রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

লাভ ইজ কাইন্ড দিবস: সম্পর্কের শেকড়ে আনন্দ ও নিরাপত্তার বার্তা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৬:৫০ অপরাহ্ণ
লাভ ইজ কাইন্ড দিবস: সম্পর্কের শেকড়ে আনন্দ ও নিরাপত্তার বার্তা

সাকিবুর রহমান বাবলা

ভালোবাসা মানুষের জীবনের অন্যতম শক্তিশালী অনুভূতি। কিন্তু যখন সেই ভালোবাসার আড়ালে নিয়ন্ত্রণ, ভয় বা নির্যাতন স্থান করে নেয়, তখন সম্পর্ক তার মানবিক ভিত্তি হারায়। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই প্রতি বছর ২৭ জুলাই পালিত হয় ন্যাশনাল লাভ ইজ কাইন্ড ডে-একটি দিন, যা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে প্রকৃত ভালোবাসা কখনো ভয়, অপমান বা আঘাতের সমার্থক হতে পারে না; সত্যিকারের ভালোবাসা সবসময় সম্মান, সহানুভূতি ও নিরাপত্তার ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকে।

এই দিবসটির সূচনা করেন যুক্তরাষ্ট্রের রোজি আয়েলো এবং তাঁর কন্যা সানিয়া। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে একটি নিয়ন্ত্রণমূলক ও নির্যাতনমূলক সম্পর্কে আবদ্ধ থাকার পর রোজি আয়েলো ১৯৯৮ সালের ২৭ জুলাই নিজের ও কন্যার জন্য স্বাধীন জীবনের পথ বেছে নেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় The Love Is Kind Network, যার উদ্যোগে দিবসটি বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করে। পরবর্তীকালে #LoveIsKindDay ও #TheLoveIsKindMovement হ্যাশট্যাগের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিবসটির পরিচিতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ সচেতনতা, সহমর্মিতা ও ইতিবাচক সম্পর্কের বার্তা প্রচার করতে শুরু করেন। দিবসটির মূল বার্তা অত্যন্ত সহজ-প্রকৃত ভালোবাসা কখনো সহিংস নয়; তা দয়া, সম্মান ও সহমর্মিতার প্রতীক।

বর্তমান বিশ্বে ঘরোয়া সহিংসতা একটি নীরব সামাজিক সংকট। অনেক সময় নির্যাতন বলতে শুধু শারীরিক আঘাতকেই বোঝানো হয়, অথচ বাস্তবে মানসিক চাপ সৃষ্টি, অপমান, ভয় দেখানো, সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে রাখা, অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা কিংবা ক্রমাগত হেয় প্রতিপন্ন করাও নির্যাতনেরই রূপ। এসব আচরণ একজন মানুষের আত্মবিশ্বাস, মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক জীবনকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই এই দিবস মানুষকে বিষাক্ত সম্পর্কের লক্ষণ চিহ্নিত করতে এবং সুস্থ সম্পর্কের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সচেতন হতে উৎসাহিত করে।

জাতীয় ‘লাভ ইজ কাইন্ড’ দিবসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নির্যাতন থেকে বেঁচে ফেরা মানুষদের নতুন করে জীবন গড়ার সাহসকে সম্মান জানানো। যারা প্রতিকূল পরিস্থিতি অতিক্রম করে নতুন জীবন শুরু করেছেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা সমাজের অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে দিবসটি পরিবার, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং গণমাধ্যমকে ইতিবাচক সম্পর্ক, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং মানবিক আচরণ চর্চার আহ্বান জানায়।

দয়া, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সম্মানের গুরুত্ব কেবল আধুনিক মানবাধিকার ধারণায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং ধর্মীয় শিক্ষা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, পারিবারিক রেওয়াজ, নৈতিক মূল্যবোধ এবং মানবিক যুক্তিবোধের মধ্যেও এর গভীর প্রতিফলন দেখা যায়। যুগে যুগে বিভিন্ন সমাজ ও সভ্যতা মানুষে মানুষে শ্রদ্ধা, মর্যাদা, সদাচরণ এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। ভাষা, সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের ভিন্নতা থাকলেও একটি মৌলিক সত্য সর্বত্রই সমানভাবে স্বীকৃত—সুস্থ সম্পর্কের ভিত্তি হলো দয়া, সহমর্মিতা এবং একে অপরের প্রতি সম্মান। বর্তমান সময়ে পরিবার ও সমাজে নিরাপদ, মানবিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তুলতে এই মূল্যবোধগুলোর বাস্তব চর্চা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পারিবারিক সহিংসতা, মানসিক নির্যাতন, বাল্যবিবাহ এবং নারীর প্রতি বৈষম্যের মতো সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই বার্তা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। অনেক ক্ষেত্রেই মানসিক নির্যাতন বা নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণকে ব্যক্তিগত বা পারিবারিক বিষয় বলে আড়াল করা হয়, যা ভুক্তভোগীদের জন্য সহায়তা পাওয়ার পথকে আরও কঠিন করে তোলে। দেশে পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০সহ বিভিন্ন আইনি সুরক্ষা ব্যবস্থা বিদ্যমান। পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে জাতীয় হেল্পলাইন ১০৯, শিশু সহায়তা হেল্পলাইন ১০৯৮ এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯সহ বিভিন্ন সহায়তা ব্যবস্থা চালু রয়েছে। তাই নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানো, প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা এবং আইনি ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে উৎসাহিত করা সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব।

একটি বিভক্ত, সংঘাতপূর্ণ ও দ্রুত পরিবর্তনশীল পৃথিবীতে জাতীয় ‘লাভ ইজ কাইন্ড’ দিবস আমাদের একটি মৌলিক সত্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়-মানুষকে শক্তিশালী করে ক্ষমতা নয়, সম্পর্ক; সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখে নিয়ন্ত্রণ নয়, সম্মান; আর ভালোবাসাকে অর্থবহ করে তোলে দয়া ও সহমর্মিতা। পরিবার ও সমাজে সুস্থ সম্পর্ক গড়ে তোলার পাশাপাশি ঘরোয়া সহিংসতা ও মানসিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানায় এই দিবস। তাই ২৭ জুলাই শুধু একটি দিবস নয়; এটি মানবিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরার এক তাৎপর্যপূর্ণ উপলক্ষ।

Ads small one

কাস্টমসের নতুন নিয়মে গেটপাস বন্ধ, বেনাপোল সীমান্তে আটকা শত শত পণ্যবাহী ট্রাক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ণ
কাস্টমসের নতুন নিয়মে গেটপাস বন্ধ, বেনাপোল সীমান্তে আটকা শত শত পণ্যবাহী ট্রাক

এমএ রহিম, বেনাপোল (যশোর): কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নতুন নির্দেশনা এবং কারপাস জটিলতার কারণে বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সব ধরনের আমদানি বাণিজ্য বন্ধ হয়ে পড়েছে। এর ফলে বন্দরের দুপাশে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়েছে, যার মধ্যে বড় অংশই রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতের কাঁচামাল।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা গেট কারপাস না করায় শনিবার বিকেল থেকে এ অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান বনি ও আমদানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জানান, এতদিন ভারতীয় আমদানিকৃত পণ্যবাহী ট্রাকের কারপাস (গেটপাস) নেওয়ার ক্ষেত্রে অবৈধ কোনো মালামাল থাকলে তার দায়িত্ব সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের ওপর বর্তাত না। তবে শনিবার কাস্টমস কর্তৃপক্ষ হঠাৎ নতুন নিয়ম জারি করে জানায়, ট্রাকে কোনো অবৈধ মালামাল পাওয়া গেলে তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধিকেই নিতে হবে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই গেটপাস গ্রহণ বন্ধ রাখা হয়েছে।
বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস কার্গো শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম ও বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের জন্য কাস্টমস ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন জানান, কারপাস জটিলতায় আমদানি বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও ভারতে পণ্য রপ্তানি এবং চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জরিপ উপলক্ষে সাতক্ষীরায় সচেতনতামূলক কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৩ অপরাহ্ণ
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জরিপ উপলক্ষে সাতক্ষীরায় সচেতনতামূলক কর্মশালা

নিজস্ব প্রতিনিধি: বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস)-এর উদ্যোগে ‘বার্ষিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জরিপ-২০২৬’ উপলক্ষে তথ্য সংগ্রহ ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে সাতক্ষীরায় এক দিকনির্দেশনামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার সকালে সদর উপজেলার তালতলা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ব্যানবেইসের পরিচালক (পরিসংখ্যান) প্রফেসর মো. গোলাম ফিরোজ। জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আলমগীর কবীরের সভাপতিত্বে কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কালিগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আজিজুর রহমান, সাতক্ষীরা সিটি কলেজের অধ্যক্ষ মো. মনিরুজ্জামান এবং তালতলা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রেজাউল করিম।
বক্তারা বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সঠিক পরিকল্পনা ও নীতি প্রণয়নের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্ভুল ও হালনাগাদ তথ্য অত্যন্ত জরুরি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ও তথ্য সংগ্রহকারীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কর্মশালায় অনলাইনে সঠিক সময়ে ও নির্ভুলভাবে তথ্য এন্ট্রি দেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সাতক্ষীরা এলজিইডিতে বিদায়ী নির্বাহী প্রকৌশলীকে সংবর্ধনা ও নতুন কর্মকর্তার বরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১১:০১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা এলজিইডিতে বিদায়ী নির্বাহী প্রকৌশলীকে সংবর্ধনা ও নতুন কর্মকর্তার বরণ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা জেলা ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বদলিজনিত বিদায়ী নির্বাহী প্রকৌশলী এ এস এম তারিকুল হাসান খানের বিদায় সংবর্ধনা এবং নতুন নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের বরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জেলা ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুস সবুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিদায়ী ও নবনিযুক্ত দুই নির্বাহী প্রকৌশলী উপস্থিত ছিলেন। সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ ফরহাদ হোসেন তপুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর রহমান বাবু, আসাদুল্লাহ বাহার আশু, রফিকুল ইসলাম, আব্দুস সালাম, মোকলেছুর রহমান, মামুনুর রহমান সুমন, মীর রফিকুল ইসলাম বাবু, ইকবাল জমাদ্দার, মো. আকরাম হোসেন খান বাপ্পি, আব্দুল হাকিম ও সাঈদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সাংবাদিক আবু সাঈদ।
বক্তারা সাতক্ষীরার সার্বিক অবকাঠামোগত উন্নয়নে সরকারের উন্নয়ন কর্মকা- সফলভাবে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে সরকারি নিয়ম মেনে গুণগত মানসম্পন্ন কাজ নিশ্চিত করতে এলজিইডির সহযোগিতা কামনা করা হয়।