সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩

শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ্ব ও ভূ-রাজনীতি: আমাদের আবেগ ও বাস্তবতার টানাপোড়েন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ণ
শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ্ব ও ভূ-রাজনীতি: আমাদের আবেগ ও বাস্তবতার টানাপোড়েন

শেখ সিদ্দিকুর রহমান
ইসলামী বিশ্বের মানচিত্রে শিয়া-সুন্নি মতভেদ কোনো নতুন বিষয় নয়। কয়েক শতাব্দী ধরে এই দুই ধারার মধ্যে তাত্ত্বিক ও আদর্শিক লড়াই চলছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এবং বিশেষ করে ইরান বনাম ইসরায়েল-আমেরিকা দ্বন্দ্ব বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে এক অদ্ভুত মানসিক ও আদর্শিক বৈপরীত্য তৈরি করেছে। যে শিয়া মতবাদকে কট্টর সুন্নি আলেমগণ অনেক সময় ‘কাফের’ বা ‘ইসলামের গন্ডি বহির্ভূত’ বলে ফতোয়া দেন, সেই ইরানের পক্ষে আজ রাজপথে স্লোগান উঠছে। এই ধর্মীয় অনুভূতি ও রাজনৈতিক অবস্থানের ব্যবচ্ছেদ করা এখন সময়ের দাবি।
আদর্শিক দেয়াল ও শিয়া-সুন্নি বিতর্ক : বাংলাদেশের মুসলিম সমাজের সিংহভাগ সুন্নি মতাদর্শের অনুসারী। কওমি ও সালাফি ঘরানার আলেমদের বড় একটি অংশ শিয়াদের আকিদাগত বিশ্বাসের কারণে তাদের ইসলামের মূল ধারা থেকে বিচ্যুত মনে করেন। বিশেষ করে সাহাবায়ে কেরামদের প্রতি শিয়াদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সুন্নিদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিদ্যমান। অনেক ক্ষেত্রে ধর্মীয় জলসাগুলোতে শিয়াদের ‘অমুসলিম’ হিসেবে অভিহিত করার নজিরও কম নয়। যদি আদর্শই শেষ কথা হয়, তবে একজন সুন্নি মুসলমানের কাছে শিয়া প্রধান ইরান কখনোই ভ্রাতৃত্বের প্রতীক হওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু অদ্ভুতভাবে যখন বৈশ্বিক রাজনীতির প্রসঙ্গ আসে, তখন এই ‘কাফের’ ফতোয়া যেন আলমারিতে বন্দি হয়ে যায়।
ইসরায়েল ভীতি বনাম ইরান প্রীতি: ইরানের প্রতি এই আকস্মিক সহমর্মিতার মূলে শিয়াদের প্রতি ভালোবাসা কাজ করছে না; বরং কাজ করছে ইসরায়েল ও আমেরিকার প্রতি চরম ঘৃণা। বাংলাদেশের সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে ফিলিস্তিন ইস্যুটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। দীর্ঘকাল ধরে আরবরা যখন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো প্রতিরোধ গড়তে ব্যর্থ হয়েছে, তখন ইরানের সরব উপস্থিতি তাদের মনে আশার আলো জাগিয়েছে। এখানে ‘শত্রুর শত্রু আমার বন্ধু’ নীতিটি প্রকট। সুন্নিরা দেখছে, কথিত ‘কাফের’ ইরানই আজ গাজা ও ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়িয়েছে, অথচ অনেক সুন্নি আরব রাষ্ট্র নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। এই দৃশ্যপটই বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ইরানের প্রতি একটি কৃত্রিম কিন্তু শক্তিশালী ধর্মীয় আবেগ তৈরি করেছে।
আরব বিশ্বের অনীহা ও রাজনৈতিক মেরুকরণ: আমরা অনেকেই লক্ষ্য করি না যে, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব বা বাহরাইনের মতো সুন্নি রাষ্ট্রগুলো ইরানকে চরম সন্দেহের চোখে দেখে। এর কারণ কেবল ধর্মীয় নয়, বরং ভূ-রাজনৈতিক। ইরান তার ‘বিপ্লব’ রপ্তানি করতে চায় এবং মধ্যপ্রাচ্যে শিয়া আধিপত্য বিস্তার করতে চায়-এমন একটি ভয় আরব রাজতন্ত্রগুলোর মধ্যে প্রবল। বিশেষ করে হুতি বিদ্রোহী, হিজবুল্লাহ এবং ইরাকের মিলিশিয়াদের মাধ্যমে ইরান যেভাবে প্রভাব বাড়াচ্ছে, তাতে সংযুক্ত আরব আমিরাত বা সৌদি আরব নিজেদের অস্তিত্বের সংকট দেখছে। ফলে তারা অনেক সময় ইরানের চেয়ে ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করাকেই নিরাপদ মনে করছে। অথচ বাংলাদেশে বসে আমরা কেবল ধর্মীয় চশমা দিয়ে বিচার করছি, যেখানে আরবরা বিচার করছে জাতীয় নিরাপত্তা ও ক্ষমতার ভারসাম্য দিয়ে।
জাতীয় স্বার্থ ও আমাদের হুরমুজ সংকট: সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, আমাদের এই আবেগ অনেক সময় জাতীয় স্বার্থকেও ছাপিয়ে যায়। হুরমুজ প্রণালী দিয়ে আমাদের পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে যখন ইরান বাধা দেয় বা অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তখন বাংলাদেশে তেমন কোনো প্রতিবাদ দেখা যায় না। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে প্রশ্ন জাগে-আমাদের কাছে দেশের মর্যাদা বড়, না কি একটি নির্দিষ্ট দেশের ধর্মীয় পরিচিতি বড়? হুরমুজ প্রণালীতে বাংলাদেশি জাহাজের হয়রানি আমাদের অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। কিন্তু ইরানের প্রতি অন্ধ আবেগের কারণে এই বিষয়গুলো জনসমক্ষে আলোচনাতেই আসে না।
ধর্মীয় অনুভূতি অবশ্যই ব্যক্তিগত ও পবিত্র। কিন্তু সেই অনুভূতি যখন ভূ-রাজনীতির জটিল সমীকরণে ব্যবহৃত হয়, তখন সেখানে স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন। শিয়ারা যদি সুন্নিদের দৃষ্টিতে কাফেরই হয়, তবে তাদের কর্মকান্ডকে কেন ‘ইসলামী বিজয়’ হিসেবে দেখা হবে? আবার যদি তারা ভাই হয়, তবে আরব রাষ্ট্রগুলোর সাথে তাদের কেন এই রক্তক্ষয়ী বিরোধ? বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষকে বুঝতে হবে যে, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কেবল ফতোয়া দিয়ে চলে না। এখানে প্রতিটি দেশ নিজের স্বার্থ দেখে। আমাদের আবেগ যেন এমন না হয় যা দেশের স্বার্থকে ছোট করে আর বিদেশের সংকীর্ণ স্বার্থকে মহান করে তোলে। আবেগ ও বিবেকের সঠিক সমন্বয়ই কেবল আমাদের এই দ্বিচারিতা থেকে মুক্তি দিতে পারে। লেখক: গবেষক ও কলামিস্ট

Ads small one

সম্পাদকীয়:প্রসঙ্গ: নাগরিক দুর্ভোগের অবসান হবে কবে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়:প্রসঙ্গ: নাগরিক দুর্ভোগের অবসান হবে কবে?

oppo_0

একটি আধুনিক ও প্রথম শ্রেণীর পৌরসভায় নাগরিকরা নিয়মিত কর পরিশোধ করবেন, আর বিনিময়ে পাবেন ন্যূনতম নাগরিক সুবিধাÑএটাই স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু সাতক্ষীরা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের মধ্যকাটিয়া এলাকার চিত্র দেখলে মনে হয়, সেখানকার বাসিন্দারা যেন কোনো পরিত্যক্ত জনপদে বসবাস করছেন। পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মধ্যকাটিয়ার একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাব এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশার কারণে কার্যত একটি উন্মুক্ত নর্দমায় পরিণত হয়েছে। কাদা, প্লাস্টিক বর্জ্য এবং ড্রেনের উপচে পড়া কালো, দুর্গন্ধযুক্ত পানি মাড়িয়ে প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে হাজার হাজার মানুষকে। একই চিত্র সাতক্ষীরা তুফান কোম্পানীর মোড় থেকে পিএন স্কুল মোড় পর্যন্ত সড়টির। এ সড়কটির কোথাও আস্ত নেই।
একটি সভ্য সমাজে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম সড়ক যদি এমন নরককু-ে পরিণত হয়, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ড্রেনগুলো দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করায় পানি নিষ্কাশন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা ও বিষাক্ত পানি উপচে রাস্তায় জমে থাকছে। রাস্তার বড় বড় গর্তগুলো এই নোংরা পানির নিচে লুকিয়ে থাকায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বৃদ্ধ ও নারীদের প্রতিদিন যে অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
ভোগান্তির এখানেই শেষ নয়; এই জমে থাকা নোংরা পানি ও আবর্জনার কারণে এলাকায় মশা-মাছির উপদ্রব মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ডেঙ্গু, ডায়রিয়া ও চর্মরোগসহ বিভিন্ন প্রাণঘাতী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা। এলাকার মানুষ ঘরের দরজা-জানালা পর্যন্ত খুলতে পারছেন না দুর্গন্ধের কারণে। অথচ নাগরিকরা নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করে যাচ্ছেন। ট্যাক্স দিয়েও কেন মানুষকে এমন আদিম ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে বাস করতে হবেÑএই প্রশ্ন এখন জোরালো হয়ে উঠেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই সমস্যার কথা জানালেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুম দরজায় কড়া নাড়ছে, এই অবস্থায় দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি যে আরও কতটা ভয়াবহ ও নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে, তা সহজেই অনুমেয়।
পৌরসভার পক্ষ থেকে বরাবরের মতোই “বিষয়টি অবগত আছি এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে” ধরনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা মনে করি, শুধু মুখের আশ্বাস বা আশ্বাসের চাদরে দুর্ভোগ ঢেকে রাখার সময় আর নেই। মধ্যকাটিয়াবাসীর এই দুর্ভোগ লাঘবে এখন প্রয়োজন তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী সমাধান।
আমরা সাতক্ষীরা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই—অবিলম্বে মধ্যকাটিয়া এলাকার ড্রেনগুলো পরিষ্কার করে পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা করা হোক এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হোক। নাগরিকদের সুস্থ ও নিরাপদভাবে বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করা পৌরসভার আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব। আশা করি, কর্তৃপক্ষ আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত মাঠে নামবেন এবং মধ্যকাটিয়াবাসীকে এই দুঃসহ নরকযন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেবেন।

বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে সাতক্ষীরা তালা কলারোয়া আশাশুনিতে জামায়াতের প্রস্তুতি সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে সাতক্ষীরা তালা কলারোয়া আশাশুনিতে জামায়াতের প্রস্তুতি সভা

পত্রদূত রিপোর্ট: গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে আগামী ২০ জুন খুলনার সার্কিট হাউস ময়দানে অনুষ্ঠিতব্য ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উপজেলায় প্রস্তুতি সভা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার এসব সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এসব সভার বক্তারা বলেন বলেন, জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা ও জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে এই বিভাগীয় সমাবেশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সমাবেশ সফল করতে সব স্তরের নেতাকর্মীদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সভায় উপজেলার কর্মপরিষদ সদস্যসহ সব ইউনিয়ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশকে কেন্দ্র করে যাতায়াত ব্যবস্থা, লিফলেট বিতরণ ও সাংগঠনিক প্রচারণা জোরদার করার বিষয়ে চূড়ান্ত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।


সাতক্ষীরা সদর: উপজেলা জামায়াতের আমীর ও জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা সেক্রেটারি ও জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা হাবিবুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও জেলা নায়েবে আমীর শেখ নুরুল হুদা। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক ওবায়দুল্লাহ এবং জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা শাহাদাত হোসাইন।
কলারোয়া: উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা মুহাঃ কামারুজ্জামান এতে সভাপতিত্ব করেন। উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মো. শহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম মুকুল।

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মো. ওসমান গনী ও জেলা ইউনিট সদস্য অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম। এছাড়া উপজেলা নায়েবে আমীর মাওলানা মো. আব্দুল হামিদ, অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক শাহজাহান কবীরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের আমীর, সেক্রেটারি ও সহযোগী সংগঠনের দায়িত্বশীল কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রচার-প্রচারণা জোরদার ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
আশাশুনি: আশাশুনিতে লিফলেট বিতরণ করেছে জামায়াতে ইসলামী। শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় আশাশুনি ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় সদর ইউনিয়নের শ্রীকলস ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। প্রচারণাকালে সড়কের যাত্রী, পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে লিফলেট বিতরণ এবং সমাবেশ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করা হয়।


লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন আশাশুনি সদর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাফেজ আব্দুল্লাহ, সহ-সম্পাদক এস এম শহিদুজ্জামান বাবলু, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম, ওয়ার্ড সম্পাদক হাফেজ আব্দুল করিম, শ্রমিক নেতা রুহুল আমিন এবং আবুল কাশেমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
‎তালা: ‎“খুলনা বিভাগীয় সমাবেশ” সফল করার লক্ষ্যে তালায় লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামির উদ্যোগে তালা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম, প্রতিষ্ঠান ও হাটবাজারে লিফলেট বিতরণ করা হয়। ‎লিফলেট বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান রেন্টু, মাওলানা সাইফুল ইসলাম, তালা সদর ওয়ার্ড সেক্রেটারি অহিদুজ্জামান রিপনসহ দলীয় অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মী। নেতৃবৃন্দ আগামী ২০ জুন শনিবার বেলা ২টায় খুলনার সার্কিট হাউস ময়দানের সমাবেশ সফল করার জন্য তালা উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

আশাশুনির কাঁকড়াবুনিয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় হাসপাতালে ভর্তি ৫

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:২৯ অপরাহ্ণ
আশাশুনির কাঁকড়াবুনিয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় হাসপাতালে ভর্তি ৫

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের কাঁকড়াবুনিয়া গ্রামে পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত পাঁচজনকে আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মৃত গফুর সানার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, কাঁকড়াবুনিয়া গ্রামের জামাল সানা, শরিফুল ইসলাম, রেজাউল সরদার, বাবু গাজী ও হযরত আলী সানার সঙ্গে বাদীর পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। গত ১৪ জুন সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে বাদী জাহাঙ্গীর আলম বাড়ি যাওয়ার পথে জামাল সানার বাড়ির সামনে ওয়াপদা রাস্তার ওপর পৌঁছালে প্রতিপক্ষরা দেশীয় অস্ত্র, রড, পাইপ ও লাঠিসোটা নিয়ে তার পথরোধ করে।
এর প্রতিবাদ করলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। জাহাঙ্গীরকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার ছোট ভাই দ্বীন মোহাম্মদ সানা, ভাগ্নে জসিম ও সাহিদুল, এবং চাচাতো ভাগ্নে তরিকুল ইসলাম সানাকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ২২ হাজার ২০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া বাদীর স্ত্রী জ্যোৎস্না খাতুনকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করে ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা মূল্যের সোনার চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। হাসপাতালে যাওয়ার পথে আহতদের ওপর দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয় বলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার জানিয়েছে।