অনাবৃষ্টি ও তাপদাহে কপিলমুনিতে চিংড়িতে মড়ক, দিশেহারা চাষিরা
কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কপিলমুনিতে অনাবৃষ্টি ও তীব্র তাপদাহের কারণে বাগদা চিংড়ি চাষে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। উপজেলার অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি ও নিবিড় চিংড়ি চাষ এলাকা হিসেবে পরিচিত কপিলমুনির ঘেরগুলোতে মড়ক দেখা দেওয়ায় চাষিদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। এই সংকটের কারণে অঞ্চলের অর্থনীতিতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বছরের শুরুতেই অধিকাংশ ঘেরে বাগদা চিংড়ি মারা যাচ্ছে। স্থানীয় চাষিরা জানান, সাধারণত মৎস্য ঘেরে এক ধরনের কাটা শেওলা জন্মায়, যা বাগদা চিংড়ির প্রধান প্রাকৃতিক খাদ্য ও পুষ্টি জোগায়। কিন্তু এবার দীর্ঘদিনের অনাবৃষ্টি ও তীব্র গরমের কারণে ঘেরে এক ধরনের ক্ষতিকর পোকার প্রাদুর্ভাব ঘটেছে, যা এই শেওলা কেটে উজাড় করে দিচ্ছে। ফলে একদিকে তীব্র খাদ্য সংকট, অন্যদিকে পানির অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও লার্ভা (রেণু) ছাড়ার অনুপযোগী পরিবেশের কারণে চিংড়ি চাষিদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে।
কাশিমনগর এলাকার চিংড়ি চাষি পরিমল দাশ জানান, অতীতে চিংড়ি চাষে কোনো কারণে ক্ষতি হলে এ সময়ে ঘেরে সাদা মাছের পোনা ছেড়ে চাষিরা ক্ষতি পুষিয়ে নিতেন। কিন্তু এবার বৃষ্টি না হওয়ায় পানিতে লবণাক্ততার পরিমাণ এতটাই বেড়েছে যে অতিরিক্ত লবণের কারণে সাদা মাছও মারা যাচ্ছে। ফলে নতুন করে পোনা ছাড়তে সবাই আতঙ্কিত।
আনিচুর রহমান নামের আরেক চাষি জানান, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তিনি চিংড়ি চাষ করেছিলেন। কিন্তু অনাবৃষ্টির কারণে ঘেরে পানি কম ও তাপমাত্রা বেশি থাকায় রেণু ছাড়ার পরপরই তা মারা যাচ্ছে। এর ওপর গত বছরের তুলনায় এবার বাজারে চিংড়ির মূল্যও কম। এই অবস্থায় কীভাবে ব্যাংকের ঋণ শোধ করবেন এবং সংসারের খরচ চালাবেন, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি।









