বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

সাতক্ষীরা এক জেলা, সাতটি পর্যটন অভিজ্ঞতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা এক জেলা, সাতটি পর্যটন অভিজ্ঞতা

মো. মামুন হাসান

সাতক্ষীরাকে আমরা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার হিসেবে দেখে আসছি। কথাটি সত্য, কিন্তু পুরো সত্য নয়। একটি জেলার পরিচয় যদি কেবল একটি পর্যটন আকর্ষণের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, তাহলে সেই জেলার পর্যটন সম্ভাবনার বড় অংশ অদেখাই থেকে যায়। সাতক্ষীরার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। সুন্দরবন আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়ে উঠেছে, অথচ সুন্দরবনের বাইরেও সাতক্ষীরার রয়েছে নদী, বন, ধর্মীয় ঐতিহ্য, গ্রামীণ জীবন, কৃষি, খাদ্য সংস্কৃতি, জলাভূমি এবং উপকূলীয় মানুষের সংগ্রাম ও অভিযোজনের অসাধারণ গল্প।সাতক্ষীরাকে তাই একটি পর্যটন স্থান হিসেবে নয়, একটি বহুমাত্রিক পর্যটন অভিজ্ঞতা হিসেবে ভাবার সময় এসেছে।

একটি জেলা, সাতটি উপজেলা। প্রতিটি উপজেলার রয়েছে আলাদা ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, জীবনধারা ও সম্ভাবনা। এই বৈচিত্র্যকে পরিকল্পিতভাবে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে সাতক্ষীরা একদিন এমন একটি গন্তব্যে পরিণত হতে পারে, যেখানে একজন পর্যটক শুধু সুন্দরবন দেখতে আসবেন না, বরং সাতক্ষীরাকে অনুভব করতে আসবেন।

শ্যামনগর হতে পারে প্রকৃতি ও উপকূলীয় জীবনের অভিজ্ঞতার কেন্দ্র। সুন্দরবন, নদী, খাল, গোলপাতা, ম্যানগ্রোভ, জেলে ও বনজীবীদের জীবন এবং উপকূলের মানুষের জলবায়ুর সঙ্গে লড়াইয়ের গল্প এখানে পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হতে পারে। একজন পর্যটক শুধু নৌকায় সুন্দরবন দেখবেন না, সুন্দরবনের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কটিও জানতে পারবেন। প্রকৃতিকে দেখার পাশাপাশি প্রকৃতির সঙ্গে বেঁচে থাকার শিক্ষা নিতে পারবেন।

কালিগঞ্জকে ভাবা যেতে পারে নদী, ঐতিহ্য ও গ্রামীণ জীবনের অভিজ্ঞতার জায়গা হিসেবে। নদীকে শুধু যাতায়াতের পথ হিসেবে না দেখে পর্যটনের অংশ করা যায়। নৌভ্রমণ, নদীর পাড়ের জীবন, স্থানীয় খাবার, গ্রামীণ বাজার এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে কেন্দ্র করে তৈরি হতে পারে ভিন্নধর্মী পর্যটন অভিজ্ঞতা।

সাতক্ষীরা সদর হতে পারে জেলার পর্যটন প্রবেশদ্বার ও নগরভিত্তিক অভিজ্ঞতার কেন্দ্র। একজন পর্যটক কোথায় যাবেন, কীভাবে যাবেন, কোথায় খাবেন, কোথায় থাকবেন, কী কিনবেন এবং কীভাবে পুরো জেলার সঙ্গে যুক্ত হবেন, তার একটি সুসংগঠিত তথ্যকেন্দ্র থাকতে পারে সদর শহরে। স্থানীয় খাবার, হস্তশিল্প, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং জেলা ভিত্তিক পর্যটন তথ্যকে এখানে এক জায়গায় আনা গেলে সদর শহর শুধু প্রশাসনিক কেন্দ্র থাকবে না, পর্যটনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠবে।

তালা হতে পারে কৃষি ও গ্রামীণ অভিজ্ঞতার গন্তব্য। আমাদের গ্রামের কৃষি শুধু অর্থনীতির বিষয় নয়, এটি একটি জীবনধারা। ধানক্ষেত, মাছের ঘের, কৃষকের জীবন, মৌসুমি ফসল, স্থানীয় বাজার এবং গ্রামীণ খাবারকে কেন্দ্র করে কৃষি পর্যটনের নতুন মডেল তৈরি করা সম্ভব। শহুরে মানুষ সেখানে গিয়ে শুধু ছবি তুলবেন না, বরং কৃষকের সঙ্গে কথা বলবেন, মাঠ দেখবেন, স্থানীয় খাবার খাবেন এবং গ্রামীণ জীবনের কাছাকাছি যাবেন।

আশাশুনিকে কেন্দ্র করে তৈরি হতে পারে জলভূমি ও নদীভিত্তিক পর্যটনের অভিজ্ঞতা। পানি, নদী, খাল, বিল এবং জলজ জীববৈচিত্র্যকে পর্যটনের সম্পদ হিসেবে দেখা প্রয়োজন। বাংলাদেশের পর্যটন পরিকল্পনায় নদী ও নৌভ্রমণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হলেও স্থানীয় পর্যায়ে এসব সম্পদকে পর্যটন পণ্যে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ এখনও সীমিত। পরিকল্পিত নৌপথ, নিরাপদ নৌযান এবং স্থানীয় গাইড তৈরি করা গেলে আশাশুনি একটি স্বতন্ত্র জলভিত্তিক পর্যটন গন্তব্য হতে পারে।

দেবহাটা হতে পারে সবুজ প্রকৃতি, সীমান্তবর্তী জীবন ও গ্রামীণ সংস্কৃতির অভিজ্ঞতার জায়গা। সীমান্তকে আমরা সাধারণত নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখি। কিন্তু সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মানুষের জীবন, সংস্কৃতি, বাজার, প্রকৃতি ও ইতিহাসও পর্যটনের গল্প হতে পারে। অবশ্যই নিরাপত্তা ও আইনগত বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে।
কলারোয়া হতে পারে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও স্থানীয় সংস্কৃতির গন্তব্য। একটি অঞ্চলের পুরোনো স্থাপনা, ধর্মীয় স্থান, লোকসংস্কৃতি, স্থানীয় খাবার ও মানুষের স্মৃতি মিলেই তৈরি হয় একটি অঞ্চলের সাংস্কৃতিক পরিচয়। এসব সম্পদকে বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে একটি ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটন পথের সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে।

এভাবে সাতক্ষীরার সাত উপজেলা সাতটি আলাদা অভিজ্ঞতা দিতে পারে। কোথাও প্রকৃতি, কোথাও নদী, কোথাও কৃষি, কোথাও ইতিহাস, কোথাও উপকূলীয় জীবন, কোথাও সংস্কৃতি, আবার কোথাও সুন্দরবনের গভীরতা। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই সাতটি অভিজ্ঞতাকে আলাদা আলাদা রেখে দিলে হবে না। এগুলোকে একটি সমন্বিত পর্যটন সার্কিটে আনতে হবে।

আজ একজন পর্যটক সাতক্ষীরায় এসে সুন্দরবন দেখে চলে গেলে স্থানীয় অর্থনীতিতে তার অবস্থান ও ব্যয়ের পরিধি সীমিত থাকে। কিন্তু যদি তাকে তিন দিনের একটি সাতক্ষীরা পর্যটন প্যাকেজ দেওয়া যায়, যেখানে একদিন সুন্দরবন, একদিন নদী ও গ্রামীণ জীবন, আরেকদিন ঐতিহ্য, কৃষি ও স্থানীয় খাবারের অভিজ্ঞতা থাকবে, তাহলে একই পর্যটক দীর্ঘসময় অবস্থান করবেন। বাড়বে হোটেল, রেস্টুরেন্ট, পরিবহন, নৌযান, গাইড, স্থানীয় পণ্য ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আয়।এখানেই পর্যটনের প্রকৃত শক্তি। তবে শুধু পর্যটনস্থানের তালিকা করলেই পর্যটন তৈরি হয় না। প্রয়োজন নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা, পর্যাপ্ত সাইনেজ, প্রশিক্ষিত ট্যুর গাইড, মানসম্মত খাবার, পর্যটন তথ্যকেন্দ্র, ডিজিটাল তথ্যসেবা এবং পর্যটকবান্ধব স্থানীয় পরিবেশ।

 

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো স্থানীয় মানুষকে পর্যটনের অংশীদার করা। কারণ পর্যটন যদি স্থানীয় মানুষের আয় ও জীবনমানের সঙ্গে যুক্ত না হয়, তাহলে সেটি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে না।
সাতক্ষীরার আরেকটি বড় সম্ভাবনা হলো স্থানীয় খাবার ও কৃষিপণ্য। সাতক্ষীরার আম, চিংড়ি, শুঁটকি, খেজুরের গুড়সহ নানা স্থানীয় পণ্যকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করা যায়। একজন পর্যটক যখন কোনো অঞ্চলের খাবার খান, স্থানীয় পণ্য কেনেন কিংবা একটি পরিবারের ঘরে তৈরি খাবারের স্বাদ নেন, তখন তিনি শুধু ভোক্তা থাকেন না, সেই অঞ্চলের অর্থনীতির অংশ হয়ে ওঠেন।

আমাদের এখন তাই ভাবতে হবে, সাতক্ষীরায় পর্যটক কতজন এলেন, শুধু সেই হিসাব দিয়ে পর্যটনের সাফল্য মাপা হবে না। বরং একজন পর্যটক কতদিন থাকলেন, কত টাকা খরচ করলেন, সেই অর্থের কতটা স্থানীয় মানুষের কাছে গেল এবং তিনি ফিরে গিয়ে সাতক্ষীরার কতটা গল্প নিয়ে গেলেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

সাতক্ষীরা এক জেলা। কিন্তু এই এক জেলার ভেতরেই রয়েছে বহু বাংলাদেশ। রয়েছে বন, নদী, উপকূল, কৃষি, ইতিহাস, ধর্মীয় ঐতিহ্য, গ্রামীণ জীবন এবং মানুষের টিকে থাকার গল্প। এই বৈচিত্র্যই হতে পারে সাতক্ষীরার সবচেয়ে বড় পর্যটন শক্তি।

আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু সুন্দরবনের পর্যটক বাড়ানো নয়, সাতক্ষীরায় পর্যটকের অবস্থানের সময় বাড়ানো। শুধু পর্যটনস্থানে মানুষ পাঠানো নয়, মানুষের সামনে সাতক্ষীরার জীবনকে একটি অভিজ্ঞতা হিসেবে তুলে ধরা।সাতক্ষীরাকে তাই আর শুধু সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার হিসেবে নয়, সাতটি অভিজ্ঞতার একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটন গন্তব্য হিসেবে ভাবতে হবে। এক জেলা, সাত উপজেলা, সাত অভিজ্ঞতা। এই ধারণাটিই হতে পারে সাতক্ষীরার পর্যটনের নতুন ব্র্যান্ড পরিচয়।

লেখক: ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান,ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট

Ads small one

গুরুতর অসুস্থ সাংবাদিক শেখ আব্দুল আলিম, উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় ভর্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ
গুরুতর অসুস্থ সাংবাদিক শেখ আব্দুল আলিম, উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় ভর্তি

পত্রদূত রিপোর্ট: ফুসফুসে বাতাস প্রবেশের জটিলতাজনিত কারণে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন দৈনিক পত্রদূত পত্রিকার নিজস্ব প্রতিনিধি শেখ আব্দুল আলিম। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে রাজধানী ঢাকার মগবাজারে অবস্থিত ডক্টর সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।

হাসপাতাল সূত্র ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজ ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকাল ১০টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি ফুসফুস বিশেষজ্ঞ টিমের তত্ত্বাবধানে শেখ আব্দুল আলিমের অস্ত্রোপচার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে তিনি নিজ জেলা সাতক্ষীরায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর শারীরিক অবস্থার কাক্সিক্ষত কোনো উন্নতি হয়নি, বরং শারীরিক জটিলতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। পরবর্তীতে চিকিৎসকদের পরামর্শে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে তাঁকে সাতক্ষীরা থেকে ঢাকায় নেওয়া হয় এবং রাজধানীর ডক্টর সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করা হয়। শেখ আব্দুল আলিম সাতক্ষীরার স্থানীয় সাংবাদিকতা অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে আসছেন। তিনি সামাজিক ও পেশাগত ক্ষেত্রেও একজন পরিচিত মুখ। তাঁর হঠাৎ এমন গুরুতর অসুস্থতার সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর সাতক্ষীরার গণমাধ্যমকর্মী, সুশীল সমাজ ও স্বজনদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

পরিবার ও তাঁর সহকর্মীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁর অস্ত্রোপচার ও পরবর্তী নিবিড় চিকিৎসার প্রক্রিয়া অত্যন্ত সংবেদনশীল। পরম করুণাময় মহান আল্লাহর দরবারে তাঁর দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ আরোগ্য (শেফায়ে কামেলা) কামনায় সব সহকর্মী, আত্মীয়স্বজন, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশবাসীর কাছে বিনীতভাবে দোয়া প্রার্থনা করা হয়েছে। সাতক্ষীরা সাংবাদিক সমাজসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারাও তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বার্তা পাঠিয়েছেন।

কোটিপতি বাবার একমাত্র সন্তান, মাদক বিক্রির অভিযোগে আটক যুবক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ
কোটিপতি বাবার একমাত্র সন্তান, মাদক বিক্রির অভিযোগে আটক যুবক

মামুনুর রশিদ খান, মণিরামপুর (যশোর): যশোরের মণিরামপুরে মাদক বিক্রি ও সরবরাহের অভিযোগে মো. বিল্লাল হোসেন (২০) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। তিনি উপজেলার ৫ নম্বর হরিদাসকাটি ইউনিয়নের চান্দুয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. হাবিবুর রহমানের ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিল্লাল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকদ্রব্য, বিশেষ করে গাঁজা কেনাবেচা ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বাবা বিত্তশালী এবং তিনি পরিবারের একমাত্র সন্তান হওয়া সত্ত্বেও মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েছেন বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।

৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে চান্দুয়া গ্রামে গাঁজা বিক্রির সময় এলাকাবাসী তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। স্থানীয়দের দাবি, সে সময় তার কাছ থেকে ৫০ গ্রাম গাঁজা ১২টি পোটলায় ভাগ করা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তবে পুলিশ সূত্রে মাদকদ্রব্যের একটি পোটলা উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিল্লালকে আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা বলেন, তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে মাদক বিক্রি ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

পুলিশ জানিয়েছে, আটক যুবকের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মুন্সিগঞ্জের জেলেখালিতে ৮ দলীয় নকআউট ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ
মুন্সিগঞ্জের জেলেখালিতে ৮ দলীয় নকআউট ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল

মুন্সিগঞ্জ (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের জেলেখালি ত্রিপানী বিদ্যাপীঠ মাঠে ১০ সেপ্টেম্বর ৮ দলীয় নকআউট ফুটবল টুর্নামেন্টের জমজমাট ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সুদীপ্তি যুব সংঘ আয়োজিত এই ফাইনালে মুখোমুখি হয় সুদীপ্তি যুব সংঘ ও আসিয়া দই ফিন্নি ভান্ডার ফুটবল একাদশ।

শুরু থেকেই দুই দলের খেলোয়াড়দের প্রাণবন্ত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলায় মাঠে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের ব্যবধানে আসিয়া দই ফিন্নি হাউসকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে সুদীপ্তি যুব সংঘ।
খেলায় প্রধান অতিথি ছিলেন ৮ নম্বর ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের প্রাক্তন চেয়ারম্যান সাদেকুর রহমান সাদেম। বিশেষ অতিথি ছিলেন আবদুর রাজ্জাক সরদার, প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম মল্লিকসহ এলাকার বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ক্রীড়াপ্রেমীরা।

খেলা শেষে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। খেলায় ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ নির্বাচিত হন রিজভী।

দীর্ঘদিন পর ত্রিপানী বিদ্যাপীঠ মাঠে এমন বৃহৎ একটি ক্রীড়া আয়োজনকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। ফাইনাল খেলা উপভোগ করতে মাঠে বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল। দর্শকদের করতালি, উচ্ছ্বাস ও সমর্থনে পুরো মাঠ এক আনন্দঘন মিলনমেলায় পরিণত হয়। সুন্দর ও প্রাণবন্ত এই আয়োজন উপভোগ করতে পেরে দর্শকেরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতেও নিয়মিত এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজনের আহ্বান জানিয়ে সুদীপ্তি যুব সংঘের আয়োজক কমিটিকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান তাঁরা।