মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় ‘বর্ণালী আর্ট’-এর ৫০ বছর পূর্তি: সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনে প্রস্তুতি সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ‘বর্ণালী আর্ট’-এর ৫০ বছর পূর্তি: সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনে প্রস্তুতি সভা

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী ও সুনামধন্য চিত্রাঙ্কন প্রতিষ্ঠান ‘বর্ণালী আর্ট’-এর ৫০ বছর পূর্তি তথা সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টায় শহরের শহীদ নাজমুল সরণিস্থ বর্ণালী আর্ট ইনস্টিটিউট কার্যালয়ে প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়।
বর্ণালী আর্ট ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক মোঃ রিয়াসাত আলীর সভাপতিত্বে সভায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তাঁর জ্যৈষ্ঠ পুত্র এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোস্তফা হাসান।

এছাড়া প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা কালেক্টরেট স্কুল এর চিত্রশিল্পী ও আর্ট শিক্ষক জামান হোসেন, রংতুলী এড এর স্বত্বাধিকারী ও চিত্রশিল্পী মহিবুল্লাহ, ঝাউডাঙ্গা কলেজ এর প্রভাষক নাজমুন্নাহার, পিএন বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল এর আর্ট শিক্ষক নাজমুছ সাহাদাত, চিত্রশিল্পী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী কিংশুভ দেবনাথ।

প্রস্তুতি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে চলতি বছর ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে সুবর্ণ জয়ন্তীর মূল উৎসব উদযাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। অনুষ্ঠানটি সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী ‘বাস্তবায়ন কমিটি’ গঠনের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

দিনব্যাপী এই উৎসবের সম্ভাব্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- বর্ণাঢ্য র‌্যালি, স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী, কবিতা আবৃত্তি, আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং একটি বিশেষ চিত্রাঙ্কন প্রদর্শনী। এছাড়া এই মাহেন্দ্রক্ষণকে স্মরণীয় করে রাখতে একটি স্থায়ী ‘অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন’ (প্রাক্তন শিক্ষার্থী পুনর্মিলনী কমিটি) গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের শিষ্য বর্ণালী আর্টের প্রতিষ্ঠাতা মোঃ রিয়াসাত আলী ১৯৪৩ সালের ১ জুলাই পুরাতন সাতক্ষীরার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মরহুম হেকমী আব্দুল হাকিমের জ্যৈষ্ঠ পুত্র। রিয়াসাত আলী ঐতিহ্যবাহী মহেশ্বরপাশা স্কুল অব আর্টস থেকে চিত্রশিল্পের ওপর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের সান্নিধ্যে থেকে চিত্রাঙ্কনের উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

চিত্রশিল্পী রিয়াসাত আলী ১৯৭৫ সালে পুরাতন সাতক্ষীরা হাটখোলায় অত্যন্ত সীমিত পরিসরে ‘বর্ণালী আর্ট’ নামে এই প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি শহরের শহীদ নাজমুল সরণিতে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সাতক্ষীরা ইউনিট কার্যালয়ের বিপরীতে নিজস্ব স্থায়ী ঠিকানায় স্থানান্তরিত হয় এবং পূর্ণাঙ্গ ‘বর্ণালী আর্ট ইনস্টিটিউট’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

গত ৫০ বছরে এই ইনস্টিটিউট থেকে প্রায় ২ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী চিত্রাঙ্কনের দীক্ষা নিয়েছেন। এখানকার প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বর্তমানে দেশের সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন উচ্চপদে অত্যন্ত সুনামের সাথে কর্মরত আছেন। এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জাতীয় শিশু পুরস্কার, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত প্রতিযোগিতা এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পরিচালিত বিভিন্ন জাতীয় প্রতিযোগিতায় একাধিকবার শ্রেষ্ঠত্বের গৌরব অর্জন করেছেন।

শুধু একজন আদর্শ শিক্ষকই নন, রিয়াসাত আলী একজন সমাজসচেতন কালজয়ী শিল্পীও বটে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত কবিতার চরণ- “ক্ষুধাতুর শিশু চায় না স্বরাজ, চায় দুটো ভাত একটু নুন/ বেলা বয়ে যায় খায়নিকো বাছা, কচি পেটে তার জ্বলে আগুন”- এর মর্মস্পর্শী ভাবকে তিনি তাঁর তুলির ছোঁয়ায় ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলেছেন, যেখানে এক অসহায় দাদি ও তার নাতির দুর্ভিক্ষের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে। এছাড়া সুদীর্ঘ বর্ণাঢ্য জীবনে জলরং, তেলরং-এর পাশাপাশি পেনসিল স্কেচ ও কলমের আঁচড়ে তিনি গ্রাম-বাংলার নৈসর্গিক প্রকৃতি ও লোকজীবনকে পরম মমতায় ক্যানভাসবন্দি করেছেন।

প্রস্তুতি সভায় বক্তারা বর্ণালী আর্টের এই গৌরবময় ৫০ বছরের যাত্রাকে স্মরণীয় করে রাখতে সর্বস্তরের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

 

Ads small one

সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্তে কঠোর সতর্কাবস্থায় বিজিবি-জনতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৪:৪৫ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্তে কঠোর সতর্কাবস্থায় বিজিবি-জনতা

আরিফ মাহমুদ: ভারত থেকে অবৈধভাবে পুশইন ঠেকাতে সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্তে বিজিবির পাশাপাশি সতর্ক অবস্থানে সাধারণ জনতা। কিছু সীমান্তে বিজিবি ও এলাকাবাসীর যৌথ পাহারার খবর পাওয়া গিয়েছে। সম্প্রতি কলারোয়া সীমান্তের ওপারে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণা জেলার স্বরূপনগর থানার হাকিমপুরসহ কয়েকটি সীমান্তে অবৈধভাবে পুশইন করতে বহু নারী-পুরুষকে জড়ো করা হয় বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ পায়। এরই জের ধরে কলারোয়া সীমান্তজুড়ে কঠোর টহল, নজরদারী ও অবস্থান জোরদার করে বিজিবি। বিভিন্নভাবে বিজিবিকে সহায়তা করছেন স্থানীয় জনতাও।

বছরের পর বছর উপজেলার ১৭ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকাটি মাদক ও চোরাকারবারীদের কাছে বিভিন্ন চোরাচালান, অবৈধভাবে মানুষ যাতায়াতের জন্য নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহৃত বলে জানা যায়। এর সাথে যোগ হয়েছে সম্প্রতি পুশইনশংকা। ফলে সতর্কাবস্থনে বিজিবিসহ বিভিন্ন সংস্থা। উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন স্থলভাগ ও নদী দ্বারা ভারতের সাথে বিভক্ত। এর মধ্যে কেঁড়াগাছি ইউনিয়নের সিংহভাগ ও সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের পুরোটা সোনাই নদী দ্বারা ভারতের সাথে বিভক্ত, আর চন্দনপুর ইউনিয়নের কিছু অংশ ইছামতি নদী ও বাকী অংশ স্থলভাগে বিভক্ত।

 

নদী সীমান্তের চেয়ে তুলনামূলক স্থলভাগ দিয়ে পুশইন সম্ভাবনা বেশি থাকায় উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের হিজলদী, সুলতানপুর ও গোয়ালপাড়ার স্থল সীমান্তে বিজিবির টহল ও তদারকি জোরদার করা হয়েছে।

 

বিজিবির সুলতানপুর বিওপির কমান্ডার নায়েক সুবেদার কামরুজ্জামান জানান, ইতোমধ্যে ওই বিওপির অধীনে সাড়ে ৪ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। জনগণকে সাথে নিয়ে যেকোন অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ করতে সার্বক্ষণিক কঠোর নজরদারী অব্যাহত রয়েছে।

সুলতানপুর ইউপি সদস্য হুমায়ুন কবীর জানান, হ্যান্ড মাইকে সতর্কতা, সীমান্তে বিজিবি ও এলাকাবাসীর যৌথ পাহারা, রাতে টর্চলাইটের আলো এবং কঠোর অবস্থান রয়েছে।

সাতক্ষীরা, ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের মিডিয়া ইনচার্জ সার্জেন্ট মিলন জানান, এখন পর্যন্ত সাতক্ষীরা সীমান্তে অবৈধ পুশইন রোধ করতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।

সাতক্ষীরায় জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিবের সঙ্গে ছাত্রদল নেতাদের শুভেচ্ছা বিনিময়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৪:৪০ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিবের সঙ্গে ছাত্রদল নেতাদের শুভেচ্ছা বিনিময়
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন ছাত্রদলের নেতারা।
মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুর ১টায় জেলা পরিষদের প্রশাসকের কার্যালয়ে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহিন ইসলামের নেতৃত্বে এ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মাসুদুল আলম, দিবা-নৈশ কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব তামিম রশিদ, সিটি কলেজ ছাত্রদল নেতা মাহমুদুল হাসান, সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আকবর হোসেন, আশাশুনি উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মিয়ারাজ হোসেন, শহর ছাত্রদলের সদস্য শরিফুল ইসলাম এবং ছাত্রনেতা মো. গোলাম রাব্বি।
শুভেচ্ছা বিনিময়কালে জেলা প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেম, সামাজিক দায়িত্ববোধ ও ইতিবাচক রাজনৈতিক চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, তরুণদের মাদক, সন্ত্রাস ও অপসংস্কৃতি থেকে দূরে থেকে শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ এবং সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার পাশাপাশি নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনের মাধ্যমে আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

কলারোয়ায় দুটি ডায়গনস্টিক সেন্টারকে জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৪:৩৬ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় দুটি ডায়গনস্টিক সেন্টারকে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কলারোয়ায় দুটি ডায়গনস্টিক সেন্টারকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।
মঙ্গলবার দুপুরে কলারোয়া হাসপাতাল রোডে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম।

তিনি জানান, লাইসেন্স নবায়ন না থাকা, অপরিচ্ছন্নতাসহ বিভিন্ন কারণে মিতালী ডায়গনস্টিক সেন্টারকে ২০হাজার টাকা ও ডক্টরস ডিজিটাল ল্যাবকে ৫হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এসময় কলারোয়া থানার ওসি এইচএম শাহীন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.শফিকুল ইসলাম, বেঞ্চ সহকারী আব্দুল মান্নানসহ সংশ্লিষ্ট অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।