শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

পরিত্যাক্ত পাইকগাছার গদাইপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পুরোনো ভবন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৪ অপরাহ্ণ
পরিত্যাক্ত পাইকগাছার গদাইপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পুরোনো ভবন

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি (পাইকগাছা): পরিত্যক্ত ভবন পড়ে আছে ঝুঁকি নিয়ে, নষ্ট হচ্ছে সরকারি সম্পদ খুলনার পাইকগাছা পৌর সদরের গদাইপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পুরোনো ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বছরের পর বছর ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের বাইরে থাকায় ভবনটির বিভিন্ন অংশ এখন জরাজীর্ণ। ছাদ ও দেয়ালে জন্মেছে গাছপালা, খসে পড়ছে ইট-পলেস্তারা। একসময় স্বাস্থ্যসেবার কাজে ব্যবহৃত এই সরকারি স্থাপনাটি এখন পড়ে থেকে ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ভবনের আশপাশ দিয়ে চলাচলকারী মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গদাইপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পুরোনো ভবনটি দীর্ঘদিন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ার পর প্রায় তিন দশক আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এর পাশেই নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়। এরপর থেকে পুরোনো ভবনটি আর ব্যবহার করা হয়নি। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ভবনটির পরবর্তী ব্যবস্থাপনা বা অপসারণের কার্যকর কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি বলে স্থানীয়দের দাবি।

সরেজমিনে দেখা যায়, পুরোনো ভবনটির বিভিন্ন অংশে ভাঙন ধরেছে। ছাদ ও দেয়ালের ওপর গজিয়ে উঠেছে বড় বড় গাছ। কোথাও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়েছে, কোথাও ইট বেরিয়ে এসেছে। দীর্ঘদিনের বৃষ্টির পানি ও প্রাকৃতিক ক্ষয়ের প্রভাবে ভবনের কাঠামো ও বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে।

ভবনের বর্তমান চেহারায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে দীর্ঘদিনের অযতেœর চিত্র। কোনো কোনো অংশে এমনভাবে ক্ষয় ধরেছে যে সেগুলো যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ভবনটি পরিত্যক্ত হলেও এর আশপাশের চলাচল বন্ধ হয়নি। প্রতিদিন স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও শিক্ষার্থীরা ভবনের পাশ দিয়ে যাতায়াত করেন। ফলে ভবনের কোনো অংশ আকস্মিকভাবে ভেঙে পড়লে অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। একটি সরকারি ভবন দীর্ঘদিন ব্যবহার না করে ফেলে রাখলে সময়ের সঙ্গে তার কাঠামোগত সক্ষমতা কমে যায়। একই সঙ্গে ভবনের দরজা-জানালা, কাঠ, ইট, লোহা ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রীও নষ্ট হতে থাকে। গদাইপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পুরোনো ভবনটির ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, ভবনটি নির্মাণে একসময় সরকারি অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল। বর্তমানে ভবনটির বিভিন্ন অংশ ক্ষয়ে যাওয়ায় সেই সরকারি বিনিয়োগের বড় একটি অংশ ধ্বংসের মুখে পড়েছে।
ভবনটির বর্তমান মূল্য ও অবশিষ্ট নির্মাণসামগ্রীর মূল্য নির্ধারণ করে যথাযথ সরকারি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এতে একদিকে সরকারি সম্পদের অপচয় কমবে, অন্যদিকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাটি থেকেও জনসাধারণ নিরাপদ থাকবে।

প্রায় ৩০ বছর ধরে একটি সরকারি ভবন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকার বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি করেছে। ভবনটি ঠিক কবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল, এরপর এর বিষয়ে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, অপসারণের জন্য কোনো প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল কি না এসব তথ্যও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কারণ দীর্ঘদিন একটি স্থাপনা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকলে সেটি শুধু সম্পদহানির কারণ নয়; সময়ের সঙ্গে তা জননিরাপত্তার ঝুঁকিতেও পরিণত হতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, পরিত্যক্ত ভবনটির বর্তমান অবস্থা দ্রুত সরেজমিনে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। ভবনটি সংস্কারযোগ্য হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এবং ব্যবহারের অনুপযোগী হলে সরকারি বিধি অনুযায়ী অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা ভবনটির বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে একদিকে সরকারি সম্পদ আরও ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে, অন্যদিকে পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্ভাব্য দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমবে।

স্থানীয় বাসিন্দা রহমত আলী জানান, ভবনটি যখন আর ব্যবহারযোগ্য নয়, তখন দীর্ঘদিন ধরে এভাবে ফেলে রাখার পরিবর্তে যথাযথ প্রক্রিয়ায় এর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন ছিল। বিশেষ করে জনসাধারণের চলাচলের পাশে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা থাকায় বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার।

তিন দশকের বেশি সময় ধরে পড়ে থাকা গদাইপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পুরোনো ভবনটি এখন তাই শুধু একটি জরাজীর্ণ স্থাপনা নয়; এটি দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনায় পড়ে থাকা একটি সরকারি সম্পদের চিত্রও তুলে ধরছে।

Ads small one

পুলিশের অভিযানে আশাশুনিতে ৭ ও দেবহাটায় ১ জন গ্রেপ্তার, মোবাইল কোর্টে ১ জনের জেলা জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৩ অপরাহ্ণ
পুলিশের অভিযানে আশাশুনিতে ৭ ও দেবহাটায় ১ জন গ্রেপ্তার, মোবাইল কোর্টে ১ জনের জেলা জরিমানা

বিএম আলাউদ্দীন/কে এম রেজাউল করিম: আশাশুনিতে পুলিশের নিয়মিত বিশেষ অভিযানে ওয়ারেন্টভুক্ত ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে একজনকে ২ মাসের কারাদন্ড ও ১০১ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া দেবহাটায় আটক করা হয়েছে সিআর পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে।

আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জাহাঙ্গীর আরিফ জানান, থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক ও আদালতের পরোয়ানাভুক্ত ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে পৃথক অভিযানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, আশাশুনি উপজেলার রাজাপুর গ্রামের মোঃ আব্দুর খালেক শেখের ছেলে মোঃ সাইফুল ইসলাম, মোঃ ইসাহাক সরদারের ছেলে মোঃ রুহুল কুদ্দুস, মোঃ ফজোর আলী মোড়লের ছেলে মোঃ রবিউল ইসলাম, মোঃ মুনছুর গাজীর ছেলে মোঃ আব্দুর রহমান, মোঃ রহমাত কারিকরের ছেলে মোঃ আসাদুল কারিকর এবং সুরমান সরদারের ছেলে মোঃ লিয়াকত আলী সরদার।
অপরদিকে পুলিশের অভিযানে মাদকসহ গ্রেপ্তারকৃত একজনকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ১০১ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়েছে। দন্ডপ্রাপ্তের নাম রুহুল আমিন (৩০)। সে আশাশুনি সদরের পূর্বপাড়া গ্রামের আবুল বাশারের ছেলে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আশাশুনিতে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে এ দন্ডাদেশ দেওয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শ্যামানন্দ কুন্ডু। আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহাঙ্গীর আরিফের নেতৃত্বে এসআই লক্ষণ, এএসআই অমিত হাসান সহ সঙ্গীয় ফোর্সের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাতক্ষীরা জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এদিকে দেবহাটায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে সিআর পরোয়ানাভুক্ত এক পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে দেবহাটা থানাধীন কোড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার মো. হাবিবুর রহমান উপজেলার কোড়া গ্রামের মো. হান্নান আলীর ছেলে।

দেবহাটা থানা সূত্রে জানা যায়, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এইচএম শাহিন হোসেনের নেতৃত্বে এএসআই মো. ইব্রাহিম খলিল ও এএসআই রহমত আলী সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর তাকে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

 

মামলা জট কমাতে মেডিয়েশনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে: চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৪ অপরাহ্ণ
মামলা জট কমাতে মেডিয়েশনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে: চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার

বদিউজ্জামান: মামলা জট কমানো এবং সাধারণ মানুষের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে লিগ্যাল এইডের কার্যক্রম ও মেডিয়েশন (মধ্যস্থতা) আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সাতক্ষীরার চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার এবং যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মো. মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেছেন, আপস-মীমাংসার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হলে উভয় পক্ষই জয়ী হয়, দুই পরিবারের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং আদালতের মামলা জটও কমে। লিগ্যাল এইড সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার এল্লারচর সংলগ্ন চিংড়ি চাষ প্রদর্শনী খামারের সম্মেলন কক্ষে ‘ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’-এর বাস্তবায়নে এবং টিডিএইচ নেদারল্যান্ডস-এর কারিগরি সহযোগিতায় পরিচালিত ‘স্পিক আপ!’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান ও রাষ্ট্র জনগণের মৌলিক অধিকারের বিষয়ে সোচ্চার। কেউ যাতে আইনের দৃষ্টিতে সমতা ও ন্যায্যতার অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে সবাইকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে লিগ্যাল এইড একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে প্রায় পাঁচ লাখ মামলা দায়ের হয় এবং নিষ্পত্তি হয় প্রায় তিন লাখ। ফলে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মামলা অনিষ্পন্ন থেকে যায়। এ মামলা জট থেকে উত্তরণের অন্যতম পথ হিসেবে সরকার অউজ বা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে আপস-মীমাংসার উদ্যোগ নিয়েছে।

মো. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, মেডিয়েশনের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হলে আদালতে মামলা-মোকদ্দমায় জড়ানোর সুযোগ কমে যায়। একই সঙ্গে দুই পক্ষের পরিবারের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে আদালতে মামলা দায়ের ৬০ শতাংশ কমেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির ফলে এ পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিচার বিভাগের জন্য এটি একটি স্বস্তির বিষয়।

তিনি আরও বলেন, আপস-মীমাংসার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হলে কোনো পক্ষকে পরাজিত হতে হয় না; বরং দুই পক্ষই জয়ী হয়। উভয় পরিবারের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়। প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের সমাজে সালিশ ব্যবস্থার প্রচলন ছিল। সেই ঐতিহ্যবাহী ব্যবস্থাকে আধুনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় মেডিয়েশন পদ্ধতিতে সাজানো হয়েছে। এ ইতিবাচক উদ্যোগকে সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে।

লিগ্যাল এইড কার্যক্রমের প্রসারে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, যত বেশি মানুষ লিগ্যাল এইড সম্পর্কে সচেতন হবে, সাধারণ মানুষ তত বেশি উপকৃত হবে। লিগ্যাল এইডের কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে। আমরা সবাই লিগ্যাল এইডের একজন ‘সৈনিক’ হিসেবে কাজ করব-এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

সাতক্ষীরায় লিগ্যাল এইডের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার কথা উল্লেখ করে চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার বলেন, সরকারের দেওয়া লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে চাই আমরা। এজন্য মেডিয়েশন কার্যক্রমকে আরও অনেক বেশি এগিয়ে নিতে হবে। জনগণের দোরগোড়ায় আইনগত সহায়তার সেবা পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগের যুগ্ম সচিব ও পরিচালক মো. হাসাইন শওকত। তিনি বলেন, মানুষকে যথাযথ সম্মান দিতে হবে। কাউকে সম্মান দিতে না পারলে তার কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করা যায় না।

তিনি ডিভাইসের সঠিক ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে সাতক্ষীরায় সাইবার সুরক্ষা ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি জানান। শিশু-কিশোরদের অনলাইনে যৌন হয়রানি ও অনলাইন নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানান তিনি। লিগ্যাল এইড অফিসে শিশুদের জন্য পৃথক ‘চাইল্ড সেল’ চালুর বিষয়টিও বিবেচনা করার প্রস্তাব দেন।

সভাপতির বক্তব্যে ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের উপপরিচালক ড. তারেকুজ্জামান বলেন, শিশু ও যুবকদের অধিকার সুরক্ষা, নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ, স্বাধীন মতপ্রকাশ এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে তাদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

সভায় উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন সাংবাদিক আব্দুল বারী, স্বদেশের নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্ত, প্যানেল আইনজীবী খায়রুল বদিউজ্জামান, অ্যাডভোকেট শামিমুর রেজা শামীম, অ্যাডভোকেট এস,এম বিপ্লব হোসেন, জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির পর্যবেক্ষক সদস্য সাকিবুর রহমান বাবলা, সাংবাদিক আখতারুজ্জামান বাচ্চু, টিআইবির রেবেকা সুলতানা, নাজমুল হুদা ও সাইবার ক্রাইম এলার্ট টিমের মাহাবুবুল হক।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম মিনি, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন্নাহার, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি শেখ আলমগীর আশরাফ এবং সিনিয়র আইনজীবী মোস্তফা আসাদুজ্জামান দিলু।

সভায় ‘স্পিক আপ!’ প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার পাশাপাশি লিগ্যাল এইডের কার্যক্রম, নির্যাতন ও শোষণের শিকার ব্যক্তিদের আইনগত সুরক্ষা, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

আলোচনা শেষে কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিজয়ী হিসেবে এডভোকেট ইয়াসমিন সুলতানা সুমি ও সাকিবুর রহমান বাবলা পুরস্কার লাভ করেন এবং সান্তনা পুরস্কার দেয়া হয় অ্যাডভোকেট বিউটি আক্তার এর কন্যা জাফরিন আক্তারকে।

সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন, ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স এর ডিস্ট্রিক্ট ইনচার্জ মোঃ শরিফুল ইসলাম।

সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম দ্রুত চালুর দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০৫ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম দ্রুত চালুর দাবি

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক কার্যক্রম দ্রুত চালু, উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগ, প্রয়োজনীয় শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ, লাইন কার্যক্রম চালুসহ জেলার দীর্ঘদিনের বিভিন্ন যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নের দাবীতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা সাংবাদিক ক্লাব, সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন আন্দোলন পরিষদ, সুন্দরবন বিশ্ববিদ্যালয় সাতক্ষীরা জেলা বাস্তবায়ন কমিটি, ‘সময়ের দাবিতে সাতক্ষীরা সিটি কর্পোরেশন’ এবং সমৃদ্ধ সাতক্ষীরা জেলা বাস্তবায়ন পরিষদ যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ বলেন, সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক কার্যক্রম দ্রুত চালু করতে হবে। এজন্য দ্রুত ভিসি নিয়োগের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ এবং একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। সাতক্ষীরার মানুষের যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্য দেন ঝাউডাঙ্গা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারী।

সাতক্ষীরা সাংবাদিক ক্লাবের সভাপতি এস এম মহিদার রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি শেখ আলমগীর আশরাফ, সাতক্ষীরা জজকোর্টের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট আকবর আলী, অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট এবিএম সেলিম, সাতক্ষীরা সাংবাদিক ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মীর আবু বকর, কুমিরা মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক নূর মোহাম্মাদ পাড়, সমাজসেবক শেখ মোহাম্মাদ জাহাঙ্গীর হাশেমী, প্রভাষক এস এম রজব আলী ও আব্দুস সামাদ। সভা সঞ্চালনা করেন অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল হাবিব।

বক্তারা বলেন, সাতক্ষীরা দেশের একটি সম্ভাবনাময় সীমান্তবর্তী জেলা হলেও দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, যোগাযোগ, নগরায়ণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাঙ্খিত অগ্রগতি থেকে পিছিয়ে রয়েছে। জেলার উন্নয়নে দীর্ঘদিনের দাবিগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

তারা সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্রুত একাডেমিক কার্যক্রম চালু, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর দাবি জানান। একই সঙ্গে সাতক্ষীরায় সুন্দরবন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, রেল যোগাযোগ বাস্তবায়ন এবং সাতক্ষীরাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার দাবিও তুলে ধরেন।

বক্তারা আরও বলেন, সাতক্ষিয়ায় রেল যোগাযোগ চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহন, পর্যটন ও মানুষের যাতায়াতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়লে সাতক্ষীরার শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বৃহত্তর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও উপকৃত হবেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন হাফেজ মাওলানা আবুল হোসেন।

সভায় সাংবাদিক মো. ফিরোজ হোসেন, মো. শাহজাহান আলী মিটন, শেখ কামরুল ইসলাম, জি এম সোহরাব হোসেন, এস এম রবিউল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, মো. জাকিরুল ইসলাম, হাবিবুল্লাহ বাহার, এম এম রবিউল ইসলাম, মো. শফিকুল ইসলাম, মো. মাসুদুজ্জামান, জাহাঙ্গীর হোসেন, মিহিরুজ্জামান, হাফিজুর রহমান, আতিয়ার রহমান, গোলাম মোস্তফা, এনামুল হক সিকদার, আসাদুজ্জামান খান, মো. মনিরুল ইসলাম, লাল্টু হোসেন, মো. দেলোয়ার হোসেন, আতিকুজ্জামান ও মো. হাফিজসহ সাংবাদিক, আইনজীবী, শিক্ষক, সামাজিক ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

সভা থেকে সাতক্ষীরাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবিগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে এসব দাবি বাস্তবায়নে ভবিষ্যতে আরও ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি গ্রহণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা।