মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

শ্যামনগরে জমিজমি নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে ১৪জন আহত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৩৮ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে জমিজমি নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে ১৪জন আহত

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নারী ও শিশুসহ ১৪জন আহত হয়েছে। বুধবার সকালে পৌরসভার গোমানতলী এলাকায় এঘটনা ঘটে। আহতরা হলো গুমানতলী গ্রামের মো. আজিজুল গাজী, আজবাহার গাজী, আকবর আলী গাজী, সিদ্দিক গাজী, জাহানারা বেগম, তাসলিমা খাতুন, আজগার আলী, আমেনা খাতুন, ফজলুর রহমান, নাছিম হোসাইন ও আবু ইছা। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত ১১ জনকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকিরা শ্যামনগর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

স্থানীয়রা জানায় আজিজুল গাজী ও তার প্রতিবেশী নজরুল গাজীর পরিবারের মধ্যে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত বিরোধ চলছে। তার জেরে বুধবার সকালে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে আইজুল গাজীদের পক্ষের ১১জন নজরুল গাজীদের পক্ষের ৩জন গুরুতর আহত অবস্থায় শ্যামনগর হাসপাতালে ভর্তি হয়।

আহত ফজলু গাজী বলেন, নজরুল গাজী ও মোশারাফসহ দেশীয় অস্ত্রধারী ১০-১২ জনের একটি দল আকবর গাজী ও সিদ্দিক গাজীকে গুমানতলি গাজী বাড়ি মসজিদের সামনে ফেলে বেধড়ক মারধর করে। এরপর রাস্তার উপর এসে আজিজুল গাজী ও আজবাহার গাজীকেও ব্যাপক মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেয় হাত ভেঙে দেয়। সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের বাড়িতে হামলা করে এবং পর্যায়ক্রমে ১১জনকে মারধর করে। দা, সাবল, চায়নিচ কুরাল দিয়ে ৫ জনের মাথায় কোপানোর পাশাপাশি কয়েক জনের হাত ভেঙ্গে দেয়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করে।

শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরী বিভাগের দায়িত্বরত ডাঃ স্নিগ্ধা বলেন, মারামারি সংক্রান্ত ১৪জন রোগী ভর্তি হয়েছিল। গুরুতর অবস্থা হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ১১জনকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে মর্জিনা ও মোশাররফ বাদে অন্যদের কয়েজনের মাথায় গুরুতর জখম হয়েছে। বাকি ৪জন এখানে চিকিৎসাধীন আছেন।

এবিষয়ে শ্যামনগর থানা অফিসার ইনচার্জ মো. খালেদুর রহমান বলেন, জমি জমা সংক্রান্ত মারামারির বিষয়টি শুনেছি এ বিষয়ে এখনো কেউ অভিযোগ করেনি লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Ads small one

সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে কলারোয়ায় রাস্তার ওপর পাকা ঘর নির্মাণের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১:০১ পূর্বাহ্ণ
সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে কলারোয়ায় রাস্তার ওপর পাকা ঘর নির্মাণের অভিযোগ

সংবাদদাতা: কলারোয়া উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের ধানদিয়া এলাকায় সরকারি রাস্তার জমি দখল করে অবৈধভাবে পাকা ঘর নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে কাজ বন্ধ রাখার এবং নির্মিত অবকাঠামো অপসারণের চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হলেও তা তোয়াক্কা না করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
সোমবার (৮ জুন) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, স্থানীয় বাসিন্দা ইউনুছ আলীর পরামর্শে অভিযুক্ত জহুরুল ইসলাম তিনজন নির্মাণশ্রমিক নিয়ে কাজ করাচ্ছেন। কাজের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা দাবি করেন, আদালত তাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন। তবে রায়ের কোনো অনুলিপি তারা দেখাতে পারেননি।
ভূমি অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধানদিয়া এলাকার শেখ খোরশেদ আলী তাঁর নিজস্ব জমি সংলগ্ন সরকারি রাস্তার জায়গা দখল ও পাকা ঘর নির্মাণের বিরুদ্ধে ভূমি অফিসে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে জয়নগর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার গাইন অভিযুক্ত জহুরুল ইসলাম ও ইউনুছ আলীকে কাজ বন্ধ করার জরুরি নোটিশ দেন। নোটিশে নিজ খরচে অবকাঠামো অপসারণের নির্দেশ থাকলেও বিবাদী পক্ষ তা অমান্য করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
তফসিল অনুযায়ী, বিতর্কিত সম্পত্তিটি ধানদিয়া মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের আরএস ১৬১২ নম্বর দাগের ০.০৫ একর সরকারি রাস্তার জমি।
ভূমি অফিসের নোটিশ ছাড়াও এই জায়গা নিয়ে আদালতে ১৮৮ ধারার একটি মামলা (নং- পি ৪৫৩/২৬) চলমান রয়েছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আদেশে কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে এবং আগামী ২৩ জুন পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও গত দুদিন ধরে কাজ চলছে। বিষয়টি কলারোয়া থানার ওসিকে জানানো হলে তিনি বলেন, “আমি তো থানা থেকে পুলিশ পাঠিয়েছি। আর কতবার পাঠাবো?” এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য কলারোয়া থানার ওসির মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
অভিযুক্ত ইউনুছ আলী বলেন, “ম্যাপ করার সময় ভুলবশত রাস্তা আমাদের জমির মধ্যে ঢুকে গেছে।” সরকারি এই রাস্তাটি ১৪ ফুট চওড়া থাকার কথা স্বীকার করলেও তাঁর নির্মাণাধীন ঘরের কারণে রাস্তার পরিমাপ ঠিক থাকছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রওশন আলী গাজী বলেন, “সরকারি রাস্তার ওপর ঘর তৈরি করতে আমি নিজে ইউনুছ ও জহুরুলকে অনেকবার নিষেধ করেছি। তারা আইন মানে না। নিজেদের ইচ্ছামতো যা ইচ্ছা তাই করে। লোকবল আছে বলে তারা কোনো নিয়ম মানতে চায় না। এ রাস্তা নিয়ে অনেকবার সালিস হলেও তারা তা মানেনি।”
সার্বিক বিষয়ে বক্তব্যের জন্য কলারোয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুল ইসলামের মুঠোফোনে গত দুদিনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ধুলিহরে দুটি টিউবওয়েল স্থাপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ
ধুলিহরে দুটি টিউবওয়েল স্থাপন

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নে বিশুদ্ধ পানির সংকট দূর করতে দুটি নলকূপ (টিউবওয়েল) স্থাপন করা হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) আসরের নামাজের পর ধুলিহর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর কেন্দ্রীয় মাঞ্জেখানা মসজিদ ও বালুইগাছা আল মদিনা জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে এই নলকূপ দুটির উদ্বোধন করা হয়।
ব্রহ্মরাজপুর ও ধুলিহর ইসলামী সমাজকল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় মুসল্লি ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা ও জার্মানপ্রবাসী জুলফিকার হায়দার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা সিটি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও পরিষদের আহ্বায়ক শেখ আব্দুল ওয়াদুদ। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিষদের সদস্য শামীম সানা, আব্দুল হাকিম, আতাউর রহমান রিংকু ও মেহেদী হাসান শিমুল। অনুষ্ঠান শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন ব্রহ্মরাজপুর ও ধুলিহর ইসলামী সমাজকল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মনিরুল ইসলাম ফারুকী।

দেবহাটায় শাশুড়িকে হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি দেড় মাসেও গ্রেপ্তার হননি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ
দেবহাটায় শাশুড়িকে হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি দেড় মাসেও গ্রেপ্তার হননি

নিজস্ব প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলায় শাশুড়িকে চেতনানাশক স্প্রে করে এবং চাকু দিয়ে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার মামলার একমাত্র আসামি আসাদুল ইসলাম (৩৮) ঘটনার দেড় মাস পরও গ্রেপ্তার হননি। মামলা হওয়ার পরও আসামি ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। উপরন্তু মামলা তুলে নিতে আসামিপক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মামলা ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জানুয়ারি দেবহাটার নাজিরের ঘের গ্রামের নুর ইসলাম সানার মেয়ে নার্গিস খাতুনের (৩৬) সঙ্গে বিয়ে হয় কাশিপুর গ্রামের আইজুদ্দীন মোড়লের ছেলে আসাদুল ইসলামের। দাম্পত্য জীবনে তাঁদের এক কন্যা সন্তান রয়েছে এবং ঘটনার সময় নার্গিস ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকসহ বিভিন্ন পারিবারিক কারণে নার্গিসের ওপর নির্যাতন চলত।
অভিযোগে বলা হয়, গত এপ্রিল মাসে অন্তঃসত্ত্বা নার্গিসকে মারধর করা হলে তাঁর বাবা-মা মেয়েকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আসাদুল ওই রাতেই শ্বশুরবাড়িতে চড়াও হন। সেখানে শাশুড়ি আদুরীনেছাকে (৭০) একা পেয়ে চেতনানাশক স্প্রে করে অচেতন করেন এবং চাকু দিয়ে কুপিয়ে চোখ ও মুখম-লসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা চালান। পরে বৃদ্ধাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে সখিপুর হাসপাতাল এবং পরে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, ঘটনার পর দেবহাটা থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। পরে আদালতের নির্দেশে ঘটনার ২০ দিন পর দেবহাটা থানা মামলাটি (সিআর ৮৭/২৬) রেকর্ড করে। তবে মামলা দায়েরের দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও আসাদুলকে গ্রেপ্তার হয়নি।
এদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) উপপরিদর্শক (এসআই) তুহিন বাওয়ালী দেবহাটা থানা থেকে বদলি হওয়ায় তদন্ত কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে ঘটনার সময় অন্তঃসত্ত্বা থাকা নার্গিস খাতুন সম্প্রতি একটি সন্তানের জন্ম দিলেও আসামি আসাদুল সন্তান বা স্ত্রীর কোনো খোঁজ নেননি।
নার্গিস খাতুনের বৃদ্ধ বাবা নুর ইসলাম সানা (৭৮) বলেন, “আমরা এখন জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে দিন কাটাচ্ছি। আমার স্ত্রীকে যে মানুষটা কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে, সে এখন বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং আমাদের মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। দেড় মাস হয়ে গেল অথচ পুলিশ তাকে ধরছে না। আমরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও নিরাপত্তা চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্যের জন্য অভিযুক্ত আসাদুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আলিম বলেন, মামলাটিতে একজন আসামি এবং এর মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আসামি যদি বাদী পক্ষকে কোনো ধরনের হুমকি দিয়ে থাকে, তবে থানায় এসে জানালে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।