বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

সাতক্ষীরা ব্লিস হাসপাতালে আগুন: ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন পুরো ভবন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৬ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা ব্লিস হাসপাতালে আগুন: ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন পুরো ভবন

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের চৌরঙ্গী মোড় (পলাশপোল) এলাকায় অবস্থিত ১০তলা ভবনবিশিষ্ট ব্লিস হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর ১টা ১৩ মিনিটে লাগা এ আগুনে পুরো ভবন ঘন বিষাক্ত ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, বিজিবি ও স্থানীয়দের যৌথ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অর্ধশতাধিক রোগীকে নিরাপদে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নেওয়ার কিছুক্ষণ পর ফাতেমা বেগম (৭০) নামের এক বৃদ্ধা মারা গেছেন। তিনি শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে সাত দিন আগে ব্লিস হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তিনি আশাশুনি সদরের বাসিন্দা বলে জানা যায়।
ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গ্রাউন্ড ফ্লোরের অক্সিজেন সিলিন্ডারের লিকেজ বা এসি কম্প্রেসার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে ভবনের সিঁড়ি দিয়ে বিষাক্ত কালো ধোঁয়া ১০তলা ভবনের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। এতে চিকিৎসাধীন ৬০-৬৫ জন রোগী, নারী, শিশু, স্বজন ও হাসপাতাল কর্মীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ি শুরু হয়। অগ্নিকা- ও হুড়োহুড়ির মধ্যে নারী, শিশু ও বয়স্কসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
সংবাদ পাওয়ার পর প্রথমে সাতক্ষীরা ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ও পরবর্তীতে পার্শ্ববর্তী স্টেশনসহ মোট ৪ থেকে ৮টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। একই সঙ্গে বিজিবির (৩৩ ব্যাটালিয়ন) দুই প্লাটুন সদস্য, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীরা ভেতরে আটকে পড়াদের উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন। উদ্ধারকৃতদের অ্যাম্বুলেন্সে করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং শহরের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসার ঘোষণা দিয়েছে সাতক্ষীরা ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতাল।
এদিকে অগ্নিকা- ও উদ্ধারের সময় ইমার্জেন্সি এক্সিট (জরুরি নির্গমন পথ) বন্ধ থাকার মারাত্মক অভিযোগ তুলেছেন রোগী ও স্বজনেরা। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের অভিযোগ, নকশা লঙ্ঘন করে জরুরি বের হওয়ার সিঁড়ির মুখে ইট-সিমেন্টের দেয়াল গেঁথে স্থায়ীভাবে টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছিল। ফলে ধোঁয়া আচ্ছন্ন ভবনে রোগীরা জরুরি পথ দিয়ে বের হতে না পেরে আটকা পড়েন। ভবনে কার্যকর কোনো অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রও ছিল না বলে স্বজনেরা দাবি করেন। উল্লেখ্য, পূর্বে ‘সিভি হাসপাতাল’ নামে পরিচিত ভবনটি সম্প্রতি মালিকানা বদলে ‘ব্লিস হাসপাতাল’ নাম ধারণ করলেও অগ্নিনিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা জানান, দ্রুত সাড়া দেওয়ার কারণে একটি বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেছে। তবে ভবনের ভেতরে প্রচুর বিষাক্ত ধোঁয়া জমে থাকায় তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযানে বেগ পেতে হয় এবং কয়েকজন ফায়ার সার্ভিস সদস্যও অসুস্থ হয়ে পড়েন। অগ্নিকা-ের সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত সাপেক্ষে জানানো হবে।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান জানান, অগ্নিকা-ের পর খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এলাকা জুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ ও ট্রাফিক মোতায়েন করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অ্যাম্বুলেন্স চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়।
হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবু হাসান ও পরিচালক কবির হোসেন জানান, এটি একটি অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনা। অক্সিজেন বা এসি সংক্রান্ত স্থান থেকে ঘটনার সূত্রপাত। তবে বেজমেন্টে কোনো ক্ষতি হয়নি। জরুরি সংস্কার ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে দ্রুতই হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম পুনরার চালু করার চেষ্টা চলছে।

Ads small one

অসময়ে হলুদ তরমুজ চাষে স্বাবলম্বী সাতক্ষীরার কৃষকেরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ
অসময়ে হলুদ তরমুজ চাষে স্বাবলম্বী সাতক্ষীরার কৃষকেরা

মীর মোস্তফা আলী: প্রাকৃতিক দূর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় চিংড়ি ঘেরের আইল ও পতিত জমিতে আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে শুরু হয়েছে অসময়ের বা বর্ষাকালীন তরমুজ চাষ। সবজির পাশাপাশি এখন ক্ষেতজুড়ে শোভা পাচ্ছে বাংলালিংক ও আকর্ষণীয় হলুদ জাতের তরমুজ। চলতি মৌসুমে জেলার ১০৮ হেক্টর জমিতে এই তরমুজের সফল আবাদ হয়েছে।
উপকূলীয় সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলাতেই এখন ঝুলছে মিষ্টি ও রসালো এই ফল। বিশেষ করে তালা, কলারোয়া, কালিগঞ্জ ও আশাশুনি উপজেলায় বাংলালিংক ও হলুদ তরমুজের ফলন বেশি হয়েছে।
তালা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের ২৮ জন কৃষক বেসরকারি সংস্থা ‘উন্নয়ন প্রচেষ্টা’ ও পিকেএসএফের সহযোগিতায় ২১ বিঘা জমিতে প্রথম এই হলুদ তরমুজের আবাদ শুরু করেন। মাত্র ৬৫ দিনে ফলন আসায় অল্প খরচে অধিক মুনাফা পাচ্ছেন চাষিরা।
উপজেলার কৃষক ইকবাল, শিপন ও হান্নান জানান, জমি প্রস্তুত, সার, মালচিং পেপার, মাচা ও জাল বাবদ প্রায় ৩৫ হাজার টাকা খরচ হলেও এই ফল বিক্রি করে বিঘা প্রতি ১ লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা আয়ের আশা করছেন তারা। অল্প সময়ে ফলন পাওয়ায় একই জমিতে বছরে দুইবার তরমুজ চাষ করা সম্ভব।
উন্নয়ন প্রচেষ্টার কৃষিবিদ নয়ন হোসেনের মতে, সাতক্ষীরার মাটি অসময়ের তরমুজ চাষের জন্য বেশ উপযোগী। চাকরির পেছনে না ঘুরে শিক্ষিত তরুণরা কৃষি উদ্যোগে যুক্ত হলে নিজেদের স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি দেশের পুষ্টি চাহিদা মেটাতে বড় অবদান রাখতে পারবেন।

বইয়ের বিকল্প কেবল বই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ
বইয়ের বিকল্প কেবল বই

 

‎তারিক ইসলাম
‎সভ্যতার সূচনা থেকে আজ পর্যন্ত মানবজাতির জ্ঞানচর্চা, মননশীলতা এবং উৎকর্ষ সাধনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত বাহন হলো বই। প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল মাধ্যমের অভূতপূর্ব বিপ্লবের যুগে আজ চারদিকে নানা প্রশ্ন ও সংশয় দানা বাঁধছে—ডিজিটাল স্ক্রিন, ই-বুক বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই সময়েও কি বইয়ের আবেদন অপরিবর্তিত থাকবে? নাকি এর কোনো বিকল্প চলে এসেছে? গভীর ও সূক্ষ্মভাবে বিবেচনা করলে একটি সত্যই সামনে ভেসে ওঠে—তা হলো, বইয়ের বিকল্প কেবল আরেকটি বই-ই হতে পারে, অন্য কিছু নয়।
‎আজকের দিনে তথ্য প্রাপ্তির পথ অত্যন্ত সহজলভ্য। ইন্টারনেটের এক ক্লিকেই হাজারো তথ্য, নিবন্ধ ও সারসংক্ষেপ চোখের সামনে চলে আসে। কিন্তু তথ্য আর জ্ঞান এক জিনিস নয়। তথ্য আমাদের সাময়িক কৌতূহল মেটায় বা কাজের সুবিধা করে দেয়, আর জ্ঞান আমাদের ভেতরটাকে সমৃদ্ধ করে, চিন্তাশক্তিকে শাণিত করে এবং জীবনদর্শনের ভিত্তি গড়ে দেয়। এই পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানলাভের একমাত্র এবং প্রধান মাধ্যম হলো বই পড়া। একটি পূর্ণাঙ্গ বইয়ের পাতায় পাতার সঙ্গে যখন একজন পাঠকের চোখ ও মনের সংযোগ ঘটে, তখন সেখানে এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক যাত্রা শুরু হয়, যা কোনো টুকরো তথ্য বা ডিজিটাল স্ক্রিনের ক্ষণস্থায়ী স্ক্রোলিংয়ে পাওয়া অসম্ভব।
‎বই পড়ার অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গভীর ও ইন্দ্রিয়গ্রাহী। কাগজের ঘ্রাণ, পাতা উল্টানোর শব্দ এবং একটি আস্ত কাহিনীর ভেতরে ডুবে যাওয়ার অনুভূতি কেবল একটি বস্তুগত বইই দিতে পারে। এর বিপরীতে, ডিজিটাল মাধ্যমে পড়ার সময় মনোযোগ বিক্ষিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা বহুগুণ বেশি থাকে। নোটিফিকেশন, পপ-আপ বিজ্ঞাপন বা ইন্টারনেটের নানা প্রলোভন পাঠকের মনোযোগকে বারবার ছিন্ন করে। ফলে লেখকের মূল ভাবনার গভীরে পৌঁছানো বা তার সাথে মানসিক ঐক্য স্থাপন করা কঠিন হয়ে পড়ে। বই আমাদের এক ধরনের একাগ্রতা শেখায়, যা আজকের দ্রুতগতির বিক্ষিপ্ত যুগে বড় বেশি দুর্লভ।
‎অনেকে মনে করেন, ই-বুক বা অডিওবুক বইয়ের বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। নিঃসন্দেহে এগুলো প্রযুক্তির চমৎকার উপহার এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে অত্যন্ত উপযোগী। কিন্তু এগুলোকে বইয়ের পরিপূরক বলা চলে, বিকল্প নয়। অডিওবুক শোনার সময় আমাদের কল্পনাশক্তির ওপর শ্রোতা হিসেবে একধরনের সীমাবদ্বতা তৈরি হয়, কারণ কথক বা কণ্ঠশিল্পীর উচ্চারণের ওপর আমাদের নির্ভর করতে হয়। অথচ নিজে বই পড়ার সময় পাঠক নিজেই তার কল্পনার রঙে চরিত্র ও দৃশ্যপটকে জীবন্ত করে তোলেন। বই পড়ার এই সৃজনশীল প্রক্রিয়াটি একান্তই পাঠকের নিজস্ব।
‎সবশেষে বলা যায়, সমাজ পরিবর্তনশীল, প্রযুক্তির রূপ বদলায়, বিনোদনের মাধ্যমও নতুন থেকে নতুনতর হয়; কিন্তু মানুষের মননশীলতার খোরাক জোগাতে বইয়ের আসন চিরকাল অক্ষুণ্ণ থাকে। একটি ভালো বই মানুষের শ্রেষ্ঠ বন্ধু, সুসময়ের আনন্দ এবং দুর্দিনের সান্ত¡না। তাই যত আধুনিকতাই আসুক না কেন, মানুষের বিবেক, বুদ্ধি ও আবেগের সঠিক বিকাশ ঘটাতে বইয়ের স্থান কেউ দখল করতে পারবে না। বইয়ের বিকল্প কেবল বই-ই। লেখক: তারিক ইসলাম, ‎সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।

 

কলারোয়ায় হাজী কল্যাণ সংস্থার মতবিনিময় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ
কলারোয়ায় হাজী কল্যাণ সংস্থার মতবিনিময় সভা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় আগামী ২২ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য হাজী সম্মেলন উপলক্ষে কলারোয়ায় এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে কলারোয়ার মরহুম ডাক্তার আনিসুর রহমান ভবনের দ্বিতীয় তলায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। কলারোয়া উপজেলা হাজী কল্যাণ সংস্থার সভাপতি ও কলারোয়া সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবু নসরের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা হাজী কল্যাণ সংস্থার সভাপতি আলহাজ মো. দ্বীন আলী। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ গোলাম মোস্তফা। উপজেলা হাজী কল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কাজী শামসুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইউনুস আলী, শাহীনুর রহমান ও আব্দুর রউফ উপস্থিত ছিলেন।