রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

সূর্যোদয়ের দেশে আশার সাতক্ষীরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩৬ অপরাহ্ণ
সূর্যোদয়ের দেশে আশার সাতক্ষীরা

আখলাকুর রহমান

আশার আলো ঠিক তখনই জ্বলে ওঠে, যখন অন্ধকার সবচেয়ে গাঢ় হয়ে আসে, আর সাতক্ষীরা যেন সেই আলোরই আরেক নাম। ১২ জুলাই, বিশ্ব আশা দিবস। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ এই দিনটিকে বেছে নিয়েছে কিরিবাতির জাতীয় দিবসের সঙ্গে মিলিয়ে, কারণ পৃথিবীতে সূর্যোদয়ের প্রথম আলো সেখানেই পড়ে। নতুন সূর্যের প্রথম কিরণ যেমন গোটা পৃথিবীর জন্য নতুন দিনের বার্তা নিয়ে আসে, তেমনি এই দিনটিও মানুষকে মনে করিয়ে দেয়, ভবিষ্যৎ আজকের চেয়ে ভালো হতে পারে, যদি আমরা বিশ্বাস রাখি এবং কাজ করি।

এই আশার দিনে সাতক্ষীরার কথা না বললে বোধহয় অন্যায় হবে। কারণ সাতক্ষীরা নিজেই একটি জেলা, যে বারবার প্রকৃতির রুদ্র রূপের মুখোমুখি হয়ে, বারবার মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে।

ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, সাতক্ষীরার নামকরণ নিয়ে নানা জনশ্রুতি প্রচলিত আছে। কেউ বলেন সাত ঘরের সমষ্টি থেকে সাতঘরিয়া, পরে সাতক্ষীরা নাম হয়েছে। কেউবা বলেন সাতটি ক্ষীরা বা ক্ষুদ্র জনপদের মিলনে গড়ে উঠেছিল এই জনপদ। যে কথাই সত্যি হোক, এটুকু নিশ্চিত যে সাতক্ষীরা কোনো নতুন জনপদ নয়। ষোড়শ শতাব্দীতে বারো ভূঁইয়াদের অন্যতম রাজা প্রতাপাদিত্যের রাজত্বকালে এই অঞ্চল ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। যশোরেশ্বরী কালীমন্দির আজও সেই সময়ের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে, যেখানে বহু মানুষ আজও আসেন শ্রদ্ধা জানাতে।

কালের গ্রোতে ১৯৪৭ সালের দেশভাগ, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, সবকিছুর সাক্ষী এই মাটি। মুক্তিযুদ্ধে সাতক্ষীরার মানুষ যে সাহস আর আত্মত্যাগ দেখিয়েছিল, তা আজও এই জেলার মানুষের রক্তে মিশে আছে। কালিগঞ্জ, শ্যামনগর, দেবহাটা, আশাশুনি, তালা, কলারোয়ার প্রতিটি পথে ছড়িয়ে আছে সেই সংগ্রামের ইতিহাস।

কিন্তু সাতক্ষীরার সবচেয়ে বড় পরিচয় বোধহয় সুন্দরবন। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনের একটি বিশাল অংশ জুড়ে আছে এই জেলা। শ্যামনগরের কোল ঘেঁষে যে সবুজ অরণ্য দাঁড়িয়ে আছে, তা শুধু একটি বন নয়, এটি এক অভিভাবক। ঘূর্ণিঝড় সিডর, আইলা, আম্পান, প্রতিটি দুর্যোগে সুন্দরবন নিজের বুক পেতে দিয়েছে, যাতে ভেতরের মানুষগুলো বেঁচে থাকতে পারে। এই বন আমাদের জন্য আশার এক জীবন্ত প্রতীক, প্রকৃতি যেভাবে বারবার আঘাত সয়েও মানুষকে রক্ষা করে চলেছে।

ইছামতি, কালিন্দী, কপোতাক্ষ নদী এই জেলার শিরা উপশিরার মতো বয়ে চলেছে। কপোতাক্ষ নদের কথা উঠলে মনে পড়ে যায় মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের সেই আবেগময় পঙক্তির কথা, যিনি এই নদীকেই তাঁর কবিতায় অমর করে রেখে গেছেন। নদী শুকিয়ে যায়, পলি জমে, তবু মানুষ নদীর পাড় ছেড়ে যায় না, কারণ এই নদীই তাদের জীবিকা, এই নদীই তাদের শেকড়।

কৃষির কথা বললে সাতক্ষীরার নাম আসবেই আম, ধান আর চিংড়ির জন্য। সাতক্ষীরার আম সুস্বাদু বলে সারা দেশে পরিচিত। এখানকার চিংড়ি ঘের, বাগদা আর গলদা চিংড়ি চাষ, দেশের রপ্তানি আয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উপকূলীয় লবণাক্ততার সঙ্গে যুদ্ধ করেও এখানকার কৃষক নতুন নতুন পদ্ধতিতে চাষাবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন, লবণ সহনশীল ধানের জাত নিয়ে গবেষণা হচ্ছে, মিষ্টি জলের সংকট মোকাবিলায় মানুষ নিজেরাই বের করছেন নতুন পথ। এই সংগ্রামই তো আশার আরেক নাম।

সুন্দরবনের মধু সংগ্রহকারী মৌয়ালরা প্রতি বছর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বনে প্রবেশ করেন। বাঘের ভয়, নদীর গ্রোত, সবকিছু উপেক্ষা করে তাঁরা ফিরে আসেন মধু নিয়ে, পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে। এই মানুষগুলোর সাহসই আমাদের শেখায়, জীবনযুদ্ধে হার মানতে নেই।

ভোমরা স্থলবন্দর সাতক্ষীরাকে যুক্ত করেছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে। ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্যের এই পথ ধরে প্রতিদিন শত শত ট্রাক পণ্য আনা নেওয়া করে, যা এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করছে। তরুণ প্রজন্ম এখন তথ্যপ্রযুক্তির হাত ধরে ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল উদ্যোগে যুক্ত হচ্ছে, ঘরে বসেই বিশ্ববাজারে নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরছে। ডিজিটাল অর্থনীতির এই নতুন জোয়ার সাতক্ষীরার তরুণদের জন্য খুলে দিচ্ছে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার।

তবে আশার পথ কখনো মসৃণ নয়। বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি আজও এই অঞ্চলে পুরোপুরি দূর হয়নি। উপকূলীয় দারিদ্র্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরবর্তী অনিশ্চয়তা, অনেক পরিবারকেই ঠেলে দেয় ভুল সিদ্ধান্তের দিকে। কিন্তু আশার কথা এই যে, স্থানীয় প্রশাসন, স্কুল, সচেতন সমাজকর্মীরা একযোগে কাজ করে চলেছেন, মেয়েদের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে, তাদের স্বপ্ন দেখার সাহস জোগাতে। প্রতিটি কিশোরীর হাতে বই তুলে দেওয়া মানেই একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়া, একটি জনপদের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়া।

জনসংখ্যার এই বিপুল তরুণ শক্তি, এই জনমিতিক লভ্যাংশ, সঠিক পথে পরিচালিত হলে সাতক্ষীরাকে নিয়ে যেতে পারে অনেক দূর। শিক্ষা, প্রশিক্ষণ আর সুযোগের সমন্বয় ঘটলে এই তরুণরাই হয়ে উঠতে পারে জেলার প্রকৃত সম্পদ।

সাতক্ষীরা তাই কেবল একটি ভৌগোলিক নাম নয়। এটি এক জীবন্ত গল্প, যেখানে নদী শুকিয়ে যায় কিন্তু মানুষ থেমে থাকে না, ঝড় আসে কিন্তু সুন্দরবন বুক পেতে রক্ষা করে, লবণাক্ততা বাড়ে কিন্তু কৃষক নতুন পথ খুঁজে নেয়। এই টিকে থাকার লড়াই, এই বারবার উঠে দাঁড়ানোর গল্পই সাতক্ষীরাকে করে তুলেছে আশার এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।

আন্তর্জাতিক আশা দিবসে তাই আমরা বলতে পারি, কিরিবাতিতে যেমন প্রথম সূর্যের আলো পড়ে, সাতক্ষীরার মানুষের চোখেও তেমনি প্রতিদিন নতুন সূর্য ওঠে, নতুন স্বপ্ন নিয়ে, নতুন সম্ভাবনা নিয়ে। সুন্দরবনের সবুজ, নদীর জল, আমের মিষ্টতা আর মানুষের অদম্য জীবনীশক্তি, এই সব মিলিয়েই সাতক্ষীরা আমাদের কাছে থেকে যাবে চিরকালের আশার প্রতীক হয়ে।

Ads small one

জেলা পরিষদ প্রশাসকের সঙ্গে ভূমিহীন নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
জেলা পরিষদ প্রশাসকের সঙ্গে ভূমিহীন নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার ভূমিহীন নেতারা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হাবিবুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলা পরিষদ কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় দেবহাটা-কালিগঞ্জের ভূমিহীন জনপদের নেতা মো. আলমগীর হোসেন, মো. বায়োজিদ হোসেন সবুর গাজী, জেলা ভূমিহীন পরিবারের সভাপতি মো. কওছার আলী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ গাজী, সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম রেজাউল করিম রেজা, দপ্তর সম্পাদক স্বপন কুমার সানা এবং ভূমিহীন নেতা আসাদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

সৌজন্য সাক্ষাৎকালে জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হাবিবুল ইসলাম বলেন, কালিগঞ্জের ভূমিহীনদের দীর্ঘদিনের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের সঙ্গে বাবরবাদ ঘের ও জমির বিষয়টি গভীরভাবে জড়িত। তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও পরে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ওই আন্দোলনের সময় ঐতিহাসিক সখিপুর কলেজ মাঠে এসে ভূমিহীনদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। সে সময় তিনি ভূমিহীনদের পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট হত্যাকান্ডের বিচার করার আশ্বাস দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে সরকার গঠনের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কালিগঞ্জের ভূমিহীনদের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ২৭ জনকে জমির দলিল প্রদান করেন। এরপর তাঁরা সেখানে ভূমিহীন হিসেবে বসবাস করে আসছেন।

মো. হাবিবুল ইসলাম বলেন, ঐতিহাসিক ওই আন্দোলন এবং ভূমিহীনদের স্মৃতি সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভূমিহীনদের অধিকার রক্ষার নামে কেউ যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারেন, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রকৃত ভূমিহীনদের নাম ব্যবহার করে কেউ যাতে ব্যক্তিস্বার্থে কোনো অপতৎপরতা চালাতে না পারেন, সে বিষয়েও সতর্ক থাকা জরুরি। সাতক্ষীরায় এখনো অনেক প্রকৃত ভূমিহীন পরিবার রয়েছে। সরকারি খাসজমি থাকলে নিয়ম অনুযায়ী তাঁদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানানো হবে।

জেলা পরিষদের প্রশাসক বলেন, সরকারি জমি না থাকলে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পুনর্বাসন করা সম্ভব নয়। তবে প্রকৃত ভূমিহীন পরিবারগুলো যাতে দীর্ঘস্থায়ীভাবে সুন্দর জীবনযাপন করতে পারে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

 

 

 

কেশবপুরে বিরামহীন বৃষ্টি উপেক্ষা করে চলছে আমন ধানের চারা রোপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:২৭ অপরাহ্ণ
কেশবপুরে বিরামহীন বৃষ্টি উপেক্ষা করে চলছে আমন ধানের চারা রোপন

এম আব্দুল করিম, কেশবপুর (যশোর): আষাঢ় শ্রাবণ মাস বাংলাদেশের ঋতু বৈচিত্রে বর্ষাকাল। কৃষি প্রধান বাংলাদেশের কৃষকের জন্য আমন ধানের চারা রোপনের সুবর্ণ সময় এই বর্ষাকাল। তাই বিরামহীন বৃষ্টি উপেক্ষা করে কেশবপুরের কৃষকরা আমন ধানের চারা রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছে।

বৃষ্টির মৌসুম শুরুতে একটু বৃষ্টি কম হলেও বর্তমান যথেষ্ট পরিমান বৃষ্টিপাত হওয়ায় খাল বিল ডোবা নালা পানিতে পরিপুর্ণ হয়ে গেছে। তাই কৃষকরা উচু-ডোবা জমি থেকে আগাম পাট কেটে সেই জমিতে আমন ধান রোপন শুরু করেছে।

 

কেশবপুরের মাটি পাট চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় অধিকাংশ কৃষকেরা আগাম পাট চাষ করে থাকে। সেই পাট কেটে রোপা আমন ধানের আবাদ করে। অন্যান্য বছরের তুলনায় কেশবপুরে এবার পাটের আবাদ কম হলেও ফলন ভাল হয়েছে। পুকুর ও ডোবা নালায় যথেষ্ট পরিমান বৃষ্টির পানি জমে থাকায় কৃষকদের ক্ষেতের পাট কেটে পঁচন দিতে কোন সমস্যা হচ্ছে না। তাই তারা পাটকেটে পচন দিয়ে সেই জমিতে আমন আবাদ শুরু করেছে।

 

কেশবপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চল জুড়ে এখন চলছে আমন ধানের চারা রোপনের মহোৎসাব। অন্য বছরগুলোতে অতিবৃষ্টি ও কপোতাক্ষের উপচে পড়া পানিতে কেশবপুরের প্রায় ৮০টির বেশী গ্রাম পানিবন্দি হয়ে পড়ার কারণে আমন আবাদ ব্যহত হলেও এবার কৃষকরা কপোতাক্ষের রাহু গ্রাস থেকে রক্ষা পেয়েছেন। তাই এসব জমিতে এখন কৃষকরা মনের আনন্দে ধানের চারা রোপন করছে।

এবিষয়ে কেশবপুর উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের জানান, কেশবপুরে এবার ৮হাজার ৫’শত হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকল থাকলে লক্ষ্য মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

 

 

 

কেশবপুর ভোররাতে মসজিদের মাইকে ঘোষণা ৭ গরু রেখে পালাল চোর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
কেশবপুর ভোররাতে মসজিদের মাইকে ঘোষণা ৭ গরু রেখে পালাল চোর

এম এ রহমান, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুরে মসজিদে মাইকে ঘোষণা ৭ গরু রেখে পালালো চোর। তথ্য সূত্রে জানা গেছে শনিবার দিবাগত গভীর রাতে পৃথক দুটি বাড়িতে হানা দিয়ে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৭টি গরু চুরি করে নিয়ে যায় চোরের দল। আলতাপোল (বারোইপাড়া) গ্রামের কুমারের ৪টি এবং মঙ্গলকোট গ্রামের রবিউল ইসলাম রবির ৩টি গরু নিয়ে যায় তারা। গরুর মূল্য হবে ১০ থেকে ১২ লাখ।

চোরেরা সুকুমারের গরুগুলো বাড়ির পাশের একটি বাগানে এবং রবির গরুগুলো যশোর-চুকনগর সড়কের আলতাপোল চারেরমাথা এলাকার একটি মেহগনি বাগানে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। ধারণা করা হচ্ছে, পরে পিকআপে তুলে গরুগুলো নিয়ে পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল তারা।

কিন্তু ফজরের আজানের সময় বিষয়টি জানাজানি হলে মসজিদের মাইকে গরু চুরির ঘোষণা দেওয়া হয়। ঘোষণা শুনে চোরেরা দ্রুত পালিয়ে যায়। রেখে যায় চুরি করা ৭টি গরু। পালানোর সময় তারা গরু বাঁধা বাগানে একটি গামছা ও পানির বোতলও ফেলে যায়।

ঘটনাটির আরও একটি বেদনাদায়ক দিক রয়েছে। রবিউল ইসলাম রবির ছোট ভাই মাত্র শুক্রবার হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। পরিবারটির শোক এখনো কাটেনি। এর মধ্যেই বাড়িতে গরু চুরির ঘটনা নিঃসন্দেহে তাদের জন্য নতুন করে দুর্ভোগ ও আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একদিকে বৃষ্টির পানিতে কেশবপুরের বিভিন্ন এলাকার মানুষ দুর্ভোগে রয়েছেন, অন্যদিকে কৃষকের শেষ সম্বল গবাদিপশুও নিরাপদ নয়-এ পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। স্থানীয়রা বলছে রাতের পুলিশি টহল কতটা কার্যকর?

সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় রাতের টহল আরও জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে গরু চুরির সঙ্গে জড়িত চক্র শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রোকসানা খাতুন বলেন আমাদের কাছে এ ধরনের কোন অভিযোগ আসেনি তবে বিষয়টা আমাদের জেনেছি তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।