যেখানে বই-খাতা, সেখানেই ময়লার স্তূপ: অপরিকল্পিত ডাস্টবিনে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে সাতক্ষীরার শিক্ষার্থী!
গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ
সাতক্ষীরা পৌর শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-এর আশপাশে ডাস্টবিন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কোথাও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথের কাছাকাছি, কোথাও সড়কের পাশে আবার কোথাও ঘনবসতি এলাকার নিকটে ডাস্টবিনে দীর্ঘ সময় বর্জ্য পড়ে থাকায় দুর্গন্ধ, মাছি-মশা ও ছড়িয়ে পড়া ময়লার কারণে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও সাধারণ পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ডাস্টবিন থাকা নিজেই সমস্যা নয়, বরং সমস্যা হচ্ছে ডাস্টবিনের অবস্থান, ধারণক্ষমতা, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা।
সময়মতো বর্জ্য অপসারণ না হলে ডাস্টবিন উপচে সড়ক ও আশপাশে ময়লা ছড়িয়ে পড়ে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়। সাতক্ষীরা শহরের বাটকেখালী এলাকায় মিশন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের সড়কে ডাস্টবিনে দীর্ঘদিন বর্জ্য পড়ে থাকার বিষয়টি চলতি বছরের জুলাইয়ে সংবাদে উঠে আসে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ডাস্টবিনে প্রায় এক সপ্তাহ বর্জ্য অপসারণ না করায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়েন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও দুর্গন্ধের কারণে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে সমস্যা হওয়ার কথা জানান। পরে সাতক্ষীরা পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত বর্জ্য অপসারণের কথা জানিয়েছিলেন। এ ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয়, শুধু ডাস্টবিন স্থাপন করলেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন হয় না, নিয়মিত অপসারণ ও যথাযথ স্থান নির্বাচনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শহরের ডে-নাইট কলেজ মোড় একটি ব্যস্ত এলাকা। এখানে সাতক্ষীরা দিবা-নৈশ কলেজ সাতক্ষীরা ল কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের চলাচল রয়েছে।
এ ধরনের ব্যস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংলগ্ন শহরের ব্যস্ততম এলাকা প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই এলাকা দিয়ে চলাচল করে এইখানে ডাস্টবিনের অবস্থা এতটা বেহাল দশা যে রাস্তা দিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায় ডাস্টবিন বর্জ্য জমে থাকায় দুর্গন্ধ ও অপরিচ্ছন্নতা দ্রুত পথচারী ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের কারণ হয়ে উঠছে। শহরের নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ও সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজসংলগ্ন এলাকাও শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চলাচলপথ। এসব এলাকার আশপাশে বর্জ্য জমে থাকলে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছেস। বিশেষ করে মেয়েদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক স্থাপনার আশপাশে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ডাস্টবিন থাকলেও সেটি যেন উপচে সড়কে বর্জ্য ছড়ানোর কারণ না হয়, সে বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। মহিলা কলেজের ছাত্রীনিবাসের পাশের বিষয়টি গুরুত্বের দাবি রাখে
সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রীনিবাসের আশপাশে বর্জ্য জমে থাকার অভিযোগও স্থানীয়ভাবে আলোচিত। আবাসিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তাদের দিনের একটি বড় সময় ওই পরিবেশেই কাটে।
পাশাপাশি এই ডাস্টবি থেকে নবড়ন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান শ্রেণিকক্ষে দুর্গন্ধ এবং অস্বস্তিকার গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। বর্জ্য দীর্ঘ সময় পড়ে থাকয় দুর্গন্ধের পাশাপাশি মাছি, মশা ও অন্যান্য পোকামাকড়ের উপস্থিতি বাড়ে। ডাস্টবিনের ধারণক্ষমতা অতিক্রম করলে বর্জ্য বাইরে পড়ে যায়। এরপর পথচারী ও যানবাহনের চাকার সঙ্গে ময়লা ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকায়। বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় অগ্রাধিকার দেওয়া। প্রথমত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রবেশপথ, শ্রেণিকক্ষ ও ছাত্রছাত্রীদের আবাসিক ভবনের একেবারে পাশে ডাস্টবিন স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা পুনর্বিবেচনা করা। দ্বিতীয়ত, যেসব ডাস্টবিন রাখা অপরিহার্য, সেগুলো ঢাকনাযুক্ত ও পর্যাপ্ত ধারণক্ষমতার করা।
তৃতীয়ত, প্রতিটি ডাস্টবিন থেকে নিয়মিত ও নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করা।
চতুর্থত, ডাস্টবিন উপচে পড়লে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কার্যকর নজরদারি রাখা। পঞ্চমত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বাজার ও আবাসিক এলাকার জন্য আলাদা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা করা।
ষষ্ঠত, পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য আলাদা করার বিষয়ে নাগরিকদের সচেতন করা।
সাতক্ষীরা শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে ডাস্টবিন প্রয়োজন। কিন্তু ডাস্টবিন কোথায় থাকবে, কতক্ষণ সেখানে বর্জ্য থাকবে এবং কীভাবে তা অপসারণ করা হবে এসব প্রশ্নের উত্তরও একই সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে বর্জ্য জমে থাকলে বিষয়টি শুধু পরিবেশের নয়, শিক্ষা পরিবেশেরও সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।
তাই সাতক্ষীরা পৌর কর্তৃপক্ষের চলমান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংলগ্ন এলাকাগুলোর জন্য বিশেষ নজরদারি ও দ্রুত বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে নাগরিকদের সচেতনতার পাশাপাশি পৌর কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা জরুরি। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়, স্বাস্থ্যসম্মত ও বাসযোগ্য শহর গড়ার সামগ্রিক দায়িত্ব।
লেখক: গবেষক ও উদ্যোক্তা











