সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩

রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবস: এক জাতির বেদনা, মানবতার পরীক্ষা ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ণ
রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবস: এক জাতির বেদনা, মানবতার পরীক্ষা ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা

সাকিবুর রহমান বাবলা

২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য শুধুমাত্র একটি স্মরণীয় তারিখ নয়; এটি তাদের অস্তিত্বের সংগ্রাম, হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের স্মৃতি, জন্মভূমি থেকে উচ্ছেদের বেদনা এবং ন্যায়বিচারের প্রত্যাশার প্রতীক। ২০১৭ সালের এই দিনে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে যে ভয়াবহ সহিংসতা শুরু হয়েছিল, তা বিশ্ব ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ মানবিক বিপর্যয় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সেই ঘটনার স্মরণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা প্রতি বছর ২৫ আগস্টকে ‘রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে। একটি দিন, একটি জাতির কান্না।

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের শরণার্থী শিবিরগুলোতেও রোহিঙ্গারা দিনটিকে শোক, স্মৃতি ও ন্যায়বিচারের দাবির দিন হিসেবে পালন করে। তাদের কাছে এটি শুধু অতীতের স্মৃতি নয়, বরং ভবিষ্যতের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামেরও প্রতীক।

রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের শত শত বছর ধরে বসবাসকারী একটি মুসলিম জাতিগত জনগোষ্ঠী হলেও দেশটির সরকার কখনোই তাদের স্বীকৃত জাতিগোষ্ঠী হিসেবে মেনে নেয়নি। পারিবারিক বন্ধন, ধর্মীয় মূল্যবোধ, অতিথিপরায়ণতা এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক সহমর্মিতা রোহিঙ্গা সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। কৃষিকাজ, মাছ ধরা, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং স্থানীয় বাণিজ্য ছিল তাদের প্রধান জীবিকা। নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য থাকা সত্ত্বেও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রাজনৈতিক বৈষম্য ও রাষ্ট্রীয় বঞ্চনার শিকার হয়ে তারা আজ নিজেদের দেশেই পরবাসীতে পরিণত হয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকটের শিকড় অনেক গভীরে প্রোথিত। ১৭৮৫ সালে আরাকান বার্মার শাসনের অধীনে চলে যাওয়ার পর থেকেই ওই অঞ্চলে রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের সময় বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর আগমন এবং পরবর্তী জাতীয়তাবাদী রাজনীতির কারণে রাখাইনে জাতিগত বিভাজন বৃদ্ধি পায়।

১৯৪৮ সালে মিয়ানমার স্বাধীনতা লাভের পর রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়। ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন পরিস্থিতিকে সবচেয়ে জটিল করে তোলে। এই আইনে রোহিঙ্গাদের স্বীকৃত জাতিগোষ্ঠীর তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়, ফলে তারা রাষ্ট্রহীন জনগোষ্ঠীতে পরিণত হয়।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার যে অধ্যায় শুরু হয়, তা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অভিযানে শত শত গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ হাজার হাজার মানুষ নিহত হন। অসংখ্য নারী ও কিশোরী যৌন সহিংসতার শিকার হন। ঘরবাড়ি, মসজিদ, বিদ্যালয়, বাজার এবং জীবিকার উৎস ধ্বংস হয়ে যায়। প্রাণ বাঁচাতে লাখ লাখ মানুষ জঙ্গল, পাহাড়, নদী ও সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে, যা আধুনিক বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও দ্রুততম গণপালায়নের ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়।

সীমিত সম্পদ ও জনসংখ্যার চাপ সত্ত্বেও বাংলাদেশ মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে এবং কক্সবাজারের শিবিরগুলোতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। এই জনসংখ্যার চাপ কমাতে সরকার অনেক রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তর করেছে এবং ইউএনএইচসিআর, ইউনিসেফসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা শরণার্থীদের দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ও সেবা প্রদানে ভূমিকা রাখছে।

জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা মিয়ানমারে সংঘটিত ঘটনাকে গণহত্যার অভিযোগ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে মামলা চলমান রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত করছে। এছাড়া জাতিসংঘের তদন্তকারী সংস্থাসমূহ প্রমাণ সংগ্রহ ও অপরাধীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের এই ন্যায়বিচার ও অধিকার আদায়ের দাবিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গাম্বিয়া, বাংলাদেশ, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক ও মালদ্বীপসহ বিভিন্ন দেশ জোরালোভাবে সমর্থন জুগিয়ে চলেছে।

মানবাধিকারের মৌলিক নীতিমালা অনুযায়ী প্রত্যেক মানুষের নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনের অধিকার রয়েছে। কিন্তু রোহিঙ্গারা দীর্ঘদিন ধরে এসব অধিকার থেকে বঞ্চিত। রাষ্ট্রহীনতার কারণে তারা আইনি সুরক্ষা পায় না, ভূমির মালিকানা দাবি করতে পারে না, স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারে না এবং বহু ক্ষেত্রে মৌলিক সেবাও গ্রহণ করতে পারে না। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন, শরণার্থী আইন এবং মানবিক নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই রোহিঙ্গা সংকট শুধু একটি শরণার্থী সমস্যা নয়; এটি মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক আইন এবং বৈশ্বিক ন্যায়বিচারের প্রশ্ন।

বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলোতে মানবেতর জীবনযাপন করা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নারী ও শিশুরা সীমিত শিক্ষা, কর্মসংস্থানের অভাব, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং স্বাস্থ্যঝুঁকির মতো তীব্র দৈনন্দিন সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। এর পাশাপাশি, ঐতিহাসিক গণহত্যা ও নৃশংসতার কারণে সৃষ্ট সামাজিক, মনস্তাত্ত্বিক ও পারিবারিক দূর্যোগ এই পুরো প্রজন্মকে এক গভীর অনিশ্চয়তা ও হতাশার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান কেবল ত্রাণ ও মানবিক সহায়তার মাধ্যমে সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন—রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব পুনর্বহাল; নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন; মানবাধিকার ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা; আন্তর্জাতিক জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা; শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি; দীর্ঘমেয়াদি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও অর্থায়ন। যতদিন পর্যন্ত রাখাইনে নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি না হবে এবং রোহিঙ্গাদের পূর্ণ নাগরিক অধিকার নিশ্চিত না হবে, ততদিন তাদের প্রত্যাবর্তন টেকসই হবে না।

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারের সামরিক জান্তার ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে এবং দেশটির সাথে সব ধরনের অস্ত্র বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে মিয়ানমারের পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে প্রেরণের বাধ্যবাধকতা তৈরি এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে একটি সুনির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক সময়সীমা ও গ্যারান্টি ভিত্তিক কূটনৈতিক রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে।

২৫ আগস্ট শুধু রোহিঙ্গাদের জন্য নয়, সমগ্র মানবজাতির জন্য একটি আত্মসমালোচনার দিন। এই দিন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে বৈষম্য, ঘৃণা, জাতিগত বিদ্বেষ এবং রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন কতটা ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। আজ যখন বিশ্ব মানবাধিকার, ন্যায়বিচার এবং মানব মর্যাদার কথা বলে, তখন রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নৈতিক দায়িত্ব। রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবস তাই শুধু শোকের নয়; এটি মানবতার পক্ষে দাঁড়ানোর, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কণ্ঠ উচ্চারণের এবং একটি নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার দিন।

 

Ads small one

শাপলা প্রতিবন্ধী যুব উন্নয়ন সংস্থার কমিটি গঠন ও নির্বাচন সম্পন্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১:৩৭ পূর্বাহ্ণ
শাপলা প্রতিবন্ধী যুব উন্নয়ন সংস্থার কমিটি গঠন ও নির্বাচন সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিনিধি: স্বচ্ছ, সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে সাতক্ষীরার সামাজিক সংগঠন ‘শাপলা প্রতিবন্ধী যুব উন্নয়ন সংস্থা’-এর ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের ২১ সদস্যবিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন ও নির্বাচন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। সাতক্ষীরা সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ উপস্থিতি এবং সংস্থার সাধারণ সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
নবগঠিত কার্যনির্বাহী কমিটিতে মো. সিহাব সিদ্দিকী সভাপতি, আজমিরা খাতুন সহ-সভাপতি এবং মো. রিপন হোসেন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।
কমিটির অন্যান্য পদে নির্বাচিতরা হলেন-কোষাধক্ষ পাপিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শহীদ হোসেন এবং ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মো. হাফিজ।
নির্বাচনী সভায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এস. এম. আজিজুর রহমান উপস্থিত থেকে নির্বাচন পরিচালনা ও সার্বিক কার্যক্রমে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এ সময় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। সংস্থাসংশ্লিষ্ট মোট ৩০জন সদস্যের উপস্থিতিতে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়।

ডিবি গার্লস স্কুলে অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ, অভিভাবক সমাবেশ ও পুরস্কার বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১:৩২ পূর্বাহ্ণ
ডিবি গার্লস স্কুলে অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ, অভিভাবক সমাবেশ ও পুরস্কার বিতরণ

oplus_0

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর-ব্রহ্মরাজপুর (ডিবি) গার্লস স্কুলে অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ, অভিভাবক সমাবেশ এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) স্কুলের হলরুমে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্কুলের এডহক কমিটির সভাপতি সাতক্ষীরা সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবুল হোসেন এতে প্রধান অতিথি ছিলেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. এমাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন শিক্ষক প্রতিনিধি মো. হাফিজুল ইসলাম, অভিভাবক সদস্য রবীন্দ্র কর্মকার, সিনিয়র শিক্ষক মো. নজিবুল ইসলাম, গীতা রাণী সাহা, শামীমা আক্তার, অরুন কুমার মন্ডল, দেবব্রত ঘোষ, কনক কুমার ঘোষ, মৃনাল কুমার বিশ্বাস, ভানুবতী সরকার, খালেদা খাতুন, আসমাতারা জাহান, আজহারুল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করে সিনিয়র শিক্ষক এসএম শহীদুল ইসলাম।

সুন্দরবনে প্রবেশের অপেক্ষায় বনজীবী ও পর্যটকেরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ
সুন্দরবনে প্রবেশের অপেক্ষায় বনজীবী ও পর্যটকেরা

উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: দীর্ঘ তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে খুলে দেওয়া হচ্ছে সুন্দরবনের দুয়ার। আর মাত্র সাত দিন পর সুন্দরবনে প্রবেশ করে মাছ ও কাঁকড়া আহরণের সুযোগ পাবেন উপকূলীয় এলাকার জেলে ও বাওয়ালিরা। একই সঙ্গে পর্যটকদের জন্যও খুলে দেওয়া হবে সুন্দরবনের পর্যটনকেন্দ্রগুলো। ফলে দীর্ঘদিন কর্মহীন থাকা বনজীবীদের মধ্যে ফিরেছে স্বস্তি।
তবে নিষেধাজ্ঞার সময় উপকূলের বহু পরিবারকে ধারদেনা ও ঋণ করে কিংবা বিকল্প পেশায় যুক্ত হয়ে সংসারের খরচ চালাতে হয়েছে।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর সোরা এলাকার বাসিন্দা জিন্নাত গাজী বলেন, সুন্দরবন বন্ধ থাকার সময় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। বাধ্য হয়ে এনজিও থেকে ঋণ নিতে হয়েছে। এখন বন খুলবে, এটাই বড় আশার বিষয়।
বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের নীলডুমুর গ্রামের জেলে রিপন গাজী বলেন, সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া ধরে যারা জীবিকা নির্বাহ করে, তাদের জন্য এই সময়টা খুব কঠিন। ধারদেনা করে দিন পার করতে হয়েছে। বন খুললে আবার আয়-রোজগার শুরু হবে।
এদিকে সুন্দরবন খোলার প্রস্তুতি শুরু করেছে বন বিভাগ। জেলে-বাওয়ালিদের নিরাপদে প্রবেশ, অনুমতিপত্র প্রদান এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও বনজ সম্পদ রক্ষায় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সুন্দরবন খুলে দেওয়ার পর জেলে-বাওয়ালিদের বৈধভাবে বনে প্রবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বনদস্যুদের তৎপরতা কঠোরভাবে দমন করতে হবে। একই সঙ্গে বিষ দিয়ে মাছ ধরা, ক্ষতিকর জাল ব্যবহার ও বন্য প্রাণী শিকার বন্ধে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে।
আগামী ১ সেপ্টেম্বরকে সামনে রেখে উপকূলের জেলেদের মধ্যে এখন দারুণ ব্যস্ততা। কেউ নৌকা ও জাল মেরামত করছেন, আবার কেউ দীর্ঘদিনের ঋণের বোঝা লাঘবের আশায় নতুন করে সুন্দরবনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।