লাবসা পলিটেকনিক মোড় ও ঝাউডাঙ্গা বাজারে। এ ছাড়া বিনেরপোতায় তাঁর একটি মৎস্য আড়ৎ রয়েছে।

দিদারুল আলমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিনি এলাকার বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন। তাঁর নিজস্ব অর্থায়নে ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির, ঈদগাহ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সহযোগিতা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে বল্লী ইউনিয়নের ১২টি ওয়ার্ডে গণসংযোগ করছেন দিদারুল আলম। এ সময় তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন এবং নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরছেন।

তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের অংশগ্রহণে ইউনিয়নের সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেবেন।