শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:০২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি: ৭ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় জেলা দলিল লেখক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দলিল রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি “আধুনিকায়নের নামে দলিল লেখকদের পেশাচ্যুত না করা” এবং “দলিল প্রতি ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা” সহ বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাতক্ষীরা জেলা দলিল লেখক সমিতির উদ্যোগে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক সংলগ্ন অডিটোরিয়ামে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা জেলা দলিল লেখক সমিতির আহ্বায়ক শেখ মাহাবুব উল্লাহ এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব মোঃ নাসির উদ্দীন।

সংগঠনের নেতারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে দলিল লেখকদের ন্যায়সংগত নানা অধিকার ও দাবি উপেক্ষিত হয়ে আসছে। দাবি আদায়ের জন্য তাদের এ সমাবেশ।

বক্তরা ৭দফা দাবি তুলে ধরেন। এসব দাবীর মধ্যে রয়েছে, আধুনিকায়নের নামে দলিল লেখকদের পেশাচ্যুত করা যাবে না। দলিল প্রতি ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা প্রদান করতে হবে। লাইসেন্সপ্রাপ্ত দলিল লেখক ব্যতিরেকে অন্য কোনো ব্যক্তি দলিল লেখা বা মুসাবিদা করতে পারবে না বা দলিল রেজিস্ট্রির জন্য দাখিল করতে পারবে না মর্মে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটির সুপারিশ ছাড়া নতুন কোন লাইসেন্স প্রদান না করা।

সরকারি খরচে রেজিস্ট্রি অফিস কম্পাউন্ডে দলিল লেখকদের বসার ও নামাজের স্থান নির্মাণ করতে হবে। দলিল লেখা বা মুসাবিদা করার কারণে দলিল লেখকদের আসামি করে কোন মামলা করা যাবে না।

দলিল লেখক কাউন্সিল গঠনের অনুমতি প্রদান করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে সাতক্ষীরা সদর, কলারোয়া, তালা, আশাশুনি, কালিগঞ্জ, দেবহাটা ও শ্যামনগর উপজেলার দলিল লেখক সহ সমিতির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং ৭ দফা দাবি আদায় সংগ্রাম কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জেলার সকল দলিল লেখকদেরকে একত্রিত থাকার আহ্বান জানান এবং সমাবেশ সফল করার জন্য সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

Ads small one

পাইকগাছায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কিশোরের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৩ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কিশোরের মৃত্যু

কপিলমুনি (পাইকগাছা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মুন্না (১৭) নামের এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। তিনি পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভারের হেল্পার এবং ভিলেজ পাইকগাছা গ্রামের মাসুম বিল্লার ছেলে। শনিবার সকাল ৮:১৫ মিনিটে খুলনার একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

জানা যায়, কয়েক দিন ধরে জ্বরে ভোগার পর মুন্না স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান। সেখানে চিকিৎসকরা তার ডেঙ্গু পরীক্ষা করালে পজিটিভ আসে এবং তাকে ভর্তির পরামর্শ দেওয়া হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা একটি ক্লিনিকে রেফার করা হয়, সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে তার জীবন প্রদীপ নিভে যায়। মাত্র ১৭ বছর বয়সে তরতাজা এক যুবকের এমন মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে পাইকগাছায় ডেঙ্গুর প্রকোপ ও একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর পাইকগাছার ফসিয়ার রহমান মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক তাপস কুমার মন্ডল ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বর্তমানে পাইকগাছা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে আহমেদ বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এই অল্প বয়সে এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না।

গোদাড়া চিত্রানদীর তীরে হাজারো মানুষের ভিড় নামে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
গোদাড়া চিত্রানদীর তীরে হাজারো মানুষের ভিড় নামে

সৈয়দ অনুজ, ফকিরহাট (বাগেরহাট): আশ্বিনের প্রখর রোদ, নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা আর এর সঙ্গে বইঠার ছন্দ, নৌকার গতি আর দর্শনার্থীদের উচ্ছ্বাস সব মিলিয়ে উৎসবে পরিণত হয় বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর ইউনিয়নের গোদাড়া চিত্রানদী।

কলকলিয়া ত্রিপল্লী মাঝি মিলন সংঘের আয়োজনে বৃহস্পতিবার বিকেলে চিত্রানদীতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল গস্খামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। বাইচ দেখতে নদীর দুই পাড়ে হাজারো মানুষের ঢল নামে। বাঙালি সংস্কৃতির প্রাচীনতম এ উৎসব উপভোগ করতে শিশু-কিশোর ও নারী-পুরুষেরা আনন্দে মেঠে উঠে।  উৎসবকে কেন্দ্র করে বসে গ্রামীণ মেলা। এদিন দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে এ প্রতিযোগিতা। এতে ৮টি নৌকা অংশগ্রহণ করে। কয়েকজন দর্শনার্থী জানান, তারা পরিবার নিয়ে নৌকা বাইচ দেখতে এসেছেন। প্রতিবছর এই দিনে এখানে নৌকা বাইচ দেখতে আসেন। নৌকা বাইচ দেখে তারা অনেক মুগ্ধ।

আয়োজন কমিটি বলেন, প্রতিবছরের ন্যায় এ বছর বিশ্বকর্মা পূজা উপলক্ষে এই নৌকা বাইচ এর আয়োজন করা হয়। নৌকা বাইচ দেখতে আশপাশের অঞ্চল থেকে হাজারো মানুষের উপস্থিতি ঘটে। নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফকিরহাট সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: শরীফ নেওয়াজ।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে আয়োজক কমিটির সভাপতি নরেন্দ্রনাথ মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক পিযুষ কান্তি সরকার, ইউপি সদস্য মহাদেব বিশ্বাস মদন, মনোজ মজুমদার, জীবন সরকার, উপজেলা বিএনপি নেতা শেখ ইফতেখার আহমেদ পলাশ, মোড়ল কামরুজ্জামান, সাবেক উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শেখ মুশফিকুজ্জামান রিপন, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব লায়ন দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক কাজী মঈন উদ্দিন মেরু, মূলঘর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সুব্রত গোলদার শুভ, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো: শরীফ রসরদার, ছাত্রদল নেতা সাবিতুল ইসলামসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশের অভিযানে আশাশুনিতে ৭ ও দেবহাটায় ১ জন গ্রেপ্তার, মোবাইল কোর্টে ১ জনের জেলা জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৩ অপরাহ্ণ
পুলিশের অভিযানে আশাশুনিতে ৭ ও দেবহাটায় ১ জন গ্রেপ্তার, মোবাইল কোর্টে ১ জনের জেলা জরিমানা

বিএম আলাউদ্দীন/কে এম রেজাউল করিম: আশাশুনিতে পুলিশের নিয়মিত বিশেষ অভিযানে ওয়ারেন্টভুক্ত ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে একজনকে ২ মাসের কারাদন্ড ও ১০১ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া দেবহাটায় আটক করা হয়েছে সিআর পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে।

আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জাহাঙ্গীর আরিফ জানান, থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক ও আদালতের পরোয়ানাভুক্ত ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে পৃথক অভিযানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, আশাশুনি উপজেলার রাজাপুর গ্রামের মোঃ আব্দুর খালেক শেখের ছেলে মোঃ সাইফুল ইসলাম, মোঃ ইসাহাক সরদারের ছেলে মোঃ রুহুল কুদ্দুস, মোঃ ফজোর আলী মোড়লের ছেলে মোঃ রবিউল ইসলাম, মোঃ মুনছুর গাজীর ছেলে মোঃ আব্দুর রহমান, মোঃ রহমাত কারিকরের ছেলে মোঃ আসাদুল কারিকর এবং সুরমান সরদারের ছেলে মোঃ লিয়াকত আলী সরদার।
অপরদিকে পুলিশের অভিযানে মাদকসহ গ্রেপ্তারকৃত একজনকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ১০১ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়েছে। দন্ডপ্রাপ্তের নাম রুহুল আমিন (৩০)। সে আশাশুনি সদরের পূর্বপাড়া গ্রামের আবুল বাশারের ছেলে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আশাশুনিতে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে এ দন্ডাদেশ দেওয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শ্যামানন্দ কুন্ডু। আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহাঙ্গীর আরিফের নেতৃত্বে এসআই লক্ষণ, এএসআই অমিত হাসান সহ সঙ্গীয় ফোর্সের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাতক্ষীরা জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এদিকে দেবহাটায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে সিআর পরোয়ানাভুক্ত এক পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে দেবহাটা থানাধীন কোড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার মো. হাবিবুর রহমান উপজেলার কোড়া গ্রামের মো. হান্নান আলীর ছেলে।

দেবহাটা থানা সূত্রে জানা যায়, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এইচএম শাহিন হোসেনের নেতৃত্বে এএসআই মো. ইব্রাহিম খলিল ও এএসআই রহমত আলী সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর তাকে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।