শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

সম্পাদকীয়: প্রসঙ্গ: সাতক্ষীরায় ক্যানসার চিকিৎসার শূন্যতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়: প্রসঙ্গ: সাতক্ষীরায় ক্যানসার চিকিৎসার শূন্যতা

 

উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় মরণব্যাধি ক্যানসারের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও উন্নয়নকর্মীদের ধারণা, জেলাটিতে বর্তমানে ক্যানসার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আট হাজারেরও বেশি। জাতীয় গড়ের চেয়ে এই সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি হওয়ার পেছনে দায়ী করা হচ্ছে এই অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত লবণাক্ততা, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও পরিবেশ দূষণকে। ক্যানসার যেখানে এই অঞ্চলে এক নীরব মহামারি হিসেবে জেঁকে বসছে, সেখানে স্থানীয় সরকারি স্বাস্থ্যসেবার চিত্রটি চরম হতাশা ও উদ্বেগের।
দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, সাতক্ষীরায় এত বড় একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতাল থাকা সত্ত্বেও ক্যানসার রোগীদের জন্য কোনো বিশেষায়িত চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। হাসপাতাল দুটির কোনোটিতেই আলাদা কোনো অনকোলজি (ক্যান্সার) বিভাগ, দক্ষ জনবল কিংবা কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির ন্যূনতম সুযোগ নেই। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণের আধুনিক ডায়াগনস্টিক সুবিধাও এখানে অনুপস্থিত। ফলে রোগাক্রান্ত হওয়ার পর হতদরিদ্র ও মধ্যবিত্ত রোগীদের বাধ্য হয়ে ছুটতে হচ্ছে ঢাকা, খুলনা কিংবা প্রতিবেশী দেশ ভারতে।
ক্যানসার শুধু একটি মরণব্যাধিই নয়, এটি একটি পরিবারকে নিঃস্ব করে দেওয়ার মতো অর্থনৈতিক যুদ্ধও বটে। দীর্ঘমেয়াদি এই চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে জমিজমা ও শেষ সম্বল বিক্রি করে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে শত শত পরিবার। টাকার অভাবে অনেকের চিকিৎসা মাঝপথেই বন্ধ হয়ে যায়, যা প্রকারান্তরে রোগীকে অবধারিত মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। একটি কল্যাণকামী রাষ্ট্রে নাগরিকেরা চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে এভাবে দেউলিয়া হয়ে পড়বেন, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সরকারি এই উদাসীনতা ও শূন্যতার মাঝেও আশার আলো দেখাচ্ছেন খুলনা মেডিকেল কলেজের অনকোলজি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মনোয়ার হোসেন। সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে সাতক্ষীরার বিনেরপোতা এলাকায় একটি ক্যানসার হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন। একজন চিকিৎসকের এই মানবিক উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, রাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য বিভাগের যে দায়িত্বটি সবার আগে পালন করার কথা ছিল, তা কেন একজন চিকিৎসকের ব্যক্তিগত বদান্যতার ওপর নির্ভর করবে?
সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে অন্তত ১০ শয্যার একটি প্রাথমিক ক্যানসার ইউনিট চালু এবং বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহের দাবি জানিয়ে আসছে। সীমান্তবর্তী ও প্রান্তিক এই জেলার মানুষের এই দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক ও সময়ের দাবি।
আমরা মনে করি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আর কালক্ষেপণ করার সুযোগ নেই। অবিলম্বে সাতক্ষীরা জেলায় আক্রান্তদের প্রকৃত সংখ্যা নিরূপণে একটি সঠিক ‘ক্যানসার রেজিস্ট্রি’ বা ডাটাবেজ তৈরি করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে আধুনিক ক্যানসার ইউনিট ও রোগ নির্ণয় কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় ক্যানসার চিকিৎসার মতো মৌলিক সেবা পৌঁছে দেওয়া রাষ্ট্রের অন্যতম জরুরি দায়িত্ব। সাতক্ষীরার হাজারো ক্যানসার রোগীর জীবন ও তাঁদের পরিবারের অর্থনৈতিক সুরক্ষায় সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবেÑএটাই আমাদের প্রত্যাশা।

Ads small one

গুরুতর অসুস্থ সাংবাদিক শেখ আব্দুল আলিম, উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় ভর্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ
গুরুতর অসুস্থ সাংবাদিক শেখ আব্দুল আলিম, উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় ভর্তি

পত্রদূত রিপোর্ট: ফুসফুসে বাতাস প্রবেশের জটিলতাজনিত কারণে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন দৈনিক পত্রদূত পত্রিকার নিজস্ব প্রতিনিধি শেখ আব্দুল আলিম। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে রাজধানী ঢাকার মগবাজারে অবস্থিত ডক্টর সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।

হাসপাতাল সূত্র ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজ ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকাল ১০টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি ফুসফুস বিশেষজ্ঞ টিমের তত্ত্বাবধানে শেখ আব্দুল আলিমের অস্ত্রোপচার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে তিনি নিজ জেলা সাতক্ষীরায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর শারীরিক অবস্থার কাক্সিক্ষত কোনো উন্নতি হয়নি, বরং শারীরিক জটিলতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। পরবর্তীতে চিকিৎসকদের পরামর্শে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে তাঁকে সাতক্ষীরা থেকে ঢাকায় নেওয়া হয় এবং রাজধানীর ডক্টর সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করা হয়। শেখ আব্দুল আলিম সাতক্ষীরার স্থানীয় সাংবাদিকতা অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে আসছেন। তিনি সামাজিক ও পেশাগত ক্ষেত্রেও একজন পরিচিত মুখ। তাঁর হঠাৎ এমন গুরুতর অসুস্থতার সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর সাতক্ষীরার গণমাধ্যমকর্মী, সুশীল সমাজ ও স্বজনদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

পরিবার ও তাঁর সহকর্মীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁর অস্ত্রোপচার ও পরবর্তী নিবিড় চিকিৎসার প্রক্রিয়া অত্যন্ত সংবেদনশীল। পরম করুণাময় মহান আল্লাহর দরবারে তাঁর দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ আরোগ্য (শেফায়ে কামেলা) কামনায় সব সহকর্মী, আত্মীয়স্বজন, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশবাসীর কাছে বিনীতভাবে দোয়া প্রার্থনা করা হয়েছে। সাতক্ষীরা সাংবাদিক সমাজসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারাও তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বার্তা পাঠিয়েছেন।

কোটিপতি বাবার একমাত্র সন্তান, মাদক বিক্রির অভিযোগে আটক যুবক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ
কোটিপতি বাবার একমাত্র সন্তান, মাদক বিক্রির অভিযোগে আটক যুবক

মামুনুর রশিদ খান, মণিরামপুর (যশোর): যশোরের মণিরামপুরে মাদক বিক্রি ও সরবরাহের অভিযোগে মো. বিল্লাল হোসেন (২০) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। তিনি উপজেলার ৫ নম্বর হরিদাসকাটি ইউনিয়নের চান্দুয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. হাবিবুর রহমানের ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিল্লাল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকদ্রব্য, বিশেষ করে গাঁজা কেনাবেচা ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বাবা বিত্তশালী এবং তিনি পরিবারের একমাত্র সন্তান হওয়া সত্ত্বেও মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েছেন বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।

৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে চান্দুয়া গ্রামে গাঁজা বিক্রির সময় এলাকাবাসী তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। স্থানীয়দের দাবি, সে সময় তার কাছ থেকে ৫০ গ্রাম গাঁজা ১২টি পোটলায় ভাগ করা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তবে পুলিশ সূত্রে মাদকদ্রব্যের একটি পোটলা উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিল্লালকে আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা বলেন, তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে মাদক বিক্রি ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

পুলিশ জানিয়েছে, আটক যুবকের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মুন্সিগঞ্জের জেলেখালিতে ৮ দলীয় নকআউট ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ
মুন্সিগঞ্জের জেলেখালিতে ৮ দলীয় নকআউট ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল

মুন্সিগঞ্জ (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের জেলেখালি ত্রিপানী বিদ্যাপীঠ মাঠে ১০ সেপ্টেম্বর ৮ দলীয় নকআউট ফুটবল টুর্নামেন্টের জমজমাট ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সুদীপ্তি যুব সংঘ আয়োজিত এই ফাইনালে মুখোমুখি হয় সুদীপ্তি যুব সংঘ ও আসিয়া দই ফিন্নি ভান্ডার ফুটবল একাদশ।

শুরু থেকেই দুই দলের খেলোয়াড়দের প্রাণবন্ত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলায় মাঠে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের ব্যবধানে আসিয়া দই ফিন্নি হাউসকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে সুদীপ্তি যুব সংঘ।
খেলায় প্রধান অতিথি ছিলেন ৮ নম্বর ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের প্রাক্তন চেয়ারম্যান সাদেকুর রহমান সাদেম। বিশেষ অতিথি ছিলেন আবদুর রাজ্জাক সরদার, প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম মল্লিকসহ এলাকার বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ক্রীড়াপ্রেমীরা।

খেলা শেষে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। খেলায় ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ নির্বাচিত হন রিজভী।

দীর্ঘদিন পর ত্রিপানী বিদ্যাপীঠ মাঠে এমন বৃহৎ একটি ক্রীড়া আয়োজনকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। ফাইনাল খেলা উপভোগ করতে মাঠে বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল। দর্শকদের করতালি, উচ্ছ্বাস ও সমর্থনে পুরো মাঠ এক আনন্দঘন মিলনমেলায় পরিণত হয়। সুন্দর ও প্রাণবন্ত এই আয়োজন উপভোগ করতে পেরে দর্শকেরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতেও নিয়মিত এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজনের আহ্বান জানিয়ে সুদীপ্তি যুব সংঘের আয়োজক কমিটিকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান তাঁরা।