সাতক্ষীরায় সাড়ে ৫ লাখ টাকার চাল আত্মসাতের মামলায় ট্রাক জব্দ, আটক ৪
পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ১০ টন চাল আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার চট্টগ্রামের তিনটি থানা এলাকা ও কুমিল্লার দেবীদ্বার থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় চাল পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাকটিও জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার ছায়কোট গ্রামের চাঁন মিয়ার ছেলে সিরাজ মিয়া (৫৫), দেবীদ্বার উপজেলার উজানীকান্দি গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে মো. খলিল (৪৭), একই উপজেলার উজানীজোড়া গ্রামের ছলিমউদ্দিন মোল্লার ছেলে মো. রফিক (৪৪) এবং ভোলার দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ সৈয়দপুর গ্রামের ইয়াছিন আলীর ছেলে হাবিবুর রহমান (৫০)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১০ মে বিকেল ৫টার দিকে ভোমরা স্থলবন্দরের মুকুল এন্টারপ্রাইজের গুদামের সামনে থেকে ভারত থেকে আমদানি করা ২০০ বস্তা চাল (১০ টন) একটি ট্রাকে তোলা হয়। চালগুলো যশোরের নওয়াপাড়ার এমবিকে এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। ট্রাকটির চালক কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার সিরাজ মিয়া চাল নিয়ে রওনা হলেও নির্ধারিত গন্তব্যে তা পৌঁছায়নি।
এ ঘটনায় সাতক্ষীরার জান্নাত ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির ব্যবস্থাপক ও পদ্মশাঁখরা গ্রামের বাসিন্দা সাধন দাস ১৭ মে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে গণ্য করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। পরে থানায় মামলাটি নথিভুক্ত হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক শাকিল জোয়ার্দার প্রথমে মাগুরার শালিখা থেকে সোহাগ হোসেন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেন। পরে তিনি বদলি হলে তদন্তের দায়িত্ব পান উপপরিদর্শক সমীর গাইন। তাঁর নেতৃত্বে গত শুক্রবার চট্টগ্রামের কোতোয়ালি, বায়েজীদ বোস্তামী ও বাকলিয়া থানা এলাকা এবং কুমিল্লার দেবীদ্বার থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকলিয়া থেকে ট্রাকটি জব্দ করা হলেও এর নম্বরপ্লেট পরিবর্তন করা ছিল।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার চারজন ও জব্দ করা ট্রাকটি শনিবার সাতক্ষীরা সদর থানায় আনা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রোববার গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।









