সাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্রের উদ্যোগে ৬০ শিক্ষার্থী পেল গাছ ও শিক্ষা সামগ্রী
কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: সুন্দরবনের নানা ভাই বাহিনীর প্রধানসহ ১২ জন সক্রিয় জলদস্যু কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করেছে। এসময় উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় সুন্দরবনের সক্রিয় সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ অদ্যাবধি ২৯ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়। এসময় দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা মোট ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদান শেষে নিরাপদে তাদের পরিবারের নিকট হস্তান্তরর করা হয়।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক ও সফল অভিযানের ফলে সুন্দরবনে সক্রিয় বিভিন্ন দস্যু বাহিনী বর্তমানে ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে এবং দস্যুরা তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ছোট সুমন বাহিনী, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ জন সক্রিয় সদস্য এবং ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীসহ মোট ৩৭ জন সক্রিয় ডাকাত সদস্য ইতোমধ্যে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে। এ প্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকাল ৬ টায় বাগেরহাটের মোংলা থানাধীন সুন্দরবনের ধানসিদ্ধির চর এলাকায় নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ জন সক্রিয় ডাকাত সদস্য কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে।
এসময় তাদের কাছে থাকা ১টি এইট শুটার, ১টি সিক্স শুটার, ১টি ফোর শুটার, ১টি সাইড হেমার, ১টি বোল্ট অ্যাকশন পিস্তল, ২টি এমথ্রী গ্যাস গান, ২টি ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল, ২টি ওয়ান শুটার, ২টি এয়ার গান, ২১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৯ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ২০ রাউন্ড ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল বল, ০৫ রাউন্ড ৮ মি.মি. তাজা গোলা, ৪১৩ রাউন্ড এয়ারগান গোলা, ৪ টি পিস্তল ম্যাগাজিন, ২ টি এয়ারগান ম্যাগাজিন ও চার্জারসহ ৬টি ওয়াকিটকি কোস্ট গার্ডের নিকট জমা প্রদান করে।
আত্মসমর্পণকারী ডাকাত জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমত (৩৬), সাইফুল্লাহ মোড়ল (৩৯), এখলাছুর রহমান (৩৮), রবিউল ইসলাম (৩৫), মফিজুল ইসলাম (৩৫), আজিম উদ্দিন গাজী (৩৭) ও আব্দুর রহমান শেখ (৩৬)। এরা সবাই খুলনা জেলার পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া থানার বাসিন্দা।
এছাড়া শফিকুল ইসলাম (৫৩), মিন্টু গাজি (৩৯), আজিজুল গাজী (৩৫) ও শাহজাহান মালী (৩৫) সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার বাসিন্দা এবং আজিজুর রহমান (৪৫) বাগেরহাট জেলার রামপাল থানার বাসিন্দা। নানা ভাই বাহিনীর সদস্য হিসেবে তারা দীর্ঘদিন যাবৎ সুন্দরবনে ডাকাতিসহ সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল।
জব্দকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আত্মসমর্পণকারী ডাকাতদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাসহ পরবর্তী আইনানুগ কার্যব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সুন্দরবনের সকল সক্রিয় বনদস্যুকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। আত্মসমর্পণকারীদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে। অন্যদিকে, যারা অপরাধমূলক কর্মকান্ড অব্যাহত রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের নির্দেশনা, আপনাদের সকলের সহযোগিতা এবং অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।
সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় ভোররাতে ফজরের নামাজ পড়তে বের হওয়া এক নারীর দুই কান চাকু দিয়ে কেটে কানের দুল ছিনিয়ে নেওয়ার সময় আব্দুল গনি নামের একজনকে হাতেনাতে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ভোরে উপজেলার কেঁড়াগাছী ইউনিয়নের কাকডাঙ্গা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভোরে ফজরের নামাজের উদ্দেশ্যে নিজ ঘর থেকে বাইরে বের হন ওই নারী। আগে থেকেই ওত পেতে থাকা আব্দুল গনি পেছন থেকে এসে ধারালো চাকু দিয়ে তার কানের দুটি দুল কেটে নিয়ে পালানোর চেষ্টা চালায়। এ সময় ওই নারীর দুই কান কেটে গুরুতর জখম হয় এবং প্রচুর রক্তপাত শুরু হয়। ভুক্তভোগী নারীর আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে এসে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে আব্দুল গনিকে হাতেনাতে আটক করেন।
এলাকাবাসীর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “আটক আব্দুল গনি এলাকার একজন কুখ্যাত ও চিহ্নিত অপকর্মকারী। দীর্ঘদিন ধরে সে এলাকায় চুরি, ডাকাতি, মাদক কেনাবেচা এবং বিভিন্ন অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। এর আগেও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড সংঘটিত করতে গিয়ে সে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েছিল। এমনকি তার বিরুদ্ধে থানায় পূর্বের অপরাধের একাধিক মামলাও রয়েছে।”
ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে আটকে রেখে স্থানীয় থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পেয়ে কলারোয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং অভিযুক্ত গনিকে হেফাজতে নিয়ে থানায় নিয়ে আসে।
এ ঘটনায় কলারোয়া থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সংবাদদাতা: পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলাবদ্ধতা নিরসনে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) কার্যক্রমকে গতিশীল করার লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় এক বিশেষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টায় উত্তরণ এসআরবিএম প্রকল্পের সহযোগিতায় সাতক্ষীরা যুব পানি কমিটি এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
কর্মসূচিতে যুব পানি কমিটির সদস্যরা আম গাছ, মেহগনি, আমড়া, বকুল, রেইনট্রি ও সুপারি গাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির ৫০টি বড় আকৃতির গাছের চারা রোপণ করেন। চারা রোপণের পাশাপাশি প্রতিটি গাছের সুরক্ষায় ও পরিচর্যার সুবিধার্থে ছোট ছোট সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়। তীব্র রোদ ও বৃষ্টির প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করেই স্বেচ্ছাসেবী তরুণরা পুরো কর্মসূচি সম্পন্ন করেন। রোপণ করা গাছগুলো নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণের মাধ্যমে সঠিকভাবে বাড়িয়ে তোলার দায়িত্বও নিয়েছে সংগঠনটি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা যুব পানি কমিটির সেক্রেটারি ইব্রাহিম খলিল, সহ-সভাপতি সাজেদুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক মো. মোকাররাম বিল্লাহ ইমন, সদস্য ইফতি জামিল, ইমতি জামিল, লামিয়া জেরিন, মো. সাইমুন হাসনাত, মাহাবুবুর রহমান, সিয়াম হোসেন, করিমন নেছা শান্তরা, তাসনিহা জুই, মো. নাইমুর রহমান চৌধুরী, লামিয়া সুলতানা, আবু তাহের বিল্যাহ, মিলন কুমার রুদ্র, জাহাঙ্গীর আলম ও হাফিজা আফরোজ নীলা। এছাড়া অনুষ্ঠানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক এবং বেসরকারি সংস্থা ‘উত্তরণ’-এর ফিল্ড অর্গানাইজার মো. গোলাম হোসেনসহ স্থানীয় প্রতিনিধি ও সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সাতক্ষীরা যুব পানি কমিটির সেক্রেটারি ইব্রাহিম খলিল বলেন, “সাতক্ষীরা উপকূলীয় অঞ্চলের অন্যতম বড় সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা। নদী ও খালের নাব্যতা হ্রাস, অতিরিক্ত পলি জমা ও অপরিকল্পিত নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে এখানে বছরের পর বছর সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে টিআরএম বা জোয়ারাধার ব্যবস্থাপনা জলাবদ্ধতা নিরসনে অত্যন্তর কার্যকারী নদীভিত্তিক সমাধান। টিআরএমের মাধ্যমে জোয়ারের পানি নিয়ন্ত্রিতভাবে নির্দিষ্ট বিলে প্রবেশ করিয়ে পলি জমার সুযোগ তৈরি করা হয়, যা নদীর পানি ধারণ ও নিষ্কাশন সক্ষমতা বৃদ্ধি করে।”
সংগঠনের প্রচার সম্পাদক মোকাররাম বিল্লাহ ইমন বলেন, টিআরএমের সুফল টেকসই করতে শুধু বিল ও নদী ব্যবস্থাপনা যথেষ্ট নয়। নদী-খালের আশপাশে পরিকল্পিত সবুজায়ন, মাটির ক্ষয় রোধ এবং জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করা অত্যন্তর জরুরি। অন্যদিকে, সহ-সভাপতি সাজেদুল ইসলাম জানান, তরুণদের সম্পৃক্ত করে পরিবেশ ও নদী-খাল সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধিই তাদের মূল লক্ষ্য।
যুব পানি কমিটি আশা প্রকাশ করে, এ ধরনের ধারাবাহিক সবুজায়ন ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের মাধ্যমে এলাকায় সবুজ পরিবেশ তৈরি হবে, তরুণ সমাজ তাদের দায়িত্ববোধ সম্পর্কে সচেতন হবে এবং উপকূলীয় অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে টিআরএম ও পলি ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ আরও শক্তিশালী হবে।