বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় তিন দিন নিখোঁজ গৃহবধু চন্দনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৯:২০ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় তিন দিন নিখোঁজ গৃহবধু চন্দনা

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরা শহরের কাটিয়া লস্করপাড়া এলাকা থেকে গৃহবধু ইনা পারভীন চন্দনা নিখোঁজ হয়েছেন। গেল তিন দিন ধরে নিখোঁজ এই গৃহবধু। এ ঘটনায় নিখোঁজ ডায়েরী হয়েছে সাতক্ষীরা থানায়।

ইনা পারভীন চন্দনা (৩৫) কাটিয়া এলাকার রবিউল ইসলাম ভেন্ডারের দ্বিতীয় স্ত্রী। তালার শিবপুর গ্রামের মহিউদ্দীন শেখের কন্যা।

সাধারণ ডায়েরীতে ইনা পারভীন চন্দনার বাবা মহিউদ্দীন শেখ উল্লেখ করেন, স্বামীর সঙ্গে কাটিয়া লস্করপড়ায় বসবাস করতো চন্দনা। গেল রোববার (১৪ জুন) সকাল ১০টার পর থেকে তার ব্যবহৃত ফোন নম্বরটি বন্ধ, নিটকতম স্বজন ও পরিচিতদের বাড়িতে সন্ধান করেও কোথাও পাওয়া যায়নি। চন্দনাকে শারীরিক ও মানুসিকভাবে নির্যাতন করতো তার স্বামী। স্বামী ও তার পরিবারের সদস্য দ্বারা অজ্ঞাত স্থানে লুকিয়ে রাখা অথবা কোন ক্ষতি করতে পারে এমন ধারণার কথাও ডিজিতে উল্লেখ করেন তিনি।

ঘটনার তদন্ত করছেন সাতক্ষীরা থানার এসআই আরিফ নিশাত। তিনি বলেন, সবদিক মাথায় রেখেই আমরা অনুসন্ধান করছি। এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি। দেশের সকল থানায় নিখোঁজের সন্ধান পেতে বেতার বার্তা পাঠানো হয়েছে।

Ads small one

শারদীয় দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত শিল্পীরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৪ অপরাহ্ণ
শারদীয় দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত শিল্পীরা

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সারা দেশের ন্যায় এই উৎসবকে কেন্দ্র করে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তের পূজামন্ডপ গুলোতে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ভাস্কর ও মৃৎশিল্পীরা। খড়, কাঠ, বাঁশ আর কাদা-মাটি দিয়ে তিলতিল করে গড়ে তোলা হচ্ছে দেবী দুর্গার অনিন্দ্য সুন্দর রূপ।

খুলনার পাইকগাছায় শারদীয় দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। ভাস্কর ও মৃৎশিল্পীদের প্রতিমা তৈরির প্রধান ধাপগুলো হলো; মাটির কাজ শুরুর আগে বাঁশ ও খড় দিয়ে প্রতিমার প্রাথমিক কাঠামো বা অবয়ব তৈরি করা। কাঠামোর ওপর নিখুঁতভাবে কাদা-মাটির প্রলেপ দেওয়া হয়। মাটির কাজ শুকিয়ে যাওয়ার পর শুরু হয় ফিনিশিং ও রঙের কাজ। শিল্পীরা তাদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ ও অসুরের মূর্তিকে ফুটিয়ে তোলেন। প্রতিমা মন্ডপে নেওয়ার আগে কাপড়, গয়না এবং বিভিন্ন সাঁজ দিয়ে দেবী প্রতিমাকে দৃষ্টিনন্দনভাবে সাজানো হয়।

পাইকগাছা উপজেলায় ১৫৪টির মতো পুজা মন্দির বা মন্ডবে শারদীয় দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরির প্রস্তুতি চলছে। উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তের পূজামন্ডপ গুলোতে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পাইকগাছার বেশ কয়েকটি পূজামন্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, কাদা-মাটি, বাঁশ, খড়, সুতলি দিয়ে শৈল্পিক ছোঁয়ায় তিলতিল করে গড়ে তোলা হচ্ছে দেবীদুর্গার প্রতিমা। ভাস্কার বা কারিগররা প্রতিমা তৈরিতে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন। নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হচ্ছে দেবীদুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, অসুরসহ বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমা।

শিশির ভেজা ভোর আর শরতের কাশফুল জানান দিচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী বার্তা। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এ উৎসব ঘিরে পাইকগাছায় প্রতিমা তৈরিতে কারিগরেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। মৃৎশিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় প্রতিমাগুলে হয়ে উঠছে অপরূপ। এখন খড় আর কাদা মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। একই সঙ্গে শরতের দুর্গোৎসবকে পরিপূর্ণভাবে সাজাতে মন্দিরগুলোতে চলছে প্রস্তুতি।

 

 

ঝাউডাঙ্গায় বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝাউডাঙ্গায় বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে বিএনপি’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপি’র কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

 

ইউনিয়ন বিএনপির সকল নেতা কর্মীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম। আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ১১ নম্বর ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের সকল নেতাকর্মীকে একত্রভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

পাইকগাছা আদালত ভবন বেহাল, বর্ষা এলে ছাদে পলিথিন দিয়ে চালাতে হয় অফিস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪০ অপরাহ্ণ
পাইকগাছা আদালত ভবন বেহাল, বর্ষা এলে ছাদে পলিথিন দিয়ে চালাতে হয় অফিস

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি (পাইকগাছা): খুলনার পাইকগাছা আদালত ভবনের অবস্থা খুবই নাজুক। জরাজীর্ণ ভবনের ছাদের একটি বড় অংশ ধ্বসে পড়েছে। সম্প্রতি রাতে আদালতের সিএসআই অফিস কক্ষের ছাদ ধ্বসে পড়ে। শুধু তাই নয়, বর্ষা মৌসুম এলে ছাদে পলিথিন ও ত্রিফল দিয়ে চালাতে হয় অফিসের কার্যক্রম।

আদালত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভবনটির বিভিন্ন অংশ দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কোথাও কোথাও দেয়াল ও ছাদে ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদের বেশ কিছু অংশও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে একটি অংশ ধ্বসে পড়ায় পুরো ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি রাতে ছাদ ধ্বসে পড়ার সময় বিকট শব্দ হয়। শব্দ শুনে আদালতে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে তাঁরা দেখতে পান, ছাদের ভেঙে পড়া অংশ কক্ষের ভেতরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। ছাদের পলেস্তারা ও নির্মাণসামগ্রীর বড় অংশ নিচে পড়ে যায়। তবে দিনের বেলায় আদালতের কার্যক্রম চলার সময় ছাদ ধ্বসে পড়লে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত বলে জানিয়েছেন আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

পাইকগাছা চৌকি আদালতে প্রতিদিন বিচারক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনজীবী, পুলিশ সদস্য ও বিচারপ্রার্থীদের উপস্থিতি থাকে। আদালতের কার্যক্রম চলাকালে কক্ষগুলোতে মানুষের উপস্থিতিও থাকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, রাতের পরিবর্তে দিনের বেলায় ছাদ ধ্বসের ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারত। ধ্বসে পড়া ছাদের নিচে কেউ থাকলে গুরুতর আহত হওয়ার পাশাপাশি প্রাণহানীরও আশঙ্কা ছিল। আদালতের সিএসআই মোঃ তরিকুল ইসলাম বলেন, ছাদ ধ্বসে পড়ার ঘটনা দিনের বেলায় ঘটলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতো। এমনকি ছাদের ভেঙে পড়া অংশ তাঁর মাথার ওপর পড়ার আশঙ্কাও ছিল।

আদালত সূত্র ও স্থানীয়রা জানান, খুলনা জেলার দুর্গম এলাকা হিসেবে ১৯৮৩ সালে পাইকগাছায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও সিনিয়র সহকারী জজ চৌকি আদালত প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ভবনটির প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ যথাযথভাবে হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ভবনের বিভিন্ন অংশে এখন জরাজীর্ণতার ছাপ স্পষ্ট। দেয়াল ও ছাদে ফাটলসহ বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

আইনজীবী সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব এড. আব্দুস সাত্তার বলেন, “আদালত ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল রয়েছে। ছাদসহ বেশ কয়েকটি অংশ ভীষণ ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিদিন আদালতে বিচারক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনজীবী, পুলিশ সদস্য ও বিভিন্ন মামলার বিচারপ্রার্থীরা আসেন। ফলে ভবনের কোনো অংশ হঠাৎ ধসে পড়লে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ভবনটির অবস্থা এতটাই নাজেুক যে, বর্ষা মৌসুম এলে ছাদের উপর পলিথিন ও ত্রিফল দিয়ে অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়।”

আদালতে সেবা নিতে আসা মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, “একটি অংশ ধ্বসে পড়ার পর বিষয়টিকে শুধু বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পুরো ভবনের কাঠামোগত অবস্থা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ছাদ ও দেয়ালের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো দ্রুত শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরী।”

আদালত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ভবনটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দরকার। ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো প্রয়োজনীয় সংস্কার করা অথবা ভবনটি ব্যবহার অনুপযোগী হলে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তাঁদের আশঙ্কা, ছাদের একটি অংশ ধসে পড়ার পরও যদি ঝুঁকিপূর্ণ অন্যান্য অংশে ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই বিচারক, আইনজীবী, কর্মকর্তা কর্মচারী, পুলিশ সদস্য ও বিচারপ্রার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।