শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

সম্পাদকীয়/ সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রয়োজন কঠোর নজরদারি ও সমন্বিত উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৫ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রয়োজন কঠোর নজরদারি ও সমন্বিত উদ্যোগ

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য দিন দিন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। সম্প্রতি সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জের কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশন এলাকায় বনকর্মীদের তৎপরতায় শিকারিদের ফাঁদ থেকে একটি চিত্রা হরিণ উদ্ধার এবং একই সঙ্গে ১২টি ছিটকা ফাঁদ জব্দের ঘটনাটি যেমন স্বস্তিদায়ক, তেমনই বনের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবনার খোরাক জোগায়। এর ঠিক পরপরই, তিন মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আড়পাঙ্গাসিয়া নদীতে অবৈধভাবে মাছ শিকারের অভিযোগে পাঁচ জেলের গ্রেপ্তার ও কারাদ- প্রমাণের পাশাপাশি এটিও স্পষ্ট করে যে, কতিপয় অসাধু চক্রের কারণে সুন্দরবনের প্রাণপ্রকৃতি কতটা অরক্ষিত।
সুন্দরবনের ইকোসিস্টেম বা বাস্তুতন্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি উপাদান হলো বাঘ ও হরিণ। চোরা শিকারিরা বনের গভীরে ছিটকা বা মালা ফাঁদ পেতে হরিণ শিকার করে তার মাংস লোকালয়ে চড়া দামে বিক্রি করছে। এই অপতৎপরতা কেবল হরিণের সংখ্যাই কমাচ্ছে না, বরং বাঘের প্রধান খাদ্যসংকট তৈরি করে বাঘকেও লোকালয়ে চলে আসতে বাধ্য করছে। শুধু তাই নয়, হরিণের জন্য পাতা এই মরণফাঁদ অনেক সময় বাঘের মৃত্যুর কারণও হয়ে দাঁড়ায়। খাদ্যশৃঙ্খল এভাবে ভেঙে পড়লে সুন্দরবনের চিরচেনা স্বরূপ ধ্বংস হতে বাধ্য। অন্যদিকে, জুন থেকে আগস্ট—এই তিন মাস সুন্দরবনের সব নদী ও খালে মাছের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকে। এই নিষিদ্ধ সময়ে বিষপ্রয়োগ কিংবা কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ শিকার বনের মৎস্য ভা-ারকে চিরতরে উজাড় করে দেওয়ার শামিল।
নিষেধাজ্ঞা ও নিয়মিত টহল সত্ত্বেও চোরা শিকারি ও অসাধু জেলেদের এই দুঃসাহস বন্ধ না হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বন বিভাগের বর্তমান জনবল দিয়ে প্রায় ছয় হাজার বর্গকিলোমিটারের এই বিশাল বনের প্রতিটি কোণায় ২৪ ঘণ্টা নজরদারি করা নিঃসন্দেহে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাই সুন্দরবনকে বাঁচাতে হলে সর্বাগ্রে বন বিভাগের লজিস্টিক সাপোর্ট, আধুনিক প্রযুক্তি (যেমন ড্রোন ও স্মার্ট পেট্রোলিং) এবং টহল ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে।
তবে কেবল আইন প্রয়োগ বা সাজা দিয়ে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা জরুরি, যাতে তারা বনের ওপর চাপ সৃষ্টি না করে। একই সঙ্গে লোকালয়ে হরিণের মাংসের বেচাকেনা ও ব্যবহার বন্ধে কঠোর মনিটরিং প্রয়োজন; কারণ চাহিদা বন্ধ না হলে জোগান বন্ধ করা কঠিন। সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা কোনো একক সংস্থার কাজ নয়, এটি আমাদের জাতীয় অস্তিত্বের প্রশ্ন। বনের বাঘ, হরিণসহ সামগ্রিক জলজ ও বনজ সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সচেতনতা ও প্রতিরোধই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

Ads small one

দর্শক খরায় বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ, টিকিটের দামে ছাড় দিয়েও মিলছে না ক্রেতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ২:২১ পূর্বাহ্ণ
দর্শক খরায় বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ, টিকিটের দামে ছাড় দিয়েও মিলছে না ক্রেতা

সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ইংল্যান্ড এবং স্পেনের কাছে ফ্রান্সের বিদায়ের পর দুই দলের সমর্থকদের মাঝেই যেন বিশ্বকাপের আমেজ অনেকটাই স্তিমিত হয়ে পড়েছে। তারই সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ সময় রবিবার রাত ৩টায় মায়ামি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য দুই ইউরোপীয় জায়ান্টের মধ্যকার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী বা ব্রোঞ্জ মেডেল ম্যাচে। ম্যাচটি মাঠে গড়ানোর আগমুহূর্তেও ফিফার অফিসিয়াল সাইটগুলোতে হাজার হাজার টিকিট অবিক্রিত পড়ে রয়েছে।

ফিফার টিকিট পোর্টাল এবং অফিসিয়াল রিসেল প্ল্যাটফর্মগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের এই ম্যাচটি ঘিরে এখনও প্রায় ৭,০০০ টিকিট অবিক্রিত অবস্থায় তালিকাভুক্ত রয়েছে। সাধারণ ক্যাটাগরিতে ১,২৪৬টি টিকিট অবিক্রিত আছে, যার একেকটির মূল্য হাঁকা হচ্ছে ৮৬৫ মার্কিন ডলার (প্রায় ৬৫৭ পাউন্ড) থেকে ১,১২৫ মার্কিন ডলার (প্রায় ৮৫৫ পাউন্ড) পর্যন্ত।

সবচেয়ে বড় চমক দেখা গেছে অফিসিয়াল রিসেল বা পুনঃবিক্রয় প্ল্যাটফর্মে। সেখানে প্রায় ৫,৮৬৪টি টিকিট বিক্রির জন্য জমা পড়ে আছে। সমর্থকরা তাদের কেনা টিকিট নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করে দিতে চাইছেন। সবচেয়ে সস্তা ক্যাটাগরি-৩-এর টিকিটগুলো ফেস ভ্যালু ৪৫৫ ডলারে পাওয়া যাচ্ছে (এর সঙ্গে ফিফার ১৫ শতাংশ অতিরিক্ত ফি যুক্ত হবে)।

ম্যাচের আকর্ষণ ও দর্শক আগ্রহ কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে প্রিমিয়াম বা ক্যাটাগরি-১-এর টিকিটগুলোতে। যে টিকিটগুলোর মূল ক্রয়মূল্য ছিল ১,১২৫ ডলার, সেগুলো এখন প্রায় অর্ধেক বা বিশাল ডিসকাউন্টে মাত্র ৬৫৯ ডলারে রিসেল প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

মেসিদের মুখোমুখি হওয়ার আগে বড় ধাক্কা স্পেনের, অনুশীলন বাতিল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ২:১০ পূর্বাহ্ণ
মেসিদের মুখোমুখি হওয়ার আগে বড় ধাক্কা স্পেনের, অনুশীলন বাতিল

উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের মহারণে নামার ঠিক আগের দিন বড়সড় ধাক্কা খেলো স্পেন শিবির। নিউজার্সির বৈরী আবহাওয়ার কারণে শেষ মুহূর্তের চূড়ান্ত প্রস্তুতি আর ঠিকঠাকভাবে সম্পন্ন করতে পারলো না লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। প্রবল বৃষ্টি ও লাগাতার বজ্রপাতের কারণে শনিবারের (১৮ জুলাই) নির্ধারিত শেষ দিনের পুরো অনুশীলন সেশনটিই বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, শনিবার নিউজার্সির হুইপ্যানিতে স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায়) স্পেনের অনুশীলনে নামার কথা ছিল। স্প্যানিশরা এই সেশনের জন্য বেছে নিয়েছিল নিউইয়র্ক রেড বুলসের সাবেক অনুশীলন কেন্দ্র এবং বর্তমানে এনডব্লিউএসএল ক্লাব গথাম এফসির ভবিষ্যৎ ট্রেনিং কমপ্লেক্সটি। কিন্তু সকাল থেকেই শুরু হয় তীব্র বজ্রঝড়। প্রথমে অনুশীলন কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও পরিস্থিতির কোনও উন্নতি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত পুরো সেশনই বাতিল ঘোষণা করা হয়। মাঠে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকা সংবাদকর্মীদেরও নিরাপত্তার স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারিত কর্মক্ষেত্রের ভবনের ভেতরে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।

যুক্তরাষ্ট্রে বজ্রঝড় নিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা নিখুঁত ও কঠোর, তা প্রকাশ পেয়েছে মাঠের এক কর্মকর্তার দেওয়া তথ্যে। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, অনুশীলন বা ম্যাচ ভেন্যুর ৮ মাইলের মধ্যে কোথাও বজ্রপাত শনাক্ত হলেই নিয়ম অনুযায়ী মাঠের সব ধরনের কার্যক্রম সঙ্গে সঙ্গে স্থগিত করা হয়। এরপর প্রতি ৩০ মিনিট পরপর পরিস্থিতি গভীরভাবে মূল্যায়ন বা পর্যবেক্ষণ করা হয়।

বজ্রপাতের এই ঝুঁকি যখন পুরোপুরি কেটে যায়, তখনই কেবল নিরাপত্তা বিভাগ থেকে ‘অল ক্লিয়ার’ সংকেত দেওয়া হয়। এই সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই খেলোয়াড়রা মাঠে প্রবেশের অনুমতি পান। তবে শনিবার সকালে হুইপ্যানির পরিস্থিতি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল যে স্পেনকে মাঠে নামার অনুমতি দেওয়াই সম্ভব হয়নি।

চলতি বিশ্বকাপজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ভেন্যুগুলোতে একই বজ্রঝড়-সংক্রান্ত কঠোর নিরাপত্তা নীতিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে। এর আগে এই নিয়মের মারপ্যাঁচে পড়ে চলমান টুর্নামেন্টের একাধিক ম্যাচের সময়সূচিতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছিল। কোনও কোনও ম্যাচ দীর্ঘ সময় স্থগিতও রাখতে হয়েছিল।

বাংলাদেশ সময় রবিবার (১৯ জুলাই) দিবাগত রাত ১টায় (স্থানীয় সময় সন্ধ্যা) নিউজার্সির বিখ্যাত মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বসেরার মুকুটের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। যেখানে আর্জেন্টিনা দল তাদের প্রস্তুতি ঠিকঠাক সারতে পেরেছে, সেখানে অনুশীলনের এই ঘাটতি স্পেনের জন্য কতটা ভোগান্তি বাড়াবে তা বলা মুশকিল। তবে ফুটবলপ্রেমীদের মনে এখন সবচেয়ে বড় শঙ্কা— নিউজার্সির এই বৈরী আবহাওয়া ফাইনালকেও কোনও বিঘ্নের মুখে ফেলে কি না!

বিলাসবহুল ট্রাঙ্কে চড়ে ফাইনালের মঞ্চে পৌঁছাবে বিশ্বকাপ ট্রফি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ২:০৬ পূর্বাহ্ণ
বিলাসবহুল ট্রাঙ্কে চড়ে ফাইনালের মঞ্চে পৌঁছাবে বিশ্বকাপ ট্রফি

বিশ্বকাপ ট্রফি শুধু ফুটবলের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত পুরস্কারই নয়, এটি মর্যাদা ও ঐতিহ্যেরও প্রতীক। সেই ট্রফিকে ফাইনালের মঞ্চে নিয়ে যেতে এবারও বিশেষ ট্রাঙ্ক তৈরি করেছে ফরাসি বিলাসবহুল ফ্যাশন প্রতিষ্ঠান লুই ভিতোঁ। ২০১০ সাল থেকে টানা পঞ্চম বিশ্বকাপে এই দায়িত্ব পালন করছে প্রতিষ্ঠানটি।

নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে বিশেষভাবে তৈরি লুই ভিতোঁর এই ট্রাঙ্কে করেই মাঠে আনা হবে বিশ্বকাপ ট্রফি।

বিশেষ এই ট্রাঙ্কের সামনে রয়েছে সোনালি রঙের ইংরেজি অক্ষর ‘ভি’। যা একদিকে ভিক্টরি তথা জয় -এর প্রতীক, অন্যদিকে ভিতোঁর আলাদা পরিচয় বহন করছে। ট্রাঙ্কজুড়ে রয়েছে লুই ভিতোঁর পরিচিত নকশা এবং সোনালি আবরণযুক্ত পিতলের কর্নার প্রটেক্টর।

এটি টানা পঞ্চম বিশ্বকাপ যেখানে ট্রফির জন্য বিশেষ ট্রাঙ্ক তৈরি করেছে লুই ভিতোঁ। এর আগে ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপেও একই দায়িত্ব পালন করেছিল ফরাসি এই বিলাসবহুল ব্র্যান্ড।