বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ্ব ও ভূ-রাজনীতি: আমাদের আবেগ ও বাস্তবতার টানাপোড়েন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ণ
শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ্ব ও ভূ-রাজনীতি: আমাদের আবেগ ও বাস্তবতার টানাপোড়েন

শেখ সিদ্দিকুর রহমান
ইসলামী বিশ্বের মানচিত্রে শিয়া-সুন্নি মতভেদ কোনো নতুন বিষয় নয়। কয়েক শতাব্দী ধরে এই দুই ধারার মধ্যে তাত্ত্বিক ও আদর্শিক লড়াই চলছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এবং বিশেষ করে ইরান বনাম ইসরায়েল-আমেরিকা দ্বন্দ্ব বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে এক অদ্ভুত মানসিক ও আদর্শিক বৈপরীত্য তৈরি করেছে। যে শিয়া মতবাদকে কট্টর সুন্নি আলেমগণ অনেক সময় ‘কাফের’ বা ‘ইসলামের গন্ডি বহির্ভূত’ বলে ফতোয়া দেন, সেই ইরানের পক্ষে আজ রাজপথে স্লোগান উঠছে। এই ধর্মীয় অনুভূতি ও রাজনৈতিক অবস্থানের ব্যবচ্ছেদ করা এখন সময়ের দাবি।
আদর্শিক দেয়াল ও শিয়া-সুন্নি বিতর্ক : বাংলাদেশের মুসলিম সমাজের সিংহভাগ সুন্নি মতাদর্শের অনুসারী। কওমি ও সালাফি ঘরানার আলেমদের বড় একটি অংশ শিয়াদের আকিদাগত বিশ্বাসের কারণে তাদের ইসলামের মূল ধারা থেকে বিচ্যুত মনে করেন। বিশেষ করে সাহাবায়ে কেরামদের প্রতি শিয়াদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সুন্নিদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিদ্যমান। অনেক ক্ষেত্রে ধর্মীয় জলসাগুলোতে শিয়াদের ‘অমুসলিম’ হিসেবে অভিহিত করার নজিরও কম নয়। যদি আদর্শই শেষ কথা হয়, তবে একজন সুন্নি মুসলমানের কাছে শিয়া প্রধান ইরান কখনোই ভ্রাতৃত্বের প্রতীক হওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু অদ্ভুতভাবে যখন বৈশ্বিক রাজনীতির প্রসঙ্গ আসে, তখন এই ‘কাফের’ ফতোয়া যেন আলমারিতে বন্দি হয়ে যায়।
ইসরায়েল ভীতি বনাম ইরান প্রীতি: ইরানের প্রতি এই আকস্মিক সহমর্মিতার মূলে শিয়াদের প্রতি ভালোবাসা কাজ করছে না; বরং কাজ করছে ইসরায়েল ও আমেরিকার প্রতি চরম ঘৃণা। বাংলাদেশের সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে ফিলিস্তিন ইস্যুটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। দীর্ঘকাল ধরে আরবরা যখন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো প্রতিরোধ গড়তে ব্যর্থ হয়েছে, তখন ইরানের সরব উপস্থিতি তাদের মনে আশার আলো জাগিয়েছে। এখানে ‘শত্রুর শত্রু আমার বন্ধু’ নীতিটি প্রকট। সুন্নিরা দেখছে, কথিত ‘কাফের’ ইরানই আজ গাজা ও ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়িয়েছে, অথচ অনেক সুন্নি আরব রাষ্ট্র নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। এই দৃশ্যপটই বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ইরানের প্রতি একটি কৃত্রিম কিন্তু শক্তিশালী ধর্মীয় আবেগ তৈরি করেছে।
আরব বিশ্বের অনীহা ও রাজনৈতিক মেরুকরণ: আমরা অনেকেই লক্ষ্য করি না যে, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব বা বাহরাইনের মতো সুন্নি রাষ্ট্রগুলো ইরানকে চরম সন্দেহের চোখে দেখে। এর কারণ কেবল ধর্মীয় নয়, বরং ভূ-রাজনৈতিক। ইরান তার ‘বিপ্লব’ রপ্তানি করতে চায় এবং মধ্যপ্রাচ্যে শিয়া আধিপত্য বিস্তার করতে চায়-এমন একটি ভয় আরব রাজতন্ত্রগুলোর মধ্যে প্রবল। বিশেষ করে হুতি বিদ্রোহী, হিজবুল্লাহ এবং ইরাকের মিলিশিয়াদের মাধ্যমে ইরান যেভাবে প্রভাব বাড়াচ্ছে, তাতে সংযুক্ত আরব আমিরাত বা সৌদি আরব নিজেদের অস্তিত্বের সংকট দেখছে। ফলে তারা অনেক সময় ইরানের চেয়ে ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করাকেই নিরাপদ মনে করছে। অথচ বাংলাদেশে বসে আমরা কেবল ধর্মীয় চশমা দিয়ে বিচার করছি, যেখানে আরবরা বিচার করছে জাতীয় নিরাপত্তা ও ক্ষমতার ভারসাম্য দিয়ে।
জাতীয় স্বার্থ ও আমাদের হুরমুজ সংকট: সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, আমাদের এই আবেগ অনেক সময় জাতীয় স্বার্থকেও ছাপিয়ে যায়। হুরমুজ প্রণালী দিয়ে আমাদের পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে যখন ইরান বাধা দেয় বা অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তখন বাংলাদেশে তেমন কোনো প্রতিবাদ দেখা যায় না। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে প্রশ্ন জাগে-আমাদের কাছে দেশের মর্যাদা বড়, না কি একটি নির্দিষ্ট দেশের ধর্মীয় পরিচিতি বড়? হুরমুজ প্রণালীতে বাংলাদেশি জাহাজের হয়রানি আমাদের অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। কিন্তু ইরানের প্রতি অন্ধ আবেগের কারণে এই বিষয়গুলো জনসমক্ষে আলোচনাতেই আসে না।
ধর্মীয় অনুভূতি অবশ্যই ব্যক্তিগত ও পবিত্র। কিন্তু সেই অনুভূতি যখন ভূ-রাজনীতির জটিল সমীকরণে ব্যবহৃত হয়, তখন সেখানে স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন। শিয়ারা যদি সুন্নিদের দৃষ্টিতে কাফেরই হয়, তবে তাদের কর্মকান্ডকে কেন ‘ইসলামী বিজয়’ হিসেবে দেখা হবে? আবার যদি তারা ভাই হয়, তবে আরব রাষ্ট্রগুলোর সাথে তাদের কেন এই রক্তক্ষয়ী বিরোধ? বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষকে বুঝতে হবে যে, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কেবল ফতোয়া দিয়ে চলে না। এখানে প্রতিটি দেশ নিজের স্বার্থ দেখে। আমাদের আবেগ যেন এমন না হয় যা দেশের স্বার্থকে ছোট করে আর বিদেশের সংকীর্ণ স্বার্থকে মহান করে তোলে। আবেগ ও বিবেকের সঠিক সমন্বয়ই কেবল আমাদের এই দ্বিচারিতা থেকে মুক্তি দিতে পারে। লেখক: গবেষক ও কলামিস্ট

Ads small one

বিআরটিএ উদ্যোগে সাতক্ষীরায় পেশাজীবী গাড়িচালকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৩ অপরাহ্ণ
বিআরটিএ উদ্যোগে সাতক্ষীরায় পেশাজীবী গাড়িচালকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা

সংবাদদাতা: বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সাতক্ষীরা সার্কেলের উদ্যোগে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে পেশাজীবী গাড়িচালকদের দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে সাতক্ষীরা শহরের অদূরে টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

এই কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল পেশাজীবী গাড়িচালকদের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএ খুলনা বিভাগীয় পরিচালক (অ:দা:) প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ। তিনি সড়ক দুর্ঘটনা রোধ এবং সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক দিক নির্দেশনা প্রদান করেন।

প্রশিক্ষক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএ সাতক্ষীরা সার্কেলের সহকারী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জমির হোসেন, পুলিশ পরিদর্শক (ট্রাফিক) মোঃ আরজু হোসেন, মোটরযান পরিদর্শক মোঃ ওমর ফারুক এবং উচ্চমান সহকারী মোঃ নাসির উদ্দিন।

প্রধান প্রশিক্ষক প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ তার বক্তব্যে বলেন, “সড়কে গাড়িচালকদের সচেতনতা এবং দক্ষতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। সড়ক দুর্ঘটনা রোধ ও সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ গ্রহণৎ করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “পেশাজীবী গাড়িচালকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চালকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে এবং এটি দেশের সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ করে তুলবে।”

মোটরযান পরিদর্শক মোঃ ওমর ফারুক সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায করেন। কর্মশালায় বিভিন্ন শ্রেণীর পেশাজীবী চালকগণ অংশ গ্রহণ করেন, যাদের মধ্যে অনেকেই কর্মশালা শেষে নিজেদের অভিজ্ঞতা এবং মতামত শেয়ার করেন।

এই কর্মশালার মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চালকদের ভূমিকা এবং তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। বিআরটিএ আশা করছে যে এই ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা দেশের সড়ক নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

আইপি ইমপোর্ট পারমিট বাতিল: বেনাপোল বন্দর দিযে ভারতীয় ইলিশ আমদানি বন্ধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৭ অপরাহ্ণ
আইপি ইমপোর্ট পারমিট বাতিল: বেনাপোল বন্দর দিযে ভারতীয় ইলিশ আমদানি বন্ধ

এম এ রহিম, বেনাপোল (যশোর): আইপি বা এনওসি ইমপোর্ট পারমিট বাতিল করায় বেনাপোল স্থল বন্দর দিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য ভারতীয় ইলিশ আমদানি বানিজ্য বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে গতকাল থেকে ভারতীয় কোন ইলিশের চালান বাংলাদেশে আসেনি বলে নিশ্চিত করেছেন বেনাপোল বন্দর মৎস্য পরিদর্শক আস ওয়াদুল আলম।

মৎস্য কর্মকর্তা জানান. মঙ্গলবার বংলাদেশ মৎস্য অধিদফতর ইলিশ আমদানির ১০৩টি অনাপত্তি সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন। ফলে ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে।

মৎস্য অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর ১০৩টি অনাপত্তি সনদ বাতিল করা হয়। এরপর থেকেই ভারত থেকে ইলিশ আমদানির প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে।

বেনাপোল আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া জানান, ভারতীয কর্তৃপক্ষ ইলিশ রফতানিতে কোন নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। তবে বাংলাদেশ মৎস্য অধিদফতরের একটি চিঠিতে অনেকগুলো অনাপত্তি সনদ বাতিল করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তে ইলিশ আমদানি বন্ধ রয়েছে। তবে অন্য সাদা মাছ আমদানি সচল থাকবে বলে জানান তিনি।

ইলিশ আমতানির সাথে সংশ্লিষ্টরা জানান, হঠাৎ করে আমদানি বন্ধ করায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।

 

 

 

 

কয়রা উপকূলেও বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, ২০ দিনে হাসপাতালে ভর্তি ৩৮

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪০ অপরাহ্ণ
কয়রা উপকূলেও বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, ২০ দিনে হাসপাতালে ভর্তি ৩৮

জি এম রিয়াজুল আকবর, কয়রা (খুলনা): খুলনার সুন্দরবনবেষ্টিত কয়রা উপজেলায় বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় রেফার করা হয়। অন্যরা চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ২০ দিনে হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ৩৮ জন। তাদের মধ্যে ৩০ জন পুরুষ ও আটজন নারী। আক্রান্তদের মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু রয়েছে দু’জন। গেল আগস্ট মাসে ১৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেয়। মোট ৫৭ জন রোগীর মধ্যে ১০ জনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। আর ৪৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায়। এছাড়া অনেকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগ থেকে জ্বরসহ ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে যান। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

২০ সেপ্টেম্বর সরেজমিন হাসপাতালে যেয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে হাত-পা ব্যবহার করছে রোগীর স্বজনরা। বারান্দায় ও কেবিনের সামনে কয়েকজন রোগীর দেখা মেলে।
রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শহরে কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত অনেকেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কয়রায় ফিরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পাশাপাশি কয়রায় স্থায়ীভাবে বসবাসকারীরাও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন। হাসপাতালে যেয়ে পাঁচজন রোগীর দেখা মেলে। ওইদিন একজনকে খুলনায় রেফার্ড করা হয়।

হাসপাতালে ভর্তি মদিনাবাদ গ্রামের শাহিন বলেন, ‘বাড়িতে থেকেই কাজকর্ম করি। পাঁচ দিন ধরে জ্বরে ভুগছি। প্রথমে গ্রাম্য চিকিৎসকের কাছ থেকে চিকিৎসা নিয়েছি। পরে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। এখানে শয্যা সংকট থাকায় ফ্লোরে থাকতে হচ্ছে। প্রায় সময় বিদ্যুৎ থাকে না। গরমে খুব কষ্ট হচ্ছে। এর মধ্যে প্লাটিলেটও কমে যাচ্ছে।’

সোহেল নামে এক রোগীর পিতা বলেন, হাসপাতালে প্রায় সময় বিদ্যুৎ থাকে না। খাওয়ার পানিরও ব্যবস্থা নেই। বাইরে থেকে পানি কিনে খেতে হচ্ছে। ডেঙ্গু পরীক্ষা ছাড়া অন্যান্য পরীক্ষা করাতে বাইরে যেতে হচ্ছে। তাঁর প্লাটিলেট ৪৯ হাজারে নেমে গেছে বলেও জানান তিনি। দিনমজুরের কাজ করা ওই রোগী আক্ষেপ করে জানান, বাইরে থেকে বিভিন্ন পরীক্ষা ও পানি কেনার খরচ জোগাড় করতে তাঁকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

কালনা গ্রামের মাসুরার ভাষ্য, সাড়ে চার বছরের শিশুকে নিয়ে দুইদিন আগে ভর্তি হয়েছি। শরীরে ১০৫ জ্বর; বাথরুম হচ্ছে। শিশু বিশেষজ্ঞ না থাকায় ঠিকমতো চিকিৎসা পাচ্ছি না। পরীক্ষা বাইরে থেকে করতে হচ্ছে।

এদিকে, হাসপাতালের ৩১ শয্যার মূল ভবন নির্মাণের কাজ কয়েক বছর বন্ধ রয়েছে। ঠিকাদার পালিয়ে যাওয়ার পরে পুনরায় টেন্ডার হয়েছে। তবে এখনো কাজ শুরু হয়নি।

কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজাউল করিম বলেন, ‘হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পুরুষ ও নারী রোগীদের আলাদা শয্যা নির্ধারিত রয়েছে। জ্বরের রোগীদের পরীক্ষার জন্য ঘঝ১ টেস্টের কিট রয়েছে এবং বিনামূল্যে পরীক্ষা করা হচ্ছে। আইভি স্যালাইনও পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে।”

তিনি আরো জানান, ৩১ শয্যার মূল ভবন নির্মাণাধীন রয়েছে। ১৯ শয্যার ভবনে কার্যক্রম চালাতে হিমসিম খাচ্ছেন। আর প্যাথলজিস্ট না থাকায় বাইরে থেকে রোগীদের অন্যান্য পরীক্ষা করা লাগছে।