রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা প্রয়োজন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা প্রয়োজন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিশ্ব সম্প্রদায় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর জোরালো সহযোগিতার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত ও টেকসই রাজনৈতিক সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুটি যেন জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক রাডারে সর্বদা সক্রিয় থাকে এবং অন্য কোনও বৈশ্বিক রাজনৈতিক সংঘাত বা সংকটের আড়ালে চাপা পড়ে না যায়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যৌথ প্রচেষ্টা ও কার্যকর কূটনীতির মাধ্যমে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারে দ্রুত মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কোঅপারেশন ফাউন্ডেশন (আইজিসিএফ) কর্তৃক আয়োজিত ‘দ্য রোহিঙ্গা ক্রাইসিস: ইমার্জিং চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড রিফ্রেমিং রেসপনসিবিলিটিজ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে বক্তব্য রাখেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রশাসনিক সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব রাজনীতির নেতৃস্থানীয় দেশ এবং জাতিসংঘের প্রত্যক্ষ সহায়তায় এ সংকটের স্থায়ী ও টেকসই সমাধান করা সম্ভব। তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থাসহ (ইউএনএইচসিআর) সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য একটাই— আশ্রিত প্রায় ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন (ইউএনএইচসিআর’র হিসাবে ১ দশমিক ২ মিলিয়ন) বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিককে (এফডিএমএন) যেন আমরা পূর্ণ মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে পারি। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহায়তা ও নেতৃস্থানীয় দেশগুলোর রাজনৈতিক ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি।

সংকটের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রায় ৯ বছর ধরে বাংলাদেশ মানবিক বিবেচনায় ১ দশমিক ৫ মিলিয়নেরও বেশি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয়, খাদ্য, জমি, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় জীবনধারণের মৌলিক নিরাপত্তা দিয়ে আসছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্যাম্পগুলোতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান, মানবপাচার, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

ক্যাম্প সংলগ্ন স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা ও পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এবং স্থানীয় নাগরিক উভয়ের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্যাম্পের চারপাশে সীমান্ত বেড়া (ফেন্সিং) ও সুনিয়ন্ত্রিত যাতায়াত ব্যবস্থার মতো প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পদক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার প্রতি স্মরণ করিয়ে মন্ত্রী বলেন, ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সফল নেতৃত্বে এবং ১৯৯২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী কূটনৈতিক উদ্যোগে বাংলাদেশ সফলভাবে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করেছিল। অতীতের সেই সফল অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুযোগ্য ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বর্তমান সরকার আবারও শতভাগ সফল প্রত্যাবাসন বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে ইতোমধ্যে ‘ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি ফর্মুলেশন কমিটি অন রোহিঙ্গা অ্যাফেয়ার্স’ গঠিত হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক সমন্বয়ের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে অপর একটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটি সক্রিয় রয়েছে।

তিনি বলেন, বেসামরিক প্রশাসন, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে সরকার একটি সর্বাত্মক ‘হোল-অব-গভর্নমেন্ট’ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, সুনির্দিষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা ছাড়া অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রদত্ত মানবিক সহায়তা দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক সমাধানের তাগিদকে কমিয়ে দিতে পারে। তাই জরুরি ত্রাণ সহায়তার গণ্ডি পেরিয়ে আমাদের দ্রুত একটি ‘ট্রানজিশনাল স্ট্র্যাটেজি’ বা রূপান্তরকালীন কৌশলে যেতে হবে, যার মূল লক্ষ্য হবে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপদ ও ফিরে যাওয়ার উপযোগী উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা।

সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, টেকসই আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ, জাতীয় ঐক্য ও শক্তিশালী নিরাপত্তা কাঠামোর সমন্বয়ে বাংলাদেশ দ্রুতই রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমিতে মর্যাদাপূর্ণ ও স্থায়ী প্রত্যাবাসনে সক্ষম হবে।

আইজিসিএফ’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী আদনান রহমানের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে গোলটেবিল আলোচনাটি শুরু হয়। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. বুলবুল সিদ্দিকী।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফয়সল হাসান জানান, গোলটেবিল আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধি আইভো ফ্রেইসেন, বিআইআইএসএস’র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রিদওয়ানুর রহমান, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের শরণার্থী সেলের প্রধান ও যুগ্মসচিব মোহাম্মদ নাজমুল আবেদীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘাত অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. নিলয় রঞ্জন বিশ্বাস, আইইউবি-র অধ্যাপক ড. কাজী মাহমুদুল রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নুরুল হুদা সাকিব এবং ইউল্যাবের সহকারী অধ্যাপক অবন্তী হারুন, অ্যাকশন-এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির এবং দৈনিক প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি রাহীদ এজাজ প্রমুখ।

Ads small one

সাতক্ষীরার আবাদেরহাটে জমি দখল-পাল্টা দখলের প্রতিযোগিতা, থানায় অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার আবাদেরহাটে জমি দখল-পাল্টা দখলের প্রতিযোগিতা, থানায় অভিযোগ

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা সদরের আবাদেরহাট বাজারের পাশে ১৭ শতক জমি দখল ও পাল্টা দখল নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। রবিবার ভোর তিনটার দিকে সদ্য দখলে নেওয়া জমিতে নির্মাণাধীন বেড়া ও ঘর ভাংচুর করাসহ আমেনা খাতুন দম্পতিকে মারপিটের ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা সদরের বাঁশদহ গ্রামের আব্দুল হামিদের স্ত্রী আমেনা খাতুন জানান, তার বাবা আবাদেরহাটের ইসমাইল হোসেন পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ৫৮ শতক জমি মা রউফুৃন্নেছার নামে লিখে দেন। বর্তমানে তার মা রউফুন্নেছার নামে হাল ৩৫ দাগে ১৭ শতক জমি রয়েছে। ওই জমি নামজারি করে নিয়মিত খাজনা দিয়ে যাচ্ছেন তারা। ওই জমির বড় অংশ জালজালিয়াতির মাধ্যমে কাগজপত্র তৈরি করে শিয়ালডাঙা গ্রামের শওকত হোসেন, তার ভাই মাহাবুর রহমান পটল, শাজাহান আলী, কওছার আলী, মুজিবর রহমান, মাহাবুবর রহমানের স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা তার মায়ের জমি জবরদখল করার চেষ্টা চালিয়ে আসছিলো।

 

একপর্যায়ে ফারাজি অংশে ঘর ও দোকান বানিয়ে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলে ছিলেন। ২০১৩ সালের শেষের দিকে দলীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে শওকত হোসেন, মাহাবুবর রহমন, রাজিয়া সুলতানা দলীয় ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে তার মা রউফুন্নেছাকে বাড়ি থেকে বের করে চুল দিয়ে গাছের ডালে বেঁধে নির্যাতন করে দোকান ও বাড়ি ভাংচুর করে জমি দখলে নেন। এ ঘটনায় তিনি মামলা করতে সাহস পাননি।

আমেনা খাতুন আরো জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট সরকার পতনের পর তিনি তার তিনটি দোকানঘরসহ জমি দখলে নেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে কয়েকবার শালিসি সভা বসে। মাহাবুবর রহমান ও তার ভাইয়েরা কাগজপত্র দেখানোর জন্য সময় নিয়ে আর আসেন না।

 

সর্বশেষ তারা(আমেনা) ওই জমি মাপ জরিপ করে মাহাবুবর রহমান ও তার শরীকদের চলাচলের জন্য রাস্তা ছেড়ে দিয়ে জমিতে সিমেন্টের পিলার দিয়ে বেড়া দেন। গত ২ সেপ্টেম্বর ওই ঘেরা ও বেড়া ভেঙে দেয় মাহাবুবর রহমান ও তার লোকজন। পরবর্তীতে শনিবার তারা আবারো ঘেরা-বেড়া দিয়ে টিনের চাল নির্মাণ করে বসবাস করা শুরু করলে রবিবার ভোর তিনটার দিকে মাহাবুবর ও তাদের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা ওই ঘর ও বেড়া ভেঙে দেন। ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় তাদের দোকান। লুটপাট করা হয় দোকানের মালামাল। ভাংচুর ও লুটপাটে বাধা দেওয়ায় তাকে (আমেনা) ও স্বামী আব্দুল হামিদকে পিটিয়ে জখম করে। স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

এ ব্যাপারে মুজিবর রহমান জানান, বিহারীপুর মৌজায় ইসমাইল হোসেন ও তার ভাই ইসহাক যাদের কাছে জমি বিক্রি করেছেন তাদের কাছ থেকে ২০০৯ সালে তিনটি দলিল মূলে এবং ২০১৪ সালে ও ২০২০ সালে দুটি দলিল মূলে তারা হাল ৩৫. ৩৬ ও ৩০৫ দাগে প্রায় ৫৮ শতক জমি কিনেছেন। বর্তমানে রউফউন্নেছার নামে ১৭ শতক জমি বর্তমান মাপে রেকর্ড হলেও তিনি তার বড় জামাতা মনিরুলের সঙ্গে তালাক হওয়া বড় মেয়ের নতুন করে বিয়ে দিতে কাছে সোয়া আট শতক জমি দিয়েছেন।

 

পরবর্তীতে ওই জমি ফেরৎ নিতে আদালতে মামলা করলে রায় রউফউন্নেছার বিপক্ষে যায়। বর্তমানে রফিউন্নেছার পৌনে চার শতক জমি থাকলেও তিনি একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীদের ব্যবহার করে রেকর্ড অনুযায়ি ১৭ শতক জমি জবরদখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন। তারা(মুজিবর) জবরদখলকে প্রতিহত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। ইতিমধ্যে তারা রেকর্ড সংশোধনের জন্য দেওয়ানী মামলা করেছেন আদালতে।

তবে মুজিবর রহমানের কাছে শনিবার বিকেলে তাদের জমির সমর্থনে দলিল ও নামজারি সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখতে চাইলে রবিবার দেখাবার কথা বলে চলে যান। পরে তারা আর যোগাযোগ করেননি।

সরেজমিনে শনিবার ও রবিবার সকালে আবাদেরহাট এলাকায় যেয়ে দেখা গেছে দখল ও পাল্টা দখলকে ঘিরে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মাহামুদুর রহমান জানান, রবিবার ভোরে বাড়ি, বেড়া ও দোকানঘর ভাংচুরের অভিযোগে বাঁশদহা গ্রামের আব্দুল হামিদের স্ত্রী আমেনা খাতুন বাদি হয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেবহাটা ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজার ও স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা প্রচারাভিযান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০০ অপরাহ্ণ
দেবহাটা ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজার ও স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা প্রচারাভিযান

Oplus_131072

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার দেবহাটা সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রচারাভিযান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় দেবহাটা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বর থেকে এ প্রচারাভিযানের উদ্বোধন করা হয়। দেবহাটা সদর ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজনে এবং সুশীলন ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সহযোগিতায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বকুল, দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি আর.কে. বাপ্পা, সাংগঠনিক সম্পাদক কে.এম. রেজাউল করিম, ইউপি সদস্য আজগার আলী, ইউপি সদস্যা রেহেনা পারভিন, সুশীলনের কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার মিজানুর রহমান, গ্রাম কমিটির সভাপতি ফিরোজ হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

পরে ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণ, টাউনশ্রীপুর বাজারসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে প্রচারাভিযান পরিচালনা করা হয়।

এসময় আয়োজকরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখতে জনসাধারণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি বাজার ও জনসমাগমস্থলে ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা এবং নিজ নিজ এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

নগরঘাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের প্রাচীর নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
নগরঘাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের প্রাচীর নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

মো. জাবের হোসেন: সাতক্ষীরার তালা উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের প্রাচীর নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক পরিবেশ উন্নয়নের কথা বলে এই প্রকল্পে ২৪ লক্ষাধিক টাকার প্রাক্কলন তৈরি করা হলেও কাজের মান ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এই কাজের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪ লাখ ৭০ হাজার ৮৯৬ টাকা।

প্রদত্ত তথ্যাবলী ও প্রকল্পের বিবরণ থেকে জানা যায়, নগরঘাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ দিন ধরে পর্যাপ্ত সীমানা প্রাচীর না থাকায় অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। অফিসটির চারপাশ উন্মুক্ত থাকায় নানা ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি লেগেই থাকে। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য সীমানা প্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়, যাতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সুষ্ঠু পরিবেশে সেবা প্রদান করতে পারেন।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন কাজ করছেন। স্থানীয় প্রভাষক মেজর মো. এছাহক আলী জানান, নগরঘাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সীমানা প্রাচীরের যে কাজ ঠিকাদার করছেন, তাতে ব্যাপক অনিয়ম চলছে। শুক্রবারে তারা এক দফায় অনিয়মের জন্য কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, ঢালাইয়ে যে বালু ব্যবহার করা হচ্ছে সেটি একেবারে নিম্নমানের। প্রাচীরের পাকা কলাম বা পিলার ঢালাই দেওয়ার পরপরই ১২ ঘণ্টার মধ্যে কাঠের ফ্রেম বা বক্স খুলে ফেলা হচ্ছে, তাতে আবার পানি ধরে রাখার জন্য কোনো পাটের বস্তাও ব্যবহার করা হচ্ছে না। এছাড়া অনেক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, তারা গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করেন, যাতে সাধারণ মানুষ তা দেখতে না পায়।

এদিকে এসব প্রশ্নের জবাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাব-কন্টাক্টর মাসুম বিল্লাহ বলেন, “আমার এখানে কোনো স্বার্থ নেই। ঠিকাদার মনিরুল সাহেব যেভাবে কাজ করতে বলছেন, আমি সেভাবে কাজ করছি।” কেন তারা একদিনে সব কলাম ঢালাই দেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং কেন ছালার চট দেওয়া হচ্ছে না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা ঢালাই মেশিনটা ভাড়া করে এনেছি বলে একদিনে ঢালাই করার চেষ্টা করছিলাম। আর ছালার চট ঠিকাদার দিতে দিচ্ছেন না।”
অন্যদিকে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজের কাজ দেখভালের দায়িত্বে থাকা মো. এজাজ রহমান বলেন, আর কোন অনিয়ম হবে না।

সাংবাদিক দেখে তারা প্রাচীর ঢালাই পাঁকা পিলারে চটের বস্তা দেয়া কাজ শুরু করেন শনিবার সকালে। যদিও তার কয়েকদিন আগে পিলারগুলো ঢালাই দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক, তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার, তালা সহকারী কমিশনার (ভূমি), তালা উপজেলা প্রকৌশলী অফিসসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট স্থানীয় সচেতন মহল সঠিকভাবে যাতে কাজটি হয় সে ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।