সাতক্ষীরায় স্থানীয় নীতিমালায় জলবায়ু অভিযোজন অন্তর্ভুক্তির দাবি
নিজস্ব প্রতিনিধি: জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর নিরাপদ আবাসন, স্যানিটেশন ও টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করতে স্থানীয় নীতিমালায় জলবায়ু অভিযোজন কৌশল অন্তর্ভুক্তির দাবি জানানো হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোল এলাকার রয়েল গ্লাস কনভেনশন হলে ‘স্থানীয় নীতিমালায় জলবায়ু অভিযোজন সংযোজন’ শীর্ষক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা উত্তরণের আয়োজনে এবং হ্যাবিট্যাট ফর হিউম্যানিটি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সহযোগিতা ও অর্থায়নে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম মিনির সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও পৌরসভার প্রশাসক শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত হোসেন, সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান, সাতক্ষীরা সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শাহিনুল ইসলাম, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান মনি ও উত্তরণের এড মনির উদ্দিন।
উত্তরণের ওভারসি ক্লাইমেট প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. বিল্লাল হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের শরিফুল ইসলাম, নারী নেত্রী ফরিদা আক্তার বিউটি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের জ্যোৎস্না দত্ত, সাংবাদিক আসাদুজ্জামান সরদার, সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের আফজাল হোসেন এবং সাতক্ষীরা জেলা জলবায়ু বাস্তুচ্যুত মানুষের অধিকার ও উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি ফাতেমা বেগম ও সদস্যসচিব সোনিয়া খাতুন।
সভায় ‘সহনশীল ভবিষ্যৎ নির্মাণ: জলবায়ু অভিবাসী ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য সার্বিক জলবায়ু অভিযোজন’ প্রকল্পের ওপর উপস্থাপনা দেন হ্যাবিট্যাট ফর হিউম্যানিটি বাংলাদেশের অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড আরবান বিশেষজ্ঞ তানজিয়া আঞ্জুম। এতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, এনজিও প্রতিনিধি, এসএমজি প্রতিনিধি ও প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের সুরক্ষা এবং জলবায়ু অভিবাসীদের জীবনমান উন্নয়নে স্থানীয় নীতিমালায় অভিযোজন কৌশল অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। সাতক্ষীরা পৌরসভার ১, ২, ৩, ৫ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডসহ ৪৭টি অনানুষ্ঠানিক বসতিতে বসবাসরত জলবায়ু অভিবাসী ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
তাঁরা স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বার্ষিক বাজেটে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চাহিদা এবং জলবায়ু অভিযোজনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য নিরাপদ আবাসন ও মৌলিক নাগরিক সেবা নিশ্চিত, জলবায়ু অভিযোজনে নারীর অংশগ্রহণ ও মতামতকে গুরুত্ব এবং পৌরসভা ও নাগরিক সমাজের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর দাবি জানান।
বক্তারা আরও বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন, সুপেয় পানির সংকট দূরীকরণ এবং অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। জলবায়ু সহনশীল সাতক্ষীরা গড়ে তুলতে ড্রেনেজ, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।









