বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩

সাতক্ষীরার বৈশাখী উদ্যোক্তা মেলায় দর্শনার্থীর ঢল, জমজমাট বেচাকেনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার বৈশাখী উদ্যোক্তা মেলায় দর্শনার্থীর ঢল, জমজমাট বেচাকেনা

ইব্রাহিম খলিল: বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও বিসিক আয়োজিত বৈশাখী উদ্যোক্তা মেলায় দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাত দিনব্যাপী এই মেলার আজ পঞ্চম দিন। শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক প্রাঙ্গণে আয়োজিত মেলাকে ঘিরে সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন সড়কে মানুষের ভিড় দেখা যায়। বিশেষ করে বিকেল ও সন্ধ্যায় শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে মেলায় আসছেন। তারা কেনাকাটার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করছেন। নানা রঙের স্টল, দেশীয় পণ্য ও ঐতিহ্যবাহী সামগ্রীতে সাজানো মেলাটি দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) মেলা প্রাঙ্গণে বিভিন্ন বয়সী দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এতে উদ্যোক্তাদের বেচাকেনাও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে হাতে তৈরি পোশাক, মাটির তৈরি পণ্য, গৃহস্থালি সামগ্রী, পাট ও বাঁশের তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী এবং শিশুদের খেলনার চাহিদা বেশি দেখা যাচ্ছে।
মেলায় স্টল দেওয়া স্থানীয় এক উদ্যোক্তা নুর জাহান বলেন, নববর্ষ উপলক্ষে মেলায় মানুষের উপস্থিতি অনেক বেশি। বিশেষ করে বিকেলের পর থেকে আমাদের স্টলে ভিড় বাড়ে। হাতে তৈরি পোশাক ও নারীদের ব্যবহার্য পণ্য বেশি বিক্রি হচ্ছে।
ঢাকা থেকে আসা নাহার কালেকশন-এর উদ্যোক্তা সামছুন্নাহার বলেন, মেলায় প্রচুর মানুষের ভিড় রয়েছে, তবে ঢাকা থেকে এসে খরচ তোলা কষ্টকর হবে। তারপরও এসেছি সাতক্ষীরায় কী ধরনের মালামাল চলে সেটা বোঝার জন্য।
মেলায় পরিবার-পরিজন নিয়ে আসা দর্শনার্থীদের মধ্যেও ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। অনেকে পরিবার নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি কেনাকাটা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করছেন।
পরিবার নিয়ে মেলায় আসা দর্শনার্থী মো.নাজমুস সাকিব বলেন, প্রতি বছরই আমরা পরিবার নিয়ে বৈশাখী মেলায় আসি। এখানে এসে শিশুদের আনন্দ দেখতেই সবচেয়ে ভালো লাগে। পাশাপাশি দেশীয় নানা পণ্য একসঙ্গে পাওয়া যায়, যা আমাদের জন্য সুবিধাজনক।
আরেক দর্শনার্থী সাজেদুল ইসলাম বলেন, পরিবার নিয়ে বিকেলের দিকে মেলায় এসেছি। শিশুদের জন্য খেলনা ও বিভিন্ন খাবারের আয়োজন আছে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও খুব ভালো লাগছে। এমন আয়োজন প্রতিবছর হলে ভালো লাগে।
মেলায় অংশ নেওয়া উদ্যোক্তাদের বিষয়ে বিসিকের কর্মকর্তা বলেন, সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী কুটিরশিল্প এখানে প্রদর্শন করা হচ্ছে। এই মেলায় স্থানীয় ও বিভিন্ন জেলা থেকে আগত উদ্যোক্তাদের একটি মিলনমেলা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার বলেন, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সাতক্ষীরায় বর্ণাঢ্য আয়োজন ছিল। এই আয়োজনের অংশ হিসেবে আমরা বৈশাখী উদ্যোক্তা মেলার আয়োজন করেছি। বৈশাখী উদ্যোক্তা মেলার প্রধান উদ্দেশ্য স্থানীয় যারা উদ্যোক্তা রয়েছে যেমন অনেকে নকশীর কাজ করে, কাঠ দিয়ে বিভিন্ন সুন্দর শোপিস তৈরি করে এমন বিভিন্ন ধরনের ও বিভিন্ন পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের এখানে সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছি।
জেলা প্রশাসন ও বিসিকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই বৈশাখী উদ্যোক্তা মেলা স্থানীয় উদ্যোক্তাদের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির সুযোগ সৃষ্টি করার পাশাপাশি নববর্ষের উৎসবমুখর পরিবেশে শহরবাসীর বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

Ads small one

সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:২১ পূর্বাহ্ণ
সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে সরকারি ও বেসরকারি সমমনা সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণে সিসিআরসি ও আরবিএ বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৪ জুন দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিসিডিবি এই কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সিসিডিবি’র উপজেলা সমন্বয়কারী স্টিভ রায় রূপন। সিসিডিবি’র রেজিলিয়েন্স বিল্ডিং ম্যানেজার সামিউল আলিম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনও শামসুজ্জামান কনক। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সারিদ বিন শফিক, সমাজসেবা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৮ পূর্বাহ্ণ
জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার বসন্তপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গাছপালা কেটে ফেলা এবং জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বসন্তপুর গ্রামের বৈদ্যনাথ দাস বাদী হয়ে শংকর দাস ও দিপঙ্কর দাসসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলা (নং-৪০৬/২০২৬) দায়ের করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বসন্তপুর মৌজার ৫৮ শতক পৈতৃক সম্পত্তির একটি রাস্তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে, যা নিয়ে আগেও একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন আছে। বাদীর অভিযোগ, চলমান মামলার তোয়াক্কা না করে প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক তাঁর জমিতে প্রবেশ করে বিভিন্ন গাছগাছালি কেটে সাবাড় করেছে এবং জমি দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। বিবাদীদের আর্থিক ও সামাজিক প্রভাবের কারণে তাঁর পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানবেতর জীবনযাপন করছে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ
উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আলিপুর থেকে কুলিয়া বাজার পর্যন্ত অংশে সরকারি খাস জমিতে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে। সড়কের ‘অপ্রয়োজনীয় অংশ’ উচ্ছেদ না করে কেবল মূল কাজের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু জমি ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে গত ২৪ জুন জেলা পরিষদ প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত স্মারকলিপি দিয়েছেন তাঁরা। আগামী ৮ ও ৯ জুলাই সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের পক্ষ থেকে মহাসড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর হাতে আবেদনপত্রটি তুলে দেন।
এ সময় কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক শামীম, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বাবলু, কুলিয়া বাজার কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক আবু হুরাইরা এবং সমাজসেবক মোজাম্মেল হোসেনসহ (মিনু ডাক্তার) এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা পরিষদ প্রশাসক ভুক্তভোগীদের বক্তব্য গুরুত্বসহকারে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বাস্তবসম্মত সমাধানের আশ্বাস দেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, এলাকার অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়কের উন্নয়ন কাজকে স্থানীয়রা স্বাগত জানান। তবে সওজ-এর নকশা অনুযায়ী ঢালাওভাবে উচ্ছেদ করা হলে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাঁদের দোকান, পুঁজি ও জীবিকা হারিয়ে পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়বেন। গ্রামীণ অর্থনীতি, মাছের শেড ও স্থানীয় বাজার ব্যবস্থা এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ছাড়া সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী বহু ভূমিহীন পরিবার মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। মানবিক ও সামাজিক দিক বিবেচনা করে সড়ক উন্নয়নে যতটুকু জমি অপরিহার্য, ঠিক ততটুকু রেখে বাকি অংশ উচ্ছেদ না করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।