মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

সন্তানকে বিবাহ-উপযুক্ত করে গড়ে তোলা: অভিভাবকের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ১০:১৬ অপরাহ্ণ
সন্তানকে বিবাহ-উপযুক্ত করে গড়ে তোলা: অভিভাবকের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব

সাকিবুর রহমান বাবলা

পরিবার মানবসমাজের আদি প্রতিষ্ঠান। আর এই সামাজিক প্রতিষ্ঠানের ভিত্তি রচিত হয় বিবাহ বন্ধনের মাধ্যমে। বিবাহ কেবল দুই ব্যক্তির একত্রে বসবাসের বিষয় নয়; এটি পারস্পরিক দায়িত্ব, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি সামাজিক ও নৈতিক বন্ধন। তাই সন্তানকে বিবাহ-উপযুক্ত করে গড়ে তোলা অভিভাবকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, যা শুধু আর্থিক প্রস্তুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং নৈতিক, মানসিক, সামাজিক ও মানবিক বিকাশের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।

বর্তমান সমাজে আর্থিক ও শিক্ষার প্রসার ঘটলেও পারিবারিক মূল্যবোধ, সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও দায়িত্বশীলতার চর্চা অনেক ক্ষেত্রে দুর্বল হয়ে পড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে দাম্পত্য জীবনেও। অল্প সময়ের মধ্যে পারিবারিক কলহ, বিচ্ছেদ, পারস্পরিক অবিশ্বাস ও সামাজিক অস্থিরতার ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব সমস্যার একটি বড় কারণ হলো বিবাহের পূর্বে যথাযথ মানসিক ও সামাজিক প্রস্তুতির অভাব।

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিবাহ একটি পবিত্র ও মর্যাদাপূর্ণ বন্ধন। পবিত্র কুরআনে দাম্পত্য জীবনকে শান্তি, ভালোবাসা ও মমতার ক্ষেত্র হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ইসলাম মানুষকে দায়িত্বশীল, চরিত্রবান ও নৈতিকতাসম্পন্ন হওয়ার শিক্ষা দেয়, যা একটি সফল বৈবাহিক জীবনের মৌলিক শর্ত। একইভাবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ বিশ্বের অন্যান্য ধর্মেও বিবাহকে একটি দায়িত্বপূর্ণ সামাজিক ও আধ্যাত্মিক সম্পর্ক হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। সব ধর্মের মূল শিক্ষা হলো—মানুষকে মানবিক, ন্যায়পরায়ণ ও কর্তব্যপরায়ণ করে গড়ে তোলা।

সন্তানকে বিবাহ-উপযুক্ত করার ক্ষেত্রে অভিভাবকের প্রথম কাজ হলো চরিত্র গঠন। কেবল ডিগ্রি অর্জন বা চাকরি পাওয়া একজন মানুষকে পরিপূর্ণ করে না। সততা, আত্মসম্মানবোধ, সহনশীলতা, শৃঙ্খলা, পারিবারিক দায়িত্ববোধ এবং অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাÑএসব গুণই একজন মানুষকে প্রকৃত অর্থে পরিণত করে। যে সন্তান ছোটবেলা থেকেই পরিবারে মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায়, সে ভবিষ্যতে একজন দায়িত্বশীল জীবনসঙ্গী ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

একই সঙ্গে সন্তানকে আত্মনির্ভরশীল করে তোলা অত্যন্ত জরুরি। পরমুখাপেক্ষী মানসিকতা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর। আত্মনির্ভরশীলতা কেবল অর্থ উপার্জনের সক্ষমতা নয়; বরং নিজের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সমস্যা মোকাবিলা এবং জীবনের দায়িত্ব গ্রহণের সক্ষমতাও এর অন্তর্ভুক্ত। যে ব্যক্তি নিজের জীবনের দায়িত্ব নিতে শেখে, সে পারিবারিক জীবনেও অধিক সফল হয়।

এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য—বিবাহের জন্য কেবল বয়স যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন মানসিক পরিপক্বতা। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, সামাজিক চাপ, পারিবারিক প্রত্যাশা বা প্রচলিত রীতিনীতির কারণে যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়াই সন্তানদের বিবাহ দেওয়া হয়। এর ফলে পরবর্তী জীবনে নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হয়। তাই অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের সঙ্গে আলোচনা করা, পারিবারিক জীবন সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান প্রদান করা এবং তাদের আবেগীয় ও সামাজিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সময় দেওয়া।

বাংলাদেশের প্রচলিত আইনও বিবাহের ক্ষেত্রে পরিপক্বতা ও দায়িত্ববোধকে গুরুত্ব দিয়েছে। শিশুবিবাহ প্রতিরোধ এবং বিবাহের ন্যূনতম বয়স নির্ধারণের মাধ্যমে রাষ্ট্র একটি সুস্থ ও নিরাপদ পারিবারিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে। আইন কেবল শাস্তির বিষয় নয়; এটি সমাজের কল্যাণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষার জন্য প্রণীত একটি সামাজিক অঙ্গীকার। তাই ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি আইন সম্পর্কে সচেতনতা ও শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলাও অভিভাবকদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

বর্তমান সময়ে সন্তানদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রয়োজন অভিভাবকের সময় ও সঠিক দিকনির্দেশনা। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে অনেক পরিবারে পারস্পরিক যোগাযোগ কমে যাচ্ছে। অথচ সন্তানদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা, তাদের মানসিক অবস্থা বোঝা, নৈতিক শিক্ষা প্রদান এবং বাস্তব জীবন সম্পর্কে সচেতন করে তোলাই তাদের ভবিষ্যৎ জীবনকে অধিক সুন্দর ও স্থিতিশীল করতে পারে।

পরিশেষে বলা যায়, সন্তানকে বিবাহ-উপযুক্ত করে গড়ে তোলা কোনো একক ঘটনার বিষয় নয়; এটি একটি দীর্ঘজীবনমেয়াদি পারিবারিক ও সামাজিক প্রক্রিয়া। ধর্মীয় নির্দেশনা, মানবিক মূল্যবোধ এবং দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে সন্তানদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা শুধু একজন ভালো জীবনসঙ্গী নয়, বরং একজন দায়িত্বশীল মানুষ, সচেতন সুনাগরিক এবং মানবিক সমাজ নির্মাণের অংশীদার হতে পারে। একটি সুন্দর পরিবার থেকেই একটি সুন্দর সমাজের জন্ম হয়, আর সেই সুন্দর পরিবারের ভিত্তি নির্মাণের দায়িত্ব শুরু হয় সচেতন অভিভাবকের হাত ধরেই।

Ads small one

খুলনায় অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত, দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৬:৫৮ অপরাহ্ণ
খুলনায় অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত, দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

খুলনায় অতিবৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত, দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠান আজ (মঙ্গলবার) দিঘলিয়া উপজেলার যোগীপোল ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো: আবদুল্লাহ হারুন।

অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার যোগীপোল ও আড়ংঘাটা ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত, দুস্থ ও অসহায় ৭৫টি পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করেন।

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত সকল পরিবারের পাশে আছেন এবং সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর রাখছেন। তারই নিদের্শনায় দুর্যোগে আক্রান্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তরা যেন সরকারি সহায়তা পায় এবং তাদের পাশে থাকতে বিভাগীয় প্রশাসনকে নিদের্শনা প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এবং দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসণে কাজ করে যাচ্ছে সরকার।

খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিানে দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজন দাশ গুপ্ত, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো: আব্দুল করিম সহ স্থানীয় জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন। দিঘলিয়া উপজেলা প্রশাসন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

পরে খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি ইউনিয়নের বেলেঘাট পশ্চিমপাড়ায় অতিবৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ৭৫টি পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। তথ্যবিবরণী

দলীয় এমপির ভিডিও ভাইরাল ইস্যুতে যা বললো জামায়াত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৬:২১ অপরাহ্ণ
দলীয় এমপির ভিডিও ভাইরাল ইস্যুতে যা বললো জামায়াত

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের এক তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত খবর পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি বলছে, প্রকৃত ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে এ কথা জানান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, অতি সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের দিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নজর রাখছে।

তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে গাজী নজরুল ইসলামের নিজের বক্তব্য, তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার ভিডিও বক্তব্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে আরও খোঁজখবর ও প্রকৃত ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

তালা বাজার বণিক সমিতির সংবাদ সম্মেলন, সন্ত্রাসী হামলা ও হত্যার হুমকির অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৫:০১ অপরাহ্ণ
তালা বাজার বণিক সমিতির সংবাদ সম্মেলন, সন্ত্রাসী হামলা ও হত্যার হুমকির অভিযোগ

তালা প্রতিনিধি: তালা বাজারকে অশান্ত করার ষড়যন্ত্র, সাধারণ ব্যবসায়ীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা এবং কথিত আন্ডারগ্রাউন্ড মাফিয়া চক্রের তৎপরতার অভিযোগ তুলে তালা বাজার বণিক সমিতির উদ্যোগে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে তালা ডাকবাংলো হলরুমে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তালা বাজার বণিক সমিতির কোষাধ্যক্ষ মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, গত ২০ জুন শাহাপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. সাগর তার সিডিআই মোটরসাইকেলটি মেরামতের জন্য মেলা বাজার পাম্পসংলগ্ন ফাহিমের গ্যারেজে জমা দেন। দীর্ঘ সময় বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আনার আশ্বাস দেওয়ার পর ফাহিম দাবি করেন, মোটরসাইকেলটি চুরি হয়ে গেছে। পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, ফাহিম নিজেই মোটরসাইকেলটি চুরি করে ভাঙারি ব্যবসায়ী আব্দুল মাজেদের কাছে কেজি দরে বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে বণিক সমিতি একাধিকবার সালিশের উদ্যোগ নিলেও ফাহিম উপস্থিত হননি বলে দাবি করা হয়।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ জুলাই বণিক সমিতির সভাপতি এস এম নুরুল ইসলাম, কার্যনির্বাহী সদস্য মো. আলমগীর হোসেন এবং কোষাধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল মামুন ফাহিমের গ্যারেজে গিয়ে অভিযোগকারী সাগরের উপস্থিতিতে তার বক্তব্য গ্রহণ করেন। এ সময় ফাহিমের বাবা, খলিলনগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. আব্দুল জলিল উপস্থিত থেকে বিষয়টির সিদ্ধান্ত বণিক সমিতির ওপর ছেড়ে দেন বলে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগ করা হয়, একপর্যায়ে সভাপতি ও কার্যনির্বাহী সদস্য সাময়িকভাবে ঘটনাস্থল থেকে সরে গেলে কয়েকজন বহিরাগত যুবক সেখানে প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে একজন অস্ত্র প্রদর্শন করে নিজেকে “খুলনার গ্রেনেড বাবু” পরিচয় দিয়ে কোষাধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল মামুনকে হত্যার হুমকি দেয়। এ সময় ফাহিম একটি ভারী সাইলেন্সার রেঞ্চ দিয়ে আঘাত করতে গেলে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পাশে থাকা মামুন হাওলাদার নামে একজন আহত হন।

এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ঘটনাস্থলে ছুটে এলে হামলাকারীরা মোটরসাইকেল ফেলে অন্য মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা গুলি করে হত্যার হুমকিও দেয় বলে অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, পুলিশি তদন্ত ও স্থানীয় জনতার সহায়তায় ফাহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ঘটনায় ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। তদন্তে “গ্রেনেড বাবু” পরিচয়দানকারী ব্যক্তি খুলনা অঞ্চলের কথিত মাফিয়া “গ্রেনেড বাবু”র সহযোগী “কালা তুহিন” বলে জানতে পেরেছেন বলে দাবি করেন বক্তারা। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৪০টিরও বেশি মামলা রয়েছে এবং তিনি ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি বলেও অভিযোগ করা হয়। এছাড়া, তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে খলিলনগর ইউনিয়নের সদস্য আব্দুল জলিলের আশ্রয়ে থেকে মাদক ও চোরাচালান কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন বলেও অভিযোগ তোলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বণিক সমিতির পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে তিন দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো: ফাহিমকে রিমান্ডে নিয়ে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন, ইউপি সদস্য আব্দুল জলিলকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং কালা তুহিন ও তার সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে তালা বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

বণিক সমিতির নেতারা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি তালা বাজার ও আশপাশের এলাকায় বাইরের বিভিন্ন সন্ত্রাসী চক্রের সদস্যরা অবস্থান নিয়ে নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েছে। এসব কর্মকান্ড রোধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তালা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি এস এম নুরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক স, ম ইয়াছিন উল্লাহ,বণিক সমিতির নেতা ফারুক হোসেন, মেহেদী হাসান, আলমগীর হোসেন, হারুনসহ সমিতির অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যরা।