বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

যেখানে বই-খাতা, সেখানেই ময়লার স্তূপ: অপরিকল্পিত ডাস্টবিনে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে সাতক্ষীরার শিক্ষার্থী!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩৪ অপরাহ্ণ
যেখানে বই-খাতা, সেখানেই ময়লার স্তূপ: অপরিকল্পিত ডাস্টবিনে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে সাতক্ষীরার শিক্ষার্থী!

গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

‎সাতক্ষীরা পৌর শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-এর আশপাশে ডাস্টবিন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কোথাও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথের কাছাকাছি, কোথাও সড়কের পাশে আবার কোথাও ঘনবসতি এলাকার নিকটে ডাস্টবিনে দীর্ঘ সময় বর্জ্য পড়ে থাকায় দুর্গন্ধ, মাছি-মশা ও ছড়িয়ে পড়া ময়লার কারণে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও সাধারণ পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ডাস্টবিন থাকা নিজেই সমস্যা নয়, বরং সমস্যা হচ্ছে ডাস্টবিনের অবস্থান, ধারণক্ষমতা, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা।

 

সময়মতো বর্জ্য অপসারণ না হলে ডাস্টবিন উপচে সড়ক ও আশপাশে ময়লা ছড়িয়ে পড়ে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়। সাতক্ষীরা শহরের বাটকেখালী এলাকায় মিশন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের সড়কে ডাস্টবিনে দীর্ঘদিন বর্জ্য পড়ে থাকার বিষয়টি চলতি বছরের জুলাইয়ে সংবাদে উঠে আসে।

 

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ডাস্টবিনে প্রায় এক সপ্তাহ বর্জ্য অপসারণ না করায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়েন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও দুর্গন্ধের কারণে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে সমস্যা হওয়ার কথা জানান। পরে সাতক্ষীরা পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত বর্জ্য অপসারণের কথা জানিয়েছিলেন। এ ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয়, শুধু ডাস্টবিন স্থাপন করলেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন হয় না, নিয়মিত অপসারণ ও যথাযথ স্থান নির্বাচনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শহরের ডে-নাইট কলেজ মোড় একটি ব্যস্ত এলাকা। এখানে সাতক্ষীরা দিবা-নৈশ কলেজ সাতক্ষীরা ল কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের চলাচল রয়েছে।

 

‎এ ধরনের ব্যস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংলগ্ন শহরের ব্যস্ততম এলাকা প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই এলাকা দিয়ে চলাচল করে এইখানে ডাস্টবিনের অবস্থা এতটা বেহাল দশা যে রাস্তা দিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায় ডাস্টবিন বর্জ্য জমে থাকায় দুর্গন্ধ ও অপরিচ্ছন্নতা দ্রুত পথচারী ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের কারণ হয়ে উঠছে। শহরের নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ও সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজসংলগ্ন এলাকাও শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চলাচলপথ। এসব এলাকার আশপাশে বর্জ্য জমে থাকলে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছেস। বিশেষ করে মেয়েদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক স্থাপনার আশপাশে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

ডাস্টবিন থাকলেও সেটি যেন উপচে সড়কে বর্জ্য ছড়ানোর কারণ না হয়, সে বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। মহিলা কলেজের ছাত্রীনিবাসের পাশের বিষয়টি গুরুত্বের দাবি রাখে
‎সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রীনিবাসের আশপাশে বর্জ্য জমে থাকার অভিযোগও স্থানীয়ভাবে আলোচিত। আবাসিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তাদের দিনের একটি বড় সময় ওই পরিবেশেই কাটে।

‎পাশাপাশি এই ডাস্টবি থেকে নবড়ন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান শ্রেণিকক্ষে দুর্গন্ধ এবং অস্বস্তিকার গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। বর্জ্য দীর্ঘ সময় পড়ে থাকয় দুর্গন্ধের পাশাপাশি মাছি, মশা ও অন্যান্য পোকামাকড়ের উপস্থিতি বাড়ে। ডাস্টবিনের ধারণক্ষমতা অতিক্রম করলে বর্জ্য বাইরে পড়ে যায়। এরপর পথচারী ও যানবাহনের চাকার সঙ্গে ময়লা ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকায়। বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।

‎শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় অগ্রাধিকার দেওয়া। প্রথমত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রবেশপথ, শ্রেণিকক্ষ ও ছাত্রছাত্রীদের আবাসিক ভবনের একেবারে পাশে ডাস্টবিন স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা পুনর্বিবেচনা করা। দ্বিতীয়ত, যেসব ডাস্টবিন রাখা অপরিহার্য, সেগুলো ঢাকনাযুক্ত ও পর্যাপ্ত ধারণক্ষমতার করা।

‎তৃতীয়ত, প্রতিটি ডাস্টবিন থেকে নিয়মিত ও নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করা।
‎চতুর্থত, ডাস্টবিন উপচে পড়লে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কার্যকর নজরদারি রাখা। পঞ্চমত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বাজার ও আবাসিক এলাকার জন্য আলাদা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা করা।

‎ষষ্ঠত, পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য আলাদা করার বিষয়ে নাগরিকদের সচেতন করা।
‎সাতক্ষীরা শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে ডাস্টবিন প্রয়োজন। কিন্তু ডাস্টবিন কোথায় থাকবে, কতক্ষণ সেখানে বর্জ্য থাকবে এবং কীভাবে তা অপসারণ করা হবে এসব প্রশ্নের উত্তরও একই সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে বর্জ্য জমে থাকলে বিষয়টি শুধু পরিবেশের নয়, শিক্ষা পরিবেশেরও সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।

 

তাই সাতক্ষীরা পৌর কর্তৃপক্ষের চলমান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংলগ্ন এলাকাগুলোর জন্য বিশেষ নজরদারি ও দ্রুত বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে নাগরিকদের সচেতনতার পাশাপাশি পৌর কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা জরুরি। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়, স্বাস্থ্যসম্মত ও বাসযোগ্য শহর গড়ার সামগ্রিক দায়িত্ব।

লেখক: গবেষক ও উদ্যোক্তা

Ads small one

আইনমন্ত্রীর আশ্বাসের পর দ্রুত পদায়ন: প্রায় এক বছর পর বিচারক পেল সাতক্ষীরা নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ
আইনমন্ত্রীর আশ্বাসের পর দ্রুত পদায়ন: প্রায় এক বছর পর বিচারক পেল সাতক্ষীরা নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল

কর্মজীবনের শুরুতেই সাতক্ষীরায় ছিলেন নবনিযুক্ত বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন
বদিউজ্জামান: দীর্ঘ প্রায় এক বছর বিচারকশূন্য থাকার পর অবশেষে বিচারক পেল সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেনকে সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর আইন ও বিচার বিভাগের প্রজ্ঞাপনে এ পদায়নের কথা জানানো হয়।

সাতক্ষীরার বিচারাঙ্গনের জন্য এ নিয়োগের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। কারণ, বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেনের বিচার বিভাগীয় কর্মজীবনের শুরুই হয়েছিল সাতক্ষীরা থেকে। ২০০৬ সালের ১৫ মার্চ সহকারী জজ হিসেবে বিচার বিভাগে যোগ দিয়ে তিনি সাতক্ষীরায় দায়িত্ব পালন করেন। পরের বছর ২৪ নভেম্বর ২০০৭ সালে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবেও সাতক্ষীরায় দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবনের শুরুর সেই সাতক্ষীরাতেই দীর্ঘ দুই দশক পর এবার তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে ফিরছেন।

প্রায় এক বছর ধরে বিচারক না থাকায় সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। বর্তমানে এ আদালতে প্রায় পাঁচ হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার পাশাপাশি আদালতটি শিশু আদালত ও মানব পাচারসংক্রান্ত মামলার দায়িত্বও পালন করে। বিচারক না থাকায় এসব মামলার কার্যক্রমেও দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়।

বিচারক নিয়োগের দাবিতে বিভিন্ন মহল থেকেও ধারাবাহিকভাবে উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত ৩০ আগস্ট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালসহ বিচারকশূন্য আদালতগুলোতে দ্রুত বিচারক নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ডিস্ট্রিক্ট হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার নেটওয়ার্ক, সাতক্ষীরার উদ্যোগে এবং মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ওই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে বিচারক নিয়োগের দাবিতে সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছেও লিখিত আবেদন করা হয়েছিল। গত ২৩ আগস্ট করা ওই আবেদনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দ্রুত একজন বিচারক পদায়নের দাবি জানানো হয়।

এরপর গত ১৩ সেপ্টেম্বর আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সাতক্ষীরা সফরে এসে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় সাতক্ষীরার বিচার বিভাগের বিভিন্ন সংকটের পাশাপাশি দীর্ঘদিন বিচারকশূন্য নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। মতবিনিময় শেষে আইনমন্ত্রী সাতক্ষীরার বিচার বিভাগের সংকট নিরসনে কার্যকর ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

আইনমন্ত্রীর ওই আশ্বাসের মাত্র চার দিনের মধ্যেই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আরো একজন বিচারক পদায়নের প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ায় সাতক্ষীরার বিচারাঙ্গনে স্বস্তি ফিরেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিনের দাবির পর নতুন বিচারক নিয়োগ হওয়ায় এখন নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার পথ সুগম হলো। তবে আরো নয়জন বিচারকের পথ শূন্য থাকায় অতি দ্রুত সেসব পদে বিচারক পদানের দাবি রয়েছে আইনজীবীদের।

নবনিযুক্ত বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন ১৫ মার্চ ২০০৬ সালে সহকারী জজ হিসেবে বিচার বিভাগীয় চাকরিতে যোগ দেন। এরপর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সহকারী জজ ও সিনিয়র সহকারী জজসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে যুগ্ম জেলা জজ হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। সর্বশেষ তিনি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর ওই পদে দায়িত্ব পালনের তথ্যও সাম্প্রতিক সংবাদ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়।

দীর্ঘদিন পর সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারক নিয়োগ হওয়ায় বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নবনিযুক্ত বিচারক দ্রুত দায়িত্ব গ্রহণ করে নিয়মিত বিচার কার্যক্রম শুরু করলে প্রায় পাঁচ হাজার বিচারাধীন মামলার জট ধীরে ধীরে কমবে এবং দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা নারী, শিশু ও অন্যান্য বিচারপ্রার্থীরা বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন আশার আলো দেখবেন।

মধ্যম রমজাননগর প্রাইমারি স্কুলে ইউপি সদস্য আসমা সভাপতি নির্বাচিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ
মধ্যম রমজাননগর প্রাইমারি স্কুলে ইউপি সদস্য আসমা সভাপতি নির্বাচিত

রমজাননগর (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের ১৪৩ নম্বর মধ্যম রমজাননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনে ইউপি সদস্য মোছা. আসমা খাতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।
১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতি পদে মোছা. আসমা খাতুন ও মোছা. ঝিলিক খাতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ১২ জন ভোটারের মধ্যে ১১ জন উপস্থিত থেকে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। গণনায় আসমা খাতুন ৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন; তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঝিলিক খাতুন পান ৫ ভোট। মাধ্যমিক শিক্ষক মান্নান হোসেনের সভাপতিত্বে নির্বাচন পরিচালনা করেন সহকারী শিক্ষক মান্নান হোসেন। এ সময় বিদ্যালয়ের ভূমিদাতা সদস্য মনোদ্বীপ কুমার ম-ল, প্রধান শিক্ষক শ্যামল চন্দ্র ম-ল, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক তপন কুমার বর্মন, সমাজসেবক মো. মুকুল হোসেন, মো. আবদুল মজিদ, মো. ইয়াসিন হোসেন, বিদ্যুৎসাহী ও অভিভাবক সদস্য রমেশ সরকার, মনিরুল ইসলাম, জেসমিন নাহার, প্রেমদাসসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহকারী শিক্ষক মিলন হোসেন।

কলারোয়ায় শাকদাহ বালিকা বিদ্যালয়ে নবগঠিত এডহক কমিটির সংবর্ধনা ও অভিভাবক সমাবেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ
কলারোয়ায় শাকদাহ বালিকা বিদ্যালয়ে নবগঠিত এডহক কমিটির সংবর্ধনা ও অভিভাবক সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলারোয়া উপজেলার শাকদাহ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের আয়োজনে নবগঠিত এডহক কমিটির সংবর্ধনা ও সুধী-অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধান শিক্ষক মো. ইসরাইল হোসেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নবগঠিত এডহক কমিটির সভাপতি ও ঢাকা ফাইনা গ্রুপ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল ইসলাম (জয়তু)। এতে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ১০ নম্বর কুশোডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আসাদুজ্জামান।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল ওহাব, কুশোডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আনিছুর রহমান, বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য মাস্টার মাহমুদুল হক ও মো. শামছুর রহমান খান এবং কুশোডাঙ্গা দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক কাজী রাশেদ জামিল মিলন। এ ছাড়া যুবনেতা ইমাম হোসেন খান, কুশোডাঙ্গা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সজীব হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব কামরুজ্জামান লালটু, বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন, চিকিৎসক গোলাম মোস্তফা, বিএনপি নেতা ফারুক হোসেন ও আবুল কালাম উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে বক্তারা বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। আলোচনা শেষে নবগঠিত এডহক কমিটির সদস্যদের ফুল দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শহিদুল ইসলাম।