বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে কাটাতারের বেড়া দিয়ে ধান চাষ, অধ্যক্ষের কাছে খোলা চিঠি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে কাটাতারের বেড়া দিয়ে ধান চাষ, অধ্যক্ষের কাছে খোলা চিঠি

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে কাটাতারের বেড়া অপসারণ ও ক্যাম্পাসে ধান চাষ বন্ধ করে, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সমৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে অধ্যক্ষ মহোদয় ও শিক্ষক নেতৃবৃন্দের নিকট খোলা চিঠি

তারিখ: ১৬ এপ্রিল,২০২৬

প্রাপক, অধ্যক্ষ মহোদয়, সম্পাদক, শিক্ষক পর্ষদ, ও সকল বিভাগের বিভাগীয় প্রধানগণ, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ।

বিষয়: ক্যাম্পাসে ভেষজ উদ্যান, গ্রুপ স্টাডি জোন এবং ওয়াকওয়ে নির্মাণের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা প্রসঙ্গে খোলা চিঠি।

শ্রদ্ধেয় মহোদয়গণ, সবিনয় নিবেদন এই যে, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ। এই প্রতিষ্ঠানের সুনাম কেবল এই জেলাতেই নয়, বরং সারা দেশে বিস্তৃত। একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য যেমন গুণগত পাঠদান, তেমনি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি মনোরম ও সৃজনশীল পরিবেশ নিশ্চিত করাও তার অপরিহার্য অংশ।

বর্তমানে শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক মানোন্নয়ন এবং মানসিক প্রশান্তির লক্ষ্যে আমরা নিম্নোক্ত তিনটি বিশেষ উন্নয়নমূলক প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি:

১. আধুনিক ভেষজ উদ্যান (Botanical/Medicinal Garden): আমাদের কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ক্যাম্পাসে একটি সুপরিকল্পিত ভেষজ উদ্যান থাকলে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে উদ্ভিদের পরিচয় ও গুণাগুণ শিখতে পারবে। এছাড়া এটি ক্যাম্পাসের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

২. প্রাকৃতিক গ্রুপ স্টাডি জোন: শ্রেণিকক্ষের চার দেয়ালের বাইরে মুক্ত বাতাসে পড়াশোনা ও জ্ঞান চর্চার পরিবেশ শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বাড়িয়ে দেয়। ক্যাম্পাসের নির্দিষ্ট কিছু গাছতলায় পরিবেশবান্ধব বসার ব্যবস্থা ও গোল টেবিল স্থাপন করলে শিক্ষার্থীরা পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে কঠিন বিষয়গুলো সহজে আয়ত্ত করতে পারবে।

৩. সুশৃঙ্খল হাঁটার পথ (Walkwa): শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের শারীরিক সুস্থতা এবং ক্যাম্পাসের নান্দনিকতা বৃদ্ধিতে একটি স্থায়ী ওয়াকওয়ে অত্যন্ত প্রয়োজন। এটি ক্যাম্পাসের এক ভবন থেকে অন্য ভবনে যাতায়াত যেমন সহজ করবে, তেমনি একটি সুসংগঠিত আধুনিক ক্যাম্পাসের রূপ দান করবে।

শ্রদ্ধেয় শিক্ষকবৃন্দ, সাতক্ষীরা জেলাটি এমনিতেই পরিবেশগতভাবে স্পর্শকাতর। আমাদের কলেজে এই ধরনের পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ নেওয়া হলে তা সারা বাংলাদেশের অন্যান্য সরকারি কলেজের জন্য একটি ‘মডেল’ হিসেবে বিবেচিত হবে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী করতে এবং একটি ‘স্মার্ট ক্যাম্পাস’ গড়তে আপনাদের দিকনির্দেশনা ও সদিচ্ছাই যথেষ্ট।

পরিশেষে, আমাদের প্রাণের বিদ্যাপীঠকে আরও সবুজ, সুন্দর এবং জ্ঞানচর্চার উপযোগী করে তুলতে উপরোক্ত প্রস্তাবনাগুলো সদয় বিবেচনা ও বাস্তবায়নের জন্য আপনাদের নিকট বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।

নিবেদক,
সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দের পক্ষে,

তাকির ইসলাম
সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি ও
সাবেক শিক্ষার্থী, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ।

 

Ads small one

সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:২১ পূর্বাহ্ণ
সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে সরকারি ও বেসরকারি সমমনা সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণে সিসিআরসি ও আরবিএ বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৪ জুন দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিসিডিবি এই কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সিসিডিবি’র উপজেলা সমন্বয়কারী স্টিভ রায় রূপন। সিসিডিবি’র রেজিলিয়েন্স বিল্ডিং ম্যানেজার সামিউল আলিম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনও শামসুজ্জামান কনক। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সারিদ বিন শফিক, সমাজসেবা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৮ পূর্বাহ্ণ
জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার বসন্তপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গাছপালা কেটে ফেলা এবং জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বসন্তপুর গ্রামের বৈদ্যনাথ দাস বাদী হয়ে শংকর দাস ও দিপঙ্কর দাসসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলা (নং-৪০৬/২০২৬) দায়ের করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বসন্তপুর মৌজার ৫৮ শতক পৈতৃক সম্পত্তির একটি রাস্তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে, যা নিয়ে আগেও একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন আছে। বাদীর অভিযোগ, চলমান মামলার তোয়াক্কা না করে প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক তাঁর জমিতে প্রবেশ করে বিভিন্ন গাছগাছালি কেটে সাবাড় করেছে এবং জমি দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। বিবাদীদের আর্থিক ও সামাজিক প্রভাবের কারণে তাঁর পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানবেতর জীবনযাপন করছে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ
উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আলিপুর থেকে কুলিয়া বাজার পর্যন্ত অংশে সরকারি খাস জমিতে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে। সড়কের ‘অপ্রয়োজনীয় অংশ’ উচ্ছেদ না করে কেবল মূল কাজের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু জমি ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে গত ২৪ জুন জেলা পরিষদ প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত স্মারকলিপি দিয়েছেন তাঁরা। আগামী ৮ ও ৯ জুলাই সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের পক্ষ থেকে মহাসড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর হাতে আবেদনপত্রটি তুলে দেন।
এ সময় কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক শামীম, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বাবলু, কুলিয়া বাজার কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক আবু হুরাইরা এবং সমাজসেবক মোজাম্মেল হোসেনসহ (মিনু ডাক্তার) এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা পরিষদ প্রশাসক ভুক্তভোগীদের বক্তব্য গুরুত্বসহকারে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বাস্তবসম্মত সমাধানের আশ্বাস দেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, এলাকার অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়কের উন্নয়ন কাজকে স্থানীয়রা স্বাগত জানান। তবে সওজ-এর নকশা অনুযায়ী ঢালাওভাবে উচ্ছেদ করা হলে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাঁদের দোকান, পুঁজি ও জীবিকা হারিয়ে পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়বেন। গ্রামীণ অর্থনীতি, মাছের শেড ও স্থানীয় বাজার ব্যবস্থা এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ছাড়া সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী বহু ভূমিহীন পরিবার মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। মানবিক ও সামাজিক দিক বিবেচনা করে সড়ক উন্নয়নে যতটুকু জমি অপরিহার্য, ঠিক ততটুকু রেখে বাকি অংশ উচ্ছেদ না করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।