শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩
শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩

সম্পাদকীয়: জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট: বিপন্ন দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি ও জনজীবন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়: জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট: বিপন্ন দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি ও জনজীবন

চলমান তীব্র তাপদাহের মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের জনজীবন এখন লোডশেডিংয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট। বিশেষ করে খুলনা, সাতক্ষীরা ও উপকূলীয় জেলাগুলোতে বিদ্যুতের এই লাগামহীন বিভ্রাট কেবল মানুষের দৈনন্দিন স্বস্তিই কেড়ে নেয়নি, বরং বড় ধরনের হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে এ অঞ্চলের প্রধান অর্থকরী খাত হিমায়িত চিংড়ি শিল্প, কৃষি এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে। পত্রপত্রিকার খবর অনুযায়ী, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম উৎস চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাগুলো এখন অস্তিত্ব সংকটে। পর্যাপ্ত বিদ্যুতের অভাবে জেনারেটর চালিয়ে উৎপাদন সচল রাখতে গিয়ে কারখানা মালিকদের প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিলের তুলনায় জেনারেটরের জ্বালানি খরচ কয়েক গুণ বেশি হওয়ায় অনেক কারখানা এখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম।

হিমায়িত চিংড়ি শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এখন সময়ের দাবি। বর্তমানে এসব কারখানাকে ডিজেল সংগ্রহের জন্য প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়। এই শিল্পকে গার্মেন্টস খাতের মতো অগ্রাধিকার দিয়ে সরাসরি ডিপো থেকে জ্বালানি সংগ্রহের সুযোগ দেওয়া এবং বিশেষ বিদ্যুৎ ফিডারের আওতায় আনা জরুরি। অন্যথায় এই রপ্তানি খাতটি বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা হারাবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে।

বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব কেবল শিল্পে সীমাবদ্ধ নেই; এটি আঘাত হেনেছে কৃষিখাতেও। বোরো চাষের এই ভরা মৌসুমে সেচ পাম্পগুলো পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না পাওয়ায় মাঠের ফসল শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ডিজেল চালিত পাম্প ব্যবহার করে সেচ দিতে গিয়ে কৃষকের উৎপাদন খরচ নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। একইভাবে, উপকূলীয় উপজেলা কয়রা, দেবহাটা ও আশাশুনিসহ বিভিন্ন এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবীদের আয় তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। ব্যাটারিচালিত যানবাহন চার্জ দিতে না পেরে নি¤œআয়ের মানুষগুলো এক মানবিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, চলমান এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ। প্রখর রোদ আর ভ্যাপসা গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে মনোযোগ ধরে রাখতে পারছে না। বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতের মূল্যবান সময়গুলোতে লোডশেডিংয়ের কারণে মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়াশোনা করা বর্তমান যুগে অকল্পনীয়। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্যমতে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অর্ধেক হওয়াটা গভীর এক সংকটের ইঙ্গিত দেয়। উৎপাদন ঘাটতি মেনে নিলেও অন্তত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সময়টুকুতে এবং সেচ মৌসুমে সুপরিকল্পিত লোডশেডিং সূচি প্রণয়ন করা একান্ত প্রয়োজন।

আমরা মনে করি, জাতীয় গ্রিডে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি জেলা পর্যায়ের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় আরও বেশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্প এলাকা এবং সীমান্তবর্তী কৃষিপ্রধান অঞ্চলগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়া সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত। বিদ্যুৎ বিভাগ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়ে অতি দ্রুত এই অচলাবস্থা নিরসন করতে হবে। নতুবা বিদ্যুৎ সংকটের এই নেতিবাচক প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতি ও আগামী প্রজন্মের শিক্ষাজীবনকে এক গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত করবে।

 

Ads small one

তালা উপজেলার কৃষ্ণকাটি গ্রামের এক পরিবার ও আর্সেনিকের ‘নীরব ঘাতক’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১:২৯ পূর্বাহ্ণ
তালা উপজেলার কৃষ্ণকাটি গ্রামের এক পরিবার ও আর্সেনিকের ‘নীরব ঘাতক’

শাহিন আলম, খলিষখালি (তালা): সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কৃষ্ণকাটি গ্রাম। বাইরে থেকে দেখলে গ্রামটি আর দশটি গ্রামের মতোই শান্ত, কিন্তু এর গভীরে লুকিয়ে আছে এক মরণব্যাধির হাহাকার। যে পানি জীবন বাঁচানোর কথা, সেই পানিই এখানে হয়ে দাঁড়িয়েছে মৃত্যুর কারণ। গত দুই দশকে এই গ্রামে আর্সেনিকজনিত রোগে অন্তত ৫০জনের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তবে সবচেয়ে করুণ দশা রুমানা বেগমের (ছদ্মনাম) পরিবারের। আর্সেনিকের থাবায় তিনি হারিয়েছেন স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িসহ পরিবারের চার সদস্যকে।
স্থানীয়দের দাবি, গ্রামের অধিকাংশ টিউবওয়েলের পানিতে আর্সেনিকের মাত্রা মাত্রাতিরিক্ত। গত ২০ বছরে আর্সেনিকোসিস কেড়ে নিয়েছে বহু প্রাণ। বর্তমানেও প্রায় ৩০০ মানুষ শরীরে এই বিষ বহন করে ধুঁকছেন। রুমানা বেগম বলছিলেন সেই যন্ত্রণার কথা, “স্বামীকে হারালাম, শ্বশুর-শাশুড়িও চলে গেলেন। এখন সন্তানদের নিয়ে বিষাক্ত পানির এই জনপদে আমি কী করে বাঁচব? বাড়ির সামনের পানির ট্যাংকটাও নষ্ট হয়ে পড়ে আছে।”
পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে সন্তানদের নিয়ে এখন চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তাঁর।
গ্রামের প্রায় দেড় লাখ মানুষ আর্সেনিক ঝুঁকির মধ্যে থাকলেও নিরাপদ পানির সংস্থান নেই বললেই চলে। আগে একটি বেসরকারি সংস্থার দেওয়া পুকুর-বালু ফিল্টার (পিএসএফ) থেকে পানি মিলত, কিন্তু সংস্কারের অভাবে সেটি এখন অকেজো। পুকুরটি আবর্জনা আর কচুরিপানায় ভরে যাওয়ায় সেই পানিও পানের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। উপায় না দেখে জেনেশুনেই ‘বিষপান’ করতে হচ্ছে গ্রামবাসীকে।
জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. মফিদুল হক লিটু বলেন, “বিষয়টি বারবার প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। মানুষ এখনো সুপেয় পানির জন্য হাহাকার করছে।”
চিকিৎসকদের মতে, আর্সেনিকোসিসের সুনির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই। এটি শরীরে বাসা বাঁধলে প্রথমে চামড়ায় কালো বা সাদা দাগ দেখা দেয়, যা ধীরে ধীরে ক্যানসারের মতো মরণব্যাধিতে রূপ নেয়। এই মরণছল থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানি নিশ্চিত করা।
কৃষ্ণকাটি গ্রামের সাধারণ মানুষের দীর্ঘশ্বাস এখন একটাইÑএকটু বিশুদ্ধ পানি। দ্রুত কোনো দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প গ্রহণ করা না হলে, এই জনপদ অচিরেই একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়বে। আর্সেনিকের থাবা রুখতে সরকারের আশু হস্তক্ষেপই এখন এই গ্রামের একমাত্র আশা।

আশাশুনিতে গাঁজাসহ এক ব্যক্তি গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১:২৪ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে গাঁজাসহ এক ব্যক্তি গ্রেপ্তার

আশাশুনি প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার আশাশুনি থানা-পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২১৫ গ্রাম গাঁজাসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাতে উপজেলার মির্জাপুর গ্রাম থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ আবুল হোসেন। তিনি উপজেলার বল্লভপুর হিন্দুপাড়ার মৃত ফটিক গাজীর ছেলে।
থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আহমদ খানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল মির্জাপুর গ্রামে অভিযান চালায়। এসআই তারিক উর রহমান শুভ ও সঙ্গীয় ফোর্স আব্দুর রউফ সানার বাড়ির সামনের রাস্তা থেকে আবুল হোসেনকে আটক করে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ২১৫ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
আশাশুনি থানার ওসি জানান, এ ঘটনায় ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। শনিবার তাঁকে সংশ্লিষ্ট আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এলাকায় মাদক নির্মূলে পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

তপ্ত দুপুরে মাঠেই ঝরল শ্রমিকের প্রাণ: মনিরামপুরে শোকের ছায়া

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১:২১ পূর্বাহ্ণ
তপ্ত দুপুরে মাঠেই ঝরল শ্রমিকের প্রাণ: মনিরামপুরে শোকের ছায়া

মনিরামপুর (যশোর) সংবাদদাতা: মাথার ওপর বৈশাখের তপ্ত সূর্য। নিচে তপ্ত মাঠ। সোনালি ধান ঘরে তোলার স্বপ্ন নিয়ে ভোরেই মাঠে নেমেছিলেন মান্নান শেখ (৫০)। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর ঘরে ফেরা হলো না তার। প্রচ- গরমে ধান বহন করতে গিয়ে মাঠেই ঢলে পড়লেন তিনি। মুহূর্তেই আনন্দঘন ধান কাটার উৎসব রূপ নিল বিষাদে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ এলাকার হানুয়ার-কোমলপুর মাঠে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত মান্নান শেখ চালুয়াহাটি ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের মৃত হাতেম শেখের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোমলপুর গ্রামের সামাদ হোসেনের জমির পাকা ধান ঘরে তুলতে রাজগঞ্জ বাজার থেকে মান্নানসহ চারজন শ্রমিক ভাড়া করা হয়েছিল। ভোর থেকেই তারা কর্মচঞ্চল ছিলেন। সকাল ১০টার দিকে রোদের তীব্রতা বাড়লে জমির মালিক তাদের বিশ্রামের অনুরোধ জানান। কিন্তু কাজ দ্রুত শেষ করার তাড়নায় শ্রমিকেরা বিশ্রামে না গিয়ে আবারও কাজে নামেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এক পর্যায়ে ধানের বোঝা বহন করে নিয়ে যাওয়ার সময় একটি আটি আইলের সীমানা খুঁটির সঙ্গে আটকে যায়। এতে ভারসাম্য সামলাতে না পেরে প্রচ- চাপে হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন মান্নান। সহকর্মীরা ছুটে আসার আগেই নিস্তেজ হয়ে যান তিনি। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
সহকর্মী ও স্থানীয়দের ধারণা, কয়েক দিনের টানা তাপদাহ আর প্রখর রোদে দীর্ঘক্ষণ কাজ করার ফলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। অতিরিক্ত গরমে ‘হিট স্ট্রোক’ করেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
খবর পেয়ে নিহতের স্বজনরা মাঠে এসে পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। জীবিকার সন্ধানে বের হওয়া মানুষটির নিথর দেহ যখন গ্রামে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন পুরো রসুলপুর গ্রাম স্তব্ধ হয়ে পড়ে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্বজনরা।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহল এই প্রচ- গরমে খেটে খাওয়া মানুষদের কাজের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের এবং প্রয়োজনে কর্মঘণ্টা পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন।