দেবহাটায় শামীম হত্যা মামলায় যুবদল নেতার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি
পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ওয়াহেদুজ্জামান সানা ওরফে শামীমকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় যুবদল নেতা সাদিকুল ইসলাম ভদু আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার বিকেলে সাতক্ষীরার আমলি আদালত-৩-এর বিচারক নুসরাত জাহানের খাসকামরায় তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় এ জবানবন্দি দেন।
সাদিকুল ইসলাম ভদু দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া শেখপাড়ার শওকত আলীর ছেলে। তিনি পারুলিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দেবহাটা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল আমিন জানান, ওয়াহেদুজ্জামানকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার দুই নম্বর আসামি সাদিকুল ইসলাম ভদু গত ২৮ অক্টোবর আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। আদালত তাঁর আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে রোববার তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
সাতক্ষীরা আদালত পুলিশের পরিদর্শক নাজমুল হোসেন জানান, জবানবন্দি গ্রহণ শেষে রোববার বিকেলে সাদিকুল ইসলামকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের বড় শান্তা গ্রামের শামছুর রহমান সানার ছেলে ওয়াহেদুজ্জামান মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রতিবেশী আবুল কাশেমের মেয়ে মোসলেমা, ছেলে হোসেন আলী ও একই এলাকার মাসুদের মোবাইল ফোনে ধারণ করা কথোপকথনের সূত্র ধরে তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ওঠে।
এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, গত ১২ অক্টোবর সন্ধ্যায় স্থানীয় জামায়াত কার্যালয়ের সামনে থেকে একদল লোক ওয়াহেদুজ্জামানের বাড়িতে হামলা চালায়। পরদিন সন্ধ্যায় কুলিয়ার ডা. এম এ সবুরের ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর ওপর নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই দিন পারুলিয়া থেকে মিছিল নিয়ে একদল লোক সখীপুর হাসপাতালের পেছনের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে পুলিশ, আনসার ও চিকিৎসকের উপস্থিতিতে তাঁকে মারধর করে। পরে তাঁর মৃত্যু হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই আব্দুল জলিল ১৫ অক্টোবর ফজলুল হক আমিনি, যুবদল নেতা সাদিকুল ইসলাম ভদু, মোক্তার খান ও আসাদুল মোল্লাসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২৫০ জনকে আসামি করে দেবহাটা থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলার পর ১৫ অক্টোবর রাতে মোক্তার খান, ১৬ অক্টোবর সকালে আসাদুল মোল্লা এবং ১৭ অক্টোবর ফজলুল হক আমিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ফজলুল হক আমিনিও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।









