সাতক্ষীরা ব্লিস হাসপাতালে আগুন: ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন পুরো ভবন
পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের চৌরঙ্গী মোড় (পলাশপোল) এলাকায় অবস্থিত ১০তলা ভবনবিশিষ্ট ব্লিস হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর ১টা ১৩ মিনিটে লাগা এ আগুনে পুরো ভবন ঘন বিষাক্ত ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, বিজিবি ও স্থানীয়দের যৌথ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অর্ধশতাধিক রোগীকে নিরাপদে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নেওয়ার কিছুক্ষণ পর ফাতেমা বেগম (৭০) নামের এক বৃদ্ধা মারা গেছেন। তিনি শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে সাত দিন আগে ব্লিস হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তিনি আশাশুনি সদরের বাসিন্দা বলে জানা যায়।
ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গ্রাউন্ড ফ্লোরের অক্সিজেন সিলিন্ডারের লিকেজ বা এসি কম্প্রেসার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে ভবনের সিঁড়ি দিয়ে বিষাক্ত কালো ধোঁয়া ১০তলা ভবনের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। এতে চিকিৎসাধীন ৬০-৬৫ জন রোগী, নারী, শিশু, স্বজন ও হাসপাতাল কর্মীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ি শুরু হয়। অগ্নিকা- ও হুড়োহুড়ির মধ্যে নারী, শিশু ও বয়স্কসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
সংবাদ পাওয়ার পর প্রথমে সাতক্ষীরা ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ও পরবর্তীতে পার্শ্ববর্তী স্টেশনসহ মোট ৪ থেকে ৮টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। একই সঙ্গে বিজিবির (৩৩ ব্যাটালিয়ন) দুই প্লাটুন সদস্য, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীরা ভেতরে আটকে পড়াদের উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন। উদ্ধারকৃতদের অ্যাম্বুলেন্সে করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং শহরের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসার ঘোষণা দিয়েছে সাতক্ষীরা ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতাল।
এদিকে অগ্নিকা- ও উদ্ধারের সময় ইমার্জেন্সি এক্সিট (জরুরি নির্গমন পথ) বন্ধ থাকার মারাত্মক অভিযোগ তুলেছেন রোগী ও স্বজনেরা। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের অভিযোগ, নকশা লঙ্ঘন করে জরুরি বের হওয়ার সিঁড়ির মুখে ইট-সিমেন্টের দেয়াল গেঁথে স্থায়ীভাবে টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছিল। ফলে ধোঁয়া আচ্ছন্ন ভবনে রোগীরা জরুরি পথ দিয়ে বের হতে না পেরে আটকা পড়েন। ভবনে কার্যকর কোনো অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রও ছিল না বলে স্বজনেরা দাবি করেন। উল্লেখ্য, পূর্বে ‘সিভি হাসপাতাল’ নামে পরিচিত ভবনটি সম্প্রতি মালিকানা বদলে ‘ব্লিস হাসপাতাল’ নাম ধারণ করলেও অগ্নিনিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা জানান, দ্রুত সাড়া দেওয়ার কারণে একটি বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেছে। তবে ভবনের ভেতরে প্রচুর বিষাক্ত ধোঁয়া জমে থাকায় তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযানে বেগ পেতে হয় এবং কয়েকজন ফায়ার সার্ভিস সদস্যও অসুস্থ হয়ে পড়েন। অগ্নিকা-ের সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত সাপেক্ষে জানানো হবে।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান জানান, অগ্নিকা-ের পর খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এলাকা জুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ ও ট্রাফিক মোতায়েন করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অ্যাম্বুলেন্স চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়।
হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবু হাসান ও পরিচালক কবির হোসেন জানান, এটি একটি অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনা। অক্সিজেন বা এসি সংক্রান্ত স্থান থেকে ঘটনার সূত্রপাত। তবে বেজমেন্টে কোনো ক্ষতি হয়নি। জরুরি সংস্কার ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে দ্রুতই হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম পুনরার চালু করার চেষ্টা চলছে।







