রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩
রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩

সাবেক মেয়র আইভীকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো কেন অবৈধ নয়, হাইকোর্টের রুল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১৮ অপরাহ্ণ
সাবেক মেয়র আইভীকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো কেন অবৈধ নয়, হাইকোর্টের রুল

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে একের পর এক মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সেলিনা হায়াৎ আইভীকে নতুন মামলায় হয়রানি বা গ্রেফতার না করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রবিবার (২৬ এপ্রিল) এই সংক্রান্ত রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি রাজিক আল জলিলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে আইভী রহমানের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু। আইনজীবী সাজু জানান, সেলিনা হায়াৎ আইভী হাইকোর্ট থেকে ১০ মামলায় জামিন পেয়েছেন। আবার নতুন দুই মামলায় তাকে শ্যোন দেখানো হয়েছে। শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ২০ জুলাই সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে আদমজী এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন পোশাকশ্রমিক মিনারুল ইসলাম। শহরের খানপুরে অবস্থিত ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন গ্রামের বাড়িতে তাকে দাফন করা হয়। এই ঘটনায় ২৩ সেপ্টেম্বর নিহত মিনারুলের ভাই নাজমুল হক বাদী হয়ে শেখ হাসিনাসহ ১৩২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৩০০ জনকে আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। এই মামলায় এজাহারভুক্ত ১২ নম্বর আসামি সেলিনা হায়াৎ আইভী। পরে তার বিরুদ্ধে আরও মামলা করা হয়।

Ads small one

‎কন্যাসন্তান হওয়ায় গৃহবধূকে নির্যাতন, স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ণ
‎কন্যাসন্তান হওয়ায় গৃহবধূকে নির্যাতন, স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ

তালা প্রতিনিধি: পরপর চারটি কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়া এবং সবশেষ সন্তানটি গর্ভে থাকাকালে গর্ভপাতে রাজি না হওয়ায় এক গৃহবধূকে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূকে তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি সাতক্ষীরার তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূর নাম বিশাখা রাণী দাস। তাঁর বাড়ি সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ফতেপুর গ্রামে। ১৫ বছর আগে যশোরের কেশবপুর উপজেলার কোমরপুর গ্রামের শিবপদ দাসের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।
বিশাখা দাসের অভিযোগ, বিয়ের পর তাঁর পরপর তিনটি কন্যাসন্তান হওয়ার পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে তাঁর ওপর নির্যাতনের শুরু হয়। চতুর্থবার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ দেন। কিন্তু বিশাখা তাতে রাজি হননি। চার মাস আগে চতুর্থ কন্যাসন্তান জন্মের পর তাঁর ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। ওই সময় তাঁকে মারধর করে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
বিশাখা জানান, সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন তাঁর স্বামী শিবপদ দাস তাঁকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। এই খবর শুনে গত শনিবার সকালে তিনি স্বামীর বাড়িতে গেলে স্বামী শিবপদ, দেবর মৃত্যুঞ্জয়, সতিন জ্যোতি দাস ও শাশুড়ি শান্তি দাস মিলে তাঁকে ব্যাপক মারধর করেন। একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে তাঁর ভাই রবিন দাস তাঁকে উদ্ধার করে তালা হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে বিশাখা রাণী দাস বলেন, ‘ছোট মেয়েটা পেটে আসার পর থেকেই তারা বাচ্চা নষ্ট করার জন্য চাপ দিচ্ছিল। আমি রাজি হইনি বলে তারা আমার জীবনটা শেষ করে দিয়েছে। আমাকে না জানিয়ে আমার স্বামী আবার বিয়ে করেছে।’
বিশাখার ভাই রবিন দাস বলেন, ‘খবর পেয়ে বোনের বাড়িতে গিয়ে দেখি সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে। পাষ-রা তাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছিল। আমি তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসি।’
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে শিবপদ দাসের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
কেশবপুর ও তালা থানা পুলিশ জানিয়েছে, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আশাশুনির খাজরায় কিশোরীদের পুষ্টি মেলা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪২ অপরাহ্ণ
আশাশুনির খাজরায় কিশোরীদের পুষ্টি মেলা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নে উৎসবমুখর পরিবেশে দিনব্যাপী পুষ্টি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে খাজরা ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এই মেলার আয়োজন করা হয়। মূলত কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে এই মেলার আয়োজন।
মেলায় খাজরা ইউনিয়নের পিরোজপুর, দুর্গাপুর, গোয়ালডাঙ্গা ও রাউতাড়াসহ বিভিন্ন গ্রামের কিশোরী ক্লাবের শতাধিক সদস্য অংশগ্রহণ করে। দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল খেলাধুলা, চিত্রাঙ্কন, কুইজ ও নাচ-গান। তবে মেলার সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ ছিল বাল্যবিবাহের পক্ষে-বিপক্ষে কিশোরীদের প্রাণবন্ত বিতর্ক প্রতিযোগিতা। বিতর্কে অংশ নিয়ে কিশোরীরা বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক ও এর সামাজিক কুফলগুলো যুক্তি দিয়ে তুলে ধরে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খাজরা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম বাচ্চু। তিনি বলেন, কিশোরীদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সঠিক পুষ্টির বিকল্প নেই। এই ধরনের আয়োজন তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য ইয়াকুব আলী ও রবিউল ইসলাম, প্রকল্প সমন্বয়কারী হুমায়ূন কবির, ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম এবং এরিয়া ম্যানেজার বিপ্লব দেবনাথ। মেলার সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন টেকনিক্যাল অফিসার সুরুজ আলী ও শেখ ওসমান আলী।
দিনশেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী কিশোরীদের হাতে বিশেষ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। অংশগ্রহণকারী কিশোরীরা জানায়, পুষ্টি মেলায় এসে তারা খাদ্যের পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে অনেক নতুন তথ্য জানতে পেরেছে।

শ্যামনগরে কৃষকদের মাঝে লবণসহনশীল বীজ ও উপকরণ বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩৯ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে কৃষকদের মাঝে লবণসহনশীল বীজ ও উপকরণ বিতরণ

পত্রদূত ডেস্ক: শ্যামনগর উপজেলার দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরায় জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় ২০০ জন কৃষকের মাঝে লবণসহনশীল বীজ ও বিভিন্ন কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। রবিবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে এসব সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ফেইথ ইন অ্যাকশন’ তাদের ‘জলবায়ু সহনশীল জনগোষ্ঠী তৈরি প্রকল্প’-এর আওতায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। কানাডীয় দাতা সংস্থা ‘ওয়ার্ল্ড রিনিউ’-এর আর্থিক সহযোগিতায় গাবুরা ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের কৃষকদের এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ওয়ালিউল ইসলাম। তিনি বলেন, “গাবুরায় কৃষি উৎপাদনে অভিযোজন কৌশল রপ্ত করা জরুরি। প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান ও এসব উপকরণ কাজে লাগিয়ে কৃষকেরা সবজি উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পারবেন।”
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জামাল হোসেন বলেন, গাবুরায় লবণাক্ততার হার অন্য এলাকার চেয়ে বেশি। এখানে জৈব সারের ব্যবহার বাড়িয়ে মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, এদিন ২০০ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারী ও পুরুষ কৃষকের প্রত্যেককে ১০ ধরনের লবণসহনশীল সবজি বীজ, ৪০ কেজি জৈব সার, ৫টি জিও ব্যাগ ও ১টি পানির ঝাঁঝরি দেওয়া হয়েছে। সামগ্রিকভাবে সংস্থাটি এদিন ২ কেজি করে ঢ্যাঁড়স, ডাঁটা শাক, পুঁই শাক ও কলমী শাকের বীজ এবং ১ কেজি করে ঝিঙা, ধন্দুল, শসা, চাল কুমড়া ও মিষ্টি কুমড়ার বীজসহ মোট ৮ হাজার কেজি জৈব সার বিতরণ করে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল হালিম ও ফেইথ ইন অ্যাকশনের প্রজেক্ট ম্যানেজার মিল্টন বাড়ৈ। এ সময় মিল অফিসার প্রিন্স মার্ক বিশ্বাস, প্রজেক্ট অফিসার পরিতোষ কুমার বৈদ্য ও জেন্ডার অফিসার নওমী বিশ্বাসসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।