মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সম্পাদকীয়/জলবায়ু ঝুঁকি ও উন্নয়ন বৈষম্য নিরসনে সাতক্ষীরার ২১ দফা দাবি অবিলম্বে পূরণ হোক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১১:৩২ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/জলবায়ু ঝুঁকি ও উন্নয়ন বৈষম্য নিরসনে সাতক্ষীরার ২১ দফা দাবি অবিলম্বে পূরণ হোক

বাংলাদেশকে বলা হয় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রথম সারির আঘাতক্ষেত্র, আর সেই আঘাতের সবচেয়ে তীব্র ও নির্মম শিকার সাতক্ষীরাসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চল। সিডর, আইলা, আম্পান থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক প্রায় প্রতিটি প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছে এই জনপদ। একদিকে ঝড়-জলোচ্ছ্বাস আর বেড়িবাঁধ ভাঙনের চিরস্থায়ী আতঙ্ক, অন্যদিকে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা ও আশঙ্কাজনক হারে লবণাক্ততার বিস্তার—সব মিলিয়ে সাতক্ষীরার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা আজ চরম সংকটে। এই বাস্তবতায় গত বুধবার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির ২১ দফা দাবিসম্বলিত স্মারকলিপি পেশের ঘটনাটি কেবল সময়ের দাবি নয়, বরং এই অঞ্চলের মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার এক যৌক্তিক আকুতি।

সাতক্ষীরা জেলাটি দেশের অর্থনীতিতে যে পরিমাণ অবদান রাখে, সেই তুলনায় এখানকার টেকসই উন্নয়নের চিত্র অত্যন্ত হতাশাজনক। স্মারকলিপিতে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী, এই জেলা বছরে প্রায় ৫ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন করে খাদ্য উদ্বৃত্ত অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। এ ছাড়া বিদেশে রপ্তানিযোগ্য ২৮ হাজার মেট্রিক টন চিংড়িসহ দেড় লাখ মেট্রিক টন মাছ, বিপুল পরিমাণ দুধ, শাকসবজি এবং বিখ্যাত আম ও কুল উৎপাদিত হয় এই মাটিতেই। ভোমরা স্থলবন্দর থেকে বছরে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার রাজস্ব এবং সুন্দরবনের মৎস্য ও বনজ সম্পদ থেকে রাষ্ট্রীয় কোষে জমা হয় বিপুল অর্থ। অথচ, অর্থনৈতিকভাবে এত অবদান রাখার পরও দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ দশক ধরে এই জেলাটি চরম উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর টেকসই অবকাঠামোর অভাবে সাতক্ষীরার গ্রামীণ কর্মসংস্থান দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে। ফলে বাড়ছে দারিদ্র্যের হার, এবং মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে হাজার হাজার মানুষ জলবায়ু শরণার্থী হয়ে ভিড় করছেন সাতক্ষীরা পৌর এলাকায় কিংবা পাড়ি জমাচ্ছেন অন্য জেলায়। একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ অঞ্চলের মানুষের জন্য এই বাধ্যবাধকতার চেয়ে দুঃখজনক আর কী হতে পারে?
নাগরিক কমিটির ২১ দফা দাবির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী প্রস্তাবটি হলোÑসুন্দরবন উপকূলীয় এলাকাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘দুর্যোগপ্রবণ এলাকা’ ঘোষণা করা এবং এই অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি স্বতন্ত্র ‘সুন্দরবন উপকূলীয় বোর্ড ও মন্ত্রণালয়’ গঠন করা। আমরা মনে করি, এই অঞ্চলের সংকটের ধরন দেশের মূল ভূখ-ের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। তাই এর জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ এবং একটি ডেডিকেটেড মন্ত্রণালয় থাকা অত্যন্ত জরুরি।
এ ছাড়া সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম দ্রুত চালু করা, সাতক্ষীরা থেকে মুন্সীগঞ্জ পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ, এবং ঢাকার সাথে দূরত্ব কমাতে মাওয়া-ভাঙ্গা-নড়াইল-চুকনগর-সাতক্ষীরা সড়ক বাস্তবায়ন করা এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। ভোমরা স্থলবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া এবং বসন্তপুর নদীবন্দর চালু করা গেলে তা জাতীয় অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখবে। একই সাথে এই অঞ্চলের কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য আধুনিক হিমাগার স্থাপন এবং সুন্দরবনের ওপর নির্ভরতা কমাতে আইটি পার্ক ও বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এখন সময়ের দাবি।
সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা। সিএস ম্যাপ অনুযায়ী নদী-খালের অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ এবং কপোতাক্ষ, বেতনা ও মরিচ্চাপ নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে না আনলে সাতক্ষীরার জলাবদ্ধতা দূর করা অসম্ভব। সামনেই বর্ষা মৌসুম। প্রতি বছর বর্ষা এলেই বেড়িবাঁধ ভাঙন আর জলাবদ্ধতায় মানুষের ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষেত ভেসে যায়। আমরা আশা করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সাতক্ষীরার সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবদান এবং ভৌগোলিক ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে এই ২১ দফা দাবি অত্যন্ত সহানুভূতির সাথে বিবেচনা করবেন এবং আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই উপকূলের মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। সাতক্ষীরার মানুষকে আর ‘জলবায়ু শরণার্থী’ হিসেবে দেখতে চায় না দেশ।

Ads small one

সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্তে কঠোর সতর্কাবস্থায় বিজিবি-জনতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৪:৪৫ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্তে কঠোর সতর্কাবস্থায় বিজিবি-জনতা

আরিফ মাহমুদ: ভারত থেকে অবৈধভাবে পুশইন ঠেকাতে সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্তে বিজিবির পাশাপাশি সতর্ক অবস্থানে সাধারণ জনতা। কিছু সীমান্তে বিজিবি ও এলাকাবাসীর যৌথ পাহারার খবর পাওয়া গিয়েছে। সম্প্রতি কলারোয়া সীমান্তের ওপারে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণা জেলার স্বরূপনগর থানার হাকিমপুরসহ কয়েকটি সীমান্তে অবৈধভাবে পুশইন করতে বহু নারী-পুরুষকে জড়ো করা হয় বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ পায়। এরই জের ধরে কলারোয়া সীমান্তজুড়ে কঠোর টহল, নজরদারী ও অবস্থান জোরদার করে বিজিবি। বিভিন্নভাবে বিজিবিকে সহায়তা করছেন স্থানীয় জনতাও।

বছরের পর বছর উপজেলার ১৭ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকাটি মাদক ও চোরাকারবারীদের কাছে বিভিন্ন চোরাচালান, অবৈধভাবে মানুষ যাতায়াতের জন্য নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহৃত বলে জানা যায়। এর সাথে যোগ হয়েছে সম্প্রতি পুশইনশংকা। ফলে সতর্কাবস্থনে বিজিবিসহ বিভিন্ন সংস্থা। উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন স্থলভাগ ও নদী দ্বারা ভারতের সাথে বিভক্ত। এর মধ্যে কেঁড়াগাছি ইউনিয়নের সিংহভাগ ও সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের পুরোটা সোনাই নদী দ্বারা ভারতের সাথে বিভক্ত, আর চন্দনপুর ইউনিয়নের কিছু অংশ ইছামতি নদী ও বাকী অংশ স্থলভাগে বিভক্ত।

 

নদী সীমান্তের চেয়ে তুলনামূলক স্থলভাগ দিয়ে পুশইন সম্ভাবনা বেশি থাকায় উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের হিজলদী, সুলতানপুর ও গোয়ালপাড়ার স্থল সীমান্তে বিজিবির টহল ও তদারকি জোরদার করা হয়েছে।

 

বিজিবির সুলতানপুর বিওপির কমান্ডার নায়েক সুবেদার কামরুজ্জামান জানান, ইতোমধ্যে ওই বিওপির অধীনে সাড়ে ৪ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। জনগণকে সাথে নিয়ে যেকোন অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ করতে সার্বক্ষণিক কঠোর নজরদারী অব্যাহত রয়েছে।

সুলতানপুর ইউপি সদস্য হুমায়ুন কবীর জানান, হ্যান্ড মাইকে সতর্কতা, সীমান্তে বিজিবি ও এলাকাবাসীর যৌথ পাহারা, রাতে টর্চলাইটের আলো এবং কঠোর অবস্থান রয়েছে।

সাতক্ষীরা, ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের মিডিয়া ইনচার্জ সার্জেন্ট মিলন জানান, এখন পর্যন্ত সাতক্ষীরা সীমান্তে অবৈধ পুশইন রোধ করতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।

সাতক্ষীরায় জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিবের সঙ্গে ছাত্রদল নেতাদের শুভেচ্ছা বিনিময়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৪:৪০ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিবের সঙ্গে ছাত্রদল নেতাদের শুভেচ্ছা বিনিময়
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন ছাত্রদলের নেতারা।
মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুর ১টায় জেলা পরিষদের প্রশাসকের কার্যালয়ে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহিন ইসলামের নেতৃত্বে এ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মাসুদুল আলম, দিবা-নৈশ কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব তামিম রশিদ, সিটি কলেজ ছাত্রদল নেতা মাহমুদুল হাসান, সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আকবর হোসেন, আশাশুনি উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মিয়ারাজ হোসেন, শহর ছাত্রদলের সদস্য শরিফুল ইসলাম এবং ছাত্রনেতা মো. গোলাম রাব্বি।
শুভেচ্ছা বিনিময়কালে জেলা প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেম, সামাজিক দায়িত্ববোধ ও ইতিবাচক রাজনৈতিক চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, তরুণদের মাদক, সন্ত্রাস ও অপসংস্কৃতি থেকে দূরে থেকে শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ এবং সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার পাশাপাশি নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনের মাধ্যমে আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

কলারোয়ায় দুটি ডায়গনস্টিক সেন্টারকে জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৪:৩৬ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় দুটি ডায়গনস্টিক সেন্টারকে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কলারোয়ায় দুটি ডায়গনস্টিক সেন্টারকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।
মঙ্গলবার দুপুরে কলারোয়া হাসপাতাল রোডে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম।

তিনি জানান, লাইসেন্স নবায়ন না থাকা, অপরিচ্ছন্নতাসহ বিভিন্ন কারণে মিতালী ডায়গনস্টিক সেন্টারকে ২০হাজার টাকা ও ডক্টরস ডিজিটাল ল্যাবকে ৫হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এসময় কলারোয়া থানার ওসি এইচএম শাহীন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.শফিকুল ইসলাম, বেঞ্চ সহকারী আব্দুল মান্নানসহ সংশ্লিষ্ট অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।