যশোরেশ্বরী কালীমন্দিরের মুকুট চুরির মামলায় অভিযোগপত্রের শুনানি ১৯ জানুয়ারি
পত্রদূত রিপোর্ট: শ্যামনগরের যশোরেশ্বরী কালীমন্দিরের মুকুট চুরির মামলায় পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্রের ওপর শুনানির দিন পিছিয়ে আগামী ১৯ জানুয়ারি ধার্য করেছেন আদালত। গত রোববার মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও অনিবার্য কারণে তা অনুষ্ঠিত হয়নি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাতক্ষীরা গোয়েন্দা পুলিশ, অপরাধ ও তদন্ত শাখার উপপরিদর্শক মাসুদ পারভেজ গত ১৭ মার্চ দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন শ্যামনগরের ঈশ্বরীপুর গ্রামের মৃত ছিদাম সরকারের স্ত্রী রেখা সরকার (৪০) এবং ঢাকার কদমতলীর শেখ শফি মাহমুদের ছেলে সম্রাট ফারুখ মাওলা (৪২)।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদর মোদি শ্যামনগরের যশোরেশ্বরী কালীমন্দিরে পূজা দিতে এসে দেবী কালীকে একটি মুকুট উপহার দেন। ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর দুপুর ২টা ১০ মিনিট থেকে ২টা শুনানির মধ্যে আল আমিন বা স্বপন নামের এক যুবক মন্দির থেকে মুকুটটি চুরি করে নিয়ে যায় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মন্দিরের সেবায়েত ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী ঈশ্বরীপুর গ্রামের রেখা সরকার, একই গ্রামের অপূর্ব কুমার সাহা ও সঞ্জয় বিশ্বাস, শ্রীফলকাটি গ্রামের পারুল বিশ্বাস এবং মন্দিরের পুরোহিত দিলীপ চক্রবর্তীকে আটক করে পুলিশ। ওই বছর ১২ অক্টোবর মন্দিরের পক্ষ থেকে ঈশ্বরীপুর গ্রামের কালিকানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের ছেলে জ্যোতি চট্টোপাধ্যায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে শ্যামনগর থানায় মামলা করেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক আহম্মদ কবীর ওই দিন সন্ধ্যায় পুরোহিত দিলীপ চক্রবর্তীকে ছেড়ে দিয়ে অন্য চারজনকে সাত দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে পাঠান। পরদিন ১৩ অক্টোবর পরিচ্ছন্নতাকর্মী রেখা রানী সরকার চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বিচারিক হাকিম সুজাতা আমিনের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
জবানবন্দিতে তিনি দুই লাখ টাকার বিনিময়ে মন্দিরের তালা খুলে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার আল আমিন বা স্বপন নামের এক যুবককে মুকুট চুরিতে সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ঢাকার কদমতলীর সম্রাট ফারুখ মাওলার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথাও বলেন।
ওই বছরের ২১ অক্টোবর ঢাকার রামপুরা থেকে সম্রাট ফারুখ মাওলা ও তাঁর বাবা শেখ শফি মাহমুদকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৩ অক্টোবর সম্রাট ফারুখ মাওলা সাতক্ষীরার বিচারিক হাকিম মহিদুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পুলিশের প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত সাতক্ষীরা দায়রা জজ আদালত থেকে ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর সঞ্জয় বিশ্বাস এবং ২৮ নভেম্বর পারুল বিশ্বাস ও অপূর্ব বিশ্বাস জামিনে মুক্তি পান। রেখা রানী সরকার ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিল হাইকোর্ট থেকে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জামিন পান। শেখ শফি মাহমুদ ওই বছরের ২২ এপ্রিল এক বছরের জন্য জামিন লাভ করেন। তবে ২৩ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা জজ আদালতে সম্রাট ফারুখ মাওলার জামিন আবেদন নামঞ্জুর হয়। এরপর উচ্চ আদালতে রুল নিষ্পত্তি না হওয়ায় ৮ নভেম্বর পর্যন্ত তিনি জামিন পাননি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মাসুদ পারভেজ জানান, রেখা রানী সরকার ও সম্রাট ফারুখ মাওলাকে আসামি করে গত ১৭ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় পারুল বিশ্বাস, সঞ্জয় বিশ্বাস, অপূর্ব সাহা ও শেখ শফি মাহমুদকে অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। মামলায় ১৫ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে মুকুট চুরির ঘটনায় মূল অভিযুক্ত আল আমিন বা স্বপনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। মুকুটটিও উদ্ধার করা যায়নি।
রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) অ্যাডভোকেট অসীম মণ্ডল বলেন, যশোরেশ্বরী কালীমন্দিরের মুকুট চুরির ঘটনাটি স্পর্শকাতর। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা ব্যক্তির পরিচয় তদন্তকারী কর্মকর্তা নিশ্চিত করতে পারেননি।
সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. নাজমুল হোসেন জানান, গত ১৭ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়, যা ২১ এপ্রিল অনলাইনে প্রকাশিত হয়। ১০ জুন অভিযোগপত্র আদালতে উপস্থাপনের পর বাদীর উপস্থিতিতে শুনানির জন্য প্রথমে ১৯ আগস্ট এবং পরে ৮ নভেম্বর তারিখ ধার্য করা হয়েছিল। আগামী ১৯ জানুয়ারি নতুন শুনানীর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।












