বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সাতক্ষীরার বৈশাখী উদ্যোক্তা মেলায় দর্শনার্থীর ঢল, জমজমাট বেচাকেনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার বৈশাখী উদ্যোক্তা মেলায় দর্শনার্থীর ঢল, জমজমাট বেচাকেনা

ইব্রাহিম খলিল: বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও বিসিক আয়োজিত বৈশাখী উদ্যোক্তা মেলায় দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাত দিনব্যাপী এই মেলার আজ পঞ্চম দিন। শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক প্রাঙ্গণে আয়োজিত মেলাকে ঘিরে সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন সড়কে মানুষের ভিড় দেখা যায়। বিশেষ করে বিকেল ও সন্ধ্যায় শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে মেলায় আসছেন। তারা কেনাকাটার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করছেন। নানা রঙের স্টল, দেশীয় পণ্য ও ঐতিহ্যবাহী সামগ্রীতে সাজানো মেলাটি দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) মেলা প্রাঙ্গণে বিভিন্ন বয়সী দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এতে উদ্যোক্তাদের বেচাকেনাও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে হাতে তৈরি পোশাক, মাটির তৈরি পণ্য, গৃহস্থালি সামগ্রী, পাট ও বাঁশের তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী এবং শিশুদের খেলনার চাহিদা বেশি দেখা যাচ্ছে।
মেলায় স্টল দেওয়া স্থানীয় এক উদ্যোক্তা নুর জাহান বলেন, নববর্ষ উপলক্ষে মেলায় মানুষের উপস্থিতি অনেক বেশি। বিশেষ করে বিকেলের পর থেকে আমাদের স্টলে ভিড় বাড়ে। হাতে তৈরি পোশাক ও নারীদের ব্যবহার্য পণ্য বেশি বিক্রি হচ্ছে।
ঢাকা থেকে আসা নাহার কালেকশন-এর উদ্যোক্তা সামছুন্নাহার বলেন, মেলায় প্রচুর মানুষের ভিড় রয়েছে, তবে ঢাকা থেকে এসে খরচ তোলা কষ্টকর হবে। তারপরও এসেছি সাতক্ষীরায় কী ধরনের মালামাল চলে সেটা বোঝার জন্য।
মেলায় পরিবার-পরিজন নিয়ে আসা দর্শনার্থীদের মধ্যেও ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। অনেকে পরিবার নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি কেনাকাটা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করছেন।
পরিবার নিয়ে মেলায় আসা দর্শনার্থী মো.নাজমুস সাকিব বলেন, প্রতি বছরই আমরা পরিবার নিয়ে বৈশাখী মেলায় আসি। এখানে এসে শিশুদের আনন্দ দেখতেই সবচেয়ে ভালো লাগে। পাশাপাশি দেশীয় নানা পণ্য একসঙ্গে পাওয়া যায়, যা আমাদের জন্য সুবিধাজনক।
আরেক দর্শনার্থী সাজেদুল ইসলাম বলেন, পরিবার নিয়ে বিকেলের দিকে মেলায় এসেছি। শিশুদের জন্য খেলনা ও বিভিন্ন খাবারের আয়োজন আছে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও খুব ভালো লাগছে। এমন আয়োজন প্রতিবছর হলে ভালো লাগে।
মেলায় অংশ নেওয়া উদ্যোক্তাদের বিষয়ে বিসিকের কর্মকর্তা বলেন, সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী কুটিরশিল্প এখানে প্রদর্শন করা হচ্ছে। এই মেলায় স্থানীয় ও বিভিন্ন জেলা থেকে আগত উদ্যোক্তাদের একটি মিলনমেলা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার বলেন, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সাতক্ষীরায় বর্ণাঢ্য আয়োজন ছিল। এই আয়োজনের অংশ হিসেবে আমরা বৈশাখী উদ্যোক্তা মেলার আয়োজন করেছি। বৈশাখী উদ্যোক্তা মেলার প্রধান উদ্দেশ্য স্থানীয় যারা উদ্যোক্তা রয়েছে যেমন অনেকে নকশীর কাজ করে, কাঠ দিয়ে বিভিন্ন সুন্দর শোপিস তৈরি করে এমন বিভিন্ন ধরনের ও বিভিন্ন পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের এখানে সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছি।
জেলা প্রশাসন ও বিসিকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই বৈশাখী উদ্যোক্তা মেলা স্থানীয় উদ্যোক্তাদের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির সুযোগ সৃষ্টি করার পাশাপাশি নববর্ষের উৎসবমুখর পরিবেশে শহরবাসীর বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

Ads small one

কপোতাক্ষ নদে বজ্রপাতে নিখোঁজ জেলের মরদেহ ২৯ ঘণ্টা পর উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১:০১ পূর্বাহ্ণ
কপোতাক্ষ নদে বজ্রপাতে নিখোঁজ জেলের মরদেহ ২৯ ঘণ্টা পর উদ্ধার

 

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের চাকলা এলাকায় কপোতাক্ষ নদে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে নিখোঁজ হওয়া জেলে মো. আরিফ হাসানের (৩৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২৯ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে চাউলখোলা খুটিকাটা লঞ্চঘাট সংলগ্ন নদ থেকে তাঁর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মৃত আরিফ হাসান চাকলা গ্রামের মৃত আব্দুল হাই সানার ছেলে। এর আগে গত সোমবার বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে চাকলা গ্রামের কপোতাক্ষ নদে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আরিফ হাসান প্রতিদিনের মতো সোমবার বিকেলে একা একটি নৌকা নিয়ে কপোতাক্ষ নদে মাছ ধরতে যান। বিকেলের দিকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হলে একপর্যায়ে তাঁর নৌকার ওপর বজ্রপাত হয়। এতে তিনি নৌকা থেকে ছিটকে নদে পড়ে নিখোঁজ হন এবং নৌকাটি ডুবে যায়।
ঘটনার পর স্থানীয় জেলে, স্বজন ও এলাকাবাসী মিলে ডুবে যাওয়া নৌকাটি উদ্ধার করতে পারলেও আরিফের কোনো সন্ধান পাননি। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল ও ডুবুরিরা নদে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। অবশেষে মঙ্গলবার রাতে দুর্ঘটনাস্থল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে চাউলখোলা খুটিকাটা লঞ্চঘাটের পাশে নদে তাঁর মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে আরিফ হাসানের মরদেহ শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও পুরো এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে চিলতে ওই গ্রামের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।
প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুর রউফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বজ্রপাতে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই নদের বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। মঙ্গলবার রাতে স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁর মরদেহটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

সম্পাদকীয়/ ডিজিটাল সেবার নামে এনালগ ভোগান্তি বন্ধ হোক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১:০০ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ ডিজিটাল সেবার নামে এনালগ ভোগান্তি বন্ধ হোক

প্রযুক্তিভিত্তিক আধুনিক ও সহজ গ্রাহকসেবা নিশ্চিতের লক্ষ্য নিয়ে দেশে প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল গ্রাহকেরা ঘরে বসেই অনায়াসে রিচার্জ করতে পারবেন এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব রাখতে পারবেন। কিন্তু সাতক্ষীরায় ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) প্রিপেইড মিটারের বর্তমান চিত্রটি ঠিক এর উল্টো। গত এক মাস ধরে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশ, রকেট বা নগদের মাধ্যমে রিচার্জ করতে না পেরে শত শত গ্রাহককে তীব্র গরমের মধ্যে ওজোপাডিকো কার্যালয়ে এসে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। সেবা সহজ করার আধুনিক এই মাধ্যমটি এখন গ্রাহকদের জন্য নতুন ভোগান্তি, এমনকি কারও কারও ভাষায় ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পত্রদূত পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সাতক্ষীরা শহরের পাকাপোল এলাকার ওজোপাডিকোর গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে সকাল থেকেই নারী, পুরুষ, প্রবীণ ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভিড় জমছে। অনেক বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় তীব্র গরমে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা। একদিকে ডিজিটাল রিচার্জ ব্যবস্থা অচল, অন্যদিকে ওজোপাডিকো কার্যালয়ে বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের জন্য কাউন্টার সংখ্যা অপ্রতুল। ফলে মাত্র একটি বা দুটি কাউন্টারের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে দিনমজুর থেকে শুরু করে অসুস্থ মানুষকেও। যেখানে সাধারণ মানুষের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, সেখানে সেবার নামে এমন এনালগ ও কষ্টদায়ক ব্যবস্থা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
ওজোপাডিকোর আওতাধীন সাতক্ষীরা বিদ্যুৎ সরবরাহ দপ্তরের গ্রাহক সংখ্যা ৪৫ হাজারের বেশি। এত বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের সেবা সচল রাখতে কারিগরি ত্রুটি দ্রুত সমাধান করা কর্তৃপক্ষের প্রথম দায়িত্ব ছিল। অথচ এক মাস ধরে এই সংকট চললেও এখন পর্যন্ত মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন রিচার্জ সুবিধা চালু করা সম্ভব হয়নি। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে কাউন্টার বাড়ানোর যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তা সাময়িক উপশম মাত্র, স্থায়ী সমাধান নয়।
আমরা মনে করি, আধুনিক সেবার মূল শর্তই হলো তা হয়রানিমুক্ত ও সহজলভ্য হতে হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশের যুগে এসে সামান্য রিচার্জের জন্য মানুষকে কাজ ফেলে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হওয়া প্রশাসনের সমন্বয়হীনতা ও দূরদর্শিতার অভাবকেই স্পষ্ট করে। অবিলম্বে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপগুলোর কারিগরি জটিলতা দূর করে ঘরে বসে রিচার্জের ব্যবস্থা সচল করতে হবে। একই সঙ্গে এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে ওজোপাডিকো কার্যালয়ে কাউন্টার ও লোকবল বাড়িয়ে লাইনে দাঁড়ানো মানুষের কষ্ট লাঘব করা জরুরি। আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করবে।

প্রতাপনগরে বজ্রপাতে নৌকা থেকে পড়ে জেলে নিখোঁজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ
প্রতাপনগরে বজ্রপাতে নৌকা থেকে পড়ে জেলে নিখোঁজ

 

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের চাকলায় কপোতাক্ষ নদে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে আরিফ হোসেন (৩৫) নামে এক মৎস্যজীবি নৌকা থেক পড়ে নিখোঁজ রয়েছে। সোমবার (৮ জুন) বিকাল ৫ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ডুবে যাওয়া নৌকা উদ্ধার হলেও আরিফের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ জানান, চাকলা গ্রামের মৃত্যু আব্দুল হাই সানার ছেলে আরিফ হোসেন প্রতিদিনের ন্যায় নদীতে নৌকায় মাছ ধরার কাজে করছিল। হঠাৎ মেঘের গর্জন ও হাল্কা বৃষ্টিপাতের একপর্যায়ে নৌকায় বজ্রপাতে ঘটলে নৌকায় থাকা একমাত্র আরিফ হোসেন ছিটকে কপোতাক্ষ নদে পড়ে যায় এবং নৌকটিও নদীতে ডুবে যায়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় নৌকাটি উদ্ধার করা গেলেও আরিফ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ আরিফ হোসেনের উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন আত্মীয় স্বজন, এলাকাবাসী ও মৎস্যজীবীরা।
আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু জানান, ঘটনাটি আমি শুনেছি, কয়রা থেকে ফায়ার সার্ভিসের টিম সদস্য ও ডুবুরীরা উদ্ধার কাজ শুরু করেছে।
আশাশুনি ফায়ার সার্ভিসের সদস্য জাকির হোসেন জানান, কয়রা থেকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার কাজে গিয়েছে।