মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

শহীদ জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকীতে বিএনপির নানা কর্মসূচি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬, ৮:০৭ অপরাহ্ণ
শহীদ জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকীতে বিএনপির নানা কর্মসূচি

অনলাইন ডেস্ক: সাবেক রাষ্ট্রপতি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র প্রতিষ্ঠাতা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আগামীকাল শনিবার। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে দেশি-বিদেশি চক্রান্তে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্য তাকে হত্যা করে। দিবসটি উপলক্ষে বিএনপি গত ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত আট দিনব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

 

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী— ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত সারা দেশে বিশেষ পোস্টার প্রকাশ করা হচ্ছে এবং দলীয় নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করছেন। এছাড়া বিভিন্ন সংবাদপত্র ও অনলাইন পোর্টালে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে।

 

আগামীকাল ৩০ মে শনিবার ভোর ৬টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের সকল স্তরের দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। একই দিন সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের জাতীয় নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও জিয়ারত করবেন। জিয়ারত শেষে মাজার প্রাঙ্গণে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

 

এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের প্রতিটি থানায় এবং দেশের অন্যান্য ইউনিটে অসচ্ছল ও দুঃস্থ মানুষের মাঝে কাপড়, চাল, ডালসহ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। একইভাবে দেশের সব জেলা, মহানগর ও অন্যান্য ইউনিটেও ৩০ মে ভোর ৬টায় দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। স্থানীয় সুবিধা অনুযায়ী আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং দুঃস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিও পালন করা হবে।

 

পরদিন ৩১ মে রোববার বেলা ২টায় রাজধানীর রমনায় ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন। তিনি দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা। তার প্রতিষ্ঠিত বিএনপি বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে।

 

জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেন। এজন্য তাকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের জনক বলা হয়। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি দেশ নিয়ে গঠিত সার্ক প্রতিষ্ঠারও স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন তিনি। জাতীয়তাবাদভিত্তিক একটি কালজয়ী রাজনৈতিক দর্শন প্রতিষ্ঠা করে গেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

 

তার প্রতিষ্ঠিত বিএনপি গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে। শহীদ জিয়াউর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান বর্তমানে বিএনপির চেয়ারম্যান এবং নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

দেশের মানুষের বিপুল আস্থা ও সমর্থন নিয়ে এবারসহ বিএনপি এ পর্যন্ত পাঁচবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। প্রতি বছর দিনটি জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকী হিসেবে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ পালন করে আসছে।

Ads small one

রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি লেপনের প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় সমাবেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫২ অপরাহ্ণ
রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি লেপনের প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিতিধি : সাতক্ষীরায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি লেপনের প্রতিবাদে সমাবেশ করেছে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, সাতক্ষীরা জেলা সংসদ।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উদীচী সাতক্ষীরার সভাপতি শেখ সিদ্দিকুর রহমান। সাধারণ সম্পাদক সুরেশ পান্ডের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন উদীচী সাতক্ষীরার উপদেষ্টা শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ, জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শেখ আজাদ হোসেন বেলাল, স্বদেশের মাধব দত্ত, বীর মুক্তিযোদ্ধা সুভাষ সরকার, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলিত পরিষদ সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি শরিফুল্লাহ কায়সার সুমন, অধ্যক্ষ আশেক ই এলাহী, জাসদের সুধাংশু সরকার, কমরেড আবুল হোসেন, কবি এস এম তুহিন, বাসদের জেলা সমন্বয়ক নিত্যানন্দ সরকার, বাংলাদেশ জাসদের জেলা সভাপতি অধ্যাপক ইদ্রিস আলী, কবি শুভ্র আহমেদ, কবি ও সাহিত্যিক আবু কাজী প্রমুখ।

সমাবেশের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সংগীতবিষয়ক সম্পাদক বিউটি চক্রবর্তী।

বক্তারা বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধু একজন কবি নন; তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিশ্বপরিচয় এবং বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর গ্রাফিতিতে কালি লেপনের ঘটনা শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, মুক্তচিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধের ওপর আঘাত।

তাঁরা বলেন, রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য, দর্শন, রাজনৈতিক চিন্তা ও ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা ও গবেষণা হতে পারে। মুক্ত ও গণতান্ত্রিক সমাজে যুক্তিনির্ভর সমালোচনার অধিকার সবার রয়েছে। তবে মতপার্থক্যের কারণে শিল্পকর্ম বিকৃত করা কিংবা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে অসম্মান করা গ্রহণযোগ্য নয়।

বক্তারা আরও বলেন, যুক্তির জবাব যুক্তি দিয়ে দিতে হয়, সৃষ্টির জবাব দিতে হয় আরও উন্নত সৃষ্টি দিয়ে। কালি লেপন করে কোনো চিন্তাকে পরাজিত করা যায় না। একই সঙ্গে কোনো ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা যেন ক্ষুণœ না হয়, সে বিষয়েও সবাইকে দায়িত্বশীল থাকতে হবে।

সমাবেশ থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি লেপনের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে জনপরিসরে শিল্প ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, যুক্তিনির্ভর সমালোচনা ও ন্যায়বিচারের পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানানো হয়।

 

সাতক্ষীরায় প্রথম শ্রেণীর স্কুল ছাত্রী ধর্ষিত, থানায় মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় প্রথম শ্রেণীর স্কুল ছাত্রী ধর্ষিত, থানায় মামলা

পত্রদূত ডেস্ক: প্রথম শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। শনিবার বিকেল তিনটার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙা ইউনিয়নের ওয়ারিয়া গ্রামের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের বাড়ির ছাদে এ ঘটনা ঘটে। ধর্ষকের নাম- মোশাররফ হোসেন(৫৫)। তিনি সদর উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামের আছিদুর রহমান খান চৌধুরীর ছেলে।

 

ধর্ষিতা স্কুল ছাত্রীর মা জানান, স্বামী তাকে তালাক দেওয়ার পর তিনি যশোরের শার্মা থানাধীন বাগআঁচড়া গ্রামে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর থেকে তার মেয়ে দাদী ও চাচীর কাছে থেকে স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করতো।

তিনি আরো জানান, শনিবার বিকেল তিনটার দিকে তার মেয়ে বাড়ির পাশে কয়েকজন বন্ধুর সাথে খেলতে যায়। কিছুক্ষণ পর বন্ধুরা ফিরে এলেও তার মেয়ে ফিরে না আসায় দাদী ও চাচী খুঁজতে বের হয়। একপর্যায়ে তাকে রফিকুল চেয়ারম্যানের বাড়িতে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।

মোশাররফ তাকে খাওয়ার দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ছাদে নিয়ে ধর্ষণ করেছে বলে দাদী ও চাচীকে জানায়। একপর্যায়ে বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। বাধ্য হয়ে তিনি সাতক্ষীরা মেডিকেলে ভর্তি করাতে না পেরে রবিবার মেয়েকে নিয়ে বাগআঁচড়ায় নিয়ে আসেন। পরে পুলিশ এসে মেয়েকে নিয়ে সোমবার সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

এ ব্যাপারে মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে তার দুলা ভাই রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনা সত্য নয়। আগামি ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে তার সুনাম নষ্ট করার জন্য এ ধরণের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় ওই স্কুল ছাত্রীর মা বাদি হয়ে মঙ্গলবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২০০০ সালের সংশোধিত ২০০৩ এর ৯(১) ধারায় থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় মোশাররফ হোসেনকে আসামী করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। উপপরিদর্শক শাহারিয়ারকে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক নাজমুল হক জানান, ধর্ষিতার ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে মঙ্গলবার বিচারিক হাকিম তনিমা ম-ল তার ২২ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন।

কিশোর গ্যাং: দায় এড়াবে কে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৪ অপরাহ্ণ
কিশোর গ্যাং: দায় এড়াবে কে?

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

কিশোর বয়স স্বপ্ন দেখার, নিজেকে গড়ে তোলার এবং ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার সময়। অথচ এই বয়সেই যখন কেউ মাদক, চাঁদাবাজি, ছিনতাই কিংবা সহিংসতার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে, তখন উদ্বিগ্ন না হয়ে উপায় থাকে না। শহরের অলিগলি থেকে গ্রামের হাটবাজার, পাড়া-মহল্লা থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশÑকিশোরদের দলবদ্ধ অপরাধ প্রবণতা এখন সমাজের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। এটি শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পরিবার, শিক্ষাব্যবস্থা, সামাজিক পরিবেশ এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনের প্রশ্ন।

 

প্রশ্ন হলো, যে বয়সে কিশোরদের হাতে থাকার কথা বই, খেলাধুলার সরঞ্জাম আর নতুন কিছু করার স্বপ্ন, সেই বয়সে তাদের কেউ কেউ অপরাধের পথে যাচ্ছে কেন? তাদের এই বিচ্যুতির দায় কি শুধু তাদের নিজেদের, নাকি এর পেছনে রয়েছে আমাদের সম্মিলিত ব্যর্থতা? কিশোর গ্যাংয়ের যাত্রা অনেক সময় শুরু হয় সাধারণ বন্ধুত্ব ও আড্ডা থেকে। কয়েকজন কিশোর একসঙ্গে চলাফেরা করে, নিজেদের একটি দল তৈরি করে। একপর্যায়ে সেই দলের মধ্যে তৈরি হয় আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতা। কে বেশি প্রভাবশালী, কে কাকে ভয় দেখাতে পারে, কার কথায় এলাকায় অন্যরা চলবেÑএমন মানসিকতা থেকে সংঘাতের জন্ম হয়। পরে সেই সংঘাত মাদক, মারামারি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই কিংবা গুরুতর অপরাধে রূপ নিতে পারে।

তবে সব কিশোরের দলই অপরাধী দল নয়। বন্ধুত্ব, খেলাধুলা কিংবা সামাজিক কর্মকা-ের জন্য কিশোরদের দলবদ্ধ হওয়া স্বাভাবিক। সমস্যা তখনই, যখন দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে অন্যকে ভয় দেখানো, আইন অমান্য করা এবং অপরাধকে শক্তির প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়। অনেক কিশোরের কাছে গ্যাং হয়ে ওঠে পরিচিতি ও প্রভাব বিস্তারের মাধ্যম। পরিবারে গুরুত্ব না পাওয়া, সামাজিকভাবে অবহেলিত বোধ করা কিংবা বন্ধুদের কাছে নিজেকে প্রতিষ্ঠার আকাক্সক্ষা তাদের ভুল পথে নিতে পারে।

 

অপরাধী দলের সদস্যরা তাদের এমন একটি ধারণা দেয় যে, ভয় দেখাতে পারলেই সম্মান পাওয়া যায়। অথচ ভয় আর সম্মান এক জিনিস নয়। এই পার্থক্যটি বুঝতে না পারার সুযোগই নেয় অপরাধপ্রবণ গোষ্ঠী। একটি শিশুর বেড়ে ওঠায় পরিবারের ভূমিকার বিকল্প নেই। কিন্তু সন্তানকে খাবার, পোশাক ও শিক্ষার ব্যবস্থা করে দিলেই অভিভাবকের দায়িত্ব শেষ হয় না। সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে, কী নিয়ে ভাবছে এবং কোনো মানসিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে কি না, সেদিকেও নজর দিতে হয়।

 

বর্তমানে অনেক পরিবারে অভিভাবক ও সন্তানের মধ্যে যোগাযোগের ঘাটতি দেখা যায়। কেউ কর্মব্যস্ততায় সন্তানকে সময় দিতে পারেন না, কেউ আবার সন্তানের সঙ্গে কথা বলার পরিবর্তে শুধু পড়াশোনা ও ফলাফলের ওপর গুরুত্ব দেন। ফলে কিশোরের অভিমান, হতাশা কিংবা সমস্যার কথা শোনার মানুষটি পরিবারে না থাকলে সে বাইরের মানুষের কাছে আশ্রয় খোঁজে। সেই আশ্রয় যদি ভুল সঙ্গের মধ্যে হয়, তাহলে বিপদের আশঙ্কা বাড়ে। অবশ্য কিশোর অপরাধের সব দায় পরিবারকে দেওয়া যাবে না।

 

অর্থনৈতিক সংকট, সামাজিক বৈষম্য, মাদকের সহজলভ্যতা, অপরাধীদের প্রভাব এবং নিরাপদ বিনোদনের অভাবও বিবেচনায় নিতে হবে। একটি এলাকায় খেলার মাঠ নেই, পাঠাগার নেই, সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের সুযোগ নেই; অথচ কিশোরদের অবসর সময় কাটানোর বিকল্পও তৈরি করা হয়নিÑএমন পরিস্থিতিতে তাদের গঠনমূলক কাজে যুক্ত রাখার দায়িত্ব কে নেবে? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাজ শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই পড়ানো ও পরীক্ষায় ভালো ফল করানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না।

 

একজন শিক্ষার্থীর আচরণ, মানসিক অবস্থা, বন্ধুত্বের ধরন এবং সামাজিক বিকাশের প্রতিও শিক্ষকদের নজর দেওয়া প্রয়োজন। কোনো শিক্ষার্থী হঠাৎ নিয়মিত ক্লাস ফাঁকি দিলে, সহপাঠীদের ভয় দেখালে, মারামারিতে জড়িয়ে পড়লে কিংবা আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। তাকে সঙ্গে সঙ্গে খারাপ ছেলে হিসেবে চিহ্নিত না করে তার আচরণের কারণ খুঁজতে হবে। প্রয়োজনে অভিভাবকের সঙ্গে আলোচনা, কাউন্সেলিং এবং বিশেষজ্ঞের সহায়তা নিতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলাধুলা, বিতর্ক, সংগীত, নাটক, পাঠচক্র ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকা-ের সুযোগ বাড়ানো দরকার।

 

এসব কার্যক্রম কিশোরদের প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি দলগত দায়িত্ববোধ, সহনশীলতা ও নেতৃত্বের গুণ শেখায়। যে কিশোর নিজের যোগ্যতা প্রকাশের সুযোগ পায়, তাকে অপরাধী দলের কৃত্রিম পরিচয়ের ওপর নির্ভর করতে হয় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিশোরদের জীবনযাপনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এর মাধ্যমে তারা জ্ঞান অর্জন ও যোগাযোগের সুযোগ পাচ্ছে। কিন্তু সহিংসতার ভিডিও, অস্ত্র প্রদর্শন, অপরাধকে বীরত্ব হিসেবে উপস্থাপন এবং অনলাইনে ভয় দেখানোর প্রবণতা তাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শুধু মোবাইল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না।

 

প্রয়োজন ডিজিটাল সচেতনতা, দায়িত্বশীল ব্যবহার এবং অভিভাবকের যথাযথ তদারকি। এর পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কিশোরদের অপরাধে ব্যবহার করছে কারা? কোনো কিশোর মাদক বহন করছে, চাঁদাবাজি করছে কিংবা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছেÑএতেই তদন্ত শেষ হয়ে যেতে পারে না। তার পেছনে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক অপরাধী, মাদক ব্যবসায়ী কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তি রয়েছে কি না, তা খুঁজে দেখা জরুরি। যারা কিশোরদের অপরাধে প্ররোচিত করে, অর্থ বা অস্ত্র সরবরাহ করে কিংবা নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে সমস্যার শিকড় অক্ষত থেকে যাবে। কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের প্রয়োজন অস্বীকার করার সুযোগ নেই। অপরাধ করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার দিতে হবে। কিন্তু কিশোরদের ক্ষেত্রে বয়স, অপরাধের ধরন ও পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশোধন এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও থাকতে হবে। একজন কিশোর অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে মানেই তার ভবিষ্যৎ শেষÑএমন ধারণা বিপজ্জনক। ভুল থেকে ফিরে আসার সুযোগ না দিলে সে আরও গভীরভাবে অপরাধের জগতে ঢুকে পড়তে পারে। তাই সংশোধনমূলক কার্যক্রম, শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ, মানসিক সহায়তা এবং পরিবারে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়া কিংবা রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাব খাটিয়ে অপরাধীদের রক্ষা করার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসন, পুলিশ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি ও সমাজকর্মীদের সমন্বয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

 

 

পাড়া-মহল্লায় কিশোরদের ঝুঁকি চিহ্নিত করা, খেলাধুলার সুযোগ তৈরি, মাদকবিরোধী কার্যক্রম এবং অভিযোগ জানানোর নিরাপদ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। কোনো কিশোর বিপথে যাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে আগে থেকেই তাকে সঠিক পথে রাখার উদ্যোগ অনেক বেশি কার্যকর। কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার আমাদের সামনে আয়না ধরেছে। সেখানে শুধু বিপথগামী কিশোরদের দেখা যায় না; দেখা যায় পরিবারে সময়ের অভাব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সীমাবদ্ধতা, সামাজিক উদাসীনতা এবং অপরাধীদের দাপটের চিত্রও। তাই কিশোরদের দোষারোপ করে কিংবা কয়েকটি অভিযান চালিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। প্রয়োজন অপরাধের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান এবং কিশোরদের সুস্থ বিকাশের জন্য বাস্তব উদ্যোগ।

 

আজকের কিশোর আগামী দিনের নাগরিক। তাকে অপরাধের পথে ঠেলে দিয়ে পরে তার কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ আশা করা যায় না। পরিবারকে সন্তানকে সময় দিতে হবে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে তার পাশে দাঁড়াতে হবে, সমাজকে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে হবে এবং রাষ্ট্রকে অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। কিশোরদের হাতে অস্ত্র উঠলে শুধু একজন কিশোরের ভবিষ্যৎ নষ্ট হয় না, সমাজের নিরাপত্তাও প্রশ্নের মুখে পড়ে। তাই দায় চাপানোর প্রতিযোগিতা নয়, এখন দরকার দায়িত্ব পালনের সাহস। যারা কিশোরদের অপরাধে ঠেলে দেয়, তাদের থামাতে হবে; যারা ইতিমধ্যে বিপথে গেছে, তাদের ফিরিয়ে আনার পথ তৈরি করতে হবে। কারণ আজ আমরা কিশোরদের রক্ষা করতে ব্যর্থ হলে, আগামীকাল সেই ব্যর্থতার মূল্য দিতে হবে পুরো সমাজকে।

লেখক: সংবাদ কর্মী