সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

সন্তানকে বিবাহ-উপযুক্ত করে গড়ে তোলা: অভিভাবকের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ১০:১৬ অপরাহ্ণ
সন্তানকে বিবাহ-উপযুক্ত করে গড়ে তোলা: অভিভাবকের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব

সাকিবুর রহমান বাবলা

পরিবার মানবসমাজের আদি প্রতিষ্ঠান। আর এই সামাজিক প্রতিষ্ঠানের ভিত্তি রচিত হয় বিবাহ বন্ধনের মাধ্যমে। বিবাহ কেবল দুই ব্যক্তির একত্রে বসবাসের বিষয় নয়; এটি পারস্পরিক দায়িত্ব, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি সামাজিক ও নৈতিক বন্ধন। তাই সন্তানকে বিবাহ-উপযুক্ত করে গড়ে তোলা অভিভাবকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, যা শুধু আর্থিক প্রস্তুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং নৈতিক, মানসিক, সামাজিক ও মানবিক বিকাশের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।

বর্তমান সমাজে আর্থিক ও শিক্ষার প্রসার ঘটলেও পারিবারিক মূল্যবোধ, সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও দায়িত্বশীলতার চর্চা অনেক ক্ষেত্রে দুর্বল হয়ে পড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে দাম্পত্য জীবনেও। অল্প সময়ের মধ্যে পারিবারিক কলহ, বিচ্ছেদ, পারস্পরিক অবিশ্বাস ও সামাজিক অস্থিরতার ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব সমস্যার একটি বড় কারণ হলো বিবাহের পূর্বে যথাযথ মানসিক ও সামাজিক প্রস্তুতির অভাব।

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিবাহ একটি পবিত্র ও মর্যাদাপূর্ণ বন্ধন। পবিত্র কুরআনে দাম্পত্য জীবনকে শান্তি, ভালোবাসা ও মমতার ক্ষেত্র হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ইসলাম মানুষকে দায়িত্বশীল, চরিত্রবান ও নৈতিকতাসম্পন্ন হওয়ার শিক্ষা দেয়, যা একটি সফল বৈবাহিক জীবনের মৌলিক শর্ত। একইভাবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ বিশ্বের অন্যান্য ধর্মেও বিবাহকে একটি দায়িত্বপূর্ণ সামাজিক ও আধ্যাত্মিক সম্পর্ক হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। সব ধর্মের মূল শিক্ষা হলো—মানুষকে মানবিক, ন্যায়পরায়ণ ও কর্তব্যপরায়ণ করে গড়ে তোলা।

সন্তানকে বিবাহ-উপযুক্ত করার ক্ষেত্রে অভিভাবকের প্রথম কাজ হলো চরিত্র গঠন। কেবল ডিগ্রি অর্জন বা চাকরি পাওয়া একজন মানুষকে পরিপূর্ণ করে না। সততা, আত্মসম্মানবোধ, সহনশীলতা, শৃঙ্খলা, পারিবারিক দায়িত্ববোধ এবং অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাÑএসব গুণই একজন মানুষকে প্রকৃত অর্থে পরিণত করে। যে সন্তান ছোটবেলা থেকেই পরিবারে মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায়, সে ভবিষ্যতে একজন দায়িত্বশীল জীবনসঙ্গী ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

একই সঙ্গে সন্তানকে আত্মনির্ভরশীল করে তোলা অত্যন্ত জরুরি। পরমুখাপেক্ষী মানসিকতা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর। আত্মনির্ভরশীলতা কেবল অর্থ উপার্জনের সক্ষমতা নয়; বরং নিজের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সমস্যা মোকাবিলা এবং জীবনের দায়িত্ব গ্রহণের সক্ষমতাও এর অন্তর্ভুক্ত। যে ব্যক্তি নিজের জীবনের দায়িত্ব নিতে শেখে, সে পারিবারিক জীবনেও অধিক সফল হয়।

এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য—বিবাহের জন্য কেবল বয়স যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন মানসিক পরিপক্বতা। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, সামাজিক চাপ, পারিবারিক প্রত্যাশা বা প্রচলিত রীতিনীতির কারণে যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়াই সন্তানদের বিবাহ দেওয়া হয়। এর ফলে পরবর্তী জীবনে নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হয়। তাই অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের সঙ্গে আলোচনা করা, পারিবারিক জীবন সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান প্রদান করা এবং তাদের আবেগীয় ও সামাজিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সময় দেওয়া।

বাংলাদেশের প্রচলিত আইনও বিবাহের ক্ষেত্রে পরিপক্বতা ও দায়িত্ববোধকে গুরুত্ব দিয়েছে। শিশুবিবাহ প্রতিরোধ এবং বিবাহের ন্যূনতম বয়স নির্ধারণের মাধ্যমে রাষ্ট্র একটি সুস্থ ও নিরাপদ পারিবারিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে। আইন কেবল শাস্তির বিষয় নয়; এটি সমাজের কল্যাণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষার জন্য প্রণীত একটি সামাজিক অঙ্গীকার। তাই ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি আইন সম্পর্কে সচেতনতা ও শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলাও অভিভাবকদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

বর্তমান সময়ে সন্তানদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রয়োজন অভিভাবকের সময় ও সঠিক দিকনির্দেশনা। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে অনেক পরিবারে পারস্পরিক যোগাযোগ কমে যাচ্ছে। অথচ সন্তানদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা, তাদের মানসিক অবস্থা বোঝা, নৈতিক শিক্ষা প্রদান এবং বাস্তব জীবন সম্পর্কে সচেতন করে তোলাই তাদের ভবিষ্যৎ জীবনকে অধিক সুন্দর ও স্থিতিশীল করতে পারে।

পরিশেষে বলা যায়, সন্তানকে বিবাহ-উপযুক্ত করে গড়ে তোলা কোনো একক ঘটনার বিষয় নয়; এটি একটি দীর্ঘজীবনমেয়াদি পারিবারিক ও সামাজিক প্রক্রিয়া। ধর্মীয় নির্দেশনা, মানবিক মূল্যবোধ এবং দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে সন্তানদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা শুধু একজন ভালো জীবনসঙ্গী নয়, বরং একজন দায়িত্বশীল মানুষ, সচেতন সুনাগরিক এবং মানবিক সমাজ নির্মাণের অংশীদার হতে পারে। একটি সুন্দর পরিবার থেকেই একটি সুন্দর সমাজের জন্ম হয়, আর সেই সুন্দর পরিবারের ভিত্তি নির্মাণের দায়িত্ব শুরু হয় সচেতন অভিভাবকের হাত ধরেই।

Ads small one

জামায়াতকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই’: সংসদ সদস্য মুহা. আব্দুল খালেক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৯ পূর্বাহ্ণ
জামায়াতকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই’: সংসদ সদস্য মুহা. আব্দুল খালেক

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেছেন, অন্যায়ের কাছে সাতক্ষীরার মানুষ কখনো মাথা নত করেনি এবং ভয় দেখিয়েও তাঁদের দমানো যাবে না।

সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে সাতক্ষীরা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের আমতলা মোড়ে জুলাই শহীদদের স্মরণ, তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আব্দুল্লাহ মোনার সভাপতিত্বে ও ওয়ার্ড জামায়াতের আমির মো. জিয়ারুল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, নায়েবে আমির শেখ নূরুল হুদা, সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মাহবুবুল আলম ও পৌর জামায়াতের আমির মো. জাহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আরও বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে এলাকার কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতির কাছে তিনি মাথা নত করবেন না। সম্প্রতি সংসদে সাতক্ষীরায় রেললাইন স্থাপন, সুন্দরবন টেক্সটাইল মিল পুনরায় চালু, পৌরসভার আধুনিকায়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সড়ক কাঠামোর উন্নয়নের দাবি তুলে ধরা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি ‘জুলাই সনদ’ দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেন। অনুষ্ঠান শেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও দেশের শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।

ভারি বৃষ্টিতে ভাঙা রাস্তা মেরামত ও পানি নিষ্কাশনে আনসার-ভিডিপি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ
ভারি বৃষ্টিতে ভাঙা রাস্তা মেরামত ও পানি নিষ্কাশনে আনসার-ভিডিপি

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুর উপজেলায় ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের দত্তনগর গ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে রাস্তা ভেঙে যায়। বিষয়টি গত শুক্রবার উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা মো. মিয়াজান আলীকে জানানো হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে যশোর জেলা কমান্ড্যান্ট মাজহারুল ইসলাম ভূঁইয়াকে অবহিত করেন। জেলা কমান্ড্যান্টের পরামর্শে আনসার সদস্যদের স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে রাস্তা মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই লক্ষ্যে সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের দলনেতা তালিব হোসাইন ও ২ নম্বর সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের দলনেতা আলী হোসেন প্লাটুনভুক্ত ভিডিপি সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে রাস্তা মেরামত ও পাইপ বসিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেন।
এ সময় উপস্থিত থেকে সাধুবাদ জানান সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান গাজী গোলাম মোস্তফা। আনসার-ভিডিপির এই স্বেচ্ছাশ্রম ও সামাজিক কাজের প্রশংসা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা মিয়াজান আলী জানান, যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে তাঁর দল ও সদস্যরা সবসময় প্রস্তুত রয়েছেন।

প্রান্তিক যুব সংঘের সভায় জলাবদ্ধতা নিরসনে মানববন্ধনের সিদ্ধান্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ
প্রান্তিক যুব সংঘের সভায় জলাবদ্ধতা নিরসনে মানববন্ধনের সিদ্ধান্ত

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার সামাজিক সংগঠন ‘প্রান্তিক যুব সংঘ’-এর জুলাই মাসের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে তিনটায় সাতক্ষীরার প্রাণনাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের সভাপতি হৃদয় ম-লের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির সাতক্ষীরা ইউনিটের লাইব্রেরি ইনচার্জ মো. আতিকুজ্জামান। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নূরজাহান খাতুন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিয়া আফরিন, বোর্ড সদস্য ও সাধারণ সদস্যরা।
সভার শুরুতে সংগঠনের চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা মানবিক ও দায়িত্বশীল সমাজ গঠনে তরুণদের সামাজিক ও পরিবেশবিষয়ক স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সভায় সাতক্ষীরা জেলার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা জানান, দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা স্থানীয় জনজীবন, কৃষি, শিক্ষা ও পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। এই সমস্যা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণে শিগগিরই একটি মানববন্ধন কর্মসূচি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবির পাশাপাশি নারীদের দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ, তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশ এবং অনলাইন নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সভায়।